Category: আন্তর্জাতিক

  • দুই বছরে তিন নেতা বদলের পর রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড

    দুই বছরে তিন নেতা বদলের পর রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড

    অনলাইন ডেস্ক:    দুই বছরে তিনজন সরকারপ্রধান পরিবর্তনের পর থাইল্যান্ডে রোববার জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে আগেরবার জয়ী জনপ্রিয় সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সেই রক্ষণশীল শিবির, যাদের নেতা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হন। এদিকে সাবেক নেতা থাকসিন শিনাওয়াত্রা কারাগারে থাকলেও রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বড় একটি বিষয় হয়ে রয়েছে।

    ব্যাংকক থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির পরবর্তী সরকারকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলা করতে হবে, যা গত বছর দুবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক বহু বিলিয়ন ডলারের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সাইবার জালিয়াতি নেটওয়ার্কের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

    দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল, আর পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আগত পর্যটকের সংখ্যা এখনো কোভিড-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসেনি।

    কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং ফল ঘোষণার পর জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভোটের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থিতিনান পংসুধিরাক বলেন, ‘থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরেও এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যারা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি শুধু নির্বাচন নয়, বরং দল ভেঙে দেওয়া বা বিলুপ্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত।’

    তিন বছর আগে সর্বশেষ নির্বাচনে প্রগতিশীল পিপলস পার্টির আগের রূপ ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও তাদের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে দলটিকেও বিলুপ্ত করা হয়।

    ব্যাংককে পিপলস পার্টির শেষ নির্বাচনী সমাবেশে ৬৪ বছর বয়সী সমর্থক কিত্তি সাট্টানুওয়াত বলেন, ‘আমরা কীভাবে প্রতিরোধ করতাম? যখন ব্যবস্থা আমাদের সরকার গঠন করতে দেয় না, তখন আমরা পারি না। তবু আমরা আবার লড়ব। আশা আছে, মানুষকে আশা নিয়েই বাঁচতে হয়।’

    ২০২৩ সালের নির্বাচনে থাকসিনপন্থী ফেউ থাই পার্টি দ্বিতীয় হয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে। কিন্তু পরে আদালতের আদেশে তাদের প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হন।

    এরপর থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তাকেও আদালতের রায়ে অপসারণ করা হয়। পরে সংসদ গত সেপ্টেম্বরে ভুমজাইথাই নেতা আনুতিন চানভিরাকুলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে—যা দুই বছরে দেশটির তৃতীয় সরকারপ্রধান।

    থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান, রক্তক্ষয়ী সড়ক বিক্ষোভ এবং আদালতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বা দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বারবার ঘটেছে।

    ২০১৪ সালের সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর সামরিক শাসন চলে এবং সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধানের ফলে অনির্বাচিত সিনেট-নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা রয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাপোন জাতুস্রিপিটাক বলেন, ‘নির্বাচিত ব্যক্তিরা অনির্বাচিতদের দ্বারা দুর্বল হয়ে পড়েছেন। গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা যেখানে অস্থির, সে দেশের জন্য এটি অবশ্যই ভালো লক্ষণ নয়।’

    সংবিধান আদালত রাজতন্ত্র অবমাননা সংক্রান্ত কঠোর আইন সংস্কারের অঙ্গীকারকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে রায় দেওয়ার পর ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ দলটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে এবারের প্রচারণায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

    জনমত জরিপে পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, গাঁজা বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এ রক্ষণশীল নেতা আবারও ফেউ থাইয়ের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

    আধুনিক থাইল্যান্ডের অন্যতম সফল রাজনৈতিক দল ফেউ থাই এখন দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কম্বোডিয়া ইস্যু সামলানোর কারণে পেতংতার্ন আদালতের রায়ে অপসারিত হন এবং দুর্নীতির মামলায় থাকসিন কারাগারে রয়েছেন।

    থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত পরিবারটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে জরিপ সংস্থা নিডা তাদের সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশের কাছাকাছি দেখাচ্ছে, যা আগের জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক কম।

    ভুমজাইথাই জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কথা বলছে, বিশেষ করে গত বছরের কম্বোডিয়া সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে। অন্যদিকে পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল এবং জেনারেলের সংখ্যা কমানোর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে।

    তিনটি প্রধান দলই বিভিন্ন জনতুষ্টিমূলক আর্থসামাজিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ফেউ থাই প্রতিদিন ১০ লাখ বাত (প্রায় ৩১ হাজার মার্কিন ডলার) করে নয়টি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে।

    রোববারের ব্যালটে একটি গণভোটও রয়েছে, যেখানে ভোটাররা নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কার চান কি না সে বিষয়ে মত দিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব সেখানে নেই।

  • ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

    ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

     অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুক্রবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সই করা এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়, ‘রাশিয়ান ফেডারেশন থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি বন্ধ করার অঙ্গিকার করেছে ভারত।’

    আদেশটিতে আরও বলা হয়, নয়াদিল্লি এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি পণ্য কিনবে। এছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নতুন রূপরেখাতেও সম্মত হয়েছে ভারত।

    ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার কার্যকর হবে।

    কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে এই শুল্ক কমানোর বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ শুল্কের হারও ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াটি এখনো শুরু হয়নি।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পৃথক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলী তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু বিমান ও বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলারের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কোল (কয়লা) কেনার পরিকল্পনা করছে।

    গত বছরের শেষের দিকে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ছিল ৫০ শতাংশ। নতুন এই চুক্তির ফলে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

    রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এই তেলের টাকা দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ চালাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে সেই উত্তেজনার অবসান ঘটল।

    একই সঙ্গে ট্রাম্প ও মোদির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক আবারও জোরালো হলো। ট্রাম্প প্রায়ই ভারতের ডানপন্থী এই নেতাকে তার অন্যতম ‘সেরা বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

    এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন্ডি কাটলার চলতি সপ্তাহে জানান, শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নেমে আসায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মার্কিন বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবেন। কারণ এই অঞ্চলের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য শুল্কের হার এখনো ১৯ থেকে ২০ শতাংশের ঘরে রয়েছে।

  • সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১: জাতিসংঘ

    সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় নিহত ১: জাতিসংঘ

    অনলাইন ডেস্ক:     সুদানের উত্তর করদোফান রাজ্যে একটি ত্রাণবহরে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

    শুক্রবার ত্রাণবহরটি এল-ওবেইদের নিকটবর্তী এলাকায় যাচ্ছিল।

    সুদানের পোর্ট সুদান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এল-ওবেইদ বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরটিকে ঘেরাও করে রেখেছে।

    ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

    এছাড়াও উভয়পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।

    সুদানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, এল-ওবেইদ সফর শেষে তিনি হামলার পরবর্তী দৃশ্য দেখেছেন। হামলার পর ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো জ্বলছিল।

    তিনি এ হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবিক কর্মী, সম্পদ ও সহায়তা সামগ্রীগুলোর সুরক্ষার আহ্বান জানান।

    সুদানে যুদ্ধাপরাধ নথিভুক্তকারী স্বাধীন সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ওই ত্রাণবহরটি হামলার শিকার হয় এবং এর জন্য তারা আরএসএফকে দায়ী করে।

    স্থানীয় বেসামরিক সংগঠন ‘সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক’ও হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে।

    সংগঠনটি জানায়, এই হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।

    তারা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    সুদান ডক্টরস নেটওয়াক আরও জানায়, এ ধরনের হামলা যুদ্ধকবলিত বেসামরিক জনগণের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছানোর মানবিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুদানের প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে।

    খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা থাকা এই মানুষের সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

    দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফ-এর হাতে যাওয়ার পর বর্তমানে করদোফান অঞ্চলেই মূলত সংঘর্ষ কেন্দ্রীভূত।

    এল-ওবেইদ শহরটি দারফুর ও রাজধানী খার্তুমের সংযোগকারী প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত।

  • মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

    অনলাইন ডেস্ক:    মার্কিন বিচার বিভাগ গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে সফরের সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ওহাইওর টলেডোর বাসিন্দা শ্যানন ম্যাথ্রেকে ‘ভাইস প্রেসিডেন্টের জীবন নেওয়ার এবং শারীরিক ক্ষতি করার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাথ্রে বলেছেন যে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কোথায় থাকবেন, তা খুঁজে বের করবেন এবং এম১৪ স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে তাকে হত্যা করবেন।

    তবে, তিনি কোথায় এই মন্তব্যটি করেছিলেন, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

    গতকাল শুক্রবার মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ম্যাথরেকে গ্রেফতার করেছে।

    ভ্যান্স জানুয়ারির শুরুতে বলেছেন, ‘মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তি’ জানালায় হাতুড়ি দিয়ে তার ওহাইওর বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তার পরিবার সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না এবং ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    বিচার বিভাগ শুক্রবার জানিয়েছে, ভ্যান্সকে  হুমকির বিষয়টি তদন্ত করার সময় ম্যাথ্রেরের কাছ থেকে ‘শিশু যৌন নির্যাতনের একাধিক ডিজিটাল ফাইল’ পাওয়া গেছে।

    শুক্রবার ওহাইওর উত্তর জেলার একজন মার্কিন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারকের সামনে ম্যাথ্রে আদালতে হাজির হন।

  • ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি তিন শিশুসহ নিহত ৯, আহত ৩১

    ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি তিন শিশুসহ নিহত ৯, আহত ৩১

    অনলাইন ডেস্ক:   গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, আজ বুধবার ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তিনজন শিশুসহ মোট নয়জন নিহত এবং ৩১ জন আহত হয়েছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর তারা হামলা চালিয়েছে।
    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    গত মাসে মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হলেও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল এবং হামাস একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করছে।
    গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার কয়েকদিন পর সর্বশেষ রক্তপাত ঘটে। এটি গাজাবাসীদের জন্য একমাত্র বাহির হওয়ার পথ যা ইসরাইলের মধ্য দিয়ে যায় না।

    হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে উদ্ধারকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করা বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় নয়জন নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ৩১ জন আহত হয়েছে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ খান ইউনিস এলাকায় তাঁবু এবং বাড়িঘরে ইসরাইলি হামলার পর তিন জনের মৃতদেহ নাসের হাসপাতালে আনা হয়েছে।

    গাজা শহরের বৃহত্তম নগর কেন্দ্র গাজা শহরে একই ধরণের হামলার পর আরও ছয় জনের মৃতদেহ আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসীরা সেনাদের ওপর গুলি চালানোর’ পর তারা হামলা চালিয়েছে, এতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তারা  এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে মনে করছে।

    তারা বলেছে, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ এর কাছে সৈন্যরা আক্রমণের শিকার হয়েছে, যার ওপারে গাজায় ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করছে।

    যুদ্ধবিরতি বারবার রক্তপাতের রক্তপাতের মাধ্যমে কলুষিত হয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৫২৩ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে একই সময়ে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছে।

    বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গত শনিবার ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর মধ্যে একটি। ওই দিন  ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী হামাসের অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে চালানো হয়।

    গাজায় গণমাধ্যমের বিধিনিষেধ এবং সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এএফপি স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করতে বা অবাধে যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে পারছে না।

  • জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

    জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

    অনলাইন ডেস্ক:     ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা দেশের ‘জাতীয় স্বার্থের’ কাঠামোর মধ্যেই এগোবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, হুমকি ও অযৌক্তিক প্রত্যাশা থেকে মুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক আলোচনার পথে এগোনোর জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

    কোনো চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটতে পারে’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

    গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠায়।

    ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন এখনও তেহরানের সঙ্গে ‘কোনো একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব’ বলে আশা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটবে’।

    তেহরান একদিকে কূটনীতির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইরান বারবার জানিয়েছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা তারা নাকচ করেছে।

    সোমবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব।

    তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক চুক্তির কথা বলেছেন, মার্কিন আলোচক দল যদি সেই পথে এগোয় তবে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

    আরাঘচি বলেন, সে ক্ষেত্রে একটি চুক্তি অর্জনে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

    এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নিতে পারে।