Category: আন্তর্জাতিক

  • ট্রাম্পের কথা শুনবে না ন্যাটো

    ট্রাম্পের কথা শুনবে না ন্যাটো

    বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর চাপ বেড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাই মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছিল। কিন্তু তারা উল্টো অবস্থান নিয়েছে। ন্যাটোও এই যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

    ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে জার্মান সরকার জানিয়ে দিয়েছে বার্লিন এই যুদ্ধে জড়াবে না। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, এই যুদ্ধে ন্যাটোর কোনো ভূমিকা থাকবে না।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিক মের্ৎসের মুখপাত্র স্টিফেন কর্নলিয়াস সোমবার (১৬ মার্চ) বার্লিনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট, যার কাজ নিজস্ব ভূখণ্ড রক্ষা করা।’

    এর আগে রোববার ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় সহায়তা না করলে তাদের জন্য ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

    তবে জার্মানি জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে তারা এ ধরনের কোনো সামরিক উদ্যোগে অংশ নেবে না। কর্নেলিয়াস বলেন, যতদিন এই যুদ্ধ চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার জন্য সামরিকভাবে কোনো উদ্যোগে আমরা অংশ নেব না।

    তিনি আরও জানান, এ ধরনের কোনো মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জার্মানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে—এমন তথ্য তার জানা নেই।

    তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি। বরং শুরুতেই ওয়াশিংটন জানিয়ে দিয়েছিল যে ইউরোপের সহায়তা প্রয়োজন নেই।

    শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলার প্রতি অনেক ইউরোপীয় নেতার তুলনায় বেশি সমর্থন জানিয়েছিলেন। যেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোসহ অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারা এসব হামলাকে অবৈধ বলে নিন্দা জানান। সেখানে মের্ৎস ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘একই অবস্থানে’ থাকার কথা বলেছিলেন।

    তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির ওপর এর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করায় মের্ৎস এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই হামলার সমালোচনায় আরও সরব হয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পারস্য উপসাগরের এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার জন্য ট্রাম্পের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের দাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ সোমবার জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিপদ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তারা জানায়, দেশের আকাশসীমা লক্ষ্য করে আসা এ সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    দুবাই কর্তৃপক্ষ এর আগে, ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের কাছে অগ্নিকাণ্ড ও ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টিকে নিশ্চিত করেছে।

  • দুবাই বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

    দুবাই বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

    দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ড্রোন হামলার জেরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার দুবাই নগর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে এটি একটি।

    কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ওই ঘটনায় একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এতে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এক্স-এ দেওয়া বার্তায় জানায়, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮শ’টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যা তেহরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

    দেশটির উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তারপরও উপসাগরীয় এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পর্যটন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

    নগরের মিডিয়া অফিস গত বুধবার জানায়, বিমানবন্দরের কাছে দুটি ড্রোন হামলায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছে।

    মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর উপসাগরজুড়ে মার্কিন সম্পদের পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানবন্দর, বন্দর ও তেল স্থাপনাও রয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন বেসামরিক নাগরিক এবং দু’জন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তবে সামরিক সদস্যরা একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

  • নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার ঘোষণা ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর

    নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার ঘোষণা ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার শপথ নিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ রোববার তারা এই ঘোষণা দেয়।

    তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন আমরা আমাদের পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাকে ধাওয়া করব এবং হত্যা করব।’

  • ইরাকের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত

    ইরাকের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত

    ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিফুয়েলিং বিমান ইরাকের আকাশে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব রিফুয়েলিং বিমানের মাধ্যমে যুদ্ধবিমানকে মাঝ আকাশেই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।বাংলাদেশ সময় শুক্রবার মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরাকের আকাশসীমায় থাকা দুটি বিমানের মধ্যে একটি কেসি-১৩৫ মডেলের বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে। অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-কোনো শত্রুপক্ষের হামলা বা ভুলবশত ছোড়া গোলার আঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, কিছু অসমর্থিত সূত্রের দাবি-বিমানটিতে পাইলটসহ মোট ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তারা সবাই নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আরেকটি সূত্র বলছে, দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • ভেনেজুয়েলার আইন প্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া খনি আইন সংস্কার বিষয়ে সম্মত

    ভেনেজুয়েলার আইন প্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া খনি আইন সংস্কার বিষয়ে সম্মত

    ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদ গতকাল সোমবার এমন খনিজসম্পদ বিষয়ক আইন সংস্কারের প্রথম ধাপ পাশ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চাইছিল।

    এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিদেশি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য খনিজ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এএফপি একটি খসড়া তথ্য অনুসারে জানায়, বিলটি ভেনেজুয়েলার খনির কাজে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেবে এবং পাশাপাশি পক্ষগুলোর মধ্যে সালিশ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ব্যবস্থার রূপরেখাও দেবে।

    জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কমিশনের আইন প্রণেতা অরল্যান্ডো কামাচো বিতর্কের সময় বলেন যে, সংস্কারগুলো ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে আমাদের আস্থা প্রদানের জন্য সমস্ত আইনি গ্যারান্টি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে।’

    গত সপ্তাহে মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খনিজ সম্পদের দায়িত্বে আছেন এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতি অনুসারে খনিজসম্পদের ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় গিয়ে দেশের খনিজ আইনকে আরও  বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন।
    সেই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ভেনেজুয়েলার খনিজ খাতে বিদেশি ও বিশেষ করে মার্কিন খনি কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং বিধি‑বিধান সহজ করে দেওয়া।

    তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরোর উৎখাতের দুই মাস পর, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে মার্কিন খনি কোম্পানিগুলো কাজ ‘শুরু করতে আগ্রহী’।

    ভেনেজুয়েলা শুধু তেলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয় — সেখানে স্বর্ণ ও হীরাসহ বক্সাইট, কোলটান এবং এমন কিছু দুর্লভ খনিজ রয়েছে, যেগুলো কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও অন্যান্য আধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহার হয়।

    ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গত মাসের  শেষের দিকে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত তেল খাতে বেসরকারীকরণ এবং বিদেশী বিনিয়োগের পথ সুগম করতে নতুন আইন পাস করেছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার সুযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি খনি আইন হালনাগাদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে খনিজ সম্পদ ও তেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছেন।