Category: লাইফস্টাইল

  • আপনার নবজাতক সন্তানের সংক্রমণ হলে কীভাবে বুঝবেন

    আপনার নবজাতক সন্তানের সংক্রমণ হলে কীভাবে বুঝবেন

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: আপনার শিশুসন্তান জন্মের পরের প্রথম কয়েক সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নবজাতকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তখনও বিকশিত হয়ে থাকে। তাই সদ্য শিশুসন্তানের ক্ষেত্রে বড় শিশুর তুলনায় সংক্রমণ অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজে বোঝা যায় না। সেপসিস ও নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর অবস্থা নবজাতকের অসুস্থতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু বাবা-মায়েরা দ্রুত তা অনুধাবন করতে পারেন না। তারা যদি আগেভাগে লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন, তাহলে চিকিৎসাব্যবস্থা সহজ হয়।

    প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণ হচ্ছে— খাওয়া কিংবা আচরণে পরিবর্তন। যদি আপনার নবজাতক খুব বেশি ঘুমিয়ে থাকে, কয়েকবার দুধ খাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে অথবা হঠাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম খায়, তাহলে এটি অন্তর্নিহিত সংক্রমণের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    আপনার নবজাতকের সংক্রমণ বড় শিশুর সংক্রমণের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। জীবনের প্রথম ২৮ দিনে শিশুর মধ্যে উচ্চ জ্বর কিংবা তীব্র কাশির মতো সাধারণ লক্ষণ দেখা নাও যেতে পারে। তবে এর বদলে তাদের খাবার খাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শরীরের তাপমাত্রায় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো অস্পষ্ট মনে হতে পারে, তবে এগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংক্রমণের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে।

    আবার ক্রমাগত উচ্চ শব্দে কান্না, যা শান্ত করা যায় না তা আরেকটি উদ্বেগজনক লক্ষণ। নবজাতকের ক্ষেত্রে খেতে না চাওয়া বা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন জ্বরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যে শিশু একটু আগে সক্রিয় ছিল, সে আজ হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে শান্ত, অস্থির অথবা কম প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুতই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

    আপনার শিশুর শরীরের তাপমাত্রা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ৩৮ ডিগ্রি বা তার বেশি জ্বরকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া উচিত। তবে ৩৬ ডিগ্রির নিচে কম তাপমাত্রাও একই রকম উদ্বেগজনক হতে পারে। সে জন্য শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কম হলে তাকে স্পর্শে ঠান্ডা মনে হবে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে। নবজাতকের উচ্চ ও নিম্ন উভয় তাপমাত্রারই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন, এমনকি অন্য কোনো লক্ষণ না থাকলেও।

  • শীতকালে শসা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন

    শীতকালে শসা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন

    অনলাইন ডেস্ক:     শসা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এটি সালাদ কিংবা সবজি হিসেবে সারা বছরই খাওয়া যেতে পারে। তবে শীতকালে শসা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    জেনে নিন শীতকালে শসার উপকারিতা-

    ১. শরীর হাইড্রেটেড রাখে: শশায় প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি থাকে, যা শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়ায় শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

    ২. ত্বকের যত্নে সহায়ক: শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। শসার ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে ময়েশ্চারাইজড রাখতে এবং উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।

    ৩. কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে: শসায় ফাইবার রয়েছে, যা শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

    ৪. ওজন কমাতে সহায়ক: শসা কম ক্যালোরিযুক্ত এবং বেশি জলীয় হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শীতকালে সক্রিয়তা কম থাকলেও এটি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।

    ৫. ইমিউনিটি শক্তিশালী করে: শসার ভিটামিন এবং মিনারেলস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা শীতকালীন সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

    তবে শীতকালে শসা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও অবলম্বন করা প্রয়োজন।

    ১. শীতল প্রকৃতির কারণে অতিরিক্ত না খাওয়া ভালো

    ২. শসার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ঠান্ডা, যা শীতকালে শরীরকে ঠান্ডা করে দিতে পারে। বিশেষ করে ঠান্ডা-জনিত সমস্যায় ভুগলে অতিরিক্ত শসা এড়িয়ে চলা উচিত।

    ৩. সঠিক পরিমাণে খাওয়া ভালো। দিনে ১-২টি শসা খাওয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত শসা খেলে গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

    ৪. শীতের রাতে শসা খেলে শরীর আরও ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে এবং হজমেও সমস্যা হতে পারে।

    শীতকালে শসা খাওয়া ভালো, তবে এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং গরম খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। যদি ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি থাকে, তবে শসা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • হার্ট সুস্থ রাখতে খেতে পারেন এই পাঁচ খাবার

    হার্ট সুস্থ রাখতে খেতে পারেন এই পাঁচ খাবার

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে এটি ধমনীতে জমা হয়, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ন্যাশনাল হার্ট, লাং এবং ব্লাড ইনস্টিটিউটের মতে, কিছু খাবার আছে যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কোন কোন খাবার হার্ট ভালো রাখবে জেনে নিন।

    ১. হার্ট ভালো রাখতে চাইলে প্রচুর পরিমাণ সবুজ শাকসবজি রাখুন পাতে। ভিটামিন, খনিজ এবং নাইট্রেট সমৃদ্ধ শাকসবজি ধমনীর কার্যকারিতা উন্নত করে এবং রক্তচাপ কমায়। পালং শাক, ব্রকলির মতো সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের সমৃদ্ধ উৎস, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    ২. তাজা ফল খান নিয়মিত। মৌসুমি ফলের পাশাপাশি খান স্ট্রবেরি, আপেল, কমলা। এগুলো সবই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, বিশেষ করে অ্যান্থোসায়ানিন, যা শরীরের প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এগুলো হৃদরোগের জন্য ঝুঁকির কারণ। কমলার মতো ফল দ্রবণীয় ফাইবার এবং ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে পারে।

    ৩. সাদা রুটি বা সাদা ভাতের বদলে লাল আটার রুটি ও লাল চালের ভাত খান। এ ধরনের সম্পূর্ণ খাদ্যশস্যে ফাইবার, ভিটামিন বি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ রয়েছে যা হার্ট ভালো রাখে। গোটা শস্য রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

    ৪. বাদাম ও বীজ রাখুন খাদ্য তালিকায়। এগুলো ফাইবার এবং উদ্ভিদ স্টেরল সমৃদ্ধ যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। জলপাই তেল এবং অ্যাভোকাডো মনোআনস্যাচুরেটেড চর্বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। চিয়া বীজ, তিসির বীজ, আখরোট পরিমিত পরিমাণে খেতে সুস্থ থাকে হার্ট।

    ৫. তেলযুক্ত মাছ খান নিয়মিত। এ ধরনের মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সমৃদ্ধ উৎস, যা স্বাস্থ্যকর চর্বি। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমায় তেলযুক্ত মাছ, প্রদাহ কমায় এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন প্রতিরোধ করে।

  • ভিটামিন ডির ঘাটতি দেহে যেসব ক্ষতির কারণ

    ভিটামিন ডির ঘাটতি দেহে যেসব ক্ষতির কারণ

    অনলাইন ডেস্ক:    ভিটামিন ডির অভাবে আপনার শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডি’র অভাব ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে যোগসূত্রের ইঙ্গিত মেলে। ভিটামিন ডি কেবল হাড়ের জন্যই নয়, এটি আমাদের শরীরকে ক্যালসিয়াম পেতে সাহায্য করে, যা শক্ত ও সুস্থ হাড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বেশিরভাগ সময় আমরা এটিকে ‘সূর্যালোকের ভিটামিন’ বলি। কারণ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এলে আমাদের ত্বক প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি করতে শুরু করে। কিন্তু এই ভিটামিনের অভাবে কোন কোন সমস্যা হতে পারে?

    আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান ভিটামিন ডি। আমাদের দেহ যখন পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পায় না, তখন নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার মুখে পড়ে, যা ভিটামিন ডি’র ঘাটতি বা অভাব নামে পরিচিত।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, ভিটামিন ডি’র ঘাটতি কিংবা অভাবে দেহের যেসব ক্ষতি হতে পারে—

    ১. হাড় ক্ষয় ও দুর্বলতা: পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে।

    ২. দীর্ঘস্থায়ী পিঠে ব্যথা: পিঠ ও শরীরের অন্যান্য সংযোগস্থলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে।

    ৩. পেশি দুর্বলতা ও ব্যথা: পেশিতে ঘন ঘন যন্ত্রণা বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

    ৪. ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার ঝুঁকি: হালকা আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

    ৫. রিকেটস: শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি’র তীব্র অভাবে এই রোগটি হতে পারে, যার ফলে হাড়ের গঠন বিকৃত হয়ে যায়।

    ৬. অস্টিওম্যালেসিয়া: প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ভিটামিন ডি’র অভাবে হাড় নরম হয়ে যায়, যার ফলে হাড়ে ব্যথা এবং পেশি দুর্বলতা দেখা দেয়।

    অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা 

    ১. ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ: সবসময় অসুস্থ বা ক্লান্ত বোধ করা এবং মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতা দেখা দেওয়া সাধারণ লক্ষণ।

    ২. দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা, সর্দি বা ফ্লুর মতো সংক্রমণ হতে পারে।

    ৩. ঘা শুকাতে দেরি হওয়া: শরীরের কোনো ক্ষত বা ঘা শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

    ৪. চুল পড়া: হঠাৎ করে বা গুরুতরভাবে চুল পড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

    ৫. ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি: গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ভিটামিন ডি’র অভাব ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    ৬. জ্ঞানীয় কার্যকারিতা হ্রাস: স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগের অভাব এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ভিটামিন ডি’র অভাব একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উদ্বেগ। এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আপনার শরীরে এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

    গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি’র অভাবে কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে— হৃদরোগ, কয়েক ধরনের ক্যানসার ও মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস। ভিটামিন ডি’র সঙ্গে এসব রোগের সম্পর্ক ভালোভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি’র মাত্রা বজায় রাখা আমাদের দেহের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা

    ভিটামিন ডি আমাদের রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না পেলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যতটা ভালোভাবে কাজ করা উচিত ততটা ভালোভাবে কাজ নাও করতে পারে, যা আমাদের দেহকে সংক্রমণ ও রোগের জন্য আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

    মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

    সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় ভিটামিন ডি’র অভাব ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিষণ্ণতা ও চিন্তা সক্ষমতার অবক্ষয়।

    কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে, যাদের দেহে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি আছে, তাদের তুলনায় ভিটামি ডি’র অভাবে থাকা লোকজনের বিষণ্নতা ধরা পড়ার ঝুঁকি বেশি। ভিটামিন ডি-এর অভাব আমাদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক পরিণতি ঘটাতে পারে। আমাদের হাড় থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত এ পুষ্টি উপাদানটি আমাদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ, তা সূর্যের আলো, খাবার বা সাপ্লিমেন্ট, যা থেকেই হোক না কেন।

  • সকালে খালি পেটে ফল খেলে কি হয় !

    সকালে খালি পেটে ফল খেলে কি হয় !

    অনলাইন ডেস্ক:    ফল খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি, তা নিয়ে নানা মত-দ্বিমত আছেই। কেউ কেউ জোর দিয়ে বলেন যে সকালে প্রথমে ফল খাওয়া সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি, আবার কেউ কেউ সতর্ক করে দেন যে এই অভ্যাস অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা হজমকে ধীর করে দেয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে আমাদের বেশিরভাগেরই কোন নিয়ম অনুসরণ করা উচিত তা সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। ফল পানি, ভিটামিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ফলের পুষ্টিমান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা হলো, ফল দিনের একেক বেলায় হজমে একেক রকমের প্রভাব ফেলতে পারে।

    যদিও অনেকে বিশ্বাস করেন যে সকালে সাবধানতার সঙ্গে ফল খাওয়া উচিত, কিছু বিশেষজ্ঞ ভিন্নভাবে চিন্তা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি খালি পেটে বা খাবারের পরে ফল খেতে পারেন। ফল সব সময়েই স্বাস্থ্যকর। ফল দ্রুত হজম হয়, এটি প্রাকৃতিকভাবে হাইড্রেট করে এবং পেটের ওপর চাপ না ফেলে শক্তি প্রদান করে।

    অনেকের কাছে, সকালে ফল খেলে তা শরীরকে আরও সতেজ করে তোলে, বিশেষ করে যখন শরীর সারা রাতের না খাওয়া থেকে বেরিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞের মতে, যদি আপনি এমন কেউ হন যিনি খালি পেটে ফল খাওয়ার পরে হালকা, উদ্যমী এবং আরামদায়ক বোধ করেন, তাহলে বিরত থাকার কোনো কারণ নেই।

    যদিও কেউ কেউ খালি পেটে ফল সহজেই হজম করতে পারে, তবে অনেকে আবার অস্বস্তি বোধ করতে পারে। খালি পেটে ফল খাওয়া আসলে ভুল নয়, তবে হজমের ক্ষেত্রে সময় গুরুত্বপূর্ণ। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু ফল, বিশেষ করে সাইট্রাস জাতের ফল এড়ানো উচিত। বিশেষ করে যারা ঠান্ডা বা তীব্র অ্যাসিডিটিতে ভুগছেন তাদের খালি পেটে সাইট্রাস ফল এড়িয়ে চলা উচিত।

    কমলা, আনারস ইত্যাদি সাইট্রাস ফল এবং পেয়ারা এবং নাশপাতির মতো উচ্চ ফাইবারযুক্ত ফল খালি পেটে খেলে অ্যাসিডিটি এবং অস্বস্তি হতে পারে। সমস্যাটি সাধারণ ফলের সঙ্গে নয়, বরং ব্যক্তিগত সহনশীলতা এবং প্রাকৃতিকভাবে বেশি অ্যাসিডিক বা তন্তুযুক্ত নির্দিষ্ট ফলের সঙ্গে। কঠোর নিয়মের পরিবর্তে, আপনার শরীরের জন্য কী সঠিক মনে হয় তার ওপর মনোযোগ দিন।

    যদি কেবল ফল খেলে তা আপনাকে ক্ষুধার্ত করে তোলে, তাহলে বাদাম, বীজ বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে নিন। ভারী নাস্তা পছন্দ করেন? খাবারের মধ্যে ফল খান। পুষ্টিবিদরা একমত, ফল যেকোনো সময় কাজ করে, যতক্ষণ না আপনি ধারাবাহিক থাকেন।

  • রাতের খাবারের পর ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ

    রাতের খাবারের পর ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ

    অনলাইন ডেস্ক:  রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়া শরীরের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। ধীরে ধীরে এতে নানা জটিল অসুখ দেখা দিতে পারে। বদহজম, বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি, অতিরিক্ত ওজন এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই রাতে খাওয়া ও ঘুমের মাঝে ঠিক কতটা বিরতি রাখা প্রয়োজন, তা জানা খুবই জরুরি।

    হজমে সমস্যা:

    খাওয়ার পরই শুয়ে পড়লে প্রথমেই ক্ষতি হয় হজমশক্তির। ঘুমের সময় খাবার ঠিকমতো ভাঙতে শরীরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। নিউট্রিশনিস্ট রূপালী দত্তের মতে, খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে গেলে খাবার ধীরে হজম হয় এবং অন্ত্রে সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না। ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা দেখা দেয়। আবার ঘুমও ঠিকমতো হয় না, আর ঘুম কম হলে ওজন বাড়তে থাকে।

    ঘুমে ব্যাঘাত:

    ঘুমানোর কিছুক্ষণ আগে খাবার খেলে ঘুমের মান নষ্ট হয়। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে শরীরে বাড়তি এনার্জি তৈরি হয়, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

    ওজন বৃদ্ধি:

    ধীর হজম ও খারাপ ঘুম— দুটিই ওজন বাড়ার প্রধান কারণ। দিনের শেষে মেটাবলিজম ধীরে চলে, ফলে তখন খাওয়া ক্যালরি সহজে বার্ন হয় না। শরীর সূর্যের কার্যক্রমের ছন্দে কাজ করে, তাই তাড়াতাড়ি খেলে পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষিত হয়। কিন্তু দেরি করে খেলে সেই পুষ্টিগুণ ঠিকমতো না মেটাবলাইজ হয়ে শরীরে চর্বি হিসেবে জমে।

    বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটি:

    খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে বুকজ্বালা আরও বেড়ে যায়। পেটে চাপ পড়ার ফলে অস্বস্তি ও অ্যাসিডিটি বাড়ে।

    গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, অ্যাসিডিটি থেকে স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বদহজম থেকে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপও বেড়ে যায়— যা হার্টের জন্য ক্ষতিকর।

    খাওয়া ও ঘুমের মধ্যে কতক্ষণ বিরতি রাখা উচিত?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার ও ঘুমের মধ্যে অন্তত ৩ ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। এতে বদহজম, বুকজ্বালা এবং ঘুমের সমস্যা কমে। ভরা পেটে ঘুমালে মেটাবলিজম শ্লথ হয়ে যায়, ফলে ওজন বাড়া ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে।