Category: লাইফস্টাইল

  • মানসিক চাপ যখন খুব বেশি

    মানসিক চাপ যখন খুব বেশি

     

    প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সকাল থেকে ঘুমানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জীবন যুদ্ধ করতে হয়। ফলশ্রুতিতে শরীর ও মনে বাসা বাঁধে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক এবং মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। স্ট্রেস সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড.নাসরিন ওয়াদুদ বলেন, অতিরিক্ত শারীরিক অথবা মানসিক পরিশ্রমে আমরা যে মানসিক অবস্থা অনুভব করি তাই হচ্ছে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস। এই চাপ আসতে পারে বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকেই। আসলে মানসিক চাপ একটি স্বাভাবিক ব্যাপার যা সব বয়সের মানুষের মধ্যেই থাকে।   আবার মানসিক চাপ সব সময় খারাপও না। বরং অল্প কিছু মানসিক চাপ থাকা ভালো। মানসিক চাপের জন্যই আমরা কর্মক্ষেত্রে, পড়াশোনায় কিংবা খেলাধুলায় ভালো করার চেষ্টা করে থাকি। তবে স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা যেমন আমাদের সাফল্য এনে দিতে পারে তেমনি অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের মাঝে হতাশা এবং ডিপ্রেশনের জন্ম দিতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো নিয়ন্ত্রণ করে অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম। অতিরিক্ত মানসিক চাপ অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটায়। নিজেকে অপরাধী ভাবা, ক্লান্তি বোধ করা, মাথা ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, কারণ ছাড়া হাসি বা কান্না অতিরিক্ত মানসিক চাপের উপসর্গ। নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা। যেকোন বিষয়ের খারাপ দিক খুঁজে বের করা। কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, মোটা হওয়া বা শুকিয়ে যাওয়া। উচ্চ রক্তচাপ, ঘন ঘন নিঃশ্বাস নেওয়া। হজম শক্তি কমে যাওয়া প্রভৃতি। মানসিক চাপ মোকাবেলায় আমাদের নিয়মিতভাবে সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চা ও কফি কম খেতে হবে। প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুমেরও। এছাড়া কাজের চাপ নিতে হবে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী। মাঝে মাঝে কাজে বিরতি দিয়ে মন খুলে আনন্দ করতে হবে বা বাইরে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে হবে। সমস্যাগুলোর ব্যাপারে বিশ্বস্ত কারো সাথে মন খুলে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো কাজকে স্বাভাবিক চ্যালেঞ্জ

     

  • কে কখন মোটা হয়

    কে কখন মোটা হয়

    বিয়ে আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এই সম্পর্কের সঙ্গে আমাদের মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিকগুলো জড়িয়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওজন বাড়া কমার বিষয়টিও।

    সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের বিয়ের পর ওজন বাড়ে। আর পুরুষের ওজন বাড়ে বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার পর। মানে বিবাহ বিচ্ছেদের পর।

    দীর্ঘ ২২ বছর ১০ হাজারের বেশি দম্পতির ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ বছরের পর নারী এবং পুরুষদের মধ্যে ওজন বাড়া বা কমার তেমন পরিবর্তন না হলেও বিয়ের পর এবং বিবাহ বিচ্ছেদের পর ৫০ বছর পর্যন্ত ওজন বেড়ে যায়।

    ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দিমিত্রি তুমিনের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

    দিমিত্রি বলেন, বৈবাহিক সম্পর্ক পরিবর্তনের ফলে নারী ও পুরুষের ওজনের পার্থক্য পরিষ্কারভাবেই চোখে পড়ে।

    এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নারীরা বিয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকেন এবং তারা নিজেদের রূপসৌন্দর্য রক্ষা এবং ফিগার মেইনটেনের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলা করেন।

    আর পুরুষদের বিবাহ বিচ্ছেদের পরে মুটিয়ে যাওয়ার কারণ, একটি সংসারে বিবাহ বিচ্ছেদের আগে চরম অশান্তি দেখা দেয়।দেখা যায় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে অশান্তি তৈরি হয়। এ কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের পর পুরুষ মনে মনে নিজেকে মুক্ত অনুভব করে।

    তবে স্ত্রীরা পুরুষদের নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে উৎসাহিত করেন। বিচ্ছেদের পর দেখভালের অভাবে, অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ফলেও পুরুষ মোটা হয়।

  • ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ এড়াতে লেবুর খোসা

    লেবুর উপকারিতার বা গুণের শেষ নেই এই কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু লেবুর খোসারও যে অনেক গুণ রয়েছে তা হয়ত অনেকেই জানি না। তাই খাবার শেষে লেবুর খোসা ফেলে না দিয়ে আমরা ব্যবহার করতে পারি নিত্য দিনের নানা কাজে। আজ থাকছে লেবু বা এই জাতীয় ফল যেমন, কমলা, মাল্টা এগুলোর খোসার নানা উপকারিতার কথা।

    .ডাস্টবিনে দুর্গন্ধ এড়াতে:

    অনেক সময় ডাস্টবিনের ময়লা ফেলতে ভুলে গেলে ডাস্টবিন থেকে দুর্গন্ধ বেড় হতে থাকে। এমন দুর্গন্ধময় ময়লা-আবর্জনায় লেবুর খোসা নিক্ষেপ করুন। লেবুর খোষা দুর্গন্ধ শুষে নিবে। আপনি চাইলে ডাস্টবিনের আশেপাশেও লেবুর খোসা ফেলে রাখতে পারেন। তাহলে রান্না ঘরে সব সময় ফ্রেস ভাব থাকবে। 

     

    .ফ্রিজ সতেজ রাখতে:

    ফ্রিজের ভেতরে দুর্গন্ধ এড়াতে রেখে দিতে পারেন দুই এক টুকরো লেবুর খোসা। এতে ফ্রিজ থাকবে লেবুর সুগন্ধময়।

    .মুখের দুর্গন্ধ এড়াতে:

    মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে জুড়ি নেই লেবু বা কমলার খোসার। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এবং কিছুক্ষণ পরপর সারাদিন লেবু বা কমলার খোসা চিবাতে পারেন। এতে যেমন আপনার মাড়ি ভালো থাকবে তেমনি নিঃশ্বাসে থাকবে প্রাকৃতিক সজীবতা।

    .রান্নার কাজে:

    চিকেন রোস্ট রান্নার সময় খাবারে লেবুর সুঘ্রাণ পেতে দুই-এক টুকরো লেবুর খোসা দিতে পারেন। সুঘ্রাণের পাশাপাশি খাবারও হবে সুস্বাদু। 

    .চিনি ঝরঝরে রাখতে:

    রান্নাঘরের চিনির কৌটায় রেখে দিতে পারেন এক টুকরো লেবুর খোসা। এর ফলে চিনি থাকবে একেবারে ঝরঝরে।

    পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে:

    আলমারি বা ওয়ারড্রবকে কীটপতঙ্গ থেকে মুক্ত রাখতেও লেবুর খোসার জুড়ি নেই। লেবুর শুকনো খোসা শুকিয়ে একটি ছোটো পলিপ্যাকে নিয়ে মোজা কিংবা অন্তর্বাসের ড্রয়ারে রেখে দিন। দুর্গন্ধ তো দূর হবেই, সাথে সাথে আপনার পোশাক হবে দারুণ সুরভিত।

    .চায়ের কেটলি বা কফি পট পরিষ্কার করতে:

    জমে থাকা চা কিংবা কফির পট পরিষ্কার করতে পারেন লেবুর খোসা দিয়ে। এক্ষেত্রে কেটলিতে পানি নিয়ে লেবুর খোসা দিয়ে কিছুক্ষণ সেদ্ধ করতে হবে। এরপর ময়লা জায়গা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

    . কাটিং বোর্ড পরিষ্কার করতে:

    কাটিং বোর্ডের সব ময়লা দাগ পরিষ্কার করতে লেবুর খোসা কেটে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। দেখবেন একেবারে ঝকঝকে হয়ে গেছে।

    . মাইক্রোওয়েভ পরিষ্কার করতে:

    মাইক্রোওয়েভের তেল চিটচিটে হলে বাটিতে পানি দিয়ে লেবুর খোসা ছেড়ে গরম করতে হবে। এরপর পানি দিয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এতেই মাইক্রোওয়েভ ঝকঝকে হয়ে যাবে।

    ১০.ত্বক উজ্জ্বল করতে:

    ত্বকে মেসেজ করে ধুয়ে ফেললে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল ত্বক পাওয়া যায়।

    ১১.বয়সের দাগ দূর করতে:

    মানুষের যখন বয়স বাড়ে তখন শরীরে বয়সের দাগ পড়ে যায়। এই দাগের ওপর লেবুর খোসা ঘসলে তা উঠে যায়।

    ১২.স্কিন টনিক হিসাবে:

    লেবুর খোসা ত্বকে অল্প ঘষে ধুয়ে ফেললে এটি ত্বকের স্কিন টনিক হিসাবে কাজ করবে।

    তথ্য সূত্র : বিএস

  • বাইরে বৃষ্টি ঝরছে, ঘরে খিচুড়ি

    বাইরে বৃষ্টি ঝরছে, ঘরে খিচুড়ি

    বাইরে বৃষ্টি ঝরছে। ঘরে বসে আসেন। অলস সময় কিভাবে কাটাবেন তার উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না। এসময় বন্ধু কিংবা পরিবারের সঙ্গে বৃষ্টির সময়টা উপভোগ করতে পারেন। ঘরে বসে তৈরি করতে পারেন খিচুড়ি। যদিও খিচুড়ি সবারই প্রিয় একটি খাবার। তাই বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের কিছু রেসিপি তুলে ধরা হলো।
    ইলিশ খিচুড়ি
    উপকরণ: পোলাও চাল ১ কেজি, ইলিশ মাছ ৮ পিস, মুগ ডাল ২০০ গ্রাম, আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, কাঁচা মরিচ ৮-৯টি, দারুচিনি ও এলাচ ৮-৯টি, তেল আধা কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, তেজপাতা ২-৩টা, হলুদ ১ টেবিল চামচ।
    প্রণালি: প্রথমে চাল ও ডাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। এবার ইলিশ মাছটাকে হালকা ভেজে নিন। এরপর একটি পাত্রে তেলে দারুচিনি, এলাচ ও পেঁয়াজ ভেজে নিন। তাতে আদা-রসুন ও হলুদ দিয়ে ভালো করে কষান। কষানো হয়ে গেলে এবার চাল, ডাল দিয়ে হালকা কষিয়ে নিন। এবার তেজপাতা, কাঁচামরিচ ও পানি মেপে দিয়ে দমে বসিয়ে দিন। একটি পাত্রে অর্ধেক খিচুড়ি বের করে রাখুন। এবার ইলিশ মাছ সাজিয়ে দিন। বাকি খিচুড়ি ইলিশ মাছের উপরে দিয়ে দিন এবং ঘি ছিটিয়ে দিন, কিছুক্ষণ পর গরম গরম পরিবেশন করুন।
    নবাবি খিচুড়ি
    উপকরণ: মুগ ডাল ১/২ কাপ, শাহ জিরা ১/৪ চা চামচ, পেঁয়াজ বাটা ১/৪ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম পানি আড়াই কাপ, কাঁচা বাদাম ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ চা চামচ, হিং ১/২ চা চামচ, কিসমিস ১/৪ কাপ, কাঁচামরিচ বাটা ৪/৫টা, চাল ৫০০ গ্রাম, লবণ পরিমাণমতো, গরম মসলা ৮/৯টি, শুকনা মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, তেল বা ঘি কোয়ার্টার কাপ।
    প্রণালি: মুগ ডাল ও চাল একসাথে পরিষ্কার করে ধুয়ে ১/২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পানি বাড়িয়ে নিন। চুলায় পাত্রে তেল দিয়ে গরম মসলা ও আদা, রসুন বাটা, পেঁয়াজ, মরিচ গুঁড়া, কাঁচামরিচ ও জিরা গুঁড়া দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এবার চাল ও ডাল মিশিয়ে দিন। চাল, মসলাসহ ৪-৫ মিনিট ভেজে নিয়ে গরম পানি মেশান। সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। পানি শুকিয়ে এলে দমে বসিয়ে রাখুন। তারপর গরম গরম পরিবেশন করুন।
    ভুনা খিচুড়ি 
    উপকরণ: পোলাওয়ের চাল ১ কেজি, মসুর ডাল ২০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, দারুচিনি/এলাচ ৮-৯টি, তেজপাতা ২-৩টি, আদা ও রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, কাঁচামরিচ ৮-৯টি, ঘি আধা কাপ, লবণ পরিমাণমতো, হলুদ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ।
    প্রণালি: প্রথমে পোলাওয়ের চাল ও মসুর ডাল একসঙ্গে ধুয়ে ঝাড়িয়ে রাখুন। এবার একটি পাত্রে ঘি দিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে তাতে আদা-রসুন বাটা ও হলুদ দিয়ে কিছুক্ষণ কষান। কষানো হয়ে গেলে চাল ও ডাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে মেপে পানি দিন এবং কাঁচামরিচ ও দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা ও লবণ দিয়ে দমে বসিয়ে দিন। এবার ২ টেবিল চামচ ঘি উপরে দিয়ে দমে রেখে দিন। তারপর গরম গরম পরিবেশন করুন।
    সবজি মসল্লা খিচুড়ি
    উপকরণ: গাজর, পটল, বরবটি, পেঁপে, চিচিঙ্গা বা আপনার পছন্দমতো সবজি ১ কেজি, পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম, আদা-রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ ১ কাপ, তেল আধা কাপ, ঘি ১ টেবিল  চামচ, কাঁচামরিচ ৮-৯টি, তেজপাতা ২-৩টি, পৌষের দানা ও জয়ত্রী জয়ফল বাটা ১ চা চামচ, টক দই আধা কাপ।
    প্রণালি: প্রথমে একটি পাত্রে তেল দিন। এবার পেঁয়াজ, আদা, রসুন দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন, পৌষের দানা জয়ত্রী জয়ফল বাটা দিয়ে আবার কিছুক্ষণ কষান। কষা হয়ে গেলে সবজিগুলো দিয়ে দিন। তারপর ভাজা ভাজা হয়ে গেলে নামিয়ে রাখুন। এবার একটি পাত্রে ঘি দিন। তেজপাতা, চাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। এবার পানি মেপে দিয়ে কিছুক্ষণ রান্না করুন। যখন পানি শুকিয়ে আসবে তখন সব সবজি দিয়ে দমে বসিয়ে রাখুন। তারপর উপরে ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে কিছুক্ষণ দমে রেখে পরিবেশন করুন।
  • ঘরেই ক্লিনজার

