Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র : সংবাদমাধ্যম

    ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র : সংবাদমাধ্যম

    অনলাইন ডেস্ক:    ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে তাদের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক শত্রু ইরানে হামলার কথা জানায় ইসরাইল।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ইসরাইলের সঙ্গে যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানে এই হামলা শুরু করেছে।

    এর আগে ইসরাইল জানিয়েছিল যে, তারা ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
    এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এএফপি-র মন্তব্যের অনুরোধে পেন্টাগন কোনো সাড়া দেয়নি।

  • মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১৭

    মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১৭

    অনলাইন ডেস্ক:   মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামীণ বাজারে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে বলে বুধবার দু’টি স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

    ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    পাঁচ বছর আগে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটানোর পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। এতে গণতন্ত্রপন্থী কর্মী ও দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

    পশ্চিম উপকূলীয় রাখাইন রাজ্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি। জাতিগত সংখ্যালঘু সংগঠন আরাকান আর্মি প্রায় পুরো রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অঞ্চলটি জান্তা প্রশাসন অবরোধ করে রেখেছে ও নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে।

    আরাকান আর্মি ও একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাখাইন রাজ্যের রাজধানী থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে পোনাগ্যুন টাউনশিপের ইয়ো এনগু গ্রামে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালায়।

    এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এএফপি।

    আরাকান আর্মি এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টার দিকে একটি বাজারে চালানো হামলায় তিন শিশুসহ ১৭ জন ‘নিরীহ বেসামরিক’ নিহত হয়েছে।

    এ সময় আরও ১৫ জন আহত হয়েছে।

  • রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছর: বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৪ বছর: বদলে যাওয়া জীবনের গল্প

    অনলাইন ডেস্ক:    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চার পেরিয়ে পাঁচ বছরে গড়িয়েছে। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক লাখ সেনাও। যুদ্ধের আগ্রাসনে ইউক্রেনের লাখো মানুষ ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ায় যুদ্ধের বিরোধিতা করা অনেকে গ্রেফতারও হয়েছেন। অনেকে আবার দেশ ছেড়েছেন নিপীড়ন এড়াতে।

    আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি। রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পূর্তিতে চারজন মানুষের জীবনে যুদ্ধের গভীর প্রভাব তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    — একটি পরিবার ধ্বংস —
    কিরার বয়স তখন মাত্র তিন মাস। ২৮ বছরের মা ভ্যালেরিয়া আর ৫৪ বছরের দাদি লিউদমিলা। ২০২২ সালের ২৩ এপ্রিল। ইউক্রেনের ওডেসা শহরে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে আঘাত হানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হয়ে যায় তিন প্রজন্মের জীবন।

    কিরার বাবা ইউরি তখন বাজারে ছিলেন। হামলার পরের ভিডিওতে দেখা যায়, স্ত্রীর ও শিশুকন্যার জিনিসপত্র খুঁজতে তিনি ধ্বংসস্তূপে ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

    আইনজীবী ইউরি পরে পেশা বদলে কৃষ্ণসাগর উপকূলের শহরের একটি জনপ্রিয় ক্যাফেতে বেকার (রুটি কারিগর) হিসেবে কাজ শুরু করেন। এক বছর পর তিনি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর। পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতের কাছে যুদ্ধে প্রাণ হারান হন তিনিও। এটি ছিল দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এলাকাগুলোর একটি।

    এ পরিবারটির গল্প এখন ইউক্রেনীয় বেসামরিক মানুষের ভয়াবহ মূল্য চুকানোর প্রতীক হয়ে উঠেছে।

    ভ্যালেরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আল্লা কোরোলিওভা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এএফপিকে বলেন, ‘এমন শত শত গল্প আছে পুরো দেশে।’

    তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু ছিল সূর্যের আলোর মত। ওডেসা, ইউক্রেনীয় সংস্কৃতি, অপেরা-সব ভালোবাসত। তার হাসি ছিল অসাধারণ। তাকে খুব মনে পড়ে।’

    মোবাইলে কিরার একটি ছবিও দেখান তিনি। আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘শিশুটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময়ই পেলাম না।’

    — আবার লড়াইয়ে ফিরতে প্রস্তুত —
    ভলোদিমিরের ৩২তম জন্মদিনেই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে।
    চার বছর পরও তিনি সেনাবাহিনীতে ফিরতে অস্থির। যদিও ড্রোন হামলায় হারিয়েছেন এক হাত ও এক পা।

    তার ডাকনাম ‘আর্খিপ’। ২০২৪ সালে রাশিয়ার এফপিভি ড্রোন তার ইউনিটের অবস্থানের ওপর আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

    এর কয়েক মাস আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে তার সঙ্গে প্রথম কথা হয় এএফপি প্রতিনিধির। তখন তিনি জানান, ভালো পাইলট হলে ড্রোন ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়।

    এ বছরের জানুয়ারিতে আবারও তিনি এএফপি সাংবাদিকের মুখোমুখি হন। তখন তিনি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন ঘটনার কথা বলেন। আবার যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান।

    আর্খিপ বলেন, ‘আমি শুয়ে ছিলাম। মাথা তুলে যখন পায়ের দিকে তাকালাম, দেখি লোকটা… আমার পা কেটে ফেলছে।’

    এক মাসে তার শরীরে মোট ২১টি অস্ত্রোপচার হয়। তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন অস্ত্রোপচার হত। শুধু শনিবার ছাড়া। কারণ অনেক চিকিৎসকের সেদিন ছুটি থাকে।’

    তার পরনে সামরিক পোশাক নেই এখন। কালো ট্র্যাকস্যুট পরা; কৃত্রিম অঙ্গ লাগানো। পাভলোগ্রাদ শহরের একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে এসব কথা বলেন তিনি। আহত হওয়ার আগে তিনি সেখানে খেলতেন।

    পুনরায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন আর্খিপ। গত ১৮ মাস ধরে নিচ্ছেন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।

    তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল, সহযোদ্ধাদের কাছে ফিরব।’

    তবে এবার পেছনের সারির দায়িত্বে থাকতে চান। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতাম, ১৯৯১ সালের সীমান্তে ফিরতে পারব।’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর যখন ক্রিমিয়া ও পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাস পুরোপুরি কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সে সময়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘কিন্তু এখন সেনাবাহিনীতে থেকে সবকিছু সরাসরি দেখে মনে হয়, ১৯৯১ সালের সীমান্তের মূল্য খুব বেশি হবে।’

    — যুদ্ধপন্থী কৌতুকশিল্পীর রুপান্তর —
    রাশিয়ার ৫৯ বছর বয়সি কৌতুকশিল্পী আন্দ্রেই বোচারভ। নব্বইয়ের দশকের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অদ্ভুত চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। ‘মায়ের আদরের ছেলে’ ধরনের সরল টাইপ চরিত্র ছিল তার।

    দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর নিজেকে রূপান্তর করেন যুদ্ধপন্থী কণ্ঠে। পশ্চিমাদের ‘অধঃপতন’ নিয়ে সমালোচনা শুরু করে নিজের স্থবির ক্যারিয়ারে নতুন গতি নিয়ে আসেন।

    ‘বোচারিক’ নামে পরিচিত সাইবেরিয়ার এই শিল্পী রুশ সংস্কৃতির এক সংক্ষিপ্ত সোনালি সময়ের প্রতিনিধি ছিলেন। ‘৩৩ স্কয়ার মিটার’ নামের জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরবর্তী সময়ে একটি ঘিঞ্জি অ্যাপার্টমেন্টের ছোট ঘরে পারিবারিক জীবন কেমন ছিল, তা-ই হাস্যকরভাবে ফুটিয়ে তোলা হতো সেই ধারাবাহিকটিতে।

    তার নিষ্পাপ হাসি ও সহজ অভিব্যক্তি লাখো দর্শককে আকৃষ্ট করত।
    কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর তিনি কট্টর পশ্চিমবিরোধী হয়ে ওঠেন। পরিচিতি পান ক্রেমলিনপন্থী হিসেবে।

    পডকাস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সবসময় ‘মাতৃভূমি ও শেকড়’-এর প্রতি অনুগত থাকার কথা বলেন। তিনি যেমন রুশ অভিযানের বিরোধিতাকারীদের নিন্দা জানাচ্ছেন, তেমনি যারা প্রতিবাদ হিসেবে কিংবা যুদ্ধে যাওয়ার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, সেসব রাশিয়ানদেরও তীব্র ভাষায় বিদ্রুপ করছেন।

    রাশিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের মতই যুদ্ধের আগে ইউরোপ ও পশ্চিমে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।

    এখন তিনি পশ্চিমাদের ‘রাশিয়াবিরোধী’ এজেন্ডা ও অতিরিক্ত উদারনীতির সমালোচনা করেন। ক্রেমলিনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায় তার কথায়। টেলিগ্রাম ও রাশিয়ার সামাজিক মাধ্যম ভিকে-তে তার অনুসারী প্রায় ৪ লাখ।

    রাষ্ট্রীয় বেতার স্পুটনিক-এ সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেন তিনি।
    সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা এক নম্বর। কারণ আমাদের আত্মা আছে, শুধু টাকা নয়। সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়া আমাদের ছেলেরা প্রতিদিন তা প্রমাণ করছে।’

    তিনি প্রায়ই বলেন, ‘রাশিয়া সবসময় জেতে। আমরা রাশিয়ান। আর বোরশ্চ আমাদের সঙ্গে আছে!’ বোরশচ একধরনের উজ্জ্বল লাল বিটের স্যুপ- যা ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়েই নিজেদের জাতীয় খাবার বলে দাবি করে- সেটির প্রতিই ইঙ্গিত করেন তিনি।

    — নীরব বিরোধী —
    রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিনই মস্কোতে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে যান ভারভারা। পরে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আবেদনে স্বাক্ষর করায় চাকরি হারান।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার হতে পারি- এ কথা প্রিয়জনদের জানিয়েছিলাম। অতিরিক্ত চাবিও রেখে গিয়েছি। ভেবেছি, আমি না থাকলে আমার বিড়াল না খেয়ে মরবে।’

    নিরাপত্তার কারণে নাম পরিবর্তন করে বলা হয়েছে তার গল্প। তিনি বড় আকারের বিক্ষোভ দমন অভিযানে ধরা পড়া থেকে রক্ষা পেয়েছেন। পরবর্তী দিনগুলোতে রাশিয়া কঠোর সামরিক সেন্সর আইন পাস করে। এতে তার অনেক বন্ধু দেশ ছেড়ে যান।

    তিনি বলেন, ‘আমারও মনে হয়েছিল, হয়তো আমাকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কীভাবে, কোথায়, কী দিয়ে বাঁচব- বুঝতে পারিনি।’

    মুখোশধারী পুলিশ যেকোনো সময় দরজায় কড়া নাড়তে পারে- সারাক্ষণ এমন একটি আতঙ্কে থাকতেন। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছুই ঘটেনি; বরং একটি অলাভজনক সংস্থায় নতুন চাকরি পেয়েছেন তিনি।

    তিনি বলেন, নিজের দেশের চালিয়ে যাওয়া এই যুদ্ধ নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতেন তিনি। এসবকিছু ঝেড়ে ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এবং একটু সুখের দেখা পেতে তার দীর্ঘ দুই বছর সময় লেগেছে।

    আগের স্ত্রীর একটি সন্তান রয়েছে-এমন এক পুরুষকে বিয়ে করেছেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানের দায়িত্ব নিতে চাই। কিন্তু নিজের এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য আর নেই।’

    রাশিয়ায় এখনও থাকা অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী মানুষের কাছে নীরব থাকাই কারাগার এড়ানোর একমাত্র পথ।

    তবুও যুদ্ধ তার জীবনের সবখানে প্রভাব ফেলেছে। এমনকি বাবা-মেয়ের সম্পর্কেও।
    তার বাবা রুশ নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছেন। নিয়মিত আর্থিক সহায়তাও দিতে চান।

    তিনি বলেন, ‘তিনি আমার বাবা। আমি তাকে ভালোবাসি। কিন্তু এই টাকা নেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।’

    রাশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শাসনব্যবস্থা বদলানো সম্ভব বলে মনে করি না। নিচ থেকে যেকোনো প্রতিরোধ দমন করা হবে। আমি শুধু আশা করি, আমরা অন্তত শারীরিকভাবে বেঁচে থাকতে পারব।’

  • বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

    বিশ্বজুড়ে ‘শক্তির আধিপত্য’ বাড়ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

    অনলাইন ডেস্ক:   বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ‘পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের’ মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

    তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালীরাই অনেক সময় এ প্রবণতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

    জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর  জানিয়েছে।

    জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল) উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আইনের শাসনকে পেশিশক্তির শাসন পরাস্ত করছে।’

    তিনি বলেন, ‘এই আক্রমণ ছায়া থেকে বা হঠাৎ করে আসছে না। এটি সবার চোখের সামনেই ঘটছে। আর প্রায়ই নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারাই, যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার অধিকারী।’

    মহাসচিব নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করলেও ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের নিন্দা জানান।

    তিনি বলেন, চার বছরের সহিংসতায় সেখানে ১৫ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, ‘রক্তপাত বন্ধ করার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।’

    এছাড়া তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের’ কথাও তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে থাকা ওই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বর্তমান গতিপথ ‘স্পষ্ট, পরিষ্কার ও উদ্দেশ্যমূলক— দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে প্রকাশ্যে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

    এ সময় গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি ঘটতে দিতে পারে না।’
    —ভোগান্তি ‘উপেক্ষিত’ হচ্ছে—

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাই নয়, বিশ্বজুড়েই অধিকার ক্ষয় হচ্ছে।

    তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ইচ্ছাকৃতভাবে, কৌশলগতভাবে এবং কখনও কখনও গর্বের সঙ্গেই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

    আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যেখানে ব্যাপক মানবিক ভোগান্তিকে অজুহাতে ঢেকে ফেলা হয়। মানুষকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে তুচ্ছ বাধা হিসেবে দেখা হয়।
    মানবাধিকার ভেঙে পড়লে, অন্য সব কিছুই ভেঙে পড়বে বলে তিনি এ সময় সতর্ক করেন।

    গুতেরেস বলেন, মানবাধিকারের প্রতি সম্মানের সংকট প্রতিটি বৈশ্বিক ভাঙনকে প্রতিফলিত ও তীব্রতর করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘মানবিক চাহিদা বাড়ছে, অথচ তহবিল কমছে এবং একই সময়ে বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। দেশগুলো ঋণ ও হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।’

    জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, জলবায়ু বিপর্যয় ত্বরান্বিত হচ্ছে। প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অধিকার দমন করছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অনলাইন ও অফলাইনে নতুন ধরনের বৈষম্যের মুখে ফেলছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ, তারা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়ছে।’

    এ প্রবণতা ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘ প্রধান।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দলিলগুলো কোনো ‘পছন্দমতো বেছে নেওয়ার মেনু’ নয়।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘নেতারা পছন্দের অংশটা নেবেন আর বাকিটা উপেক্ষা করবেন— এটি চলতে পারে না।’

  • গ্রিনল্যান্ডে হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

    গ্রিনল্যান্ডে হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা ট্রাম্পের

    অনলাইন ডেস্ক:    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছেন। স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চলটিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অধীনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকিও দিয়েছেন।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলকে আবারও বৈশ্বিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

    তিনি দাবি করছেন, খনিজসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ট্রাম্প বলেন, জাহাজটি গ্রিনল্যান্ডের বহু ‘অসুস্থ’ মানুষের চিকিৎসা দেবে। তবে কাদের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন বা কতজন এতে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডে একটি দারুণ হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছি। সেখানে বহু অসুস্থ মানুষের সেবা ও যত্ন নেওয়ার জন্য, যাদেরকে দেখভাল করা হচ্ছে না।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘এটি রওনা হয়ে গেছে!!!’

    তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বলে ধারণা করা একটি ছবি ছিল।

    সেখানে দেখা যায়, ৮৯৪ ফুট দীর্ঘ ইউএসএনএস মার্সি তুষারঢাকা পর্বতমালার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজটি সাধারণত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করে।

    তবে সেটিই প্রকৃতপক্ষে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    ট্রাম্প বলেন, লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সঙ্গে জাহাজটি পাঠানো হবে। ডিসেম্বর মাসে তাকে আর্কটিক দ্বীপটিতে ট্রাম্পের দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এ মাসে নিউ অরলিন্সে মার্ডি গ্রা উদযাপনের সময় ল্যান্ড্রি একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে শহরের এক বিখ্যাত নৃত্যানুষ্ঠানে তিনি ও আরও দুজনকে একসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে দেখা যায়।

    তিনি লেখেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের কিছু চমৎকার মানুষের আতিথ্য দিতে পেরে ভালো লাগছে।’

    এ সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম গ্রিনল্যান্ড সফর করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

    ট্রাম্পের আগ্রহ ঘিরে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় এই সফর গুরুত্ব পায়।

    গত মাসে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ চুক্তিতে পৌঁছানোর পর গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসেন ট্রাম্প।

    ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

  • সুদানের চাদ সীমান্তে আল-টিনা শহর দখলের দাবি আরএসএফের

    সুদানের চাদ সীমান্তে আল-টিনা শহর দখলের দাবি আরএসএফের

    অনলাইন ডেস্ক:    সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) গতকাল শনিবার জানিয়েছে যে, তারা চাদ সীমান্তে আল-টিনা শহরটি দখল করেছে। আরএসএফ দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    পূর্বে এই শহরটি সেনাবাহিনীর মিত্র যৌথ বাহিনীর দখলে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুদানের যৌথ বাহিনী ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে আরএসএফের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

    ‘আরএসএফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির সঙ্গে এক ভিডিও শেয়ার করেছে, যাতে দেখা যায় তাদের কিছু যোদ্ধা ‘আল-টিনা জেলা’ লেখা ব্যানারের নিচে উল্লাস করছে।’

    সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি, তবে দারফুরের সেনা-পন্থী গভর্নর মিন্নি মিন্নাউই ‘নিরপরাধদের বিরুদ্ধে বারবার অপরাধমূলক আচরণের সূচনা করেছেন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

    সুদানের গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১ কোটি ১০ লাখ লোককে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে, যা জাতিসংঘের মতে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে একটি।

    গত বৃহস্পতিবার, সুদানের ওপর জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধান মিশন বলেছে, গত অক্টোবরে দারফুর কেন্দ্র এল-ফাশারে আরএসএফের আক্রমণ “গণহত্যার লক্ষণ” বহন করে।

    এল-ফাশারের পতনের পর থেকে আধাসামরিক বাহিনী চাদ সীমান্তের কাছে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়েছে এবং গত বছরের শেষে দুই চাদীয় সৈন্য নিহত হয়েছে।