Category: প্রচ্ছদ

  • ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট  উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি আজ সকাল সোয়া ১১ টায় ঢাকার নভোথিয়েটারে দু’দিন ব্যাপী এ সামিটের উদ্বোধন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে সকাল ১০টায় ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।  এরপর অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়৷
    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়ামের ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার দু’দিন ব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করে।

    সামিটের মূল লক্ষ্য- বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্স শিল্পের বর্তমান অবস্থা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ বিশ্ব দরবারে ও গণমাধ্যমে তুলে ধরা।

    সামিটে সরকারের নীতিনির্ধারক, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তাঁরা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।

    এতে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যানডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে মোট ৩৫টি স্টলে  শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, আইসিটি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

    এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) সভাপতি এম এ জাব্বার, বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন পারড্যু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সিলিকন রিভার ইনিশিয়েটিভের চিফ আর্কিটেক্ট প্রফেসর মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন।

    আগামীকাল ২৬ জুলাই সামিটের দ্বিতীয় ও সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত হবে ক্রিস্টে ফেলো রিসার্চ সিম্পোজিয়াম। এতে দেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর গবেষকরা তাঁদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করবেন।

    পাশাপাশি আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে সেমিকন্ডাক্টর সুপারিশমালা, ট্যালেন্ট রোডম্যাপ ২০৩০, ইকোসিস্টেম রোডম্যাপ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কাঠামো, ডিপ-টেক অগ্রাধিকার খাত ও বাণিজ্যিকীকরণ কাঠামো।

    আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এসব দলিল বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরিতে দিকনির্দেশনা দেবে।

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত।

    তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

    আজ শনিবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনকে কেবল একটি সাধারণ আয়োজন নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম কারিগরদের মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদের অনেকেই নিজ উদ্যোগে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সামিটে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।’

    চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সেমিকন্ডাক্টরকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।’

    বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যেই গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য অপার সুযোগ বিদ্যমান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আমরা একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে এই খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

    এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন উদ্ভাবন বাস্তবায়নে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রেখেছে, যার বণ্টন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

    বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ টানতে শুল্কমুক্ত (বন্ডেড) সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।’

    আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি সামিটে যোগ দিতে আসা দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির অংশীদারত্বে দুই দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করা হয়।

    সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে মোট ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব স্টল ঘুরে দেখেন।

  • হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    হরিণাকুণ্ডুতে মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা

    জেলার হরিণাকুণ্ডুতে সাহেব আলী নামে এক মাংস ব্যবসায়ীকে (কসাই) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাকে এ জরিমানা করা হয়।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কুলবাড়িয়া বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
    ‎‎
    ‎ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়িয়া বাজারে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট বা ভেটেরিনারি ছাড়পত্র ছাড়াই পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছিলেন ওই ব্যবসায়ী।

    খবর পেয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রদীপ্ত রায় দীপন ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
    ‎‎
    ‎এ সময় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে সাহেব আলীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    ‎অভিযানকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার কুণ্ডু উপস্থিত ছিলেন।

    ‎উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ্ত রায় দীপন বাসসকে জানান, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস ও খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

    পশু চিকিৎসকের ছাড়পত্র ছাড়া পশু জবাই ও মাংস বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি

    ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি

    ইতালির সিসিলি, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলে  বুধবার ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিসিলি দ্বীপে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। গরম বাতাসের ঝাপটায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন ধরেই সেখানে দাবানল জ্বলছে।
    রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সিসিলি অঞ্চলের প্রধান রেনাতো স্কিফানি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬ হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও সিভিল প্রোটেকশনের সদস্য কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় পানি নিক্ষেপকারী বিমানও ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখনও ৫০টি স্থানে দাবানল জ্বলছে।

    বিজ্ঞানীরা একমত যে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানল ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

    ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি বলেন, আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে একজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    ইতালির সিভিল প্রোটেকশন সংস্থার একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, সিসিলির পরিস্থিতি ‘গুরুতর’। অত্যধিক তাপমাত্রা ও অত্যন্ত শুষ্ক মাটির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    প্রতিবেশী কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান বলেন, এসব আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। তার অভিযোগ, ‘দুর্বৃত্তরা’ আগুন ছড়িয়ে দিতে দাহ্য তরলে ভেজানো কাপড় ভবঘুরে বিড়ালের লেজে বেঁধে দিয়েছে।

    ফ্রান্সে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার নিহত দমকলকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, দমকলকর্মীরা চরম ক্লান্তি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন।

    দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় দাবানলে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে বোর্দোর কাছে মনোরম আরকাশঁ বেসিন এলাকায় একটি দাবানলে এক হাজার ৪০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

    দমকল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন উইলফ্রিড স্নাইডার এএফপিকে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ঘনভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পাইনগাছে ভরা একটি বনের আগুনের সঙ্গে লড়ছি।’ তিনি আগুনের তীব্রতাকে ‘বিরল’ বলে মন্তব্য করেন।

    ল্য পোর্জের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি বলেন, বনপথ পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত কোনো যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    প্রশাসন জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ল্য পোর্জে প্রায় ৭০০ মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। এছাড়া তিন হাজারের বেশি ক্যাম্পারকেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ ফ্রান্সের আরেকটি এলাকায় বনাচ্ছাদিত পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল বুধবার সকালেই নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। আগুনটি কয়েক শত মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। এতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দ্বিগুণ আয়তনের এলাকা পুড়ে গেছে।

    মঙ্গলবার ভার অঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তা অপ্রত্যাশিত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং দুই হাজার ৫৫০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়।

    মার্সেই ও নিস শহরের মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার দমকলকর্মী এবং বিশেষায়িত পানি নিক্ষেপকারী বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    মোট ৪ হাজার ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরোন্দ অঞ্চলের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকা আরও কয়েক শ’ মানুষকে এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্পেনে মাদ্রিদের দক্ষিণে টলেডো শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বুধবার বড় ধরণের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সিভিল গার্ড জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি প্রধান সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
    টলেডো রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

    নতুন এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময় মাদ্রিদের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে আরেকটি ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কয়েক শত দমকলকর্মী কাজ করছিলেন। সেখানে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।

    ইউরোপীয় বন দাবানল তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্পেনে দাবানলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।

  • নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী

    নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদমর্যাদার র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

    আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

    তিনি আরো জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

    ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন।

    তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

    প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করেন।

    এছাড়াও তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

    তিনি নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।

    ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

    প্রায় ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হন।

  • ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে এ এক্সপো পরিদর্শন করেন তিনি।

    আজ সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও এক্সপো শুরু হয়। এ আয়োজনের লক্ষ্য বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পরবর্তী ধাপে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটি আরও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের উদ্যোগ জোরদার করছে। এ প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন এফআইসিসিআই বা ফিকির সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ।