আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের স্বার্থের বিপরীতে কোনো ধরনের বাণিজ্য চুক্তি এড়িয়ে চলার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার (২১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে ইউএস সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, চীন এমন কোনো চুক্তিকে সমর্থন করে না যা তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বরং প্রয়োজনে কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই বিবৃতি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুল্ক ছাড় পেতে পারে।
চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা নিজ দেশের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় অনড় অবস্থানে আছে এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক সংহতি জোরদার করতে চায়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। শনিবার (১৯ এপ্রিল) শহরের বেয়োলু এলাকায় প্রধান বিরোধীদল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির ডাকে আয়োজিত কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে। খবর রয়টার্সের।
বার্তাসংস্থাটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দিয়ে তাদের কর্মসূচি চালাতে থাকে। তবে বিপত্তি বাধে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে। সেসময় সরকারের বিরুদ্ধে দেয়া স্লোগানকে অবৈধ দাবি করে তা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় পুলিশ।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাকসিম স্কয়ারের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। শুরু হয় পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি। পরবর্তীতে পুলিশ ঢাল ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের পিছু হটিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে পরিস্থিতি।
গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এই ঘোষণা দিলেন তিনি। রোববার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে ইউএস সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)-কে গাজায় হামলা জোরদারেরও নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাতে এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধের জন্য যখন চরম মূল্য দিতে হচ্ছে তখন ইসরায়েলের জয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই এবং বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত আমাদের অস্তিত্বের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে’।
সম্প্রতি, হামাস কর্তৃক ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা উল্লেখ করে গাজায় বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু। বলেন, ‘আমরা যদি এখন হামাসের দাবি মেনে নিই, তাহলে আমাদের সৈন্যরা, শহীদরা এবং আহত বীররা যে বিশাল অর্জন করেছেন, তা একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে’।
তিনি যুক্তি দেন যে, হামাসকে গাজায় থাকতে দেয়া মানে ইউএস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিশন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। ট্রাম্প ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নিয়ে উপকূলীয় এই এলাকাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়ারা’ হিসেবে পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির আবাসস্থল এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডে আমেরিকার মালিকানার কথাও উল্লেখ করেছেন।
তবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে হোস্টেজ ফ্যামিলিজ ফোরাম হেডকোয়ার্টার্স।
ফোরামটি বলেছে, অনেক কথা ও স্লোগান দিয়ে সহজ সত্যি ঢাকার চেষ্টা করা হবে—নেতানিয়াহুর বাস্তবে কোনো পরিকল্পনা নেই। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে প্রশ্ন করার সময় দেয়া হয়নি—নাহলে তাকে মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো: ৫৯ জন জিম্মিকে তাৎক্ষণিকভাবে ফিরিয়ে আনার জন্য ইসরায়েল ঠিক কী করছে? মনে হয় না, এই প্রশ্নের উত্তর প্রেসিডেন্টের কাছে রয়েছে। কারণ, মানুষ মারা ছাড়া ইসরায়েল আর কিছুই দেখে না।
এদিকে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় গতকাল শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন। সেই সাথে আহত হয়েছেন আরও বহুসংখ্যক ফিলিস্তিনি। হামলায় হতাহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
বর্তমানে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফার কাছে শাবৌর ও তেল আস সুলতান এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে আইডিএফ। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দুই ঘাঁটি থেকেই পরিচালনা করা হয়েছে সর্বশেষ এই হামলা।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় ৫১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলছে, অফিসিয়ালি এই সংখ্যা ৬১ হাজার ৭শ’। তবে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে আরও অনেকে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির মুস্তাফাবাদ এলাকায় একটি চারতলা ভবন ধসে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে স্থানীয় সময় ৩টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ জনকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি নিউজ এ তথ্য জানায়।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সন্দীপ লাম্বা জানান, ভোর ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিসেস এবং দিল্লি পুলিশের দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
তিনি বলেন, ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চারজন মারা গেছেন। এখনও প্রায় ৮-১০ জন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভবন ধসের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা সন্দীপ লাম্বা জানান, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’
ঘটনার বিষয়ে ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার রাজেন্দ্র আটওয়াল জানান, ‘শনিবার রাত ২টা ৫০ মিনিটে খবর পাই যে একটি ভবন ধসে পড়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেই দেখতে পাই পুরো ভবনটি ধসে পড়েছে এবং বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। এনডিআরএফ ও দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের দল উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
দিল্লির কিছু অংশে শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দমকা ও ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে ভারি বৃষ্টির পর ভবন ধসের এই ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সপ্তাহে প্রবল ধুলিঝড়ের মধ্যে মধু বিহারে একটি নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে একজনের মৃত্যু ও দুইজন আহত হয়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বিতর্কিত সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (১৬ এপ্রিল) আইনটির বিরুদ্ধে করা ৭৩টি পিটিশনের শুনানি শুরু হয়। পরে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ সংশোধিত ওয়াক্ফ আইন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
আইন স্থগিতের পর সরকারের পক্ষ থেকে আদালতকে নিশ্চিত করা হয়, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ওয়াক্ফ বোর্ডে নতুন নিয়োগ বা সম্পত্তির অবস্থা পরিবর্তন করা হবে না। পুরোনো ওয়াক্ফ এবং ‘ওয়াক্ফ বাই ইউজার’ সম্পত্তিও আগের মতো থাকবে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরও দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
‘ওয়াক্ফ বাই ইউজার’ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দেশটির মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধর্মীয় বা দানের কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিকে ওয়াক্ফ হিসেবে দাবি করতে পারতেন, এমনকি কাগজপত্র না থাকলেও।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, বিরোধপূর্ণ বা সরকারি জমিতে এটি প্রযোজ্য হবে না।
এর আগে বুধবার আদালত সংশোধিত ওয়াক্ফ আইনের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সময় চাওয়ায় পিছিয়ে যায়। বিক্ষোভ বন্ধ করতে স্থগিতাদেশের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসে সংসদে ওয়াক্ফ আইন সংশোধনের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিমবঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল বলেছে, তারা এই আইন রাজ্যে কার্যকর করবে না। বিজেপি অভিযোগ করেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী নির্বাচনের আগে ‘তোষণের রাজনীতি’ করছেন।
এছাড়া বিরোধী দলগুলো—কংগ্রেস, আপ, ডিএমকে, সিপিআই—এই আইনের বিরোধিতা করছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের জেডিইউ, যারা বিজেপির সঙ্গে জোটে আছে, তারাও এটির বিরোধিতা করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়াতে চায় না দিল্লি। দুই দেশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের বেশ কিছু সরকারি সূত্র এমনই দাবি করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ঢাকা বাণিজ্য বিষয়ক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটির বদলে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা দিল্লি হয়ত নেবে না বলেও এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরের জট কমাতে বাংলাদেশকে দেয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে ভারত। এই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার আওতায় নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি করা হতো। তবে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি ভারত সরকারের।
যদিও দুই দেশের দেদুল্যমান সম্পর্কের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত ভালো চোখে নেয়নি বাংলাদেশ।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার দাবি, ভারত সরকার ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের আগেই গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ তিনটি বন্দর বন্ধ ও স্থল বন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যদিও সুতা আমদানি সংক্রান্ত নির্দেশনা কেবলই গত সপ্তাহে জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এছাড়া গত জানুয়ারিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে বাংলাদেশ সতর্কতা বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল সেটিও দুই দেশের বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে। এতে ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান ট্রেডিং কর্পোরেশনে মাধ্যমে ৫০ হাজার টন চাউল আমদানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।