মস্তিষ্কের জটিলতায় হাঁটার গুরুত্ব

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে অনেক মাঝবয়সী মানুষ মানসিক ‘ফগ’ বা ঝাপসা ভাব অনুভব করেন। এতে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং সহজেই স্ট্রেসে ভেঙে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এর একটি সহজ সমাধান হতে পারে নিয়মিত হাঁটা।

হার্ভার্ড, কলাম্বিয়া ও কর্নেল-প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ডা. অ্যামি শাহ জানিয়েছেন, জিমে কঠোর ব্যায়াম না করেও শুধু সপ্তাহে তিন দিন ৪০ মিনিট করে হাঁটলেই মস্তিষ্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে হিপোক্যাম্পাস নামের অংশটি বড় হতে শুরু করে, যা স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই অংশ স্বাভাবিকভাবেই ছোট হতে থাকে, ফলে ভুলে যাওয়া ও মনোযোগের সমস্যা বাড়ে। কিন্তু নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ধীর করা বা উন্নত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, হাঁটা শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাঝবয়সে হরমোন পরিবর্তনের কারণে স্ট্রেস সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ছোট বিষয়ও বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত হাঁটা এই চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

খোলা বাতাসে, বিশেষ করে গাছপালার মাঝে হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী, কারণ এটি স্ট্রেস কমায় এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, বড় পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় পদক্ষেপ দরকার হয় না। ছোট একটি অভ্যাস যেমন নিয়মিত হাঁটা, শরীর ও মস্তিষ্ক—উভয়ের স্বাস্থ্যে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *