Category: গণমাধ্যম

  • বর্তমান সরকার মানুষের আশার প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমান সরকার মানুষের আশার প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার।

    আজ সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    এ সময় জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে এই রাষ্ট্রের মালিক এই দেশের জনগণ। তাই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের স্বার্থ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আপনাদের প্রধান দায়িত্ব।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশন-বিয়াম। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে এটি বিয়াম ফাউন্ডেশনে রূপান্তরিত হয়। বিয়ামের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অগ্রযাত্রার দিন তারিখগুলো প্রমাণ করে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে বিএনপি সরকার বড় একটি সুদক্ষ এবং প্রশিক্ষিত জনপ্রশাসন দেখতে চেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেখতে চায়।

    তিনি আরো বলেন, তাই আজ বিয়াম ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন কেবল একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনই নয়, এটি প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠন এবং মানব সম্পদ বিকাশের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    তারেক রহমান বলেন, আজ যে ট্রেনিং কাম ডরমেটরি ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে তা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র।

    তিনি বলেন, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি বিয়ামের অন্যতম একটি লক্ষ্য। বিশেষ করে সরকারি কর্মে নিয়োজিত মানব সম্পদকে আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার মেধা নির্ভর, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও দায়িত্ববান মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

    সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই, যদি আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, উল্লেখ করেন তিনি।

    বিয়াম এর কারিকুলাম এবং প্রশিক্ষণ পরিবেশ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে আরো সমৃদ্ধ করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রশাসনের দক্ষতা মানে শুধু নিয়ম জানা নয় বরং প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনসেবায় সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি। সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক ও ফলাফলমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উন্নত কোর্স, গবেষণা এবং নীতি নির্ধারণমূলক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন কি না কিংবা পালন করতে সক্ষম হয়েছিলেন কি না এই মুহূর্তে সেই প্রশ্ন না তুলে আমি আপনাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই। দেশ এবং জনগণের কাছে আমাদের যেই প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়ে এসেছি সেসব কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।

    তিনি বলেন, আমি আশা করি আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে ভূমিকা রাখবেন। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার দৃঢ় চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। আপনারা যে দায়িত্ব পালন করেন তা কেবল নথিপত্র পরিচালনা বা প্রশাসনিক তদারকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞার ওপর একটি জাতির উন্নয়ন বা ভাগ্য নির্ভর করছে। আপনাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব কখনো একটি পরিবারে, কখনো একটি অঞ্চলে কিংবা কখনো পুরো জাতির উপরে এসে পড়ে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এগুলোকেই আমরা প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে শূন্য পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকেও নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরো দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হিসেবে গড়ে তুলবে।

    তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সকল সরকারি সেবা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এক্ষেত্রে দক্ষ মানব সম্পদ গড়তে বিয়ামের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করার জন্যে সরকার যে কোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব-ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সহজীকরণে সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রতিষ্ঠা এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল কর্মপ্রবাহ তৈরি করে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, আমরা একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে ধীরে ধীরে পৌঁছাবে। বৈষম্য কমে আসবে। নারী এবং যুবসমাজ উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবশ্যই পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা আমাদের প্রতিটি নীতির অংশ হবে।

    জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আপনারাই নীতি নির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয় বরং জনগণের সেবক এবং বন্ধু হিসেবে ভাবুন।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেক উপস্থিত ছিলেন।

  • জাপানে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকলকর্মীরা

    জাপানে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকলকর্মীরা

    জাপানের উত্তরাঞ্চলের বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
    দেশটির কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইওয়াতে অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় তিন দিন আগে শুরু হওয়া দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ হেক্টর (১,৭৩০ একর) বনভূমি পুড়ে গেছে।

    ওৎসুচি শহরের কাছে উপত্যকার ওপর দিয়ে ঘন ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ দেখা গেছে, ৩০ কিলোমিটার দূর থেকেও যার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল।
    আগুন নেভাতে হেলিকপ্টার থেকে দাবানলে পানি ছিটানো হচ্ছে।

    এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের  গাড়িগুলো বসতবাড়ির কাছাকাছি বনাঞ্চলে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

    শনিবার আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১২টি হেলিকপ্টার, ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি দমকল কর্মী ও জাপান আত্মরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ পর্যন্ত অন্তত ৮টি ভবন পুড়ে গেছে, তবে সব বাসিন্দাকে আগেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    স্থানীয় এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আগুন নেভানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং পরে আরও তথ্য জানানো হবে।’

    ওৎসুচির এক বাসিন্দা জাপানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকে-কে বলেন, ‘আমি আশা করছি, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হবে।’

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে শুষ্কতা বাড়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে।

    গত বছর ইওয়াতে অঞ্চলের ওফুনাতো শহরের আগুন ছিল অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

    বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন খরা আরও দীর্ঘ ও তীব্র করে তুলছে, যা দাবানলের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

  • রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২, আহত ২১

    রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২, আহত ২১

    ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা জানান, রাশিয়ার হামলায় দনিপ্রোর একটি ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, এখনও পাঁচজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।’

    গানঝা জানান, এখন পর্যন্ত ২১ জন আহত হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে তার এক বার্তার সাথে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময়, একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে কালো ব্যাগে ভরা একটি লাশ বের করে আনছেন।

    এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সারা দেশে রাতভর রুশ হামলায় মোট চার জন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের প্রতিটি হামলা আমাদের মিত্রদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত যে পরিস্থিতির জন্য অবিলম্বে ও কঠোর পদক্ষেপ এবং আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’

  • ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি

    ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি

    হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অর্ধ লক্ষাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

    বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।

    ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ (সিএনআরএস)-এর প্রধান শাদি আবদাল্লাহ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘প্রায় ৪৫ দিনের মধ্যে ১৭ হাজার ৭৫৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে ও ৩২ হাজার ৬৬৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

    বৈরুত থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ২ মার্চ দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যুক্ত করার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ইসরাইলি প্রান্ত থেকে এএফপির তোলা ছবি অনুসারে, শুক্রবার শুরু হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের যে সব শহর ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেখানে ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা ও উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

    আবদাল্লাহ বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম তিন দিনে ৪২৮টি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সিএনআরএস-এর হিসাবে দেখা গেছে।

    লেবাননের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানাবে।

    এর আগে, ২০২৩ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তা দুই মাসের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।

    নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তা থামানোর চেষ্টা করা হয়।

    তবে আগের যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যায় এবং সীমান্তের পাঁচটি স্থানে সেনা অবস্থান বজায় রাখে।

    লেবাননের পরিবেশ মন্ত্রী তামারা জেইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই আগ্রাসন বাস্তবে থামেনি, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ রেখে গেছে।’

    তিনি আরও বলেন, এ সময়ে ‘২ লাখ ২০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।’

    জেইন বলেন, ইসরাইলি হামলায় আবাসিক এলাকা, বেসামরিক অবকাঠামো ও উপাসনালয়ও রেহাই পায়নি।

    এতে কৃষি জমি ও বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটনে ইসরাইল-লেবানন বৈঠক

    যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে নতুন দফার বৈঠকে বসছে ইসরাইল ও লেবানন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বৈরুত এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর অনুরোধ জানাবে।

    বৈঠকের আগে ইসরাইল জানায়, লেবাননের সঙ্গে তাদের কোনো ‘গুরুতর দ্বিমত’ নেই। একইসঙ্গে ইরানপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘একসঙ্গে কাজ’ করতে লেবাননকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। তবে হিজবুল্লাহ এই আলোচনার বাইরে রয়েছে এবং শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় থাকা দেশ দুটি গত ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে প্রথম বৈঠকে বসে। ১৯৯৩ সালের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বৈঠক। ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান ছয় সপ্তাহের বেশি সময়ের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রথম বৈঠকের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল, যার মেয়াদ আগামী রোববার শেষ হতে যাচ্ছে। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ২ হাজার ৪৫৪ জন নিহত এবং ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    পূর্ববর্তী দফার মতো এবারও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদকে নিয়ে বৈঠকে বসবেন। সেখানে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে এএফপি-কে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

    যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও বুধবার লেবাননে ইসরাইলি হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ‘পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলার’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে দাবি ইসরাইলের।

    লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানায়, বুধবার ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তার মরদেহ পাওয়ার আগেই দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।

    আমাল খলিলের কর্মস্থল লেবানিজ দৈনিক ‘আল-আখবার’ জানিয়েছে, হামলায় তাদের আরেক সাংবাদিক জয়নব ফারাজ আহত হয়েছেন।

    ওয়াশিংটনে লেবাননের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপি’কে বলেন, ‘লেবানন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ এক মাস বাড়ানোসহ ইসরাইলি বোমা হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ এবং পূর্ণ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানাবে।’

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যোগাযোগ চলছে।

    প্রথম দফার বৈঠকের পর উভয় দেশ স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছিল। এই আলোচনার জন্য অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইমন কারামকে প্রধান করে একটি প্রতিনিধি দল নিয়োগ দিয়েছে বৈরুত। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বুধবার বলেন, লেবাননের সঙ্গে তাদের কোনো ‘গুরুতর বিরোধ’ নেই।

    গিডিওন সার বলেন, ‘শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে একমাত্র বাধা হলো হিজবুল্লাহ।’ উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করে।

    ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কয়েক ডজন গ্রামে অবস্থান করছে। তারা এই এলাকাটিকে ‘ইয়েলো লাইন’ বা ১০ কিলোমিটার গভীর একটি ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় মঙ্গলবার তারা উত্তর ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর অন্যতম শর্ত হিসেবে তেহরান এই যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিল। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দুই দেশের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

  • নারী দলের পর পুরুষ দলেরও দাপুটে পারফরম্যান্স

    নারী দলের পর পুরুষ দলেরও দাপুটে পারফরম্যান্স

    এশিয়ান বিচ গেমস কাবাডির প্রথম দিনেই দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছে বাংলাদেশ। চীনের সানিয়ায় অনুষ্ঠিত এই গেমসে আজ পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই বড় জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে সিরিয়ার বিপক্ষে পুরুষ দলের বিশাল ব্যবধানের জয়টি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থানের জানান দিচ্ছে।

    সিরিয়াকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল। ৫৪-২৩ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে তারা। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ ৩১ পয়েন্টের এক বিশাল লিড বজায় রেখে মাঠ ছাড়ে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই লড়াইয়ের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে যায়। বাংলাদেশ ২৯-৮ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। সিরিয়ার ডিফেন্স লাইন ভেঙে একের পর এক পয়েন্ট আদায় করে নেন বাংলাদেশের রেইডাররা। অন্যদিকে রক্ষণভাগও ছিল শক্তিশালী, যা সিরিয়াকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়।

    এর আগে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সকালে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ নারী দল। শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৫১-৩৪ পয়েন্টে জয় পায় টাইগ্রেসরা। নারীদের এই জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।