Category: আন্তর্জাতিক

  • তেহরানে তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

    তেহরানে তেল স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তেহরান ও আশপাশের এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করার দাবি করেছে ইরান। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

    শনিবার রাতে তেহরান ও পার্শ্ববর্তী শহর কারাজসহ একাধিক তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরে যায় এবং আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ইরানের তেল মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তেহরান ও আলবোর্জ প্রদেশের কয়েকটি তেলের ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে, এসব জ্বালানি মজুত কেন্দ্র ইরানি সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাই সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ তেহরানের শাহর রেই এলাকায় একটি তেল ডিপোতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ডিপোর কাছেই রয়েছে শহরের প্রধান তেল শোধনাগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিশাল আগুনের শিখা আকাশে উঠতে দেখা গেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার প্রভাবে আশপাশের বসতবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক, পানির পাইপলাইন এমনকি কিছু হাসপাতাল ও স্কুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এর আগে শনিবার ভোরে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দর ও তেল ডিপো এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকেও শোনা গেছে।

    এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করেছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার কাছে খবর এসেছে যে কয়েকজন আমেরিকান সেনাকে বন্দি করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছে।”

    তবে এই দাবি নাকচ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “ভিত্তিহীন গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোই এখন ইরানি প্রশাসনের প্রধান কৌশল।” আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও ইরানের অভিযোগকে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরান প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সামরিক শক্তি দিয়ে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না।” বিবিসি জানিয়েছে, তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

    যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী একাধিক শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন প্রতিহত করছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

    এই সংঘাতের আরেকটি ঘটনায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইরানি বাহিনীর ওপর সুনির্দিষ্ট হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। আইডিএফ বলছে, ইরানের কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পসের কমান্ডারদের লক্ষ্য করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জন শিশুসহ ১ হাজার ৩৩২ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই যুদ্ধে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

  • হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড

    হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড

    ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড শনিবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের পাহারায় থাকা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে।

    বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ চলায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    মার্কিন জ্বালানি সচিব ঘোষণা করেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    এই ঘোষণার পরই রেভোল্যুশনারি গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি।’

    ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী নাইনি বলেন, ‘আমরা মার্কিনিদের পরামর্শ দিচ্ছি, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা যেন ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটন’-এ লাগা আগুনের কথা এবং সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে।’

  • রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬

    রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬

    রাশিয়া রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায়  ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার ওই হামলায়  ছয় ব্যক্তি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রাশিয়ার হামলার ফলে সারা দেশে বিমান সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেন। দেশটির কর্মকর্তারা  আজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব খারকিভ অঞ্চলে একটি খারকিভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেগ সিনেগুবভ টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘রাশিয়ার আক্রমণের পর খারকিভের কিয়েভস্কি জেলার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের কিছু অংশ কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কাছাকাছি একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

    খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ বলেছেন, ওই হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয় এবং ১১ বছর বয়সী দুই কিশোর এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে।

    ডিনিপ্রোপেত্রোভস্কে, আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকজান্ডার গাঞ্জা বলেছেন,নিকোপোল জেলায় রাশিয়ার হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    গাঞ্জা বলেছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ড্রোন, কামান এবং রকেট ব্যবহার করে প্রায় ২০ বার এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ বলেছেন, দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ায়, রাশিয়ান ড্রোন হামলায় এক শিশু আহত হয়েছে।

    খারকিভ অঞ্চলের চুগুইভে, মেয়র হালিনা মিনায়েভা বলেছেন যে শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি বাড়িতে ড্রোন হামলায় দুইজন আহত হয়েছেন।

    রাশিয়ার অভিযানের কারণে রাতে সমগ্র ইউক্রেন জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    পোলিশ বিমান বাহিনী এক্সে-এ এক বার্তায় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের আকাশসীমা রক্ষা করার জন্য সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে।

  • কেবলমাত্র ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে : ট্রাম্প

    কেবলমাত্র ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে : ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার বলেছেন, ইরান যদি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থামবে না।

    এদিকে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    লেবাননে ইসরাইলের হামলা বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানেও বড় ধরনের আক্রমণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে মাত্র এক সপ্তাহেই তিন হাজারের বেশি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে।

    এই সংঘাত কেবল ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি এখন অন্য দেশগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে টেনে এনেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন খাতকে অস্থিতিশীল করেছে এবং সাধারণত শান্তিপ্রিয় উপসাগরীয় অঞ্চলেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলছেন যে, এখনই শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা না গেলে, পরিস্থিতি এত খারাপ হতে পারে যে আর কেউ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

    ক্রেমলিন জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি ওই ফোনালাপের সময় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    এই কথোপকথনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

    ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু করার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে  যে কোনো নতুন আলোচনা বা চুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শর্তহীন আত্মসমর্পণ ছাড়া তেহরানের সঙ্গে আর কোনো সমঝোতা হবে না।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, যখন প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নেবেন যে ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো হুমকি নয় এবং অভিযানের লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছে, তখন ‘ইরান কার্যত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে, তারা সেটা নিজে স্বীকার করুক বা না করুক।’

    ট্রাম্প আরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ‘যদি তেহরান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার কাছে ‘গ্রহণযোগ্য’ কাউকে নিয়োগ করে, তাহলে তিনি ইরানের  অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবেন।

    উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম আগেই বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সেই দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২ দশমিক ৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    এই উল্লম্ফন তেলের দামে সাপ্তাহিক প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

    মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

    জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান।

    তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন।

    এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’

    জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’

    ফ্লেচার বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’

    যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাতের ফলে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

  • পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের বিক্ষোভ, সেনাদের প্রতি সমর্থন

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানদের বিক্ষোভ, সেনাদের প্রতি সমর্থন

    সীমান্ত প্রদেশগুলোতে শত শত আফগান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তারা বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান ও সীমান্তে লড়াইরত নিজেদের সেনাদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।

    আফগানিস্তানের গারদেজ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।

    বিক্ষোভকারীরা সেনাদের গলায় রঙিন ফুলের মালা পরিয়ে দেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষে কয়েক ডজন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরো কয়েক হাজার মানুষ।

    পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের রাজধানী গারদেজে বাসিন্দারা জড়ো হন। তাদের কেউ কেউ তালেবান সরকারের সাদা পতাকা নাড়ান।

    একজন বিক্ষোভকারী গামাই বলেন, ‘আজ আমরা পাকতিয়ার কেন্দ্র গারদেজে জড়ো হয়েছি। আফগান বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানের নির্মম হামলার প্রতিবাদ জানাতে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ভূমি রক্ষার জন্য এখানে এসেছি।’

    আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শিশুসহ অন্তত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন।

    ইসলামাবাদ বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তারা জানিয়েছে, তাদের সেনারা ৪৩০ জনের বেশি আফগান সেনাকে হত্যা করেছে।

    অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রায় ১৫০ সেনা নিহত হয়েছেন। তবে দুই পক্ষের হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

    পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সীমান্তে অভিযান চালানোর পর সংঘর্ষ শুরু হয়। ইসলামাবাদ বলেছে, ওই হামলায় তারা জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

    খোস্ত প্রদেশের গুরবুজ জেলাতেও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকাটি সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    বিক্ষোভকারী ওবায়দুল্লাহ গুরবাজ বলেন, ‘আজকের এই প্রতিবাদ শুধু দেখানোর জন্য নয়। কুনারে নিহত ১৭ জন শহীদের জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। তাদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষও রয়েছেন।’

    ৭০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, গত সাত-আট দিন ধরে আমাদের পেছনে সেনারা দাঁড়িয়ে আছেন। তারা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, তবু দৃঢ়ভাবে দেশ রক্ষা করছেন।’

    আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ২৫ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।

    সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৬৬ হাজার আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

    সংস্থাটি জানায়, নানগারহার প্রদেশে তাদের অন্তত একটি কেন্দ্র উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ক্ষতির শিকার হয়েছে।

    সংঘর্ষের কারণে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা আফগানদের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জরুরি খাদ্য সহায়তাও স্থগিত হয়েছে।

    বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এতে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশটি আগেই তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছিল।

    নানগারহারের এক বাসিন্দা বলেন, আগে জাতিসংঘের সংস্থা তাদের অনেক সহায়তা করত। এখন তিনি নিজের খাওয়ার রুটির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

    শুধু এক নাম ব্যবহার করে ফারহাদ বলেন, ‘কখনো পেট ভরে, কখনো আধা পেট নিয়ে আমরা দিন কাটাই।’

    তিনি বলেন, ‘গত রাতে আমি প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের কাছে ১ হাজার আফগানি (১৬ ডলার) ধার চাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আমাকে দেয়নি।’