Category: আন্তর্জাতিক

  • গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার

    গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার

    অনলাইন ডেস্ক:     দুই বছরের কাছাকাছি সময় ধরে প্রায় বন্ধ থাকার পর সোমবার গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পথচারীদের চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি অংশ দখলে নেওয়ার পর থেকে ক্রসিংটি কার্যত অচল ছিল।

    জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবিতে এই পুনরায় খোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কায়রো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিং নিয়ে যা জানা দরকার—

    ফিলিস্তিনি বেসামরিক বিষয় সমন্বয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, ক্রসিংটি শুধু উভয় দিকের বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য খোলা হবে।

    এএফপির ছবিতে দেখা গেছে, সীমান্তের মিসরীয় অংশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসাজনিত কারণে যাদের সরিয়ে নেওয়া হবে, তাদেরই প্রথম বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

    মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত রাফাহ ক্রসিংকে অনেক সময় গাজার ‘প্রাণরেখা’ বলা হয়। এটি একমাত্র সীমান্তপথ, যা ইসরাইলের ভেতর দিয়ে নয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে সরে যাওয়ার পর ক্রসিংটি এখন ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পড়েছে।

    ২০০৭ সাল থেকে ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে থাকা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাইরে যাওয়ার অনুমোদিত প্রধান পথ হিসেবে দীর্ঘদিন রাফাহ ক্রসিং ব্যবহৃত হতো।

    ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রথম সীমান্ত টার্মিনাল। পরে হামাস গাজায় ক্ষমতা নেওয়ার পর এটি তাদের নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে ওঠে।

    ২০২৪ সালের ৭ মে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্রসিংটির ফিলিস্তিনি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তাদের দাবি ছিল, এটি ‘সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।’

    এরপর থেকে জাতিসংঘ ব্যবহৃত পথসহ অনেক প্রবেশপথ প্রায় বন্ধই রয়েছে।

    গত বছরের জানুয়ারিতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির সময় অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য অল্প সময়ের জন্য রাফাহ খুলেছিল।

    ইসরাইল জানায়, তারা গাজায় যাতায়াতের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের ‘নিরাপত্তা যাচাই’ করবে। এই প্রক্রিয়া পরিচালনার কথা ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি কারিগরি সংস্থার।

    ইসরাইলের অনুমোদনের পর গাজার প্রশাসন পরিচালনার জাতীয় কমিটিও ভূখণ্ডে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
    কতজন ফিলিস্তিনিকে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। সূত্রগুলো জানায়, ইসরাইল যাদের যেতে অনুমতি দেবে, মিসর তাদের সবাইকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

    কায়রোতে ফিলিস্তিনি দূতাবাস জানিয়েছে, গাজায় ফিরতে ইচ্ছুক ফিলিস্তিনিরা সীমিত লাগেজ নিতে পারবেন। ধাতব বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী নেওয়া যাবে না। ওষুধও নেওয়া যাবে সীমিত পরিমাণে।

    কোগাট জানিয়েছে, রোববার ‘প্রাথমিক পাইলট ধাপ’ শুরু হয়েছে। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সীমান্ত সহায়তা মিশন (ইউবাম), মিসর এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

    সংস্থাটি জানায়, প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হলে উভয় দিকের বাসিন্দাদের প্রকৃত চলাচল শুরু হবে। রাফাহর ফিলিস্তিনি অংশ পরিচালনার কথা ইউবাম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একটি প্রতিনিধিদলের।

    ২০০৫ সালে রাফাহ ক্রসিং পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি বেসামরিক মিশন গঠন করেছিল। কিন্তু দুই বছর পর হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তা স্থগিত হয়।

    ইউরোপীয় এই মিশনের লক্ষ্য ছিল করে সীমান্তে একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এতে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের পুলিশ সদস্যরা যুক্ত এতে যুক্ত করা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে স্বল্প সময়ের জন্য এটি পুনরায় মোতায়েন হলেও মার্চে আবার স্থগিত করা হয়।

    সূত্র জানায়, ইউবাম ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সীমান্তে পৌঁছেছে।

    ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে থাকা ট্রাম্পের পরিকল্পনায় রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা এবং প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা বলা হয়েছে।

    তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো জানায়,  ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে গড়িমসি করছে। জীবনরক্ষাকারী সহায়তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    সাধারণত আন্তর্জাতিক ত্রাণ মিসর থেকে রাফাহ দিয়ে আসে। এরপর ট্রাকগুলো পাঠানো হয় নিকটবর্তী ইসরাইলি ক্রসিং কেরেম শালোমে। বর্তমানে গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এই পথ দিয়ে যায়।

    চালকেরা ট্রাক থেকে নেমে যান। যানবাহনগুলো কঠোর ইসর্ইালি তল্লাশির মধ্য দিয়ে যায়। পরে পণ্য নামিয়ে গাজায় প্রবেশের অনুমোদন পাওয়া অন্য যানবাহনে তোলা হয়।

    মিসরীয় অংশে থাকা দুইটি ত্রাণ সূত্র বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানিয়েছে, ইসরাইল ত্রাণ প্রবেশে বাধা অব্যাহত রেখেছে। পণ্য খালাস না করেই “ডজনখানেক” ট্রাক ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    অতীতে আরও কিছু প্রবেশপথ চালু ছিল। তবে সেগুলো পুনরায় খোলা হবে কি না, সে বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তথ্য দেয়নি।

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ২ জন নিহত : কর্তৃপক্ষ

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ২ জন নিহত : কর্তৃপক্ষ

    অনলাইন ডেস্ক:    রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সোমবার আঞ্চলিক গভর্নর এ তথ্য জানান।

    গভর্নর ভিয়াচেসলাভ গ্লাদকভ টেলিগ্রামে বলেন, রাতে চালানো ওই হামলায় ইউক্রেন সীমান্তের উত্তরে স্টারি ওস্কোল শহরের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত লাগে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় ও আংশিকভাবে ধসে পড়ে।

    মস্কো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গ্লাদকভ লিখেছেন, ‘ঘটনাস্থলে কাজ করা উদ্ধারকারীরা দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।’

    প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে মস্কোর প্রায় প্রতিদিনের বোমাবর্ষণের জবাবে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন পাঠাচ্ছে ইউক্রেন। মূলত জ্বালানি খাত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু।

    ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে বহু এলাকা অন্ধকার ও তীব্র শীতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

    রোববার ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে খনি শ্রমিক বাহি একটি বাসে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন।

  • আফগানিস্তানে ফিরে আসা লাখো মানুষের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    আফগানিস্তানে ফিরে আসা লাখো মানুষের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    অনলাইন ডেস্ক:   নিজ দেশে দীর্ঘদিনের সংকট থেকে পালিয়ে আসা আফগানদের আশ্রয় দিয়ে আসা পাকিস্তান ও ইরান সম্প্রতি নির্বাসন জোরদার করেছে। এর ফলে লাখো মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক দেশে ফিরতে হচ্ছে, যা তাদের ভরণপোষণ দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। কাবুল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা একা—যেভাবেই তারা সীমান্তে পৌঁছাক না কেন, আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে দারিদ্র্য ও পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত  কোনো এক দেশে।

    আফগানিস্তানে ফিরে আসা মানুষদের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছে এএফপি।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।

    আইওএমের আফগানিস্তান কার্যালয়ের উপপ্রধান মুত্যা ইজোরা মাসকুন বলেন, এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

    শুধু গত বছরই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। তাদের অনেকেই কয়েক দশক কাটিয়েছেন বিদেশে।

    মাসকুন বলেন, এত বিপুল মানুষের আগমন সামাল দেওয়া যেকোনো দেশের পক্ষেই কঠিন।

    আইওএমের এক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ফেরার কয়েক মাস পরও ৮০ শতাংশ মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নেই। ১ হাজার ৩৩৯ জন অভিবাসীর ওপর জরিপটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসা মানুষের উপর চালানো হয়।

    তারা বাধ্য হয়ে পাথর বা কাদামাটির মতো উপকরণে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।

    এর পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ফেরা আফগানদের আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে।

    ১ হাজার ৬৫৮ জন প্রত্যাবাসনকারীর ওপর করা ওই জরিপে দেখা যায়, ভাড়াটিয়াদের চার ভাগের তিন ভাগই ভাড়া পরিশোধে অক্ষম। একই সঙ্গে অধিকাংশ পরিবারকে এক কক্ষে চার জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

    আইওএমের জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান রয়েছে।

    ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম কয়েক মাসে যারা দেশে ফিরেছেন, তাঁদের গড় মাসিক আয় ছিল ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে।

    আইওএম জানায়, প্রত্যাবাসনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত।

    সংস্থাটি আরও জানায়, নারীপ্রধান পরিবারগুলো ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধেকই নিরাপদ পানির যোগান পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

    আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন সহস্রাধিকের মধ্যে জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে।

    জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।

    আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসনকারীরা সাধারণত যাতায়াত সহায়তা, একটি সিম কার্ড ও সামান্য অর্থ সহায়তা পান।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, মার্কিন হামলার আতঙ্ক ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরানের উপকূলে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ একটি নৌ-বহর মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ইরানও সতর্ক করেছে যে, হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদেশ, বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়ে জবাব দেবে।

    তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, সামরিক সংঘাতের চেয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতেই বেশি আগ্রহী হবে।

    তেহরানও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যদি আলোচনার সূচিতে না থাকে, তবে তারা পারমাণবিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

    এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকের একদিন পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, ‘মিডিয়ায় যুদ্ধের প্রচারণা সত্ত্বেও আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’

    এদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনী সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

    তিনি বলেন, ‘শত্রুরা কোনো ভুল করলে তা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জায়নবাদী শাসনের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

    উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইরানের বন্দরনগরী আব্বাসে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস একে গ্যাস লিকেজ বললেও নাশকতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।

    এদিকে, রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের কোনো স্থাপনায় হামলার খবর নাকচ করেছে। একইসঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিকে হত্যার গুজবও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালাবে আইআরজিসি।

    এক বিবৃতিতে সেন্টকম আইআরজিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর আশপাশে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

    এর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ লিখেন, ‘আমাদের উপকূলে এসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হুকুম দিচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে।’

    ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

    এর আগে গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে, যাকে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানি বলে দাবি করেছে।

    সরকারি তথ্যমতে এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানায়, তারা ৬ হাজার ৫৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

    শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাস্উদ পেজেশকিয়ান সরকারকে জনগণের কথা শোনার ও জনসেবা করার আহ্বান জানান।

    তুরস্ক সীমান্তে থাকা অনেক ইরানি বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসন থেকে মুক্তি চান। শবনম ছদ্মনাম ব্যবহার করে এক নারী বলেন, ‘আমরাও মুক্তি চাই, তুরস্কের মতো পর্যটক দেখতে চাই। সবাই আমাদের সন্ত্রাসী ভাবে। মোল্লাদের শাসনে আমরা একশ বছর পিছিয়ে গেছি।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাদের পিঠে গুলি করেছে, এমনকি জানালা দিয়ে লক্ষ্য করেও আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সবাই প্রিয়জন ও বন্ধুদের হারিয়েছে।’

    রোজালিন নামে ২৯ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমেরিকার চাপ যথেষ্ট নয়। আমেরিকা সাধারণ মানুষের জন্য নয় বরং নিজেদের স্বার্থে তেলের জন্য আসবে।

    শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে যান। সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন। এ সময় ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের উৎসব শুরু হয়।

  • পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘সমন্বিত’ হামলা

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘সমন্বিত’ হামলা

    অনলাইন ডেস্ক:   পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান জুড়ে শনিবার ‘সমন্বিত’ হামলা চালিয়েছে জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

    কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বিদ্রোহ-কবলিত এই অঞ্চলে সবশেষ এই সহিংসতায় অন্তত চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।

    কোয়েটা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় অবস্থানরত একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপি’কে বলেন, ‘বেলুচিস্তানজুড়ে সমন্বিত বন্দুক ও আত্মঘাতী হামলা চালানো হচ্ছে। যার মূল কেন্দ্রবিন্দু কোয়েটা, পাসনি, মাস্তুং, নুশকি এবং গোয়াদর জেলা।’

  • মেক্সিকোতে ফুটবল খেলায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ১১, গ্রেফতার ৩

    মেক্সিকোতে ফুটবল খেলায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ১১, গ্রেফতার ৩

    অনলাইন ডেস্ক:   মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ফুটবল ম্যাচে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়।

    বুধবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেক্সিকো সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গত রোববার গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের সালামাঙ্কা শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ছুটির বিকেলে সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিবারের উপস্থিতিতে শৌখিন ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলার শেষ দিকে একদল বন্দুকধারী মাঠে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

    গুয়ানাজুয়াতোর নিরাপত্তা সচিবালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, বেশ কয়েকটি সমন্বিত এবং সুনির্দিষ্ট অভিযানের পর এই তিন জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    তবে তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় কিংবা তাদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

    নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন ওই ফুটবল মাঠের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন। তবে তারা সবাই নিরস্ত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিরাপত্তা প্রহরীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হতে পারে। কারণ তারা এমন একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন, যার সাথে প্রভাবশালী ‘জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

    তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হামলাকারীরা ‘সান্তা রোসা ডি লিমা’ কার্টেলের সদস্য।

    গুয়ানাজুয়াতো ভিত্তিক এই মাদক চক্রটির সঙ্গে সিজেএনজি-র দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।