Category: প্রচ্ছদ

  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

    অনলাইন  ডেস্ক:    পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা ও জনগণের কল্যাণকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিস কক্ষে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের শুরুতে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন।

    স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিশেষ করে মুক্তবাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে পিপল-টু-পিপল যোগাযোগ আরও জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

    হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী স্থানীয় সরকার খাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ভারতের হায়দ্রাবাদে অবস্থিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

    স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

    সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী এবং আলোচনা সাপেক্ষে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো শহীদুল হাসান, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার তুলশি দাস বাধেসহ মন্ত্রণালয় ও হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল: রুহুল কবির রিজভী

    বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল: রুহুল কবির রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক:   বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও প্রত্যয় নিয়ে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই নীতি ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে।

    আজ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৪৮ বছর আগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজের হাতে বিএনপি গঠন করেছিলেন। কয়েকটি প্রত্যয় নিয়ে এ দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই প্রত্যয়কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণ করে জাতিকে আত্মনির্ভরশীল ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতি ও আইনশৃঙ্খলা—সব দিক থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান  বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে একটি গৌরবজনক মর্যাদা দিয়েছিলেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশে বারবার গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের হিংস্র রূপ দেখা গেছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা, কণ্ঠের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল করার স্বাধীনতা এবং চলাচলের স্বাধীনতা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিকে দূরে সরিয়ে নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও অনুশীলন অব্যাহত রাখার সুযোগ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। এরপর থেকে অসংখ্য রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে রাজনৈতিক চর্চা শুরু করে এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

    এ সময় রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল হওয়ার পর সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ দেশে যে এতগুলো গণমাধ্যম রয়েছে এবং সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করছেন, সেটিও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান।

    তিনি বলেন, বিদেশে শ্রম রপ্তানি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের যে অভূতপূর্ব অবদান রয়েছে, সেগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করার জন্য তিনি একটি আদর্শভিত্তিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপি তাঁর সেই নীতি, আদর্শ ও দর্শনের পতাকা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে।

    রহুল কবির রিজভী বলেন, পরবর্তীতে আবার চক্রান্ত ও নানা ধরনের নীলনকশা তৈরি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক আইন দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে আবারও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্তব্ধ করে দেন।

    তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের ঘন অন্ধকার ও সামরিক আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য নয় বছর আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। কারও সঙ্গে তিনি আপস করেননি এবং জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা ও অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এ কারণে বিএনপি হচ্ছে ওয়াদা রক্ষাকারীর দল এবং জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারীর দল।

    অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, নানা নিপীড়ন, নির্যাতন, অত্যাচার ও ভয়াবহ নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশ ও দল পরিচালনা করেছেন। আধিপত্যবাদী শক্তি এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বারবার বিএনপি ও এর নেত্রীকে পরাস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সব শৃঙ্খল, অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।

    এ সময় রহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের পতাকা তিনি এই মাটির গভীরে প্রোথিত করেছিলেন। এ জন্য নিজেও অত্যাচার, নিপীড়ন ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। ভাঙা একটি কারাগারের মধ্যে বছরের পর বছর তিনি নিপীড়ন সহ্য করেছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং একজন স্বাভাবিক বন্দির যে মানবাধিকার পাওয়ার কথা, সেটিও দেওয়া হয়নি। তারপরও তিনি আপস করেননি।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁকে বন্দি করে একটি ভগ্নস্তূপ কারাগারের মধ্যে রাখা হলেও সেই সময় দায়িত্ব পালন করেন তাঁরই সুযোগ্য জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা ও মাতার আদর্শের পতাকা, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকার নিয়ে গোটা জাতিকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠিত করে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে সেই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় প্রবল জুলাই বিপ্লবের তরঙ্গ তৈরি হয়। জনতার শক্তির বিস্ফোরণ রাজপথে প্রস্ফুটিত ও বিকশিত হয়। শেখ হাসিনার ‘রক্তপিপাসু’ চেহারা জনগণ আর সহ্য করেনি। জনগণ রাস্তায় নেমে আসে এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়, তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ দুনিয়ায় নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সাহস, বীরত্ব ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা তিনি তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে আজ সারা বাংলাদেশ সুসংগঠিত।

  • বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

    বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

    আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

    সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

    এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

    আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

    বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

    আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

    গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।

    সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

    সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া

    টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া

    রোমানিয়া টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শনিবার দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করল দেশটি।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়ার আকাশসীমায় ২০২২ সাল থেকে একাধিকবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন দেশটির ভূখণ্ডেও আছড়ে পড়েছে।

    শুক্রবার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার (৭০ মাইল) দূরে প্রথমবারের মতো একটি ড্রোন ভূপাতিত করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাডু মিরুতা জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে (০৫৩৪ জিএমটি) রোমানিয়ার আকাশসীমায় ‘অবৈধভাবে প্রবেশ করা’ আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দানিউব ব-দ্বীপে স্ফান্তু গেওর্গে থেকে ৯.৬ কিলোমিটার (ছয় মাইল) পশ্চিমে ড্রোনটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

    ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মিরুতা বলেন, ‘সকাল ৮টা ২২ মিনিটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রাডারে ড্রোনটি আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তা শনাক্ত হয়। কয়েক মিনিট পর রোমানিয়ার একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সেটিতে আঘাত হানে।’

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় অনেকবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

    গত মে মাসে একটি ড্রোন দেশটির একটি আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়লে দুইজন আহত হয়। এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিন্দা জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

    ২০২৫ সালে রোমানিয়ার পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে। ওই আইনে দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ড্রোন ভূপাতিত করার অনুমতি দেওয়া হয়।

    ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন শুক্রবার এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।’ তিনি রোমানিয়ার সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

  • টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

    টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

    প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কায় চীনের দক্ষিনাঞ্চল থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রেল চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়,  টাইফুন নউল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

    চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    শনিবারও আবহাওয়া কেন্দ্র চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযানগুলো ঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে বন্দরে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি।

    সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং রোববার প্রদেশটির সব ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চরম আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন মায়সাকের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।

    মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়।

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে।

    চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তি। ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।

  • ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট  উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি আজ সকাল সোয়া ১১ টায় ঢাকার নভোথিয়েটারে দু’দিন ব্যাপী এ সামিটের উদ্বোধন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে সকাল ১০টায় ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।  এরপর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়৷
    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়ামের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার দু’দিন ব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করে।

    সামিটের মূল লক্ষ্য- বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স শিল্পের বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্ব দরবারে ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা।

    সামিটে সরকারের নীতিনির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তাঁরা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।

    এতে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যানডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে মোট ৩৫টি স্টলে  শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, আইসিটি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

    এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) সভাপতি এম এ জাব্বার, বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন পারড্যু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার ইনিশিয়েটিভের চিফ আর্কিটেক্ট প্রফেসর মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন।

    আগামীকাল ২৬ জুলাই সামিটের দ্বিতীয় ও সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত হবে ক্রিস্টে ফেলো রিসার্চ সিম্পোজিয়াম। এতে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর গবেষকরা তাঁদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করবেন।

    পাশাপাশি আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে সেমিকন্ডাক্টর সুপারিশমালা, ট্যালেন্ট রোডম্যাপ ২০৩০, ইকোসিস্টেম রোডম্যাপ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কাঠামো, ডিপ-টেক অগ্রাধিকার খাত ও বাণিজ্যিকীকরণ কাঠামো।

    আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এসব দলিল বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরিতে দিকনির্দেশনা দেবে।