Category: আন্তর্জাতিক

  • তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়ল বহু ভবন

    তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়ল বহু ভবন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলীয় বালিকেসির প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একজন নিহত ও অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। ভূমিকম্পে অন্তত ১৬টি ভবন ধসে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি আঘাত হানে রোববার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। কেন্দ্রস্থল ছিল বালিকেসিরের সিন্দিরগি শহর, যা ইস্তাম্বুল পর্যন্ত অনুভূত হয়।

    তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, সিন্দিরগিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮১ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) জানায়, ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১১ কিলোমিটার।

    প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সিন্দিরগি শহরের বহু ভবন সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আল্লাহ আমাদের দেশকে সব ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করুন।” তিনি আরও জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানিয়েছেন, প্রাথমিক উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং নতুন করে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা ভয় ও আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, তুরস্ক তিনটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

    বিবিসি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে ৫০ হাজারের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী সিরিয়ায় আরও পাঁচ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত হওয়া কয়েক লাখ মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি।

  • গাজা দখলের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, সৈন্যদের যুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান

    গাজা দখলের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, সৈন্যদের যুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি গাজা দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলে নজিরবিহীন বিক্ষোভ করেছে দেশটির সাধারণ মানুষ। সেইসাথে দেখা মেলে এ পর্যন্ত সর্ববৃহৎ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ। যেখান থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের এই যুদ্ধে না জড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

    শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তেল আবিব এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে দশ হাজারের মতো বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। জিম্মি পরিবারের বেশিরভাগের প্রতিনিধিত্বকারী ফ্যামিলিজ ফোরাম, জেরুজালেমের তেল আবিব, দক্ষিণে শায়ার হানেগেভ জংশন এবং কিরিয়াত গাটে সমাবেশ করেছে। সেইসাথে, আরও কয়েক ডজন স্থানে ছোট ছোট সমাবেশ করেছে।

     

    রোববার (১০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে ‘টাইমস অব ইসরায়েল’র জানায়, শনিবার সমাবেশের আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারগুলোর ফোরাম নেতানিয়াহু সরকারকে একটি জিম্মি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। সেইসাথে যুদ্ধ বন্ধ করে তাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনার দাবি উত্থাপন করে। এর কারণ হিসেবে আন্দোলনকারীরা বলে, যদি এমনটা না করা হয় তবে গাজায় বন্দী তাদের প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পাওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়বে।

    অপরদিকে বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি বন্দীদের নিশ্চিতভাবে বিপদে ফেলবে এবং অপারেশনে যাওয়া সৈন্যদের ফিরে আসা কঠিন করে তুলবে। তবে এর থেকেও বড় যে বিষয়টি তা হল, এটা গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর করে তুলবে।

    উল্লেখ্য, সামরিক বাহিনীর আপত্তি সত্ত্বেও মন্ত্রিসভা ঘনবসতিপূর্ণ ফিলিস্তিনি শহরটি দখলের সিদ্ধান্ত নেয়ার কয়েকদিন পর এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ক্রমেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

  • গাজায় অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১২

    গাজায় অনাহার ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১২

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১২ জনে, যাদের মধ্যে ৯৮ জন শিশু।

    রোববার (১০ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৮ জন নিহত ও ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে খাদ্য সহায়তা নিতে গিয়ে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধের মধ্যেই ত্রাণ সংগ্রহের পথে এমন হতাহতের ঘটনায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

    ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেখানে বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব সামনে এসেছে। এই পরিকল্পনায় গাজা যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য পাঁচটি মূলনীতি রয়েছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। নতুন পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে গাজা সিটির মানুষকে জোরপূর্বক স্থানান্তর করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সামরিক অভিযান এবং পরিকল্পনা নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, তা তাদের সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত নরম সুরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গাজা দখলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত “প্রায় পুরোপুরি ইসরায়েলের” নিয়ন্ত্রণাধীন।

    এদিকে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বার বার সতর্ক করে আসছে যে, গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো বিপর্যস্ত এবং পরিস্থিতি দ্রুত ‘দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজার অবরুদ্ধ ছিটমহলটিতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রীর প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে।

    বিশ্ব সংস্থার তথ্যমতে, মে মাসের শেষ থেকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এর ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ সংগ্রহের সময় অন্তত ১৩৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন জিএইচএফ’র কেন্দ্রের কাছে, এবং ৫১৪ জন ত্রাণবাহী যানবাহনের পথে। যদিও জিএইচএফ এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করছে, তাদের বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিকদের উপর গুলি ছোড়ে না এবং ত্রাণ কেন্দ্রগুলোতে হামাস সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে গাজায় স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

    বর্তমান গাজা যুদ্ধে প্রায় ৬১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত।

  • ট্রাম্পের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে অ্যাপল

    ট্রাম্পের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ১০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে অ্যাপল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে এবার যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়াতে যাচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। শুল্কের বোঝা কমাতে, নতুন করে দেশটিতে ১শ’ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে চিপ ও সেমিকন্ডাক্টরে আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক এড়াতে পারবে অ্যাপল। এর ফলে আইফোনের দাম কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬শ’ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

    বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে একসাথে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অ্যাপল প্রধান টিম কুককে। আগে থেকেই অনুমান করা হচ্ছিলো, বেশ বড়সড় ঘোষণা দিতে যাচ্ছে শীর্ষ প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের ঘোষণা দিলো টেক জায়ান্টটি।

    প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশটিতে উৎপাদন বাড়াতে আরও ১শ’ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে অ্যাপল। যা ব্যয় হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও। ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলা হবে চীন ও ভারতে উৎপাদনের হার। গেল ফেব্রুয়ারিতে ৫শ’ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় অ্যাপল। অর্থাৎ, এ নিয়ে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ালো ৬শ’ বিলিয়ন ডলারে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটা সম্মানের। অ্যাপল দেশে ফিরছে। আমাদের দেশ অনেক ধনী হতে যাচ্ছে। এমন একটি দেশ যার জন্য আমরা খুবই গর্বিত। আমরা চাই অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ঘরে ফিরুক।

    বিশ্লেষকদের দাবি— যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রোডাকশন লাইন আপ তৈরির ফলে আইফোনের বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর সাথে বাড়বে কর্মসংস্থানও। আর ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশে উৎপাদনের ফলে চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্কও এড়াতে পারবে অ্যাপল। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির জন্য পরিস্থিতি থাকবে অনুকূলে।

    ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক অ্যান ই. হ্যারিসনের মতে, এটা সবসময়ই ভালো। আরও বিনিয়োগ কাম্য। কেননা, চার দশকে মার্কিন কর্মীরা সত্যিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রযুক্তিগত কারণে তাদের কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। এ ঘোষণার মাধ্যমে অন্তত এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বাড়ছে।

    উল্লেখ্য, আইফোন, আইপ্যাডসহ যাবতীয় পণ্যের বেশিরভাগই এশিয়ায় বিশেষত চীনে উৎপাদন করে থাকে অ্যাপল। সম্প্রতি ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং ভারতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বেশকিছু কারখানা।

  • ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

    ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান।

    মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) লাহোর, করাচিসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)’র শতশত নেতাকর্মী। মোটরযান, রিকশাসহ অন্যান্য গাড়িতে র‍্যালি করেন তারা।

    এ সময়, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটকের দাবি করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ১২০ জনকে আটক করা হয়। বাকিরা বিক্ষোভ চলাকালে আটক হন।

    অপরদিকে পিটিআই’র অভিযোগ, শুধু লাহোর থেকেই দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

    এর আগে, গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্টে সমর্থকদের গণতন্ত্র রক্ষায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানান ইমরান খান।

  • গাজা দখল করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের: ট্রাম্প

    গাজা দখল করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের: ট্রাম্প

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ইসরায়েলের গাজা দখলের পরিকল্পনায় বাধা দেবেন না। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমগ্র ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এমন খবর জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি গাজাবাসীদের ‘খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার’ দিকে মনোনিবেশ করছেন।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। সেটা পুরোপুরি ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করবে।’

    বিভিম্ন জরিপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ওয়াশিংটন প্রতি বছর ইসরায়েলকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আরও বেড়েছে।

    ইসরায়েল জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের গাজার ক্রমশ সংকুচিত এলাকায় ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে অঞ্চলটির ৮৬% এখন সামরিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

    তবে অবশিষ্ট অংশে সামরিক অভিযান বাড়লে ফিলিস্তিনিদের জীবন আরও ঝুঁকিতে পড়বে, যারা ইতিমধ্যেই দৈনিক বোমাবর্ষণ ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া দুর্ভিক্ষের শিকার। নেতানিয়াহুর গাজা দখলের পরিকল্পনা হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গ্রুপের হাতে থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা বাড়িয়েছে।

    মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা মিরোস্লাভ জেনকা বলেছেন, গাজার পূর্ণ দখল ‘ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে’।

    তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এ ব্যাপারে স্পষ্ট। গাজা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তা-ই থাকবে।

    এর আগে, ২০০৫ সালে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা ও বসতি প্রত্যাহার করলেও আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কারিগরিভাবে এটি দখলই রয়েছে, কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার আকাশসীমা, সমুদ্রসীমা ও প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

    ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের ডানপন্থী নেতারা গাজায় পুনরায় সামরিক উপস্থিতি ও বসতি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইসরায়েলের লক্ষ্য গাজা থেকে সমস্ত ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দেয়া, যা এথনিক ক্লিনজিং হিসেবে গণ্য হবে। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পও এমন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন।

    তবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানায়।

    সে সময় ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন গাজার জনগণকে সরিয়ে সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ গড়ে তোলার।

    গাজায় ইসরায়েলের ভূমি অভিযান বাড়ানোর খবর আসছে এমন সময়ে অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নিয়ে আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাসহ বিভিন্ন দেশের বিক্ষোভ ও সমালোচনা তীব্র হয়েছে।

    মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় প্রায় সব ধরনের সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়েছে, যার ফলে মার্কিন-সমর্থিত গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফোরাম সাইটগুলোই ফিলিস্তিনিদের একমাত্র খাদ্য পাওয়ার স্থানে পরিণত হয়েছে।

    ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ রেখার ভেতরে গ্লোবাল হিউম্যানিটারিয়ান ফোরামের নির্ধারিত ত্রাণ বিতরণ স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে শত শত ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয়েছে। তবুও, জাতিসংঘকে সহায়তা বিতরণের অনুরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র জিএইচএফ-কে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল কিছু খাদ্য ট্রাক ও বিমান থেকে সহায়তা বিতরণের অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু তা জনগণের চাহিদার তুলনায় নগণ্য।

    উত্তর গাজার জিএইচএফ সাইটের বাইরে সহায়তা ট্রাকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টাকারী ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালিয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

    মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র গাজাকে ৬০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। তার প্রশাসন জিএইচএফ-কে ৩০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনে গাজায় ৬১,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা একে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।