Category: লাইফস্টাইল

  • ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো

    ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসকষ্ট, নিজের অজান্তেই এই রোগে ভুগছেন না তো

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: রাতে কি আপনার বিছানার সঙ্গী বা পার্টনার প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আপনি অতিরিক্ত জোরে নাক ডাকছেন? কিংবা ঘুমের ঘোরে হঠাৎ দম আটকে আসার মতো হাঁসফাঁস করছেন? যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি মোটেও হেলাফেলার নয়।

    চিকিৎসকরা বলছেন, এটি হতে পারে ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ (ওএসএ)—যার কারণে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হয়।

    আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই নীরব ঘাতক ব্যাধিটি সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও সতর্কতা শেয়ার করেছেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এর মধ্যে মাত্র ৬০ লাখ মানুষের রোগটি শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই জানেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

    চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করালে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্মৃতিভ্রম এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    রোগটি যেভাবে বাসা বাঁধে

    মায়ামির স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. আলেহান্দ্রো ডি. চেডিয়াক জানান, স্লিপ অ্যাপনিয়া হুট করে হয় না, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে। সাধারণত ঘুমের মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় শ্বাস বন্ধ হওয়ার সূচককে বলা হয় ‘অ্যাপনিয়া-হাইপোপনিয়া ইনডেক্স’। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এই সূচক ৫ বা তার কম থাকে।

    তিনি বলেন, ‘ওজন একটু বেড়ে গেলে প্রথমে হয়তো প্রতি ঘণ্টায় ৫ থেকে ৭ বার এমন হতে পারে, যা শুরুতে তেমন গায়ে লাগে না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং ওজন আরও বৃদ্ধি পেলে এই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে।’ অনেকেই দিনের বেলার ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাবকে বয়স বা লাইফস্টাইলের পরিবর্তন মনে করে এড়িয়ে যান, যা পরে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

    শিকাগোর পালমোনোলজিস্ট ড. জেমস হার্ডেজেন জানান, স্লিপ অ্যাপনিয়া মূলত শ্বাসনালীর একটি যান্ত্রিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। নাক ও গলার ভেতরের টিস্যু বা টনসিলের গঠনগত সমস্যা, বংশগত কারণ, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং শোয়ার ধরনের কারণে এটি হতে পারে।

    ঘুমের ওষুধ ও স্লিপ স্পেশালিস্ট ড. ইলেন রোজেন স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং হাইপোপনিয়ার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, ‘যখন ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় সেটা হলো অ্যাপনিয়া। আর যখন শ্বাসনালী পুরোপুরি বন্ধ না হলেও মারাত্মকভাবে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয় সেটাকে বলে হাইপোপনিয়া।

    উভয় ক্ষেত্রেই অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে মস্তিষ্ক শরীরকে জাগিয়ে তোলে, ফলে ঘুম ভেঙে যায়।

    নারী বনাম পুরুষ এবং স্থূলতার সম্পর্ক

    চিকিৎসকদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ সমান থাকলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পুরুষরা নারীদের তুলনায় অনেক বেশি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত হন। তবে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর নারীদের আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং তারা পুরুষদের সমপর্যায়ে চলে আসেন।

    এছাড়া স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ওজন বাড়লে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়, ঘুম নষ্ট হয় এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়—যা রোগীকে আরও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে প্ররোচিত করে ওজন আরও বাড়িয়ে দেয়।

    আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

    স্লিপ অ্যাপনিয়া নির্ণয়ের জন্য এখন ঘরে বসেই ‘হোম স্লিপ টেস্ট’ করা সম্ভব। তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাব টেস্টকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন। রোগ শনাক্ত হলে নিচের চিকিৎসাগুলো দেওয়া হয়:

    ১. প্যাপ থেরাপি: এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। একটি মেশিনের সাহায্যে মৃদু বাতাসের চাপ দিয়ে শ্বাসনালীকে সারারাত উন্মুক্ত রাখা হয়।

    ২. ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স: মৃদু থেকে মাঝারি আক্রান্তদের জন্য দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শে মুখের বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, যা চোয়ালকে সামনের দিকে টেনে রাখে।

    ৩. ওজন কমানোর ওষুধ: সম্প্রতি এফডিএ অনুমোদিত ইনজেকশন ‘টির্জেপ্যাটাইড’ ওজন কমানোর মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগী সম্পূর্ণ নিরাময় করতে সক্ষম হয়েছে।

    ৪. ইমপ্লান্টযোগ্য ডিভাইস: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জিবকে শ্বাসনালীর পথ থেকে দূরে রাখতে উদ্দীপক ডিভাইস বসানো হয়।

    চিকিৎসকদের পরামর্শ

    যদি আপনি ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে ক্লান্ত বোধ করেন, তবে বুঝতে হবে আপনার ঘুমে কোনো ব্যাঘাত ঘটছে। চিকিৎসকদের শেষ কথা—নাক ডাকা মানেই স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়, আবার নাক না ডাকলেও এই রোগ হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে অবিলম্বে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • গরমে সুস্থ থাকতে জেনে নিন শসা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

    গরমে সুস্থ থাকতে জেনে নিন শসা খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

    গ্রীষ্মের তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে শসা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। ভাত, রুটি বা মুড়ির সঙ্গে কয়েক টুকরো শসা বাঙালির খাদ্যতালিকায় প্রায় অপরিহার্য। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, সঠিক উপায়ে শসা না খেলে এর পূর্ণ উপকার পাওয়া যায় না।

    শসায় প্রায় ৯৫-৯৬ শতাংশ পানি থাকে, যা গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া শসায় থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং কম ক্যালোরির কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই শসা খাওয়ার সময় এর খোসা ছাড়িয়ে ফেলেন, যা একটি বড় ভুল। শসার খোসাতেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি ফাইবার, সিলিকা, ভিটামিন কে ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।  খোসা ছাড়ালে শসার পুষ্টিগুণের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়।

  • মস্তিষ্কের জটিলতায় হাঁটার গুরুত্ব

    মস্তিষ্কের জটিলতায় হাঁটার গুরুত্ব

    ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে অনেক মাঝবয়সী মানুষ মানসিক ‘ফগ’ বা ঝাপসা ভাব অনুভব করেন। এতে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং সহজেই স্ট্রেসে ভেঙে পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এর একটি সহজ সমাধান হতে পারে নিয়মিত হাঁটা।

    হার্ভার্ড, কলাম্বিয়া ও কর্নেল-প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ডা. অ্যামি শাহ জানিয়েছেন, জিমে কঠোর ব্যায়াম না করেও শুধু সপ্তাহে তিন দিন ৪০ মিনিট করে হাঁটলেই মস্তিষ্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে হিপোক্যাম্পাস নামের অংশটি বড় হতে শুরু করে, যা স্মৃতি ও শেখার ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই অংশ স্বাভাবিকভাবেই ছোট হতে থাকে, ফলে ভুলে যাওয়া ও মনোযোগের সমস্যা বাড়ে। কিন্তু নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ধীর করা বা উন্নত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, হাঁটা শরীরের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাঝবয়সে হরমোন পরিবর্তনের কারণে স্ট্রেস সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ছোট বিষয়ও বেশি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত হাঁটা এই চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    খোলা বাতাসে, বিশেষ করে গাছপালার মাঝে হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী, কারণ এটি স্ট্রেস কমায় এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

    সবশেষে বলা যায়, বড় পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় পদক্ষেপ দরকার হয় না। ছোট একটি অভ্যাস যেমন নিয়মিত হাঁটা, শরীর ও মস্তিষ্ক—উভয়ের স্বাস্থ্যে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ঘরে তৈরি খাবারে দূর হবে বদহজম

    ঘরে তৈরি খাবারে দূর হবে বদহজম

    ভারি খাবার নয়, বাইরের খাবারও নয়। প্রতিদিন যা ডাল-ভাত-তরকারি খান, তাই খেয়েছেন। তারপরও আপনাকে গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও পেটফাঁপার সমস্যা চরমভাবে ভোগাচ্ছে।

    এমন সমস্যায় অনেকেই ভোগে থাকেন। কিন্তু ঘন ঘন ব্লোটিংয়ের সমস্যা মোটেই ভালো নয়। তা ছাড়া বাড়ির তৈরি স্বাস্থ্যকর ও হালকা খাবার খাওয়া সত্ত্বেও কেন এমনটি হচ্ছে, তা জানা দরকার।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন এ সমস্যা সৃষ্টি হয়—

    বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে পেটফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত বেশি তেল-মসলাদার খাবার খেলে এমনটি হয়। কিন্তু সবসময়ে খাবারের দোষেই যে বদহজম হবে, এমনটি নাও হতে পারে। কারণ অনেক সময়ে আপনি কীভাবে খাবার খাচ্ছেন, তার ওপরও হজম প্রক্রিয়া নির্ভর করে থাকে।

    তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস, খাবার ঠিকমতো চিবিয়ে না খেলে কিংবা মনোযোগ দিয়ে খাবার না খেলে, তা ভালোভাবে হজম হয় না। এর জেরেও ব্লোটিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়। তখন ঘরের তৈরি হালকা খাবার খেলেও ব্লোটিং হয়।

    আবার দেখো গেছে ভুল খাবারের জেরেও বাড়ছে ব্লোটিং। বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যা হজমের সময় বেশি গ্যাস তৈরি করে। পেঁয়াজ, রসুন, ব্রকোলি, অঙ্কুরিত ছোলা, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, রাজমা, কাবুলি চানা, কাজু, পাস্তা ইত্যাদি। এগুলোকে বলা হয় ফার্মেন্টেবল কার্বোহাইড্রেট।

    এগুলো খেলে পেটফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের খাবার অন্ত্রে পৌঁছে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় ভেঙে যায়। এর জেরে গ্যাস বা পেটফাঁপার সমস্যা বাড়ে। এ ধরনের খাবার অল্প খেলেও পেট ভরা বা ফাঁপা লাগে। সুতরাং ঘন ঘন পেটফাঁপার সমস্যায় ভুগলে এ ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলাই উচিত।

    আবার এটাও ঠিক যে, আপনার অলস জীবনযাপনও এর জন্য দায়ী। ঘরে তৈরি খাবারই প্রতিদিন খাচ্ছেন। তাও বদহজম পিছু ছাড়ছে না। এর পেছনে মূল কারণ হচ্ছে, আপনার অলস জীবনযাপন।  আপনার অলসতাই দায়ী।

    আপনি খাওয়াদাওয়া শেষ করেই বিছানায় শুয়ে পড়েন। দিনের অর্ধেকের বেশি সময়ে মোবাইল হাতে না হলে ল্যাপটপের সামনে বসে কেটে দেন। অর্থাৎ ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কম বা একেবারে নেই-ই। এ অবস্থায় খাবার কী করে হজম হবে? হজম স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে শরীরচর্চা করা জরুরি। তা না করলে বদহজম, ব্লোটিং, অ্যাসিডিটির সমস্যাও দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

  • শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণে করণীয়

    শরীরে জিংকের ঘাটতি পূরণে করণীয়

    খাদ্যের একটি খনিজ উপাদান হলো জিংক। এটি শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় এক উপাদান, যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা বা ইমিউনিটিকে জোরদার করে। এ কারণে দেখা গেছে, যাদের জিংকের ঘাটতি রয়েছে তারা সহজেই নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়।

    জিংকের কাজ কী?

    শৈশবকালীন শারীরিক বৃদ্ধিতে জিংকের ভূমিকা রয়েছে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে শরীরের জন্য ক্ষতিকর মুক্ত মৌলের বিরুদ্ধে লড়াই করে। শরীরের প্রায় ৩০০ ধরনের উৎসচক বা এনজাইমের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান জিংক। এসব উৎসচক শরীরের বিপাক, হজম, স্নায়বিক কার্যক্রমসহ অসংখ্য কাজ সম্পাদন করে। আমাদের স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি দেয় জিংক। এটি হাড় গঠনে অংশ নেয়। এর অভাবে হাড়ক্ষয়ও হয়ে থাকে। জিংকের অভাবে স্নায়ুবৈকল্য হতে পারে। জিংক উপাদানটি শরীরে উৎপন্ন হয় না, শরীরে সঞ্চিতও থাকে না। প্রতিদিনের খাদ্যে এটির সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

    জিংকের ঘাটতি থাকার লক্ষণ

    জিংকের অভাবে শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। এগুলো হলো-

    * স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভব হ্রাস

    * ক্ষুধামন্দা বা অরুচি

    * হতাশা ভাব

    * ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া

    * ডায়রিয়া

    * চুল ঝরে পড়া ইত্যাদি।

     

    অতিরিক্ত গ্রহণের বিপদ

    তবে অতিরিক্ত জিংক গ্রহণ করলে শরীরে বিপদ নেমে আসতে পারে।

    জিংকের আধিক্য কপার শোষণে বাধা দেয়। এর ফলে অ্যানিমিয়া হতে পারে। এর পাশাপাশি দেখা দিতে পারে-

    * বমি ভাব, বমি

    * অরুচি

    * পেটে ব্যথা

    * মাথা ব্যথা

    * পাতলা পায়খানা

     

    কাদের শরীরে ঘটতি বেশি?

    খাদ্যে পর্যাপ্ত উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও জিংকের ঘাটতি দেখা দিতে পারে কিছু মানুষের। জিংকের ঘটতি দেখা দেওয়ার ঝুঁকিতে আছেন যাঁরা-

    * যাদের অন্ত্রনালির রোগ যেমন- ক্রোনস নামক রোগ রয়েছে

    * নিরামিষভোজী

    * গর্ভবতী এবং দুগ্ধদায়ী মা

    * শুধু বুকের দুধের ওপর নির্ভরশীল ছয় মাসের অধিক বয়সী শিশু

    * ক্রনিক কিডনি কিংবা লিভারের রোগী

    * সিকল সেল অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত রোগী

    * অ্যালকোহলসেবী

    * অপুষ্টি আক্রান্ত ব্যক্তি

     

    জিংকের উৎস

    জিংকের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার। যেমন কাঁকড়া, ঝিনুক, চিংড়ি, মাংস, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম, শিম, মাশরুম ইত্যাদি। শাক-সবজিতে বিদ্যমান জিংক শরীর সহজে হজম করতে পারে না, সে জন্য নিরামিষভোজীদের অতিরিক্ত জিংক গ্রহণ করা দরকার। একজন পুরুষ ও নারীর দৈনিক যথাক্রমে ১১ ও ৮ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। গর্ভবতী এবং দুগ্ধদায়ী মায়েদের চাহিদা আরো বেশি।

    খাদ্যে প্রাপ্ত জিংকের পাশাপাশি কখনো প্রয়োজন পড়ে অতিরিক্ত সরবরাহের। সে ক্ষেত্রে দেহের চাহিদা পূরণের জন্য জিংক ট্যাবলেট, সিরাপ অথবা লজেন্স দেওয়া যেতে পারে।

  • জেনে নিন মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার কিছু টিপস

    জেনে নিন মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার কিছু টিপস

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে সঠিক জীবনযাপন করলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার গতি ধীর করা সম্ভব। একই সঙ্গে আলঝেইমার বা অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগের ঝুঁকিও কমানো যায়। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর জোর দেন। নিচে গুরুত্ব অনুযায়ী মস্তিষ্ক ভালো রাখার ৬টি পরামর্শ তুলে ধরা হলো-

    নিয়মিত ব্যায়াম করুন

    নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ব্যায়ামের সময় মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, যা মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে কয়েক দিন ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। হাঁটা, সাঁতার কাটা, টেনিস খেলা বা হালকা দৌড়ের মতো যে কোনো মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম উপকারী।

    পর্যাপ্ত ও টানা ঘুম নিশ্চিত করুন

    ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করে এবং স্মৃতিগুলো গুছিয়ে রাখে। এতে শেখার ক্ষমতা ও মনে রাখার শক্তি বাড়ে। প্রতিদিন রাতে টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ভেঙে ভেঙে ঘুম হলে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম পায় না। যারা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

    খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। উদ্ভিদজাত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য, মাছ এবং ভালো চর্বিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন, তাদের আলঝেইমারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

    মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন

    মস্তিষ্কও পেশির মতো। ব্যবহার না করলে এর কার্যকারিতা কমে যায়। নিয়মিত বই পড়া, শব্দছক বা সুডোকু করা, তাস খেলা বা ধাঁধা সমাধান মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। বিভিন্ন ধরনের কাজ করলে মস্তিষ্ক বেশি উপকৃত হয়। অতিরিক্ত টিভি দেখা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি মস্তিষ্ককে তেমনভাবে সক্রিয় করে না।

    সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন

    পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। একা থাকলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিকভাবে সক্রিয় মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে সুস্থ থাকে। তাই সুযোগ পেলেই মানুষের সঙ্গে কথা বলা ও সময় কাটানো জরুরি।

    রক্তনালি ও হৃদ্স্বাস্থ্য ঠিক রাখুন

    মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে রক্তনালির স্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে এসব সমস্যা আগেই ধরা পড়ে। কম লবণ খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম করা এবং ধূমপান পরিহার করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। অ্যালকোহল পান করলে তা সীমিত রাখা জরুরি।

    মস্তিষ্ক সুস্থ রাখা কোনো কঠিন কাজ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক ও সামাজিক সক্রিয়তা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিলেই মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে ভবিষ্যতে স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা বজায় রাখা অনেক সহজ হবে।