Category: আন্তর্জাতিক

  • পরিদর্শকরা ‘ইরানে ফিরে গেছেন’ : জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান

    পরিদর্শকরা ‘ইরানে ফিরে গেছেন’ : জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান বলেছেন, তাদের পরিদর্শকদের একটি দল ‘ইরানে ফিরে গেছেন’, এই বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার পর এটিই প্রথম প্রবেশকারী দল। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    জুন মাসে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর তেহরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার নিন্দা জানাতে অইএইএ-এর ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে জাতিসংঘর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে।

    মঙ্গলবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ফক্স নিউজের ‘দ্য স্টোরি’-কে মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘এখন আইএইএ-এর পরিদর্শকদের প্রথম দল ইরানে ফিরে গেছে এবং আমরা পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছি।’

    গ্রোসি বলেন, ‘ইরান প্রসঙ্গে আপনারা জানেন, সেখানে অনেক স্থাপনা রয়েছে। যার ক’টিতে আক্রমণ করা হয়েছিল, ক’টিতে আক্রমণ করা হয়নি। তাই, সেখানে আমাদের কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য কী ধরণের ব্যবহারিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে আমরা তা নিয়ে আলোচনা করছি।’

    মঙ্গলবার জেনেভায় ইরান ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির সঙ্গে আলোচনা চলাকালে এই ঘোষণা আসে। ২০১৫ সালের মৃতপ্রায় পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে তেহরান তা এড়াতে চাইছে।

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাদি, আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ত্রয়ীর “সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং কূটনীতিকে সময় ও স্থান দেওয়ার’ সময় এসেছে।

    ২০১৫ সালের চুক্তির পক্ষ  ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি  আগস্টের শেষ নাগাদ চুক্তির ‘স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া’ চালু করার হুমকি দিয়েছে।

    জুনের যুদ্ধের সমাপ্তির পর থেকে মঙ্গলবারের বৈঠকটি ছিল ইউরোপীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা, যে যুদ্ধ একটি নজিরবিহীন ইসরাইলি আকস্মিক আক্রমণের ফলে শুরু হয়েছিল।

    ওই সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা ব্যাহত করে।

    এটি ইরানের সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্কের ওপরও শীতলতা এনে দিয়েছে, তেহরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় হামলার জন্য জাতিসংঘের সংস্থাটিকে আংশিকভাবে দায়ী করেছে।

    ইসরাইল বলেছে, তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। তবে তেহরান বারবার তার বিরুদ্ধে আনা অস্ত্র তৈরির  উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করেছে।

    ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ২০১৮ সালে বাতিল করা হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে একতরফাভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

  • বিশ্বব্যাপী নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে রয়েছে প্রতি ৪ জনের ১ জন : জাতিসংঘ

    বিশ্বব্যাপী নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে রয়েছে প্রতি ৪ জনের ১ জন : জাতিসংঘ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী এখনও দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত বলে মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সর্বজনীন কাভারেজ অর্জনের দিকে অগ্রগতি একেবারেই যথেষ্ট দ্রুতগতিতে হচ্ছে না।

    জেনেভা থেকে এএফপি এ সংবাদ জানায়।

    জাতিসংঘের স্বাস্থ্য ও শিশু বিষয়ক সংস্থাগুলো বলেছে, গত বছর বিশ্বব্যাপী প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জন নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয় জলের অভাবে ছিল। যেখানে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও পানির জন্য প্রাকৃতিক উৎস যেমন নদী, পুকুর ও খালের ওপর নির্ভরশীল ছিল ।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ জানিয়েছে যে পানি, স্যানিটেশন এবং পরিছন্নতা পরিষেবার বিলম্ব কোটি কোটি মানুষকে রোগের ঝুঁকিতে ফেলেছে। তারা একটি যৌথ গবেষণায় বলেছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ধরনের পরিষেবার সার্বজনীন কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বিশ্ব এখনও অনেক দূরে রয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে সেই লক্ষ্য ক্রমশ নাগালের বাইরে যাচ্ছে।

    ডাব্লিউএইচও -এর পরিবেশ প্রধান রুইডিগার ক্রেচ বলেছেন,  পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি বিশেষাধিকার নয়: এগুলি মৌলিক মানবাধিকার। আমাদের অবশ্যই বিশেষ করে সবচেয়ে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জন্য পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে হবে।

    প্রতিবেদনটিতে পানীয় জল সেবার পাঁচটি স্তর পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    * সর্বোচ্চ স্তর ‘নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত’, অর্থাৎ পানীয় জল ঘরে সহজলভ্য, প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় এবং মল বা ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত।

    * এর নিচে রয়েছে চারটি স্তর : মৌলিক (৩০ মিনিটের কম সময়ে উন্নত উৎস থেকে আনা পানি), সীমিত (উন্নত হলেও ৩০ মিনিটের বেশি সময় লাগে), অনিরাপদ (যেমন সুরক্ষাহীন কূপ বা ঝরনা) এবং প্রাকৃতিক উৎসের পানি।

    প্রাকৃতিক উৎসের পানি পান কমছে : ২০১৫ সাল থেকে ৯৬১ মিলিয়ন মানুষ নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয় জলের আওতায় এসেছে এবং কাভারেজ ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    গত বছর যেসব ২.১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাদের মধ্যে ১০ কোটি ৬ লাখ মানুষ এখনও প্রাকৃতিক উৎসের পানি ব্যবহার করছে—যা গত দশকে ৬ কোটি ১০ লাখ কমেছে।

    ২০১৫ সালে ১৪২টি দেশ প্রাকৃতিক উৎসের পানি ব্যবহার বন্ধ করেছে যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫৪ টিতে।
    ২০২৪ সালে ৮৯টি দেশে অন্তত মৌলিক স্তরে সর্বজনীন পানীয় জলের সুবিধা ছিল, যার মধ্যে ৩১টি দেশে নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয় জলের সুবিধা সর্বজনীন। তবে যে ২৮টি দেশে প্রতি ৪ জনে ১ জনের বেশি এখনও মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত, সেগুলো মূলত আফ্রিকায় অবস্থিত।

    লক্ষ্য ক্রমশ নাগালের বাইরে: স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে, ২০১৫ সাল থেকে ১.২ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদভাবে পরিচালিত স্যানিটেশন সুবিধা পেয়েছে এবং কাভারেজ ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

    এগুলোকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এমন উন্নত সুবিধা হিসেবে যা একাধিক পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করা হয় না এবং যেখানে মলমূত্র নিরাপদে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হয় বা বাইরে নিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

    খোলা স্থানে মলত্যাগকারীর সংখ্যা ২০১৫ সালের পর থেকে ৪২ কোটি ৯০ লাখ কমে ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ৪০ লাখে, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার চার শতাংশ।

    ২০১৫ সাল থেকে ১.৬ বিলিয়ন মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি সেবার আওতায় এসেছে—অর্থাৎ বাসায় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা—এবং কাভারেজ ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    ইউনিসেফের ওয়াশ পরিচালক সিসেলিয়া শার্প সতর্ক করে বলেছেন, “যখন শিশুদের নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির সুযোগ থাকে না, তখন তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ে।”

    তিনি আরও বলেন, এ বৈষম্য বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ভয়াবহ, কারণ তাদেরই প্রায়শই পানি সংগ্রহের দায়িত্ব নিতে হয় এবং মাসিকের সময় তারা অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়ে। বর্তমান অগ্রগতির হারে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি আরও দূরে সরে যাচ্ছে।

  • অস্থির বিশ্বে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘সবচেয়ে স্থিতিশীল’: সি

    অস্থির বিশ্বে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘সবচেয়ে স্থিতিশীল’: সি

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং মঙ্গলবার  বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ‘বিশ্বশক্তির মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল, পরিপক্ক এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বেইজিং থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভি জানিয়েছে, রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষ বা ডুমার চেয়ারম্যান ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিনের সঙ্গে এক বৈঠকে সি দুই দেশের সম্পর্ককে ‘বিশ্ব শান্তির স্থিতিশীল উৎস’ অভিহিত করে প্রশংসা করেছেন।

    সি বেইজিংয়ের বিলাসবহুল গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে ভোলোদিনকে বলেন, ‘উভয় পক্ষের উচিত তাদের দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষা, গ্লোবাল সাউথকে ঐক্যবদ্ধ করা, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতাবাদকে সমুন্নত রাখা এবং বৃহত্তর ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের দিকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা উন্নীত করার জন্য একযোগে কাজ করা।’

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে বেইজিং এবং মস্কোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

    চীন কখনও যুদ্ধের নিন্দা করেনি বা মস্কোকে তার সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়নি এবং ইউক্রেনের অনেক মিত্র বিশ্বাস করে যে, বেইজিং তার উত্তরের বিশাল প্রতিবেশীকে সহায়তা প্রদান করেছে।

    চীন, তার পক্ষ থেকে, জোর দিয়ে বলেছে তারা একটি নিরপেক্ষ পক্ষ, নিয়মিতভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করে সংঘাত দীর্ঘায়িত করার অভিযোগও করেছে।

    রাশিয়ার  প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এই সপ্তাহের শেষে চীন সফর করবেন।

    তিনি ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলীয় নগরী তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন, পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন করবেন।

    সি’র সঙ্গেও বৈঠক করবেন পুতিন ।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে সি বলেছেন, মস্কো ও  ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি দেখে চীন খুশি।

    ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে চলতি মাসে আলাস্কায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার নেতা সাক্ষাৎ করেন, কিন্তু তখন থেকে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি থমকে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • গাজা: প্রাণচঞ্চল নগরী থেকে আজ মৃতদের শহর

    গাজা: প্রাণচঞ্চল নগরী থেকে আজ মৃতদের শহর

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই বছর আগেও যে শহর ছিল জীবন্ত ও প্রাণবন্ত, আজ সেই গাজা সিটি পরিণত হয়েছে এক মৃত নগরীতে। একসময় স্কুলগুলো ছিল শিক্ষার্থীর কোলাহলে ভরা, বাজারে ছিল ক্রেতার ভিড়, আর সমুদ্রতীরের ক্যাফেগুলো মানুষকে দিতো ক্ষণিক স্বস্তি। কিন্তু আজ সবই পরিণত হয়েছে ধূসর ও রক্তাক্ত স্মৃতিতে।

    হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাসের সাক্ষী গাজা বারবার ধ্বংস হয়েছে, আবার নতুন করে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বাস্তুচ্যুত বহু ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন এই শহরে। শত শত ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে গড়া এই নগরী দীর্ঘদিন ছিল ফিলিস্তিনিদের সংস্কৃতি ও জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।

    ২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাস একে তাদের প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক রাজধানী বানায়। দীর্ঘদিনের সংঘাত, ইসরায়েল ও মিশরের অবরোধ, এবং হামাসের কঠোর শাসন ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কঠিন করে তোলে। তবুও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের সহায়তা ও জাতিসংঘের ত্রাণ কাঠামো সামান্য হলেও স্থিতি বজায় রেখেছিল।

    অবরোধ সত্ত্বেও গাজা সিটি বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। অর্ধেক মানুষ বেকার হলেও, নাগরিকেরা তখনো পার্কে বসতে পারত, বই হাতে কফি খেতে পারত। কিন্তু আজকের বাস্তবতা ভয়ঙ্কর ভিন্ন—শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় মাসব্যাপী বিমান ও স্থল হামলায় গাজা সিটি তার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণ হারিয়ে এখন আইনহীন ধ্বংসাবশেষ। নতুন করে ‘চূড়ান্ত অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ আবারও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের মুখে পড়েছে।

