Category: গণমাধ্যম

  • মেহেরপুরে অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সেমিনার

    মেহেরপুরে অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সেমিনার

    ভূমি সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মেহেরপুরে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার। ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’-এই প্রতিপাদ্যেকে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে ভূমি প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

    বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

    জেলা প্রশাসক বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিনের জটিলতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং সেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমাতে অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা যুগোপযোগী উদ্যোগ। প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি সেবা নিশ্চিত হলে মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

    সেমিনারে ‘অটোমেটেড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: দ্য চেঞ্জ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’- শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।

    প্রবন্ধে তিনি ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পার্থ প্রতিম শীলের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ জে এম সিরাজুম মুনির এবং সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনলাইন নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের ডিজিটাল সংরক্ষণসহ নানা উদ্যোগ ভূমি সেবাকে মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করছে। তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনসচেতনতা তৈরি এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি ও জটিলতা কমে আসবে এবং একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জনবান্ধব ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

    সেমিনার শেষে ‘ভূমি বিষয়ক’ কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুষ্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

  • জার্মানিতে ভবন ধসের ধ্বংসস্তূপ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    জার্মানিতে ভবন ধসের ধ্বংসস্তূপ থেকে নারীর লাশ উদ্ধার

    পূর্ব জার্মানিতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। বৃহস্পতিবার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

    পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোরলিৎসের পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে অনুসন্ধানী কুকুর মোতায়েনের পর রাত প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একজনের লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, লাশটিকে নিখোঁজ থাকা রোমানিয়ার ২৫ বছর বয়সী নারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

    সোমবার বিকেলে একটি হলিডে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে পড়ার পর থেকে ইট ও ভাঙা কাঠের স্তূপে জীবিতদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল উদ্ধারকারীরা।

    এ ঘটনায় আরও দুইজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তারা হলেনÑ ২৬ বছর বয়সী আরেক রোমানীয় নারী এবং জার্মান ও বুলগেরীয় দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।

    পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান ও বিশেষ করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি কার্যক্রম এখনো চলছে।

  • সরকার ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি করেছে

    সরকার ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি করেছে

    ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে ১২টি বেসরকারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি)-এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এসব বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) উৎপাদনের গড় ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৮০ সেন্ট অর্থাৎ প্রায় ৯ টাকা ১২ পয়সা। যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম  বলেন, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের জ্বালানি বহুমুখীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব চুক্তি করা হয়।

    তিনি বলেন, ‘এতে বিদ্যুতের উৎপাদন গড় ব্যয় ২ থেকে ৩ সেন্ট কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। যেখানে আগে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল প্রায় ১০.৫ সেন্ট।’

    বিপিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, নতুন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের বাতিল করা ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বহাল করেছে। এছাড়া কম দামে ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্যে নতুন আরও ছয়টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

    তারা জানান, ১২টি প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী দুই বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাবে এবং সবগুলো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াটের আরেকটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

    তারা বলেন, কক্সবাজারে দুটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। একইভাবে আরও একটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাগেরহাটের মোংলায় নির্মাণ করা হবে। পাবনার ঈশ্বরদীতে ৭০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

    এছাড়া, অবশিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মৌলভীবাজারের সদর ও বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

    বিপিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ট্যারিফ নিশ্চিত করে সরকার ১২টি আইপিপির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

    কনফিডেন্স পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও আইপিপি উদ্যোক্তা ইমরান করিম বাসস’কে জানান, তার তিনটি প্রতিষ্ঠান মোট ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বাকি দুটি কেন্দ্রের জন্য জমি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।’

    জ্বালানি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

    বিপিডিবি’র হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ১ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.০১ শতাংশ।

    বিপিডিবি’র কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকার ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাতিল করেছিল। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল ২৭টি। এসব প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। বাকি চারটি প্রকল্প ছিল বায়ু ও জলবিদ্যুৎভিত্তিক। যেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে বাতিল করা হয়।

    বিপিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।’

    কর্মকর্তারা জানান, ১২টি প্রকল্প ছাড়াও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে আলাদা কর্মসূচি চলছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশে ১,৪৫০.৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১,০৭৩.৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে (অন গ্রিড) এবং ৩৭৭.১৭ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

    টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৪৩.৭৬ মেগাওয়াট।

    সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি, ০.৬৯ মেগাওয়াট বায়োগ্যাস এবং ০.৪ মেগাওয়াট বায়োমাস এর মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

    জ্বালানি বিশ্লেষক ও ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) কর্মকর্তা শফিকুল আলম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সরকারের একটি সমন্বিত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

    কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদি  বলেন, সরকার যদি মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে উৎসাহিত করতে পারে, তাহলে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

    তিনি বলেন, আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ১৩ হাজার একর জমি এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে ওই জমিগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি খরচ ২৩ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

    বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

    আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইআরইএনএ)’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ লাখ ২ হাজার ১৭৮.৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, যার উৎপাদন ২ লাখ ১১ হাজার ৬১০ দশমিক ১ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত, যার উৎপাদন সক্ষমতা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫০১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।

    এছাড়া জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে ভিয়েতনাম ৮ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট, ফিলিপাইন ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট, শ্রীলঙ্কা ১ হাজার মেগাওয়াট এবং পাকিস্তান ৮০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

  • পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

    পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে তিনি আজ এ নির্দেশনা দেন।

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম আজ এ তথ্য জানান।

    ড. রেজাউল করিম আরো জানিয়েছেন, একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন আইনমন্ত্রী।

    উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

  • ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশ, নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মুহিত

    ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশ, নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী মুহিত

    : সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া ‘৭৯তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি’-তে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত।

    সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নতুন সরকার জাতীয় উন্নয়নের একদম কেন্দ্রবিন্দুতে স্বাস্থ্যকে স্থান দিয়েছে। তবে এখনও দেশের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষকে নিজের পকেট থেকেই দিতে হয়, যা অনেক পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    ড. এম এ মুহিত বলেন, এই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার ধাপে ধাপে সরকারি স্বাস্থ্য বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সবার জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, কার্যকর রেফারাল সিস্টেম ও যুগোপযোগী ডিজিটালাইজেশনের ওপর কাজ করছে।

    আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ মে বাংলাদেশের পক্ষে সম্মেলনের মূল অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন প্রতিনিধি দলের নেতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত।

    তার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যোগ দিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় এই বৈশ্বিক আসরে।

    মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের একটি সাইড ইভেন্টে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের নীতি-নির্ধারণী সভায় বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সঙ্গেও অংশ নেন ড. এম এ মুহিত।

    এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের চলমান স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে জানান, সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি ও বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য তথ্যের সমন্বয়, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কার্যক্রম জোরদারকরণে কাজ করছে।

    পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনের বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকির সামনের সারিতে থাকা বাংলাদেশের ওপর এর নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রোগের ধরন দ্রুত পাল্টাচ্ছে এবং দেশের বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া ১.৩ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি, বাংলাদেশের সীমিত স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর ওপর বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিরাপদ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য ‘প্যাথোজেন অ্যাক্সেস অ্যান্ড বেনিফিট শেয়ারিং’ ব্যবস্থা দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ওপর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অর্থায়নের সংকোচন, সংঘাত ও মানবিক সংকটের মারাত্মক প্রভাবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের তাগিদ দেন। বিশেষ করে, অসংক্রামক রোগ ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানোর মতো নীরব ঘাতক মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দেন।

  • কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ‘ব্যাপ্তি ও গতি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    এ প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে বলে জানানো হয়েছে এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    বিগত অর্ধশতাব্দীতে আফ্রিকায় ইবোলায় ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে এবং জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা এই অত্যন্ত সংক্রামক রক্তক্ষরণকারী জ্বরের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

    ডিআর কঙ্গোর সংঘাতপ্রবণ পূর্বাঞ্চলে বাসিন্দারা যখন চিকিৎসা সরঞ্জামের অপেক্ষায় ছিলেন, তখন সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানায়, তারা ইতুরি প্রদেশের অসুস্থ রোগীদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল।

    ইতুরি প্রদেশে রোগীদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও, জায়গা না থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

    হাসপাতালগুলো জানায়, ‘আমাদের এখানে সন্দেহভাজন রোগীতে পূর্ণ। আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।’

    এমএসএফ-এর সহায়তাকর্মী ট্রিশ নিউপোর্ট বলেন, ‘এতে বোঝা যায় পরিস্থিতি এখন কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।’

    এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন দ্বারা ঘটছে। এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
    ১০ কোটির বেশি জনসংখ্যার মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

    স্থানীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফুটেজে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধক কিট ও তাঁবুসহ বিপুল পরিমাণ জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞরা এসে পৌঁছেছেন।