Category: প্রচ্ছদ

  • বন্ধন রাজশাহী সোসাইটি এবং  সুলতান আহমেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে কম্বল বিতরণ !

    বন্ধন রাজশাহী সোসাইটি এবং সুলতান আহমেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে কম্বল বিতরণ !

    শারমিন আক্তার ঃ বন্ধন রাজশাহী সোসাইটি এবং  সুলতান আহমেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে দুস্থ্যদের  মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। ১০ডিসেম্বর ২০২০  বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় ,রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানা, কানপাড়া এলাকায় বন্ধন সোসাইটির কার্যালয়ে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে । এসময়  সরকারের সকল স্বাস্থ্যবিধি

    ্ও নিয়ম মেনে  (৩০০)মাস্ক ও কম্বল বিতরণ করেন, বন্ধন রাজশাহী সোসাইটি ও সুলতানা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিথ ছিলেন সোসাইটির চেয়ারম্যান  শমসের আলী মন্ডল, বিশেষ অতিথি: রোটারিয়ান ফেরদৌসী আক্তার রেহেনা , সুলতান আহমেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন । আরো উপস্থিথ ছিলেন মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ,বন্ধন রাজশাহী সোসাইটি , মোঃ আনিসুর রহমান, হোসেন আলী মন্ডল, আলমগীর হোসেন, মিজানুর রহমান,রফিকুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন, আব্দুল আহাদ, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ইসরাত জাহান লিপি, মো: শাহিন আলম ( প্রচার সম্পাদক সুলতান আহমেদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ), সাব্বির রহমান, জাহিদ হাসান  প্রমুখ।

  • ফতুল্লায় ঠিকাদারের লাশ উদ্ধার  !

    ফতুল্লায় ঠিকাদারের লাশ উদ্ধার  !

    মোঃরুবেলঃ ফতুল্লায় বালুরমাঠ থেকে মোস্তফা হাওলাদার (৪৮) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার গলাচিপা এলাকার আউয়াল চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির বালুমাঠ থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মোস্তফা হাওলাদার ডিপ টিউবওয়েলের ঠিকাদার ছিলেন।

    ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, নিহতের নাম-পরিচয় পেয়েছি বিস্তারিত পরে জানাব। তবে কীভাবে লোকটির মৃত্যু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। সুরতহাল করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

     

  • মাদক নির্মূল এর নামে বিধবার বাড়ি লুট !

    মাদক নির্মূল এর নামে বিধবার বাড়ি লুট !

    সাইফুল সুমন ঃ গাছ চুরি, মানুষকে মারধর সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিল শওকত হাসেম শকুর সহযোগী নবীসহ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে এবার মাদক নির্মূলের নামে তল্লা সবুজবাগ এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে নগদ টাকা ফ্রিজ সহ বিভিন্ন মালামাল লুটে নেয় নবী বাহিনী। পরে এ বিষয়ে ফতুল্লা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভুগী এক নারী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে নবী ও তার বাহিনীর ১০ থেকে ১২ জন সদস্য তার ভাড়া বাড়িতে  প্রবেশ করে শাহিন নামের এক ব্যক্তিকে খোঁজ করে। পুরো বাড়ি খুঁজাখুঁজি করার পর এক পর্যায় সেই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তারা। তবে ঘরে কাউকে খুঁজে না পেয়ে ঘরে থাকা নগদ টাকা ফ্রিজ সহ সব মালামাল লুটে নেয়। তিনি আরও বলেন,  মালামাল লুটে বাঁধা দেয়ায় নবী ও তার লোকজন বলেন এসব বিষয় কাউকে কিছু বল্লে একদম মাইরা এলাকা থেইকা বের করে দিমু।
    জানা যায়, গত আগষ্ট মাসে নাসিক ১২ নং ওয়ার্ড¯’ল গঞ্জে আলী খাল সংস্কার করার নামে রেলওয়ের ৭০ টি সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছিলো ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও তার সহযোগী নবী বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে সে সময় গাছ চুরির বিষয়টি পুরোপুরি এরিয়ে যায় নাসিক মেয়র।  তবে মেয়র বলেন এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে ¯’ানীয় কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।  তবে কাউন্সিলর প্রথমে বলেন খাল সংস্কারের জন্য গাছ কাটা হয়েছে। পরে মেয়রের অনুমতির আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কাউকে গাছ কাটতে অনুমতি দেইনি।  কারা কেটেছে তাও বলতে পারবো না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ¯’ানীয় কাউন্সিল শওকত হাশেম শকুর সহযোগী নবী ও তার বাহিনী নিজেরাই মাদকের সাথে জড়িত। তারা মাদক সেবন ও ক্রয়, বিক্রয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত। তার পরেও কাউন্সিলরের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে  তল্লা, খানপুর, বৌউবাজার, ব্যাংক কলোনি, সহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক নির্মূলের নামে সাধারন মানুষদের হয়রানি করে থাকে। মাঝে, মাঝে নিজেরাই মাদক নির্মূলের নামে মানুষের বাসায় ঢুকে তাদের মালামাল সহ সর্বশ লুটে নেয়।  তবে এসব বিষয়ে কেউ বাঁধ দিতে চাইলে তাদের হুমকি এমনকি মারধর করে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়ে।
    বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শুধু ১২নং ওয়ার্ড না পুরো খানপুর, তল্লা এলাকায় অনেক প্রভাব রয়েছে নবী ও তার বাহিনীর। তারা নিজেরাই বিভিন্ন সময় প্রশাসনের ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাদের সরকারি গাছ চুরি আর মানুষের মালামাল লুট করতে কারও অনুমতি প্রয়োজন পরে না। তাদের এই বাহিনীটি  সংস্কার, সমাজসেবা ও মাদক নির্মূলের নামে দীর্ঘদিন ধরেই চুরি, ছিনতাই করে বেরা”ছ বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।  গোপন সূত্রে জানা যায়, এই নবী বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই মাদকের সাথে সরাসরি জড়িত।  তারা শহরের খানপুর ব্যাংককোলনি এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজে বসে সব সময়ই মাদক সেবন করে থাকে। এমনকি এখানে অব¯’ান করেই বিভিন্ন মাদকের বড় বড় ডিলাররা বিভিন্ন খুচরা মাদক বিক্রেতাদের কাছে মাদক বিক্রি করেন।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে রিকশা ট্রাক সংঘর্ষ: নিহত ১

    সিদ্ধিরগঞ্জে রিকশা ট্রাক সংঘর্ষ: নিহত ১

    সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় এলাকায় ট্রাক চাপায় ইয়াছির ইনতেছার সোলেমান (৩৩) নামে ১’জন নিহত, অপরজন আশরাফুল (২৭) নামে আরেক আরোহী আহত। গতকাল সোমবার সকাল ১১’টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সোলেমান ঢাকার খিলগাঁও থানার মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার মো: আব্দুলহাই এর ছেলে।
    জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক, ভ্যানের বিরুদ্ধে সানারপাড় ও মাদানীনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছিল বিআরটিএ। সকাল থেকে বিআরটিএ’র হেটকোয়ার্টারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহার এর নেতৃত্বে অভিযানে থাকা লোকজন কিছু দূর থেকে রিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। তখন দুইজন যাত্রীসহ রিকশা চালক দ্রæত গতিতে পিছনে ফিরে যেতে চাইলে বিপরিত দিক থেকে আশা ট্রাকের চাপায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে সোলেমান নিহত হয়। আর গুরুতর আহত হয় আশরাফুল। তাকে প্রথমে স্থানীয় প্রো-অ্যাকটিভ পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার পর পরই বিআরটিএ‘র অভিযান বন্ধ করে চলে যায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই বাবুল জানায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় রিক্সার সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে ১’জন নিহত হয়েছেন অপর জন আহত ।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্রকরে দু পক্ষে সংর্ঘষ !

    সিদ্ধিরগঞ্জে ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্রকরে দু পক্ষে সংর্ঘষ !

    আরহাম কবিরঃ সিদ্ধিরগঞ্জ ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দু’জনকে কুপিয়ে আহত করেছে রাসেল বাহিনী। কেটে ফেলা হয়েছে একজনের হাতের আঙ্গুল। ভাংচুর করেছে সরকার দলীয় অফিস। সোমবার ( ১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২’টার দিকে মিজমিজি সাহেবপাড়া পঞ্জায়েত কমিটি সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আহতরা হলেন, মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকার রুকন হাজির ছেলে রাজু (৩০) ও মাদ্রাসা রোড এলাকার কবির (২৫)।
    জানা যায়, মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা করে আসছে রাজু। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিতে চায় ইয়াছিন আরাফাত রাসেল ওরফে ইয়াবা রাসেল। এনিয়ে সৃষ্টি হয় বিরোধ। বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে নিস্পত্তি করার জন্য রাজু ও কবির বেলা ১২ টার দিকে সাহেবপাড়া এলাকায় যায় রাসেল বাহিনীর বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে। তখন তাদের উপর হামলা করা হয়। আহত কবির জানায়, কথাবার্তার একপর্যায় বিল্লালের নেতৃত্বে কাদের, সুজন, আকবর, সুমনসহ ৬/৭’জন চাপাতি রান দা নিয়ে আমরা দুই জনের উপর হামলা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রান দা ও চাপাতি দিয়ে রাজু ও কবিরকে চারদিক থেকে ঘিরে এলোপাথারি কুপাতে থাকে। নিজেকে রক্ষা করতে তারা দৌঁড়ে পাশের ওয়ার্ড আওয়ামীলীর অফিসে প্রবেশ করে। হামলাকারিরা সেখানে গিয়েও কুপায় ও অফিস ভাংচুর করে। এসময় আহতদের আতœচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আশলে হামলাকারিরা দ্রুত পালিয়ে যায়। কুপের আঘাতে রাজুর হাতের একটি আঙ্গুল আলাদা হয়ে পড়ে। এছাড়াও দু’জনের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎক জানায়, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ বিষয়ে জানতে হামলার নেতৃত্বদানকারী বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই ফয়সাল জানান, কোন পক্ষই সঠিত ভাবে কিছু বলছেনা। তবে পূর্বের বিরোধ মিমাংশা করতে আসলে মারামারির ঘটনা ঘটে। দু’জন গুরুতর আহত হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, মারামারি খবর শোনে তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে কেহ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • একজন রাজীব এর জীবনী (৩)

    একজন রাজীব এর জীবনী (৩)

    অনেকেই জানতে চান, এই গল্প সত্যি কি-না। জ্বি, শতভাগ সত্যি।
    এটাকে গল্প না বলে ঘটনা বলা যায়।
    রাজীব সাহেব মাঝে মাঝে বলতেন, আমার এই ঘটনা তুমি একদিন লিখো।
    এই ব্যথাতুর কাহিনী, দুমকির কিছু মানুষ আর আমি ছাড়া তেমন কেও জানে না।
    ক’দিন আগে প্রচণ্ড শরীর খারাপ অনুভব করি। তাতেই মনে হলো, এই কাহিনী আমি না বললে আর কোনদিন কারও জানা হবে না।
    ‘দেবী গাফ্ফার’
    শুরু…
    এটা ৬৬ সালের দিকে।
    আজমদের বৈঠক খানায় বিচার বসে।
    বেচারা বারেক, একা দাঁড়িয়ে, মাথা নিচু করে চরম অপমানজনক কথাবার্তা হজম করতে থাকে।
    শেষ কথা ছিলো, কুকুর এর পেটে ঘি হজম হয়?
    সেদিন এই প্রশ্নের কোন উত্তর ছিলো না।
    একবারও বলতে পারেননি, আমি আপনাদের মেয়েকে ভালো রাখবো।

    যন্ত্রণায় ছটফট করে নদীর পাড়ে সারা রাত কেটে যায়।
    এ ছিলো অপমানের যাতনা।
    মনে মনে সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, এখানে আর নয়। এখানকার মানুষ, বাচ্চা-বুড়া সারাক্ষণ মনে করিয়ে দেয়, বারেক কে?
    জন্ম একঘরে, লালন-পালন অন্য ঘরে।
    পালা বারেক নাম হয়ে গেলো।
    নিজের নামের প্রতি ঘৃণা জন্ম নেয়।
    যে রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া সেই রাস্তাও বার বার মনে মনে করিয়ে দেয়, তুমি রাস্তার সন্তান।
    মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    মেট্রিক এর রেজাল্ট আসে, একা একা পড়ে সেকেন্ড ডিভিশনে পাস।
    ঐ গ্রাম এর প্রথম মেট্রিক পাস ছেলে বারেক।
    দলে দলে লোক দেখতে আসে।
    কথা কম বলা বারেক আশার আলো দেখতে পায়। সম্পর্কে চাচাত ভাই, রাজ্জাক।
    রাজ্জাক ভাই ঢাকায় চাকরি করেন।
    উনার কাছে গিয়ে বলেন, ভাই আমাকে আপনার সাথে ঢাকা নিয়ে চলেন। যা কাজ দিবেন আমি করবো।

    মা-বাবা ফেলে রাজ্জাক ভাই এর হাত ধরে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। রাজহংস জাহাজে চড়ে। এ যেন এক ধরনের পালানো।
    আর কেও অপমান করবে না।

    সিদ্ধান্ত হয় মাসে পচাত্তর টাকা বাড়ি থেকে পাঠানো হবে।
    পচাত্তর টাকা সম্বল নিয়ে অজানা-অচেনা ঢাকা শহরে নামলেন।

    এটা ৬৯ সন। পরের দিন সকালে রাজ্জাক ভাই বলেন, তৈরি হয়ে নাও। কেরামত চাচার বাসায় তোমাকে নিয়ে যাবো, যদি কোন চাকরি হয়।
    তাড়াতাড়ি করে সাদা পায়জামা ও কুর্তা পরে চুলে ভালো করে তেল দিয়ে দেব আনন্দ স্টাইলে চুল আঁচড়িয়ে রওয়ানা হয়।
    যার কাছে যাওয়া হচ্ছে উনি সি.এস.পি. মোহাম্মদ কেরামত আলী।
    পরবর্তীতে ধর্মমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
    সম্পর্কে বারেক এর চাচা হন।

    রাজ্জাক ভাই পরিচয় করিয়ে দেন। কাসেম কাকার পালক সন্তান, বারেক। যদি কোন চাকরি দেন বেচারা খেয়েপরে বেঁচে থাকবে।
    কেরামত চাচা আপাদমস্তক দেখে বলেন, ও কি কাজ করবে ওর পোশাক দেখে মনে হচ্ছে নায়ক হতে চায়।
    সাথে সাথে মাথা ঝিমঝিম করে। কানে বাজতে থাকে- নায়ক হতে চায়, নায়ক হতে চায়। বার বার একই কথা ঘুরে ফিরে কানে বাজে।
    চাকরি হলো। তিতাস গ্যাস কোম্পানি গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সময় রাস্তা কাটা হচ্ছে, পাইপ বসছে।
    বারেক এর কাজ হলো,পাইপ টেনে আনা-নেওয়া। ডেইলি লেবার। এটাও অস্থায়ী চাকরি।

    এখানেও পচাত্তর টাকা বেতন।
    মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা শেষ হয়ে যায়। আসা-যাওয়া, ঘরভাড়া ও খাওয়া। বিড়ি কেনার টাকা থাকে না।
    কাজের ফাঁকে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে, কোন পথচারী যদি তার খাওয়া বিড়ি বা সিগারেটের শেষটুকু ফেলে যায়।
    আহ একটা পড়লো, তাড়াতাড়ি কুড়িয়ে নিয়ে দুই টান।
    টি অ্যান্ড টি কলেজে ভর্তি হলো।
    পাউরুটি ও কলা হয়ে গেল জীবনের একটা অংশ। মেস এ থাকা। একাত্তরে ঢাকা ছেড়ে আবার বাড়ি ফিরে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো।
    নিয়তির অপার লীলা, কে খণ্ডন করবে।
    বাবা আশ্চর্য রকমের সিদ্ধান্ত নিলেন। মিনতি করে বসলেন।
    বারেক ভাবতে থাকে, এই বাবা না থাকলে আজকে জীবন কি হতো?
    আবার মনের ওপর শুরু হলো নতুন ঝড়।
    ইচ্ছা-অনিচ্ছা কাকে জানাবে।
    কার কাছে যাবে।
    বাবার আদেশ না শুনলে বেইমানি হবে।
    অসহায় বারেক কৃতজ্ঞতার খাতিরে বাবার আদেশে তার বোনের মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হলেন।
    নিজের ‘না’ টুকু কোরবানি দিয়ে দিলেন।