পচেত্তিনোর ওপর আস্থা হারাল টটেনহাম

ইতিহাস কখনো দ্বিতীয় হওয়া মানুষকে মনে রাখে না’ – খুবই জনপ্রিয় একটা উক্তি। উক্তিটার যথার্থতা এখন মরিসিও পচেত্তিনোই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারছেন।
ভদ্রলোক ছিলেন টটেনহাম হটস্পারের কোচ। ছিলেন বলতে হচ্ছে, কারণ কয়েক ঘণ্টা আগেই ছাঁটাই হয়েছেন তিনি। গত পাঁচ বছর ধরে টটেনহামকে নিয়মিত চ্যাম্পিয়নস লিগে তোলার পেছনে এই আর্জেন্টাইন ম্যানেজারের অবদানই সবচেয়ে বেশি। টটেনহাম তাঁর অধীনে খেলেছেও দৃষ্টিনন্দন ফুটবল। ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে টটেনহাম আবির্ভূত হয়েছে এই পচেত্তিনোর সময়ই। কিন্তু ওই যে, দ্বিতীয় হওয়া কারওরই দাম নেই ইতিহাসের কাছে; পচেত্তিনোর অধীনে টটেনহাম কেবল দ্বিতীয়ই হয়ে এসেছে। এই পাঁচ বছরে একবারও কোনো শিরোপা জেতা হয়নি তাঁর। শিরোপা জেতার একদম হাতছোঁয়া দূরত্বে আসার পরেও ব্যর্থ হয়েছেন বারবার।

গত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের কথাই ধরুন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছিল টটেনহাম। তবে আরেক ফাইনালিস্ট লিভারপুল যে তাদের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ছিল! ফলে দ্বিতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্পারদের। কিংবা তিন বছর আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যখন লেস্টার রূপকথার জন্ম হলো, তখনো লিগে রানার্সআপ হয়েছিল পচেত্তিনোর দল।

অর্থাৎ দলে শক্তিমত্তা বৃদ্ধি ঠিকই পেয়েছিল, কিন্তু সেটা প্রমাণ করার জন্য কোনো ট্রফি ছিল না।

তার পরেও হয়তো চাকরি হারাতেন না পচেত্তিনো, যদি তাঁর দল এ মৌসুমে মোটামুটি ভালো খেলত। একটুর জন্য বারবার শিরোপা না জেতার আক্ষেপে বোধ হয় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন পচেত্তিনোর খেলোয়াড়েরাও। যার প্রভাব পড়েছিল দলের ফলাফলে। এ মৌসুমে এ পর্যন্ত ১২ ম্যাচ শেষে মাত্র ১৪ পয়েন্ট পেয়েছেন হ্যারি কেইন রা। পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থানও ১৪ নম্বরে। লিগে শেষ পাঁচ ম্যাচের একটাতেও জেতেনি তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ম্যাচেও নিজেদের মাঠে বায়ার্নের কাছে হেরেছে ৭-২ গোলে। তাঁর ওপর ড্রেসিংরুমেও খেলোয়াড়েরা ঠিক একতাবদ্ধ ছিলেন না। নতুন চুক্তি সই করবেন না বলে মোটামুটি সিদ্ধান্ত দিয়েই ফেলেছিলেন টোবি অল্ডারভাইরেল্ড, ড্যানি রোজ, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন, ইয়ান ভার্তোনের মতো তারকারা। সব মিলিয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না টটেনহামের।

আর খারাপ সময়ের সবচেয়ে বড় মাশুলটা এই পচেত্তিনোই দিলেন। পচেত্তিনোর জায়গায় সাবেক চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ হোসে মরিনহোকে আনার জন্য চেষ্টা করা শুরু করে দিয়েছে লন্ডনের ক্লাবটা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *