Category: আন্তর্জাতিক

  • গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করলো জাতিসংঘ, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম

    গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করলো জাতিসংঘ, মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় দুর্ভিক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের কোন অঞ্চলে এমন ঘোষণা দিলো সংস্থাটি। ৫ লাখ মানুষ ‘ভয়াবহ’ ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা। রোম থেকে এএফপি এই খবর জানায়।

    জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার বলেন, ‘এটি দুর্ভিক্ষ, গাজার দুর্ভিক্ষ।’ তিনি আরো জানান, আইপিসি প্যানেলের মূল্যায়নে গাজা শহর ও তার আশপাশে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে।

    তিনি ইসরাইলকে দোষারোপ করে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ত্রাণ সহায়তা  পৌঁছানোর পথে ‘পরিকল্পিতভাবে বাধা’ দিচ্ছে দেশটি।

    অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সমর্থিত এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে নাকচ করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ‘গাজায় কোনো দুর্ভিক্ষ নেই।’

    দুর্ভিক্ষের এই মূল্যায়ন করেছে আইপিসি (ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন ইনিশিয়েটিভ)। জাতিসংঘের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই জোট আগাম মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কতা দেয়।

    তাদের সংজ্ঞায়, কোনো অঞ্চলে ২০ শতাংশ পরিবারে চরম খাদ্যাভাব, পাঁচ বছরের নিচে ৩০ শতাংশ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগলে ও প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজারে অন্তত দু’জন পুরোপুরি খাদ্যাভাব বা অপুষ্টি ও রোগে মারা গেলে সেটিকে দুর্ভিক্ষ ধরা হয়।

    জাতিসংঘ দীর্ঘদিন ধরে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে, বিশেষ করে ইসরাইল হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানে গতি বাড়ানোর পর থেকে।

    রোমভিত্তিক আইপিসি জানায়, ‘১৫ আগস্ট, ২০২৫ পর্যন্ত, যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে গাজা অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ (আইপিসি ফেজ ৫) নিশ্চিত করা হয়েছে।’ জাতিসংঘের হিসাবে ওই অঞ্চলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করছে।
    আইপিসি’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘গাজা উপত্যকার প্রায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বর্তমানে অনাহার, চরম দারিদ্র্য ও মৃত্যুর মতো বিপর্যয়কর অবস্থার মুখোমুখি।’

    এতে আরো বলা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসেও দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তখন ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৪১ হাজারে পৌঁছাবে।

    আইপিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে এই প্রথম কোনো দুর্ভিক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো।

    একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানান, ২০১৮ সালে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানে মানবিক সংকট সত্ত্বেও তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    আইপিসি বলেছে, গাজার এই দুর্ভিক্ষ ‘সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট’। জুলাই মাসে সংঘাতের ব্যাপক বিস্তার, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য সরবরাহ সীমিত হওয়ার ফলে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    মার্চের শুরুতে ইসরাইল, গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেয়। মে মাসের শেষ দিকে অল্প কিছু সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দিলেও তা চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য। এর ফলে খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।

    জেনেভায় সাংবাদিকদের ফ্লেচার বলেন, এই দুর্ভিক্ষ ‘আমাদের সকলকে তাড়া করবে’।

    তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের সুযোগ দেওয়া হতো, তবে আমরা এই দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ করতে পারতাম। কিন্তু ইসরাইলের পরিকল্পিত বাধার কারণে খাদ্য সীমান্তেই আটকে আছে।’

    জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ‘যুদ্ধের পদ্ধতি হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার করা যুদ্ধাপরাধ।’

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও গাজায় পুনরায় পূর্ণ মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এই পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই বিনা বিচারে চলতে দিতে পারি না।’

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস এই দুর্ভিক্ষ ঘোষণাকে ‘ভয়াবহ এবং পুরোপুরি পূর্বাভাসযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বলা আছে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলের দায়িত্ব হলো গাজার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা।’

    জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মতে, শুধু জুলাই মাসেই ১২ হাজারের বেশি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগেছে। জানুয়ারির তুলনায় এই সংখ্যা ছয় গুণ বেশি।

    ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ‘লক্ষণগুলো স্পষ্ট রয়েছে। শিশুদের শরীর শুকিয়ে গেছে, কাঁদারও শক্তি নেই, খেতেও পারে না, আর শিশু ও নবজাতকেরা অনাহার ও প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যাচ্ছে।’
    আইপিসি জানায়, গাজার স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রায় ৯৮ শতাংশ আবাদি জমি নষ্ট হয়ে গেছে বা ব্যবহার অযোগ্য বা উভয়ই। গবাদিপশুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    তথ্য সংগ্রহও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে, তবে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় ‘বিপুল পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করেছে’। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘কোগাট’ অভিযোগ করেছে, প্রতিবেদকরা আংশিক তথ্য ব্যবহার করেছেন।
    তবে জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ পরিচালক জ্যঁ-মার্টিন বাউয়ার বলেন, এ ধরনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আইপিসি ‘সোনালি মানদণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃত।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে ট্রাম-ইন্টেল চুক্তির ঘোষণা

    যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে ট্রাম-ইন্টেল চুক্তির ঘোষণা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ব্যবসায় ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে সম্মত হয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেল। শুক্রবার ইন্টেল ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি।

    বাইডেন প্রশাসনের সময় ঘোষিত বিশাল অঙ্কের অনুদানের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইনটেলের ৪৩৩.৩ মিলিয়ন সাধারণ শেয়ার পাবে, যা কোম্পানির ৯.৯ শতাংশ অংশীদারিত্বের সমান।

    ইনটেল জানায়, এ বিনিয়োগের মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ৮.৯ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার আসবে বাইডেন আমলে পাশ হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’ থেকে ঘোষিত অনুদান থেকে। যা এখনো প্রদান করা হয়নি। বাকি ৩.২ বিলিয়ন ডলার আসবে ‘সিকিউর এনক্লেভ প্রোগ্রাম’ এর আওতায় প্রদত্ত পুরস্কার থেকে।

    ইনটেল আরও জানায়, এই ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সঙ্গে কোম্পানি পূর্বে পাওয়া ২.২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান যোগ হলে মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ১১.১ বিলিয়ন ডলার।

    ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইনটেলের ১০ শতাংশের পূর্ণ মালিক ও নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি দাবি করেছেন যে ইন্টেলের সিইও লিপ-বু ট্যানের সাথে আলোচনার পর দেশটি এই শেয়ারের জন্য কিছুই পরিশোধ করেনি।

    ইনটেল অবশ্য জানিয়েছে, সরকারের মালিকানা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হবে, তাদের কোনো বোর্ড প্রতিনিধি বা শাসন সংক্রান্ত অধিকার থাকবে না।

    ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে পাওয়া তাদের জন্যও ভালো। আমি তাদের বলেছিলাম, আমার মনে হয় কোম্পানির ১০ শতাংশ আমাদের দেওয়া উচিত।

    বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এক্সে বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর খাতের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।’

    ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ: সিলিকন ভ্যালির অন্যতম কোম্পানি ইনটেল এশীয় জায়ান্ট টিএসএমসি ও স্যামসাংয়ের কাছে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। বাইডেন আমলে পাশ হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’-এর লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে শক্তিশালী করা, যার আওতায় বিলিয়ন ডলারের অনুদান দেওয়া হয়।

    তবে স্বাধীন প্রযুক্তি বিশ্লেষক রব এন্ডারলে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইনটেলের শেয়ার নেওয়া একধরনের বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যা বেসরকারি ব্যবসাকে জাতীয়করণের পথে নিয়ে যেতে পারে।’

    ওয়াশিংটনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেটো ইনস্টিটিউটের স্কট লিনসিকোমও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘প্রায় সবার জন্য খারাপ’। ইনটেলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্যও ক্ষতিকর। কারণ, এখানে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বেশি পড়বে।

    ইনটেল সিইও লিপ-বু ট্যান এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সাইট সম্প্রসারণে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

    এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ট্যানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।
    সম্প্রতি জাপানভিত্তিক সফটব্যাংক গ্রুপও ইনটেলে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

  • গাজা দখলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু, নিহত ৮১

    গাজা দখলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু, নিহত ৮১

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলি সেনাদের নতুন সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। ‘গিডিওন চ্যারিওটস’ নামের এই অভিযানের লক্ষ্য গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা সিটি দখল করা। বুধবার (২০ আগস্ট) ভোর থেকে শুরু হওয়া হামলা ও অবরোধজনিত সংকটে একদিনেই অন্তত ৮১ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে অনাহারে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের এবং মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, তাদের ৯৯তম ডিভিশন ইতোমধ্যে গাজা সিটির উপকণ্ঠ আল-জাইতুন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি হামাস সুড়ঙ্গ উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনারা। গাজার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ব্যাটালিয়নের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

    অভিযানের মধ্যে গাজার প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, নতুন দফায় সামরিক হামলা ও জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিও জানিয়েছে, ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা এখন বাস্তুচ্যুতির হুমকির মুখে।

    শুধু বুধবারেই গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একটি তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। একইদিনে ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন ফিলিস্তিনি জাতীয় বাস্কেটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় মোহাম্মদ শালানসহ অন্তত ৩০ জন। ফলে যুদ্ধশুরুর পর থেকে অনাহার ও খাদ্যাভাব-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৯ জনে, যাদের মধ্যে শিশু ১১২ জন।

    জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, গাজায় খাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি কেবল ক্ষুধা নয়, সরাসরি অনাহারে রূপ নিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, ‘অপুষ্টি হলো এক নীরব হত্যাকারী, যা জীবনভর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ডেকে আনে এবং সাধারণ অসুখকেও প্রাণঘাতী করে তোলে।’ ইউএনআরডব্লিউএ’র তথ্য অনুযায়ী, গাজা সিটির প্রতি তিন শিশুর মধ্যে একজন এখন মারাত্মকভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে।

    হামাস এই অভিযানকে ‘গণহত্যার অংশ’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক বিপর্যয়ের পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শান্তি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করছেন।

  • হেরাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, ইরান ফেরত ৭১ আফগান নিহত

    হেরাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, ইরান ফেরত ৭১ আফগান নিহত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭১ জন মানুষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কও। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেরাতের গুজারা শহরে একটি যাত্রীবাহী বাস, মোটরসাইকেল ও জ্বালানিবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।

    হেরাত প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ মুত্তাকি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাদেশিক পুলিশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ সাইদি জানিয়েছেন, বাসটি ইরান থেকে রাজধানী কাবুলের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রীরা সবাই আফগান নাগরিক এবং তারা ইরান থেকে ফেরত আসা শরণার্থী ছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত গতি ও চালকের অসতর্কতার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

    সাইদি আরও জানান, দ্রুতগতির বাসটি প্রথমে একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে বাসটি একটি জ্বালানিবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অনেক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের মধ্যে ট্রাক চালক, তার সহকারী, মোটরসাইকেলের চালক ও যাত্রী ছাড়া বাকি ৬৭ জনই বাসযাত্রী ছিলেন। বাসের মাত্র তিনজন যাত্রী বেঁচে গেছেন।

    দুর্ঘটনার শিকার বাসযাত্রীরা ইরান ফেরত আফগান শরণার্থী ছিলেন। গত শতকের আশির দশকে সোভিয়েত বাহিনীর সামরিক অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক আফগান শরণার্থী ইরানে আশ্রয় নেন। চলতি বছরের শুরুতে ইরান সরকার তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার আফগান দেশে ফিরে আসেন। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার শিকার বাসটিতে যাত্রীরা ওই নির্দেশ মেনে আফগানিস্তানে ফিরছিলেন।

    আফগানিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দুর্বল সড়ক নেটওয়ার্ক, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং চালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে বড় দুর্ঘটনা যেন নিয়মিতই ঘটছে। মাত্র কয়েক মাস আগে গত ডিসেম্বরে একটি জ্বালানি ট্রাক ও বাসের সংঘর্ষে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

  • এটা আমার যুদ্ধ নয়—জেলেনস্কি এখনই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন: ট্রাম্প

    এটা আমার যুদ্ধ নয়—জেলেনস্কি এখনই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন: ট্রাম্প

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে ইউরোপীয় নেতাদের। সোমবার তাদের সঙ্গে দিনভর বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠকে অংশ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের শেষ করার ক্ষেত্রে ‘উন্নতি’ হয়েছে। এটা আমার যুদ্ধ না, তবে এটা সত্যিই যে জেলেনস্কি এই যুদ্ধ এখনই শেষ করতে পারেন।”

    স্থানীয় সময় সোমবার ওভাল অফিসে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন মন্তব্য করেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    এর আগে, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ‘প্রচেষ্টা’র জন্য এবং তাকে এই বৈঠকের আমন্ত্রণ দেওয়ায় জেলেনস্কি তাকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কার একটি চিঠি দিয়ে বলেন, এটা আপনার জন্য নয়, আপনার স্ত্রীর (মার্কিন ফার্স্ট লেডি) জন্য।

    জেলেনস্কি এটা বলার পর তারা দুজনেই হাসেন।

    বৈঠকে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেনিয়ানদের মনোবল এখনও দৃঢ় রয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘কূটনৈতিক উপায়ে’ যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিকে সমর্থন করে।

    তিনি আরও জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডন্টে এবং রাশিয়ার প্রেসিডন্টের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে চান।

    এ সময়, গত সপ্তাহে এই যুদ্ধে অনেক লোক নিহত হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, তিনি এবং জেলেনস্কি উভয়ই চান যুদ্ধ বন্ধ হোক এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, পুতিনও এমনটাই মনে করেন।

    এ সময় ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয় , যুদ্ধে কোন পক্ষ সুবিধাজনক অবস্থান রয়েছে?

    এর জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার যুদ্ধ না।

    তখন তিনি আবারও ২০২৩ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন না থামানোর জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমালোচনা করেন। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে জানান, তিনি সবার ভালোর জন্যই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চান।

    এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠক করেন ট্রাম্প। রুদ্ধদ্বার সেই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকেরও উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

    কিন্তু পর্দার আড়ালে ঠিক কী আলোচনা হচ্ছে তা কেউ খোলাসা করছেন না। সবাই ভাসাভাসা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে শান্তি আলোচনায় যে উভয়পক্ষকে কিছু ছাড় দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র তার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে অবশ্যই তার ভূখণ্ডের কিছু অংশ রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

  • খারকিভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১১ জন

    খারকিভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১১ জন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ আবারও রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (১৭ আগস্ট) রাতে চালানো এ হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন ১৩ বছর বয়সী কিশোরীও রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনেহুবভ টেলিগ্রামে জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই এ শহরটি নিয়মিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চল উত্তরপূর্ব ইউক্রেনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউক্রেনের স্টেট এমার্জেন্সি সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে যায় এবং কিছু বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে বলেছেন, রাস্তায় চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন এবং উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করছিলেন।

    খারকিভ ছাড়াও রাশিয়ার নির্দেশিত আকাশবোমা হামলায় উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে ৫৭ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন। সেখানে অন্তত এক ডজন আবাসিক বাড়ি ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুমি অঞ্চলের প্রশাসক ওলেহ হ্রিহোরভ অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া রাতের অন্ধকারে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া ঠিক কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছে তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মস্কোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও উভয় পক্ষই বেসামরিক লোকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে এখন পর্যন্ত নিহত হাজারো মানুষের অধিকাংশই ইউক্রেনীয়।

    এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি কিয়েভকে মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তি করতে আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “রাশিয়া একটি অত্যন্ত বড় শক্তি, কিন্তু ইউক্রেন নয়।”