অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও প্রত্যয় নিয়ে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই নীতি ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে।
আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজের হাতে বিএনপি গঠন করেছিলেন। কয়েকটি প্রত্যয় নিয়ে এ দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই প্রত্যয়কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণ করে জাতিকে আত্মনির্ভরশীল ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা—সব দিক থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে একটি গৌরবজনক মর্যাদা দিয়েছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের হিংস্র রূপ দেখা গেছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা, কণ্ঠের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল করার স্বাধীনতা এবং চলাচলের স্বাধীনতা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিকে দূরে সরিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন অব্যাহত রাখার সুযোগ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। এরপর থেকে অসংখ্য রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে রাজনৈতিক চর্চা শুরু করে এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।
এ সময় রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল হওয়ার পর সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ দেশে যে এতগুলো গণমাধ্যম রয়েছে এবং সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান।
তিনি বলেন, বিদেশে শ্রম রপ্তানি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের যে অভূতপূর্ব অবদান রয়েছে, সেগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য তিনি একটি আদর্শভিত্তিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি তাঁর সেই নীতি, আদর্শ ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।
রহুল কবির রিজভী বলেন, পরবর্তীতে আবার চক্রান্ত ও নানা ধরনের নীলনকশা তৈরি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে আবারও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্তব্ধ করে দেন।
তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের ঘন অন্ধকার ও সামরিক আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। কারও সঙ্গে তিনি আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এ কারণে বিএনপি হচ্ছে ওয়াদা রক্ষাকারীর দল এবং জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, নানা নিপীড়ন, নির্যাতন, অত্যাচার ও ভয়াবহ নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দল পরিচালনা করেছেন। আধিপত্যবাদী শক্তি এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বারবার বিএনপি ও এর নেত্রীকে পরাস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সব শৃঙ্খল, অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।
এ সময় রহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের পতাকা তিনি এই মাটির গভীরে প্রোথিত করেছিলেন। এ জন্য নিজেও অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। ভাঙা একটি কারাগারের মধ্যে বছরের পর বছর তিনি নিপীড়ন সহ্য করেছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং একজন স্বাভাবিক বন্দির যে মানবাধিকার পাওয়ার কথা, সেটিও দেওয়া হয়নি। তারপরও তিনি আপস করেননি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁকে বন্দি করে একটি ভগ্নস্তূপ কারাগারের মধ্যে রাখা হলেও সেই সময় দায়িত্ব পালন করেন তাঁরই সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা ও মাতার আদর্শের পতাকা, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকার নিয়ে গোটা জাতিকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠিত করে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় প্রবল জুলাই বিপ্লবের তরঙ্গ তৈরি হয়। জনতার শক্তির বিস্ফোরণ রাজপথে প্রস্ফুটিত ও বিকশিত হয়। শেখ হাসিনার ‘রক্তপিপাসু’ চেহারা জনগণ আর সহ্য করেনি। জনগণ রাস্তায় নেমে আসে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়, তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ দুনিয়ায় নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস, বীরত্ব ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা তিনি তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে আজ সারা বাংলাদেশ সুসংগঠিত।
