Blog

  • উজবেকিস্তানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

    উজবেকিস্তানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

    উজবেকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় বাংলাদেশ।

    দেশটির সমরখন্দে উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বোর্ড অব গভর্নরসের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সমরখন্দ সফর করছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে তার সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    বার্ষিক সম্মেলনটি ৩ মে শুরু হয়েছে। শেষ হচ্ছে আজ।

    নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোয় উজবেকিস্তানের সরকার ও বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শভকত মির্জিইয়োয়েভকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অর্থমন্ত্রী।

    বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মানুষের মধ্যকার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং গণযোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

    উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে উপ-প্রধানমন্ত্রীকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে ঢাকা-তাসখন্দ রুটে উজবেক এয়ারওয়েজের ফ্লাইট পুনরায় চালুর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করতে বাংলাদেশে উজবেকিস্তানের কূটনৈতিক মিশন খোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও পাটজাত পণ্যের জন্য উজবেকিস্তানের বাজারে আরও সহজ প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

    উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সফরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    এ সময় উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটন খাতে অপেক্ষমাণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

    বস্ত্র ও ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে উপ-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে শিগগিরই একটি উজবেক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে।

  • গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্যমন্ত্রী

    গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এই খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।’

    আজ (বুধবার) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

    সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

    বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল।’

    তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে।

    তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

    সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন।

    তথ্যমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

  • উপহার ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

    উপহার ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া

    কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বাসভবনে উপহার হিসেবে আনা মিষ্টি ও ফলের কার্টন ফেরত দেওয়ার একটি ঘটনা বর্তমানে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত সততা ও নৈতিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি জনমনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
    ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি দুই ব্যক্তি এমপির বাসভবনে গিয়ে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফল ও মিষ্টির প্যাকেট উপহার হিসেবে প্রদান করতে চান। তাদের ধারণা ছিল, এসব উপহারের মাধ্যমে এমপি মহোদয়কে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হবে। তবে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন।
    উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমপি আগত ব্যক্তিদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন এবং আপ্যায়ন করেন। তবে যখন তারা উপহারের কার্টনগুলো সামনে এগিয়ে দেন, তখন তিনি তা গ্রহণ করতে সবিনয়ে অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, জনসাধারণের সেবা করার জন্য তিনি দায়বদ্ধ, কিন্তু ব্যক্তিগত কোনো উপহার গ্রহণ তার নৈতিকতার পরিপন্থী। দীর্ঘক্ষণ অনুরোধের পরও তিনি উপহারগুলো না নিয়ে তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেন।
    সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আমাদের দেশে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপহার প্রদানের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের একটি সংস্কৃতি বিদ্যমান। এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, এই সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করা গেলে সমাজে দুর্নীতি কমাতে তা সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
    একজন সংসদ সদস্যের এই দৃঢ় নৈতিক অবস্থান বর্তমান সময়ে অনেকের কাছেই সততার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্থানীয় বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের এমন আদর্শ অনুসরণ করলে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণ ত্বরান্বিত হবে।
  • হবিগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে ৯৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটক

    হবিগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে ৯৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটক

    সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে প্রায় ৯৫ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধ, জিরা এবং কাঠ জব্দ করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার রাত ৯টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর একটি দল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়া চা-বাগান নামক এলাকায় আজ ভোর ৬টায় অভিযানে অংশ নেয়। একটি সন্দেহভাজন ট্রাক আসতে দেখে সংকেত দিয়ে ট্রাকটিকে থামানো হয়।

    পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল উক্ত ট্রাকটি তল্লাশি করে দেখতে পায়, পাথরের নিচে লুকানো অবস্থায় বস্তার ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধ এবং জিরা লুকানো রয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া এই সমস্ত অবৈধ জিরা ও ওষুধগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

    এছাড়াও পৃথক আরেকটি নিয়মিত অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা বিওপি’র টহলদল কর্তৃক হরিণখোলা নামক এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩১,৭৮০ টাকা মূল্যের ভারতীয় আকাশমনি কাঠ জব্দ করতে সক্ষম হয়।

    আটককৃত আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধ, জিরা, ও কাঠ যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাষ্টমস অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চোরাচালানী ও মাদক ব্যবসায়ী চক্রকে শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবি’র গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানজিলুর রহমান বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ওপর বিশ্ব নেতাদের কূটনৈতিক চাপ

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ওপর বিশ্ব নেতাদের কূটনৈতিক চাপ

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক পথে ফেরার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

    হরমুজ প্রণালীতে একাধিক হামলার পর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে।

    হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার পর, নতুন করে আলোচনা শুরু করার তৎপরতা দেখা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো তারা ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।

    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। পাকিস্তানে বৈঠকে অংশ নিতে দুইবার পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ইরান স্পষ্ট করেছে যে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলার আগে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘অঞ্চল ও বিশ্বকে জিম্মি করা বন্ধ করতে হবে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও একই আহ্বান জানান।

    মার্কিন ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    দেশটি বলেছে, রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের বাহিনী ইরানের অন্তত ছয়টি ছোট নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করে।

    তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌকায় থাকা পাঁচ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

    -‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’-
    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে।
    দেশটি একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে।

    ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় তিন জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।

    চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার তিনটি ভূপাতিত করা হয়েছে ও একটি সাগরে পড়ে।

    এছাড়া ইরান রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, সংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘দুঃসাহসিকতা’ থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রণালী দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সংকটের সামরিক সমাধান নেই।

    তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ করেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অশুভকামীদের ফাঁদে পড়ে, যুক্তরাষ্ট্র যেন আবার জটিলতায় না জড়ায়। ইউএইকেও সতর্ক থাকতে হবে। প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’

    -হরমুজে শক্তি প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের-
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    যুদ্ধের আগে এটি চালু ছিল। ইরান এটিকে তাদের কৌশলগত চাপের মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

    রোববার ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেন।

    তিনি বলেন, নিরপেক্ষ দেশের জাহাজগুলোকে উপসাগর থেকে বের করে আনার এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা।
    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে উপসাগর থেকে বের হয়েছে।

    তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এ দাবি অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল ট্যাংকার প্রণালী অতিক্রম করেনি।

    সিউল জানিয়েছে, প্রণালীতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    সমুদ্র বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এএক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপসাগরে ৯০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল।

    ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরান ‘কিছু হামলা’ চালালেও বড় ধরণের ক্ষতি হয়নি।
    হামলার পর তেলের দাম আরও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম পাঁচ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে, এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    লেবাননে ইসরাইলের সঙ্গে আলাদা যুদ্ধবিরতিও নতুন করে চাপে পড়েছে।

    ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ঘিরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইসরাইলের দুই সেনা ‘মাঝারি মাত্রায়’ আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহর আকাশ পথে হামলার পর ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালায়।

    এতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন নিরাপত্তা চুক্তি ও ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

    এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প, যা এই মাসে হোয়াইট হাউসে হতে পারে।

  • বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর ইথিওপিয়া থেকে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলো সুদান

    বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর ইথিওপিয়া থেকে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলো সুদান

    খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইথিওপিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগে, ইথিওপিয়ায় নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সুদান।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সুনা এ খবর জানিয়েছে।

    একটি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, সোমবার খার্তুম বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং কাছাকাছি এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন।

    সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত চলছে।
    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে ড্রোন হামলা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুদান সেনাবাহিনী মার্চ মাসে অভিযোগ করেছিল যে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস  ইথিওপিয়ার ভূখণ্ডের ভেতর থেকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এটি ছিল সংঘাতে ইথিওপিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য অভিযোগ।

    সুদানের সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন সালেম সোমবার খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইথিওপিয়ার ড্রোন হামলার বিষয়ে আলোচনার জন্য ইথিওপিয়া থেকে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
    সালেমকে উদ্ধৃত করে সুনা এ কথা জানিয়েছে।

    আরএসএফ-কে অস্ত্র সরবরাহের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অভিযোগ উঠলেও, দেশটি বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেলিম উল্লেখ করেছেন যে হামলাটি ইথিওপিয়ার ভূখণ্ড থেকেই হয়েছে।
    তিনি বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।