    গাজার বাসিন্দা মাজদি আবু হামদি (৪০), চার সন্তানের জনক, জানান—বিস্ফোরণের ধূলা এত ঘন হয়ে যায় যে তা ভাঙা জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার কথায়, “এমনকি গাজার কুকুরগুলোর আচরণও পাল্টে গেছে। রাতে তাদের চিৎকার শোনা যায়। এত লাশ খেতে খেতে তারা হিংস্র হয়ে উঠেছে। তাদের ঘেউ ঘেউ আর আগের মতো নেই—এখন সেটা ভীতিকর।”

    তিনি আরও বলেন, এখন কুকুরগুলো মানুষের প্রতিও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিচিত মানুষকে আক্রমণ করছে। কয়েকদিন আগে একটি বিড়াল ভুল করে কাছে চলে গেলে বিশটিরও বেশি কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলে।

    মাজদির ভাষায়, “পশুগুলো আগে এমন ছিল না। কিন্তু এই মৃতদের শহর তাদেরও বদলে দিয়েছে। জানি না, এই পশুগুলোকে ইসরায়েলি বাহিনী ছাড়বে কি না!”

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন

    রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ওয়াশিংটন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    এছাড়া মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসা এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোকেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    রোববার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি মুখপাত্র টমাস টমি পিগট এ মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জনগণের প্রতি সমর্থন জানায়, যার মধ্যে রয়েছে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার রোহিঙ্গা ও অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠী।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখার জন্য প্রশংসা করছি, পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আঞ্চলিক অন্যান্য দেশকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

    আজ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের গণ নির্বাসনের আট বছর পূর্ণ হল। এখনো এক মিলিয়নেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ বাংলাদেশে ক্যাম্পগুলোতে আটকে আছে।

    ২০১৭ সাল থেকে পুনর্বাসনের একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, আর রাখাইনে আরাকান আর্মি (এএ)-র ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশকে নতুন জটিলতার মুখে ফেলেছে।

  • গাজার শিশুদের পক্ষে কথা বলার জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি এরদোগান পত্নীর আহ্বান

    গাজার শিশুদের পক্ষে কথা বলার জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি এরদোগান পত্নীর আহ্বান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের ফার্স্ট লেডি শনিবার তার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে চিঠি লিখে ইউক্রেনের শিশুদের প্রতি তিনি যেমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, গাজার শিশুদের প্রতিও তেমনই উদ্বেগ প্রকাশ করতে বলেছেন।

    ইস্তাম্বুল থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

    এমিন এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডিকে গাজার শিশুদের প্রতি করুণা দেখানোর জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখতে বলেছেন।

    এই মাসের শুরুতে আলাস্কা শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে দেওয়া একটি চিঠিতে তিনি শিশুদের স্বার্থে ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাকে অনুরোধ করেছেন।

    তুরস্কের ফার্স্ট লেডি লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, যুদ্ধে প্রাণ হারানো ৬৪৮ জন ইউক্রেনীয় শিশুর প্রতি আপনার দেখানো গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীলতা গাজাতেও প্রসারিত হবে, যেখানে দুই বছরের ব্যবধানে ১৮ হাজার শিশুসহ ৬২ হাজার নিরীহ বেসামরিক নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

    তিনি মেলানিয়াকে লিখেছেন, ‘একজন মা, একজন নারী এবং একজন মানুষ হিসেবে যারা শান্তি ও প্রশান্তি কামনা করে তাদের পক্ষ থেকে আমি আপনার চিঠিতে প্রকাশিত অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে একমত এবং আমি আশা করি আপনি গাজার শিশুদেরও অনুরূপ আশা দেবেন। ’

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান যুদ্ধের চতুর্থ বছরে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন।

    মঙ্গলবার, তিনি ইসরাইলকে গাজায় ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করে বলেন, ফিলিস্তিনি ছিটমহল থেকে আসা ছবিগুলো ‘নাৎসি শিবিরের’ চেয়েও খারাপ।

    শুক্রবার জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে, যা নেতানিয়াহু ‘নির্লজ্জ  মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।