Category: গণমাধ্যম

  • বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই : সালাহউদ্দিন আহমেদ

    বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই : সালাহউদ্দিন আহমেদ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।

    তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এই শব্দটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো।
    মন্ত্রী আজ রাজধানীর আগারগাঁওস্থ কোস্টগার্ড সদরদপ্তরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই বাহিনীকে অত্যাধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরো সমৃদ্ধ করা হবে।

    মন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।

    তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান যুগে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকা- পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবিলায় কোস্টগার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে।

    সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমরা গ্র্যাজুয়াল উইথড্রয়ালের (ধাপে ধাপে প্রত্যাহার) মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্স প্রত্যাহার করা যায় না।

    তিনি আরো বলেন, খুব শিগগিরই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।

    তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সবসময় বহাল থাকবে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরন কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরন কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন শেভরন কর্পোরেশনের একটি প্রতিনিধি দল।

    আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তারা সাক্ষাৎ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলে ছিলেন শেভরন কর্পোরেশনের ‘বেস অ্যাসেটস অ্যান্ড ইমার্জিং কান্ট্রিজ’ (বিএইসি) বিভাগের প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার লা রোজা ও শেভরন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট এরিক এম ওয়াকার।

    এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।

  • অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের অ্যাকসেস টু জাস্টিস বা ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

    তিনি বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী, যা জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের সাত অনুচ্ছেদের প্রতিফলন। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, অ্যাকসেস টু জাস্টিস প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে, এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।

    আজ দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন কারাগারে অনেকে ছিলেন— যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

    ন্যায়বিচার যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সব যুগেই মানুষ বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে, চেয়েছে সমমর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করার নিশ্চয়তা। পারস্পরিক আস্থা, সহমর্মিতা ও সমতা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের জন্য অপরিহার্য।

    তিনি বলেন,  ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি যে, রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনো মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশক পর মানুষ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

    রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষও যেন অর্থের অভাবে অ্যাকসেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, একজন ভুক্তভোগী যেন কেবল টাকার অভাবে আইনজীবীর সহায়তা নিতে না পারায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার সেই চেষ্টা করছে। ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়, প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব হয়ে উঠুক, এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।

    বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক কোনো প্রক্রিয়া নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ, যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই কার্যকর হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের ওপর প্রয়োগের হাতিয়ার না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের নৈতিক রূপ নেয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসে ন্যায়বোধ শক্তিশালী প্রণয়ন হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার এবং সবাই যেন এর চর্চা করতে পারে, সেজন্য সরকার তাদের যথাযথ লিগ্যাল এইড দেবে এবং এ লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছে।

    ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সরকার মামলা শুরুর আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থায় ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার বিরোধ কম সময়ে ও স্বল্প টাকায় আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে স্বল্প সময়ে কয়েক বৈঠকে সমস্যার সমাধান হয়েছে, এতে আদালতের ওপর চাপ কমেছে এবং সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।

    তিনি বলেন,  সঠিক সময়ে মানুষ পরামর্শ না পেলে সাধারণ বিরোধ বড় আকার ধারণ করে এবং মানুষ বিচারবিমুখ হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে সরকার লিগ্যাল এইডকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করার ওপর জোর দিচ্ছে।

    সরকারের প্রতি জনগণকে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মনে আস্থা থাকতে হবে যে, যেকোনো প্রয়োজনে রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে এবং লিগ্যাল এইড সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন হয়ে উঠবে। আসুন সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি, যেখানে ন্যায়বিচার হবে শেষ কথা।

    অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

    এছাড়া, সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

    অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    এসময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

  • ঢাকাসহ ১৩ জেলার জন্য দুঃসংবাদ

    ঢাকাসহ ১৩ জেলার জন্য দুঃসংবাদ

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলায় আজ মঙ্গলবার কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর দুটি ভিন্ন তীব্রতার পূর্বাভাস দিয়েছে। বেশি ঝুঁকিতে আছে তিনটি অঞ্চল। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই তিন অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে আরও ১০ অঞ্চলকে। এই তালিকায় আছে– ঢাকা, টাঙ্গাইল, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এই বিশেষ পূর্বাভাসে নৌ কর্তৃপক্ষ ও নদীপথে চলাচলকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বৈশাখ মাসের এই কালবৈশাখী ঝড় স্বল্পসময়ের মধ্যে তীব্র আকার নিতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।

    সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দুপুরের আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪

    ইন্দোনেশিয়ায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪

    ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে বেকাসি শহরের একটি রেলস্টেশনের কাছে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।  আহত হয়েছেন ৮০ জনেরর বেশি।  মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা বলছে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে একটি কমিউটার লাইন ট্রেন এবং একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

    কমিউটার লাইন অপারেটরের মুখপাত্র কারিনা আমান্দা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত রেলওয়ে কোম্পানি কেএআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত অন্তত ৮৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার (বাসারনাস) প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সংকীর্ণ জায়গা এবং ট্রেনের বগিগুলোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।

    তিনি জানান, আটকে পড়াদের নিরাপদে বের করতে উদ্ধারকর্মীদের ধীরগতিতে কাজ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে উদ্ধারকারীরা ট্রেন দুটিকে আলাদা করে ফেলেছেন এবং ধাতব কাঠামো কাটতে অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করছেন।

    এর আগে কেএআই-এর মুখপাত্র অ্যান পুরবা প্রাথমিকভাবে ৫ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার সকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়।

     

  • সুদানের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে লাশ সামলানোর লড়াই

    সুদানের যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে লাশ সামলানোর লড়াই

    খার্তুমের একটি অস্থায়ী মর্গে বসে প্রকৌশলী থেকে দাফনকর্মী হওয়া আলি গেব্বাই মৃতদের একটি স্প্রেডশিটে তথ্য খুঁজে দেখছিলেন।

    হাজার হাজার নাম। প্রতিটির সঙ্গে ছবি ও কবরস্থানের তথ্য। সুদানের যুদ্ধের এক ভয়াবহ নথি।

    স্বেচ্ছাসেবকদের দল যখনই কোনো লাশ পায়, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে। এরপর ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে।

    আশায় থাকে, স্বজনরা দেখে এসে পরিচয় নিশ্চিত করবেন।

    খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    গেব্বাই এএফপিকে বলেন, ‘আমরা প্রতিটি লাশের ছবি তুলি। পকেটে কিছু আছে কি না দেখি, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা যায়। আর কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেটিও আমরা চিহ্নিত করি।’

    এপ্রিলের তপ্ত এক দিনে, সুদানের রাজধানীর ছোট একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে মাটিতে পড়ে ছিল এক নারীর লাশ।

    বাদামি ছোপযুক্ত জোব্বা তার মুখ ও শরীর ঢেকে রেখেছে।

    কেউ পরিচয় নিশ্চিত করতে না এলে, দলটি পরিষ্কার সাদা কাফন প্রস্তুত করে। মুসলিম রীতি অনুযায়ী গোসল করিয়ে কাছেই দাফন করে।

    খার্তুমে মর্গ বলতে এখন এটুকুই ভরসা।

    আর সেটিও অধিকাংশ নিহতের ভাগ্যে জোটে না। অনেককে যেখানে নিহত হন, সেখানেই তড়িঘড়ি করে মাটিতে অগভীর কবর দেওয়া হয়।

    সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে চলমান এই সংঘাত এখন চতুর্থ বছরে।
    মৃতের সঠিক সংখ্যা নেই। তবে নিহত অন্তত কয়েক হাজার থেকে শুরু করে সহায়তা কর্মীদের হিসাবে ২ লক্ষাধিক হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সুদান শাখার উপপ্রধান হোসে লুইস পোসো গিল এএফপিকে বলেন, ‘এতসব অনুমান হতাশাজনক। মানুষ জানেই না যে কী ঘটেছে। এই ট্রমা ও প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না।’

    গত এক বছরে সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর, প্রায় ২৮ হাজার লাশ উত্তোলন করে, পুনরায় দাফন করা হয়েছে বলে জানান দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান হিশাম জেইন আল-আবেদিন।

    তবে এখনো রাজধানীর অর্ধেকের কিছু বেশি এলাকা পরিষ্কার করা গেছে।

    গেব্বাই বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, তিনি ও তার দল প্রায় ৭ হাজার লাশ দাফন করেছেন।

    অন্যদিকে দারফুরে জাতিগত হত্যাযজ্ঞে একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

    এ বছরই কেবল কর্দোফানে ড্রোন হামলায় অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছেন।

    -মর্গ ধ্বংস-

    দেশজুড়ে লাশ সংরক্ষণের জায়গা নেই। গণনারও উপায় নেই। সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের সময়, মসজিদ ও বাজারে যখন অগ্নিবোমা আঘাত হানে, উদ্ধারকারীরা  তখন প্রায়ই কাফনের কাপড়ের সংকটে পড়ে যান। মৃতদের সেখানেই দাফন করা হয়। নিজের কাপড় বা প্লাস্টিক ব্যাগে জড়িয়ে।

    অনেক গ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য পাঠানোর মতো মর্গ তো দূরের কথা কোনো ক্লিনিকই নেই।জেইন আল-আবেদিন বলেন, খার্তুমের মর্গগুলো ‘যুদ্ধের আগেই পূর্ণ ছিল।’

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, খার্তুমের চারটি মর্গই যুদ্ধের কারণে অচল হয়ে পড়ে। তবে ভেতরে লাশ রয়ে যায়।

    জেইন আল-আবেদিন জানান, হামলায় ওমদুরমান মর্গ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। কমপ্রেসর লুট হয়ে যায়। চারদিকে পচতে থাকা লাশ পড়ে ছিল।

    তার দল এক বছর ধরে খার্তুমের লাশ উত্তোলন করছে।

    তাদের লক্ষ্য—অগভীর কবর, জনসমাগমস্থল, নর্দমা ও নীল নদের তীর থেকে লাশ উদ্ধার করা।

    গুলি চলা আর গোলাবর্ষণের মধ্যে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। পাশের রাস্তায় যাওয়া তো দূরের কথা, কবরস্থানে পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    ফলে মানুষ নিজেদের উঠান, খেলার মাঠ ও রাস্তার মোড়ে স্বজনদের দাফন করে।

    তিন বছরে খার্তুম এক খোলা কবরস্থানে পরিণত হয়েছে।

    জেইন আল-আবেদিন বলেন, ‘এটি সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। মানবিক মর্যাদা নষ্ট করে। মৃত্যু যেন স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

    একই চিত্র গোটা সুদানজুড়ে। দারফুরে, স্যাটেলাইট ছবিতে রক্তের দাগ দেখা গেছে আর কর্দোফানে এখনো ড্রোন হামলায় সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন।