Category: আন্তর্জাতিক

  • নেপালে জেন জি আন্দোলনে নিহত ১৪

    নেপালে জেন জি আন্দোলনে নিহত ১৪

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে জেন জি আন্দোলনে পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছেছে। আন্দোলনে শতাধিক বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মীও আহত হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে পাঁচজন, সিভিল হাসপাতালে দুজন এবং কাটমাণ্ডু মেডিকেল কলেজ, সিনামঙ্গল-এ চিৎিসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি।

    সরকারি দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হলেও আন্দোলন দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ও আকাশে গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে, তবে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন কার্যালয় নতুন বাণেশ্বর, সিংহদরবার, নরায়ণহিটি ও সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। কারফিউ চলাকালে এসব এলাকায় চলাচল, সমাবেশ ও যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্দোলন দেশের অন্যান্য বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে।

  • পদত্যাগ করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক:     জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে ইশিবা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি সংসদের উচ্চকক্ষে তার নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এরপর থেকেই নিজ দলের নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

    দলীয় চাপের মুখে সাতদিন আগেও ইশিবার পদত্যাগের গুঞ্জন উঠেছিল। তবে তখন তিনি এমন খবর নাকচ করে দেন। ঠিক সপ্তাহখানিক পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার সময় মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার পাশাপাশি নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইশিবা। কিন্তু এর কয়েক মাসের মাথায় সংসদের নিম্নকক্ষে এলডিপি ও তাদের জোট কোমেইতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। আর জুলাইয়ে এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় উচ্চকক্ষে।

    আগামীকাল সোমবার এলডিপিতে বিশেষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের কথা আছে। এর আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন ইশিবা। আল জাজিরা জানিয়েছে, দলের ভেতর সম্ভাব্য বিভক্তি এড়াতেই ইশিবার পদত্যাগের এমন সিদ্ধান্ত।

  • গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৩, নিশ্চিহ্ন হচ্ছে পুরো পরিবার

    গাজায় একদিনে নিহত আরও ৭৩, নিশ্চিহ্ন হচ্ছে পুরো পরিবার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণে আবারও রক্তাক্ত হলো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী তীব্র হামলা চালায়। এতে একদিনেই অন্তত ৭৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান, যার মধ্যে কেবল গাজা সিটিতেই নিহত হন ৪৩ জন।

    হামাস একে পরিকল্পিত গণহত্যা আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, পুরো পরিবারকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে হত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

    বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি সাবরিন আল-মাবহুহ আল জাজিরাকে বলেন, “আমার ভাইকে তার ঘরেই মেরে ফেলেছে। স্ত্রী-সন্তানসহ কেউ বেঁচে নেই।” একইভাবে শেখ রাদওয়ান এলাকায় একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া মানুষের তাঁবুতে গ্রেনেড হামলায় আগুন ধরে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জাকিয়া সামি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শেখ রাদওয়ান জ্বলছে। যদি গাজা সিটির দখল ঠেকানো না যায়, আমরা সবাই মরব। যারা দেখছে অথচ কিছু করছে না, আমরা তাদের ক্ষমা করব না।”

    গাজার গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে ইসরায়েল অন্তত ১০০ বার রোবট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো আবাসিক ব্লক ও মহল্লা ধ্বংস করেছে। ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গাজা সিটিতেই মারা গেছেন প্রায় ১ হাজার ১০০ মানুষ।

    আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ সরেজমিনে বর্ণনা করে বলেন, “পরিস্থিতি প্রলয়ংকরী। মনে হচ্ছে এর কোনো শেষ নেই। পুরো মহল্লা একের পর এক ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মানুষ কয়েক দশকে যা গড়ে তুলেছিল, সব মুহূর্তেই হারাচ্ছে। এটি যেন এক দুঃস্বপ্ন।”

    একই দিনে উত্তর গাজার আল-জারিসি পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। হামাস এটিকে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের জীবন ধ্বংসের এক নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা।

    মানবিক সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরোধের কারণে খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশ বন্ধ থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুসহ ছয়জন অনাহারে মারা গেছে। চলমান অবরোধে এখন পর্যন্ত ক্ষুধাজনিত কারণে ৩৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ১৩১ শিশু।

    জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, ইসরায়েলের দখল অভিযান প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে। কেবল ১৪ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে নতুন করে ৮২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এর মধ্যে ৩০ হাজারকে উত্তর থেকে দক্ষিণে সরতে বাধ্য করা হয়েছে।

    শিশুদের অবস্থাই সবচেয়ে শোচনীয়। ইউনিসেফের হিসাবে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ পাঁচ বছরের নিচের অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার শিশু মারাত্মক খাদ্যসংকটে ভুগছে। ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, “দুর্ভিক্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শিশুদের এখনই জরুরি খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ পুষ্টি পণ্য প্রয়োজন।”

    খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসি গত আগস্টে নিশ্চিত করেছে, উত্তর গাজায় ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ছে। মানবিক সহায়তাকর্মীরা বলছেন, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে প্রতিদিন টিকে থাকাটাই এখন ফিলিস্তিনিদের জন্য এক কঠিন সংগ্রাম।

  • গাজায় যুদ্ধ মোকাবিলায় ব্যর্থ ইউরোপ

    গাজায় যুদ্ধ মোকাবিলায় ব্যর্থ ইউরোপ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন ও গাজার যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপ ও পশ্চিমাদের দ্বৈত মানদণ্ড তাদের বৈশ্বিক অবস্থান দুর্বল করছে বলে সতর্ক করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বলেন, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলার নিয়ে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি।

    লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের আগে গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সানচেজ বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি অভিবাসনের সুফল তুলে ধরে জলবায়ু সংকটে ডানপন্থী ঐতিহ্যবাহী দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেন। সানচেজ বলেন, ইসরায়েলের গাজায় হামলাকে গণহত্যা আখ্যা দেয়ার প্রথম ইউরোপীয় নেতা তিনি এবং স্পেনের অনুসরণে আরও দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তবে ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যর্থ।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে আবারও কাঁপল আফগানিস্তান

    ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে আবারও কাঁপল আফগানিস্তান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে মঙ্গলবার ৫.২ মাত্রার আরো একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। একই এলাকায় রবিবার রাতে ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানায় এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছে।

    ইউএসজিএসের তথ্য অনুসারে, ৫.২ মাত্রার মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল নাঙ্গারহার প্রদেশের জালালাবাদ শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভূমিকম্পটি রাত ১২টা ২৯ মিনিটে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরতায় উৎপত্তি হয়েছে।

    ভূমিকম্পটি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৪ গণনা করে জানিয়েছে এর কেন্দ্রস্থল ছিল দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানে।

    কুনার প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের মুখপাত্র ইহসানউল্লাহ ইহসান এএফপিকে বলেন, ‘প্রথম ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এলাকাতেই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের আফটারশক বা পরাঘাতগুলো নিয়মিত হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

    ৬ মাত্রার এ ভূমিকম্প পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি প্রদেশগুলোতে রবিবার গভীর রাতে তাণ্ডব চালায়। এর পর থেকে হতাহতে সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ মঙ্গলবার এক্সে জানিয়েছেন, শুধু কুনার প্রদেশেই এক হাজার ৪১১ জন নিহত ও তিন হাজার ১২৪ জন আহত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী নানগারহার প্রদেশে আরো এক ডজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

    আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ইন্দ্রিকা রাতওয়াত্তে বলেন, এই ভূমিকম্পে ‘লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে’। কুনারে এখনো ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ চলছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান এহসানুল্লাহ এহসান জানিয়েছেন, জরুরি উদ্ধার অভিযান সারা রাত অব্যাহত ছিল এবং দূরবর্তী গ্রামগুলোতে এখনো অনেক আহত মানুষ চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় আছে। গ্রামবাসী খালি হাতেই কাদামাটি ও পাথরের তৈরি ধসে যাওয়া ঘরবাড়ি সরাচ্ছে ও উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।

    সূত্র : এএফপি/আলজাজিরা

  • গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলের’ আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা

    গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলের’ আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজার ‘নিরাপদ অঞ্চলের’ আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ আগস্ট) এ হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)।

    দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে আল-মাওয়াসি এলাকার আশ্রয়শিবিরে এ হামলায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে নাসের হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে।

    এ অঞ্চলকেই ইসরায়েল গাজা সিটির বাসিন্দাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। কিন্তু সেখানে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়ে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

    সূত্র: আল জাজিরা।