Category: গণমাধ্যম

  • আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী

    আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি বলেন, সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেউ যেন আবাসন খাতে অনিয়ম করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আরো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    আজ বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস-সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, বৈঠকে দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়নের চ্যালেঞ্জ, ড্যাপ বাস্তবায়নের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধিদল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এছাড়া যৌক্তিকভাবে ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিও এবং রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উলম্ব নগরায়নের ওপর জোর দেওয়া হয় বলেও জানান সহকারী প্রেস-সচিব শাহরিয়ার পামির।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ন শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, সহ-সভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার।

    আরো উপস্থিত ছিলেন, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন, কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) নাসির মজুমদার, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান এবং স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম।

  • ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের

    ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে ল্যাঙ্গারকে পছন্দ লেহম্যানের

    ইংল্যান্ড টেস্ট দলের পরবর্তী প্রধান কোচ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক খেলোয়াড় ও সাবেক কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে পছন্দ তার স্বদেশি ড্যারেন লেহম্যানের।

    সম্পতি ইংল্যান্ডের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ফলে ইংলিশদের টেস্ট দলের কোচের পদটি এখন শূন্য হয়ে আছে।

    আগামী মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজের আগে নতুন কোচ নিয়োগ ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েল ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

    ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের সাথে আলোচনাও করেছে ইসিবি। এরমধ্যে সর্বশেষ এই তালিকায় ছিলেন সাবেক কোচ জিম্বাবুয়ের এন্ডি ফ্লাওয়ার। পুনরায় ইংল্যান্ডের কোচ হবার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কোচ ছিলেন ফ্লাওয়ার। তাই এখনও নতুন কোচের সন্ধানে আছে ইসিবি।

    ইংল্যান্ডের পরবর্তী কোচ হিসেবে স্বদেশি ল্যাঙ্গারকে পছন্দ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেহম্যানের। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কোচের দায়িত্ব পালন করা লেহম্যান স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘ল্যাঙ্গার যদি এই দায়িত্ব নেয়, তাহলে দারুণ একজন কোচ হবে। যে ব্যক্তিই ইংল্যান্ডের কোচ হোক, তার জন্য খুবই ভালো হবে। কারন ইংল্যান্ড দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে। কাউন্টি ক্রিকেটেও আমি বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় দেখেছি। যা ইংল্যান্ডের ভবিষ্যত খেলোয়াড়।’

    ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার বিষয়ে তার সাথে কোন যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন লেহম্যান। তিনি বলেন, ‘নর্দাম্পটনশায়ারের কোচ হিসেবে আমি খুব খুশি। ইসিবির কাছ থেকে কোন ফোনকল পাইনি। এমন কোন প্রস্তাব আসেনি। আমার মনে হয়, ইসিবি ইতোমধ্যে নিজেদের পছন্দের মানুষ ঠিক করে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মৌসুমের মাঝপথে কাউকে সরানোর মানেই হল, বিকল্প হিসেবে কাউকে ঠিক করে রেখেছে।’

    ইংল্যান্ডের কোচ হবার দৌড়ে আরও যারা আছেন তাদেও মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিকি আর্থার, জনাথন ট্রট, গ্যারেথ ব্যাটি।

  • আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

    আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর কাদা ও পাথরের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে মঙ্গলবারও হিমশিম খাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। এক প্রদেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো এ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় জানায়, সোমবারের আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৩ জন বলে জানানো হয়েছে।

    আফগানিস্তানের পারুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এএফপি’র এক সাংবাদিক দেখেছেন, নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী প্রত্যন্ত পারুনে কয়েক ডজন মানুষ কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
    ৩৪ বছর বয়সী ওষুধ বিক্রেতা ফরিদ গুল জাহির বলেন, ‘আমি জীবনে এত ভয়ংকর বন্যা কখনও দেখিনি।’

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। চারদিকে শিশু ও মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।’ পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি আহত হন।
    মঙ্গলবার পারুনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও, তাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বন্যায় বহু দোকান কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

    বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে এসে ভবনগুলোতেও আঘাত হেনেছে।

    গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানায়, পারুনের মেয়র ও সরকারের আরও কয়েকজন কর্মচারী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।

    স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের ওপর যেন খোদার গজব নেমে এসেছে।’

    ২৯ বছর বয়সী জাকি এএফপিকে বলেন, ‘অন্য সব হোটেল, বাজার ও দোকানপাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

    আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান জুমা খান নাইয়েল পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    তিনি বলেন, পানির উচ্চতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    তিনি জানান, সংস্থার কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক কোদাল ও খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করছি।’

    আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।

    বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে প্রতিবেশী পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

    দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সেখানে বন্যার দুর্যোগ বাড়ছে।

    চলতি মাসে মাওলভি মতি-উল-হক খালিস বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো ‘আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।’

  • চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

    গত সপ্তাহ থেকে সাধারণত শুষ্ক উত্তরাঞ্চলীয় কোকিম্বো ও আতাকামা অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এসব এলাকায় এত তীব্র বৃষ্টিপাত অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

    সান্তিয়াগো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    চিলির জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা সেনাপ্রেডের পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন ও আহত হয়েছেন ১৭ জন। এছাড়া চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত সাংবাদিকদের জানান, সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা  করা হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন, জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ ও দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

    নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোকিম্বো অঞ্চলে কাদা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

    উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিমো পাভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোববার এক ঘণ্টায় যত বৃষ্টি হয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে তা হতে এক মাস লাগে।’

    তিনি এ বৃষ্টিপাতকে ‘অস্বাভাবিক ও চরম’ বলে অভিহিত করেন।

    জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা আরনালদো জুনিগা এএফপিকে বলেন, গত দুই দশকে চিলিতে এত বেশি বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি।

    তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বছর ধরে আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’

  • সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

    সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ডিপফেক, ভুয়া তথ্য (ডিসইনফরমেশন), মিথ্যাচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠনের সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি বাকি রয়েছে, যা আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিং কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

    আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ বলেন, সরকার শুরু থেকেই তথ্যের অপব্যবহার, বিশেষ করে ডিসইনফরমেশন এবং সাইবার বুলিংকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক বিস্তারের ফলে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার করা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এসব কর্মকা- শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি ঘটাচ্ছে না, বরং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ করে নারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। শুধু নারী হওয়ার কারণেই অনেককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান, হুমকি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মিথ্যা প্রচারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, এই আইনজীবী প্যানেল শুধু অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে না, প্রয়োজন হলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েও আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে। সরকার যেসব ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, সেসব ক্ষেত্রেও প্যানেলটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা প্রদান করা।

    তথ্য উপদেষ্টা নাগরিকদেরও আহ্বান জানান, কেউ যদি সাইবার বুলিং, ডিপফেক, মিথ্যা তথ্য বা অনলাইন হয়রানির শিকার হন, তাহলে যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন রয়েছে, তেমনি এর দায়িত্বশীল ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ডা. জাহেদ বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় যাচাই-বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়া থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ব্যবস্থা নেই। ফলে যে কেউ যেকোনো তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে পারেন। এ কারণে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হতে হবে এবং কোনো তথ্য বা ছবি যাচাই ছাড়া শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের সচেতন করার দায়িত্ব পালন করবে, তেমনই নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

    সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    ২০২৫ সালের একই সময়ে যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২১৮ জন, সেখানে ২০২৬ সালের একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। একইভাবে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।

    গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে ৬২ জনের মৃত্যু হলেও এবার মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। যদিও প্রতিটি মৃত্যু দুঃখজনক, তারপরও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    জ্বালানি খাতের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপ খনন করা হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন এমএমসিএফটি গ্যাস উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে এবং এর মধ্যে ১২৫ দশমিক ৩ এমএমসিএফটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাকি কূপগুলো খনন করে আরও প্রায় ১ হাজার ৪৯১ এমএমসিএফটি গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা-২০২৬’ জারি করেছে। নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে। খাদ্য মজুদও দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, আগামী আগস্টের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এই ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা অন্তত ১০ ধরনের সেবা সহজে পাবেন বলে জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন বাজারে স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

    শিল্প খাত প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে ১৬টি মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি ভর্তুকির চাপ কমবে বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, খাদ্য, শিল্প, পরিবেশ ও প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে সরকার যেমন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তেমনি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ডিপফেক, মিথ্যাচার ও সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

    ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশক (২০২১-২০৩০)-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

    সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

    মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে মন্ত্রী যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।