    ঘরেই ক্লিনজার

    প্রাচীন কাল থেকেই সৌন্দর্য চর্চা আমাদের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। আগের দিনে সৌন্দর্য সচেতন মানুষ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই রূপচর্চা করতেন। তবে সময় পাল্টেছে, এখন ব্যস্ততার কারণে আমাদের সৌন্দর্য চর্চার জন্য নির্ভর করতে হয়, বাজার থেকে কেনা প্রশাধনীর ওপর। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কেমিক্যালযুক্ত এসব প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বকে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    আমরা জানি, ত্বক সুন্দর থাকার প্রথম শর্ত হচ্ছে ত্বক পরিষ্কার রাখা। আর এজন্য চাই ক্লিনজার। ঘরে খুব অল্প সময়ে তৈরি করতে পারি ক্লিনজার।

    দুধ ১ কাপ, ১ টেবিল চামচ ওলিভ ওয়েল, ১ টেবিল চামচ মধু একটি বোতলে নিয়ে খুব ভালো করে ঝেকে নিন। গোলাপ জল, মধু এবং লেবুর রস মিলিয়েও তৈরি করতে পারেন ক্লিনজার।

    বাইরে থেকে ফিরে অথবা রান্নার পরে দিনে দুবার এই ক্লিনজার ব্যবহারে আপনার ত্বক পরিষ্কার, সুন্দর আর সতেজ হয়ে উঠবে।

    ক্লিনজার তৈরি করে ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করতে পারেন। তবে ৭ দিনের বেশি এটা ব্যবহার না করে নতুন করে ক্লিনজার তৈরি করে নিন।

  • নতুন মায়েদেরও ঘুম আসবে

    সদ্য মা হওয়া নারীদের জন্য রাতে ঘুমানো একটু কঠিনই বটে। শুধু রাতে নয়, দিনেও তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। এভাবে দিনের পর দিন না ঘুমাতে পারার কারণে তারা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় সদ্যোজাতের দেখাশুনা করা আরও কঠিন হয়ে পরে। তবে একটু অভ্যাস এবং ধৈর্য ধরতে পারলেই কিন্তু নতুন এই অবস্থার সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নেওয়া যায়। এক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এতে করে আপনি যেমন ভালো ঘুমাতে পারবেন তেমনি বাচ্চাও থাকবে সুরক্ষিত। নতুন মায়েদের ঘুমের সমস্যা কাটাতে সেলেনি ইন্সটিটিউট নামে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের (যা নারী এবং নতুন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে) গবেষণায় বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। এগুলো নিম্নরূপ-

