Category: প্রচ্ছদ

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ: হাইকোর্টের রায়

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ বেশকিছু বিষয়ে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

    রায়ের পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, সংবিধানের মূল সৌন্দর্য হলো জনগণের ক্ষমতায়ন। জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়েছিল। এজন্য এটি সংবিধানের মৌলিক ভিত্তি হয়ে গেছে।

    এর আগে, গত ৫ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ বেশকিছু বিষয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, এই মর্মে জারি করা রুলের রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ ২৩ কার্যদিবস শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের দিন ধার্য করেন।

    বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। এছাড়া অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়েছ। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও ওই সংশোধনীতে পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিষয়টি সংযোজন করা হয়।

  • ভারত ছিল বিজয়ের মিত্র, এর বেশি নয়: মোদির বক্তব্যের প্রতিবাদে আসিফ নজরুল

    ভারত ছিল বিজয়ের মিত্র, এর বেশি নয়: মোদির বক্তব্যের প্রতিবাদে আসিফ নজরুল

    অনলাইন ডেস্ক : মহান বিজয় দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্টের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

    সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি প্রতিবাদ জানান। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট যুক্ত করেছেন আইন উপদেষ্টা।

    আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘তীব্র প্রতিবাদ করছি। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ছিল বাংলাদেশের বিজয়ের দিন। ভারত ছিল এই বিজয়ের মিত্র, এর বেশি কিছু নয়।’

    এর আগে ফেসবুক ও এক্সে দেয়া একটি পোস্টে মোদি লেখেন, ‘আজ বিজয় দিবসে, ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সাহসী সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে আমরা সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ আত্মোৎসর্গ ও অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এ দিনটি তাদের অসাধারণ বীরত্ব ও অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।’

    মোদির এই পোস্ট নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু মোদি দাবি করেছে, এটি শুধু ভারতের যুদ্ধ এবং তাদের অর্জন। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের অস্তিত্বই উপেক্ষিত। যখন এই স্বাধীনতাকে ভারত নিজেদের অর্জন হিসেবে দাবি করে, তখন আমি একে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, এবং অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখি। ভারতের এই হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে।’

  • রেমিট্যান্সে সুবাতাস: ডিসেম্বরের দুই সপ্তাহে এলো ১৩৮ কোটি ডলার

    রেমিট্যান্সে সুবাতাস: ডিসেম্বরের দুই সপ্তাহে এলো ১৩৮ কোটি ডলার

    অর্থনীতি ডেস্ক : চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১৩৮ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ৮৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়, চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১৩৮ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত নভেম্বর ও অক্টোবরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল যথাক্রমে ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ ও ১১২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। অক্টোবর ও নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।

    ডিসেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৬ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, ৮ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ৭৬ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। আর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৬১ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

    এর আগে, গত জুন মাসে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ১৯১ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় ছিল।

    তবে অন্তর্র্বতী সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

    এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। অক্টোবরে এসেছে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। আর সবশেষ নভেম্বরে এসেছে ২১৯ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

  • গলাচিপায় বর্ণিল আয়োজনে বিজয়ের ৫৪তম বছর উদযাপন

    গলাচিপায় বর্ণিল আয়োজনে বিজয়ের ৫৪তম বছর উদযাপন

    পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি : গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও চেতনায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

    সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভ সুচনা হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় বীর শহীদদের। পরে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাছিম রেজা, থানার অফিসার ইনচার্জ আশাদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সত্তার হাওলাদার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর ডা. মো. জাকির হোসেন, গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান প্রমূখ।

    এদিকে বাংলাদেশ তুরস্ক ফ্রেন্ডশিপ স্কুলে মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়। এসময় আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। বিকেলে স্থানীয় স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য এবং নাটক পরিবেশন করা হবে। বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে আরও ছিলো শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।
    অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে শহরের সরকারি বেসরকারি ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় লাল সবুজ বাতিতে আলোকসজ্জা ও পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও উপজেলা শহরে রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

    বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীতে গলাচিপা জুড়ে ছিলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ এবং আনন্দঘন পরিবেশ। নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এই আয়োজন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে দূর্নীতি ও অনিয়মে ছড়াছড়ি !

    ঠাকুরগাঁওয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে দূর্নীতি ও অনিয়মে ছড়াছড়ি !

    ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নাকাটি হাট শহীদ আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে অনিয়মের ছড়াছড়ির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই দেওয়া হয়েছে নিয়োগ।

    বিধি মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি জাতীয় পত্রিকায় ও একটি স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য এবং অনিয়মের কথা উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। অভিযোগ সূত্র মতে, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ঐ বিদ্যালয়টির সিনিয়র শিক্ষক তৈয়বর রহমান, হায়দার আলী, মুকুল চন্দ্র সহ আরও কয়েকজন আবেদন করেন। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করে গোপনে মাসুমা রসিদ নামে এক জুনিয়র শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া গোপন করতে এই তিন শিক্ষককে দেওয়া হয়নি প্রবেশপত্র। জানানো হয়, নি পরীক্ষা, কবে, কোথায় ও কী ভাবে হয়েছে।

    জানা যায়, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নূরুল আমীন। এর সাথে ২০০৭ সাল থেকে বিগত ১৬ বছরে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে ছিলেন ২ নং — কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজহারুল ইসলাম রাজা। রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে সরকারি নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করেই সাবেক প্রধান শিক্ষক নূরুল আমীন সহ যোগসাজশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা থেকে শুরু করে ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরিণত হয়েছে, অনৈতিকতার তুঙ্গে। বিগত বছরে বিদ্যালয়ের ফান্ডে কয়েক দফায় টাকা জমা হলে সে টাকা তুলা হয়েছে যার নেই , কোন রেজুলেশন ও ব্যয়ের নির্দিষ্ট খাত। টাকা তুলে কি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোন শিক্ষক অবগত নেই, এমন অভিযোগও রয়েছে। প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন অবসরের আগেই সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ২০/০৯/২০২৩ ইং তারিখে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন জাতীয় মানবজমিন ও দিনাজপুরের পত্রালাপ পত্রিকায়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরেই যথাযথভাবে আবেদন করেন, ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। দীর্ঘ দিন পার হলেও আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়নি প্রবেশপত্র। পরবর্তীতে ০১/০১/২০২৪ ইং তারিখে সকল শিক্ষক জানতে পারে ঐ বিদ্যালয়েরই সহকারী শিক্ষিকা মাসুমা রশিদ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। কখন, কিভাবে হলো এ বিষয়ে সবার ভিতরে গভীর ধোঁয়াশা। তথ্য মতে, নিয়োগ পরীক্ষার নিয়োগ কমিটি গঠন ও পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে রেজুলেশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মাসুমা রশিদ নিজেই শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে স্বাক্ষর করেন, এবং গত‌ ৭ জানুয়ারি অনুমোদনের সেই সভায় তিনি উপস্থিত স্বাক্ষর করেন। কিন্তু সেই দিন ১২ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার পদে তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকাকালীন ঐদিনই কিভাবে সভায় উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করেন, এ নিয়ে রয়ে গেছে , শুধুই ধোঁয়াশা। আবার ০১/০১/২০২৪ ইং তারিখে মাসুমা রশিদ নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে হাজিরা খাতায় সহকারী শিক্ষক হিসেবেই স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে ঐ পদের বলেই তুলেছেন বেতন।

    অনিয়ম নিয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক নূরুল আমীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে গড়িমসি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ হয়েছে বলে, দাবি করেন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলাম রাজা পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহ্ এর সাথে কথা বললে, তিনি জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক নূরুল আমীন আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করে নতুনভাবে জাতীয় আজকের প্রত্যাশা এবং দিনাজপুরের একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তথ্যের সত্যতার জন্য পত্রিকার কপি দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ঐ তারিখে দিনাজপুরের জনমত পত্রিকায় অত্র বিদ্যালয়ের কোন বিজ্ঞপ্তি নেই !

    সাক্ষাৎকারে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, নিয়োগ পরীক্ষা নেকমরদ আলিমউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ,কিন্তু তিনি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত রিপোর্টে লিখেছেন, নিয়োগ পরীক্ষা অত্র বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিজি প্রতিনিধি আলিমউদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনের সাথে কথা বললে, তিনিও জানান, পরীক্ষা নাকাটি হাট শহীদ আব্দুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজি প্রতিনিধি নিয়োগের অফিস আদেশের নির্দেশনা গুলো সঠিকভাবে না মেনে নিজ খেয়াল খুশিমতো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি। শর্ত অনুযায়ী সকল আবেদন পত্র, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পত্রিকার মূল কপি সহ যাবতীয় তথ্যাদি তার কাছে থাকার কথা লেখা থাকলেও তিনি কোন তথ্য দেখাতে পারেন নি। পরীক্ষার ফলাফল শীটে উল্লেখ নেই, ইনডেক্স নম্বর ও নিবন্ধন নম্বর। যেখানে মাসুমা রশিদের অভিজ্ঞতা দেখানো হয়, ১৩ বছর কিন্তু বাস্তবে অভিজ্ঞতা ১০ বছর ১১ মাস। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন, নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম রয়েছে বলে, সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেন পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
    অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহীন আকতার জানান, অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে, এখনো আমরা রিপোর্ট ফাইনাল করতে পারিনি। আশা করি অচিরেই এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান হবে।

  • ঠাকুরগাঁওয়ে জেনারেল হাসপাতালের ২ লিফটের ১টি অচল অবস্থায় বন্ধ , রোগী-স্বজনদের দুর্ভোগ !

    ঠাকুরগাঁওয়ে জেনারেল হাসপাতালের ২ লিফটের ১টি অচল অবস্থায় বন্ধ , রোগী-স্বজনদের দুর্ভোগ !

    ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনা‌রেল হাসপাতালের ৬তলা ভবনের ২টি লিফটের মধ্যে ১টি লিফট দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। লিফট বিকল হওয়ায় ছয়তলা ভবনে ওঠানামা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজন, চিকিৎসকসহ স্টাফরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকল লিফট সচল করতে গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা বলছেন তাঁরা। জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবন উদ্বোধন করা হয়। এর প্রায় ২০ মাস পর নতুন ভবনটি প্রশাসনিকভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে গণপূর্ত বিভাগ।

    বি‌ভিন্ন সময়ে নানা সংকট নিয়ে চলতে থাকা হাসপাতালের কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ২টি লিফট। প্রায় সময় লিফট ২টি নষ্ট থাকায় রোগী ও তার স্বজনেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এ ছাড়া এই ভবনের র‍্যাম্প সিঁড়ি না থাকায় লিফট বন্ধ থাকলে ভবনের বিভিন্ন তলায় মুমূর্ষু রোগীদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় চরম বিড়ম্বনা। ১৫ ডিসেম্বর রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পঞ্চম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ড ও চতুর্থ তলায় সার্জারি ওয়ার্ডে সিঁড়ি বেয়ে রোগীকে নিতে হচ্ছে ট্রলি কিংবা স্বজনদের কোলে করে। এ অবস্থা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও স্বজনেরা। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ম‌র্জিনা বেগম বলেন, ৫ দিন হাসপাতালে ভর্তি থেকে সুস্থ হয়ে ডাক্তারের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু এ বয়সে ৫ তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ও নিচে নামতে গিয়ে আবার অসুস্থ বোধ করছি। ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনা‌রেল হাসপাতালের ৬ তলা ভবনের ২টি লিফটের মধ্যে ১টি লিফট দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা জেনা‌রেল হাসপাতালের ৬ তলা ভবনের ২টি লিফটের মধ্যে ১টি লিফট দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। আরেক রোগীর স্বজন ম‌নোয়ারা বেগম জানান, তাঁর বাবাকে ৬ তলার কে‌বিনে ভর্তি রেখেছেন। আজ দেখতে গিয়ে তিনি একই বিড়ম্বনায় পড়েন এবং সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে হাঁপিয়ে ওঠেন। নাম প্রকাশ না করার শ‌র্তে এক চিকিৎসক বলেন, লিফটে ভিড় থাকায় ৩০‌ মি‌নিট দাঁড়িয়ে থেকেও উঠতে পা‌রি‌নি। পরে পায়ে হেঁটে ৬ তলা ভবনের রোগী দেখে এসেছি। একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন সদরের জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা ইসলাম। তিনি বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫ তলায় যেতে গিয়ে লিফটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়ে‌ছিল। লিফটে গিয়ে ভিড় ঠেলে উঠতে না পেরে মাকে কোলে করে ওঠাতে হয়েছে, যা বেশ কষ্টকর ছিল। ১টি লিফট নষ্ট থাকায় অপর লিফটের ওপর চাপ পড়ছে। আসমা নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, মাকে নিয়ে ১০ দিন হলো হাসপাতা‌লে।

    এ সময় লিফট নষ্ট থাকায় দিনে খাবার, ঔষুধ সহ ৮-১০ বার উঠতে-নামতে গিয়ে প্রচণ্ড রকম কষ্ট পেতে হয়। লিফট অপারেটর তারাপদ রায় ব‌লেন, ১৫‌ দিন ধ‌রে ১টি লিফট বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগা‌ন্তি হচ্ছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফি‌রোজ জামান জু‌য়েল বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি সৃষ্টি হওয়ায় এক‌টি লিফট বিকল হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে লিফটটি সচল হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে কথা হয়েছে।