Tag: চট্টগ্রাম বন্দরে ফের জাহাজের ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’

  • চট্টগ্রাম বন্দরে ফের জাহাজের ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’, গতি বেড়েছে আমদানি-রপ্তানিতে

    চট্টগ্রাম বন্দরে ফের জাহাজের ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’, গতি বেড়েছে আমদানি-রপ্তানিতে

    দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর আবারও ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন করেছে। এখন আর কোনো জাহাজকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

    জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে না হওয়ায়, এখন জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমেছে ও আমদানি-রপ্তানির গতিও বেড়েছে এবং ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ কমেছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরে জাহাজ জট তো নেই-ই, এখন কোনো জাহাজকে জেটিতে বার্থিং পেতে ১৫-২০ দিন বহির্নোঙরে (জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) বসে থাকতে হচ্ছে না। দিনে দিনেই মিলছে বার্থিং।

    বহির্নোঙরে এখন জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় শূন্য।

    সব জাহাজ সরাসরি বন্দরে প্রবেশ করছে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এই অর্জন দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার বড় প্রমাণ। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।

    তিনি আরও বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতাতেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আর এর ফলে জাহাজ দ্রুত খালাস ও লোডিং করতে পারছে, টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমেছে ও পণ্য সরবরাহও আরও দ্রুত হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অর্জনের ফলে ব্যবসায়িক ব্যয় কমছে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা দৃশ্যমান হচ্ছে।

    তারা আরও জানায়, সমন্বিত পরিকল্পনা, নিবিড় তদারকি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সাফল্য এসেছে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ ভবিষ্যতে স্থায়ী বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।

    এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবার জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জন করে চট্টগ্রাম বন্দর।

    এরপর অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ধারাবাহিকভাবে এ অবস্থা বজায় ছিল।

    তবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ ভাগ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে কর্মবিরতি ও কিছু জটিলতায় কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটে।

    পরবর্তী সময়ে পূর্ণোদ্যমে কার্যক্রম চালু হওয়ায় আবারও বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ঈদের ছুটির সময়ও বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু রাখা হয়।

    তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে জাহাজের অপেক্ষার সময় ৩ থেকে ৫ দিনে উঠলেও কর্তৃপক্ষের বাড়তি নজরদারি ও সমন্বয়ের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অপেক্ষার সময় আবার শূন্যে নেমে আসে।

    এতে জাহাজ দ্রুত পণ্য ওঠানামা করে বন্দর ত্যাগ করতে পারছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব।

    সৈয়দ রেফায়েত হামিম আরও বলেন, এতে শিপিং কোম্পানির সময় ও খরচ কমছে। আমদানিকারকেরা দ্রুত পণ্য পাচ্ছেন এবং রপ্তানিকারকেরা সময়মতো পণ্য পাঠাতে পারছেন।

    তিনি বলেন, লজিস্টিকস খরচ কমায় পণ্যের বাজার মূল্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার সুফল পাচ্ছেন ভোক্তারা।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব আরও বলেন, মূলত রমজান মাসের শুরু থেকেই সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েটিং টাইম শূন্যে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ঈদের ছুটিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখা হয় বলে জানান তিনি।