Category: গণমাধ্যম

  • ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ শেষ হবে : যুক্তরাষ্ট্র

    ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ শেষ হবে : যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুত দক্ষিণ সীমান্তের দেয়াল নির্মাণ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কমিশনার রডনি স্কট মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।

    ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে নির্মাণাধীন শক্তিশালী ধাতব বিম দিয়ে তৈরি এ বাধ সান ডিয়েগো থেকে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তবে যে সব স্থানে এর প্রয়োজন নেই বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, তেমন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় দেয়াল নির্মাণ করা হবে না।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    স্কট বলেন, ‘মূল সীমান্ত দেয়ালের কাজ ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ শেষ হবে।’

    তিনি জানান, এখনো দেয়ালটির কয়েকটি অংশে কাজ বাকি রয়েছে।

    স্কট বলেন, ‘যেসব এলাকায় আমরা সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে দেয়ালের প্রয়োজন নেই, শুধু সে সব স্থানেই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কথা বলা যায়। এটি অত্যন্ত দুর্গম এলাকা এবং সেখানে অনেক উঁচু খাড়া পাহাড় রয়েছে।’

    তিনি আরও জানান, দেয়ালের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এসব কাজ ২০২৮ সালের জুলাই অথবা সর্বোচ্চ আগস্টের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।

    টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তঘেঁষা রিও গ্র্যান্ডে নদীর দীর্ঘ অংশেও পৃথক ভৌত প্রতিবন্ধক ব্যবস্থা থাকবে। দুই দেশের মধ্যে নদীটির সীমান্ত অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার।

    মেক্সিকো থেকে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
    সরকারি সূচক অনুযায়ী, উভয় কার্যক্রমই কমেছে।

    তবে স্কটের মতে, শুধু ভৌত দেয়াল নির্মাণ করলেই গোপন তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

  • কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

    কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট আগামীকাল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

    এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে ও সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকা-ে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার উদ্যোগ। লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব আসতে পারে।

    অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

    তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

    পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বাসস’কে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

  • কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

    কাল সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট আগামীকাল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    আসন্ন বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

    এছাড়া ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে ও সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকা-ে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার উদ্যোগ। লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনার পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে অনলাইনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব আসতে পারে।

    অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে তা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

    তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

    পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বাসস’কে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও নীতিনির্ধারকেরা আশা করছেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

  • জেডআরএফ-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

    জেডআরএফ-এর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

    মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) উদ্যোগে ‘মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে-বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন জেডআরএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

    আজ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে-বিজ্ঞান মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।

    জেডআরএফ-এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জেডআরএফ গঠিত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জেডআরএফ-এর পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং কৃষিবিদ বয়জার রহমান প্রমুখ।

    এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, জেডআরএফ-এর পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম, কৃষিবিদ শফিউল আলম দিদার, আমিরুল ইসলাম কাগজীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, ছায়া সৃষ্টি এবং একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

    ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের প্রতিটি গ্রাম ও শহর আরও সবুজ, নির্মল ও সৌন্দর্যমন্ডি হয়ে উঠবে।

    তিনি বৃক্ষরোপণকে শুধু একটি প্রচলিত কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের ‘সবুজ বিপ্লবে’ রূপান্তরের আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম, সবুজ স্বেচ্ছাসেবা, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ এবং পরিবেশভিত্তিক স্টার্ট-আপ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে সবুজ স্বেচ্ছাসেবার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    ডা. জুবাইদা বলেন, চিকিৎসাবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব। নতুন নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে মানুষের কষ্ট লাঘব এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

    অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিযোগিতার সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই দিনে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

  • শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে মিশনগুলো হতে হবে আরও দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর : প্রধানমন্ত্রী

    শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে মিশনগুলো হতে হবে আরও দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যতে আমাদের মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর।

    এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে সারা বিশ্বের সেই সাহসীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

    তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান, যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয় জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

    কিন্তু এ পথ বন্ধুর ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা সহজ ছিলো না। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই মহান ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাদের।

    শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে  আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহতদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩ টি দেশের প্রায় ৬৩ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০ টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেয়ারও প্রস্তুতি চলছে।

    তিনি বলেন, পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের  সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের এই গৌরবের ইতিহাস একদিনে রচিত হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী একটি আস্থা ও নির্ভরতার নাম।

    সশস্ত্রবাহিনী একটি দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয় সেটি রক্ষা করা সশস্ত্রবাহিনীর কর্তব্য।

    তিনি বলেন, তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে, দেশে সশস্ত্রবাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। দেশে বিদেশে সশস্ত্রবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট করতে নানা তৎপরতাও বিদ্যমান ছিল। তবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫ এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

    তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানারকম ঘটনায় সশস্ত্রবাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্রবাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কি ঘটেছিলো সেটি আমাদের সবার জানা। তাই, ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুই অতীত চর্চা নয় বরং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে স্বমহিমায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যারা সশস্ত্রবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।

    বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের  ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।

    বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিম-লে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, আমরা তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশ যে কোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের গৌরবোজ্জ¦ল দৃষ্টান্ত বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, দেশের মান-সম্মানের বাহক। আশা করি, আগামী দিনেও যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করতে বিভিন্ন দেশে যাবেন, তারা একইভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখবেন।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ১০ জুন এটি পালিত হচ্ছে।

  • বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও

    বাণিজ্য সক্ষমতা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও

    বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)।

    সংস্থাটি অবকাঠামো, উৎপাদনশীল খাত, বাণিজ্য নীতি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে এই সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

    বাসস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডব্লিউটিও’র উপ-মহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং বলেন, বাণিজ্য সহায়তা উদ্যোগের  উল্লেখযোগ্য সুবিধাভোগী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও অর্থনীতির সহনশীলতা জোরদারে বাংলাদেশ ও তার উন্নয়ন অংশীদারদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারই প্রতিফলন এটি।

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) ক্রেডিটর রিপোর্টিং সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ‘এইড ফর ট্রেড’ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছে। উল্লেখিত সময়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই ছিল সর্বোচ্চ সহায়তা পাওয়া দেশ।

    ঝাং বলেন, এই সহায়তার প্রায় ৬৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে অর্থনৈতিক অবকাঠামো খাতে। বিশেষ করে জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে। কৃষি, ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাসহ উৎপাদনশীল খাতে প্রায় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় দুই শতাংশ ব্যয় হয়েছে বাণিজ্যনীতি ও নিয়ন্ত্রকমূলক কার্যক্রমে।

    তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে গুরুত্ব দেওয়া বৈশ্বিক বাণিজ্য সহায়তা প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব উদ্যোগ সরবরাহ-পক্ষের সীমাবদ্ধতা দূর করে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে।’

    ডব্লিউটিওর এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ভবিষ্যতেও অবকাঠামো উন্নয়ন ও উৎপাদনশীল খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যনীতি, ডিজিটালাইজেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    তার মতে, বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়লে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের পরিবর্তনশীল পরিবেশে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে সক্ষম হবে।

    বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডব্লিউটিওর সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে ঝাং বলেন, সংস্থাটি বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশে ডব্লিউটিওর সমর্থনে দুটি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

    ডব্লিউটিওতে বিভিন্ন তথ্য ও প্রতিবেদন দাখিলসংক্রান্ত একটি কর্মসূচির পর বাণিজ্য আলোচনার দক্ষতা বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

    ঝাং বলেন, ‘আশা করছি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই কার্যক্রম আয়োজন করতে পারব।’

    তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণের সক্ষমতা আরও বাড়াবে।

    ডব্লিউটিওর উপ-মহাপরিচালক জানান, ই-লার্নিং কোর্স, উন্নত বাণিজ্যনীতি কর্মসূচি, আঞ্চলিক কর্মশালা এবং বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণসহ ডব্লিউটিওর কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ২৮১ জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।

    এছাড়া, ডব্লিউটিওর দীর্ঘমেয়াদি প্লেসমেন্ট কর্মসূচি ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাত তরুণ পেশাজীবী উপকৃত হয়েছেন। এটি ভবিষ্যতের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

    বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চাপের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ঝাং বলেন, নতুন নতুন বাণিজ্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং সেগুলোর সমন্বিত সমাধান খুঁজে বের করার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে ডব্লিউটিও।

    তিনি বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর চালু হওয়া ডব্লিউটিওর ‘ট্রেড মনিটরিং রিপোর্ট’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলা বিভিন্ন পদক্ষেপের স্বচ্ছতা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় সদস্য দেশগুলোর সাড়া দেওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ঝাং।

    তিনি বলেন, ব্যাপক বিপর্যয়ের মধ্যেও আন্তর্জাতিক কারণে জরুরি পণ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয়েছিল।

    তিনি জানান, ২০২২ সালে মানবিক সহায়তার জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কেনা খাদ্যপণ্যের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডব্লিউটিওর সদস্যরা। এটিকে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবেও বর্ণনা করেন।

    তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বলেও মন্তব্য করেন ঝাং। তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণেও দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে।

    ডব্লিউটিওতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতা ও নীতি বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে ফুটওয়্যার, ওষুধশিল্প, পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হোম টেক্সটাইল, ক্ষুদ্র উৎপাদন খাত ও ডিজিটাল সেবায় নতুন সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

    ঝাংয়ের মতে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত  হতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, নকশা দক্ষতা, মেধাস্বত্ব উন্নয়ন এবং বিপণন কৌশলে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

    প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খলের কিছু অংশে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ উচ্চ মজুরির কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নতুন রপ্তানি খাত গড়ে তোলার সক্ষমতার প্রমাণ দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আরও বহুমুখী উৎপাদন ও রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’

    ডব্লিউটিও’র এই উপ-মহাপরিচালক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্ভাবনা নিয়েও আশা প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং নীতিগত সক্ষমতায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।