    নিজের যত্ন নবজাতকের যে কোন প্রয়োজনে আপনি সবর্দা প্রস্তুত থাকতে চান বলেই মস্তিষ্কের স্ট্রেস হরমোনগুলো আপনাকে জাগিয়ে রাখে। এছাড়া নবজাতকের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক দায়িত্বের চিন্তাও আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। যাহোক, বাচ্চাকে বিছানার পাশের আলাদা কটে ঘুম পাড়ান। পাশাপাশি নিজেও ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আপনার শিশুটি যখন ঘুমিয়ে আছে তখন নিজেকে সময় দিন। ভাল একটি নাটক দেখুন, গল্প করুন, ম্যাগাজিন বা গল্পের বই পড়ুন। মনকে শান্ত রাখুন দিনের বেলা টিভি, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট দিয়ে নিজেকে কিছুটা রিল্যাক্স করা যায়। কিন্তু রাতে? নিজেকে বোঝান যে, বাচ্চাটি যেহেতু এখন ঘুমাচ্ছে আপনাকেও এখনই ঘুমিয়ে নিতে হবে। তাই টিভি, মোবাইলও বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ুন। শিশুটি তার প্রয়োজনমত জেগে উঠবে আর তার কান্নার শব্দে ঠিকই আপনিও জেগে উঠবেন। চিন্তার কিছু নেই। কফি আপনি হয়ত রাতে ১ মগ কফি খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু সেই কফির ক্যাফেইনের প্রভাব থাকে ৮ ঘন্টা অব্দি। একটি নবাগত শিশুকে সামলাতে সারাদিনে নিশ্চই অনেক ধকল বয়ে যায় আপনার উপর দিয়ে। তাই রাতে ক্যাফেইন জাতীয় কিছু খেয়ে আরও অন্যায় করবেন না নিজের সঙ্গে। তার চেয়ে বরং এক গ্লাস ফ্রেশ ফলের জুস খান আর ঘুমোতে চেষ্টা করুন। পরিবারের অন্য কাউকে দায়িত্ব দিন আপনি মা বলে আপনাকেই শিশুর সমস্ত দায়িত্ব নিতে হবে এমন কোন কথা নেই। বরং একা একা সব সামলাতে গিয়ে আপনি নিজের এবং শিশুর উভয়েরই ক্ষতি করছেন। পরিবারের বড় কাউকে কিছু সময়ের জন্য দায়িত্ব দিন। মা, শ্বাশুড়ি বা স্বামী কারও দায়িত্বে তাকে রেখে নিজেও একটু ঘুমান। ঘুমের উপযোগী বিছানা আমাদের দেশের মায়েরা ভাবতেই পারে না যে তাদের শিশুটি আলাদা বিছানায় ঘুমাবে। নিজের বিছানায় শিশুর ঘুমানোর আয়োজন করতে গিয়ে তারা নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য পুরোই নষ্ট করে ফেলেন। যৌন জীবনকেও ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলেন। অথচ শিশুটিকে আলাদা বেবি কটে রাখলে তারও শান্তি, আপনারও শান্তি। এতে সে পড়ে যাবে না। আপনার বা তার বাবার হাত পা অসচেতনভাবে লাগার সম্ভাবনা থাকবে না। সর্বপোরি, আপনার স্ট্রেস কমবে, আর একটু ঘুমাতেও পারবেন। নিজের সঙ্গে সহজ হোন আপনি যা যা অসুবিধা বোধ করছেন তা সকল নতুন মায়েরাই বোধ করেন। নিজেকে অযথা দোষারোপ করবেন না। একইভাবে দোষ আপনার শিশুরও নয়। পারফেক্ট মা হওয়ার চেষ্টায় বেশি স্ট্রেস নেবেন না। অন্যের সাহায্য নিন। স্বামী, আত্মীয় স্বজনের সাহায্য তো নেবেনই। প্রয়োজনে থেরাপিস্ট এর সাহায্য নিন। থেরাপিস্টের কাছে যাওয়া মানে এই নয় যে আপনি মানসিক রোগী। আপনার সাহায্য প্রয়োজন। শুধু আপনি নন, আসলে সব নতুন মায়েদেরই এই সাহায্য প্রয়োজন হয়।