Category: ধর্ম

  • কবরে নেমপ্লেট লাগানো— ইসলাম কী বলে

    কবরে নেমপ্লেট লাগানো— ইসলাম কী বলে

    বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির কবর সহজে শনাক্ত করার জন্য নাম, পরিচয় বা ঠিকানাসংবলিত ছোট একটি ফলক বা নেমপ্লেট লাগানো দেখা যায়। অনেকেই জানতে চান, ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন নামফলক ব্যবহার করা বৈধ কি না। এটি কি সুন্নাহসম্মত, নাকি শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ? এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহবিদদের বক্তব্য থেকে বিষয়টি সহজেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কবর চিহ্নিত করার জন্য নামফলক ব্যবহার

    ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কেবল কবরটি চিনে রাখার বা সহজে শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ নামফলক, পাথর বা অন্য কোনো সহজ চিহ্ন ব্যবহার করা জায়েজ। এর উদ্দেশ্য যেন শুধু কবর শনাক্ত করা হয়, প্রদর্শন বা সৌন্দর্যবর্ধন নয়।

    এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমল থেকেই সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। হজরত উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর দাফনের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ হাতে একটি পাথর এনে তার কবরের মাথার পাশে স্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন—

    أَتَعَلَّمُ بِهَا قَبْرَ أَخِي، وَأَدْفِنُ إِلَيْهِ مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِي

    ‘এর মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের কবরটি চিহ্নিত করে রাখলাম এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তাকে এর পাশে দাফন করব।’ (আবু দাউদ ৩২০৬)

    এই হাদিস থেকে আলেমরা দলিল গ্রহণ করেছেন যে, কবর চিহ্নিত করার জন্য একটি সাধারণ পাথর বা নামফলক ব্যবহার করা বৈধ।

    তবে কবরে বড় বড় কবিতা, স্তুতিবাক্য, কবিতা, আয়াত বা হাদিসের বাণী লিখে রাখা নিষিদ্ধ। কবর পাকা করাও নিষিদ্ধ। হজরত জাবের (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) কবর পাকা করা, তার উপর লেখা, কবরের উপর বাড়ি নির্মাণ করা এবং তা পদদলিত করা থেকে নিষেধ করেছেন। (তিরমিজি)

    আল্লাহর রাসুলের (সা.) ও সাহাবিদের যুগে কবর তো পাকা করা হতোই না বরং কবর অতিরিক্ত উঁচু করাও তারা অপছন্দ করতেন।

    ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) তার সঙ্কলিত কিতাবুল আসারে লিখেছেন, আমরা কবরকে চুনকাম করা, পাকা করা, অথবা কবরের পাশে মসজিদ নির্মাণ করা, ঝান্ডা টানানো, কোনো কিছু লেখা ইত্যাদি কাজ মাকরুহ মনে করি। (কিতাবুল আসার লিমুহাম্মদ: ২/১৯১)

    যা থেকে বিরত থাকা উচিত

    যদিও কবর শনাক্ত করার জন্য সাধারণ চিহ্ন ব্যবহার করা অনুমোদিত, তবে কবরকে জাঁকজমকপূর্ণ করা, দামি মার্বেল, দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা বা আভিজাত্য প্রকাশের উপকরণে সাজানো ইসলামের শিক্ষা নয়। কবর মানুষের শেষ ঠিকানা; তাই এখানে অহংকার, প্রতিযোগিতা বা বিলাসিতার কোনো স্থান নেই।

    একজন মুসলমানের উচিত কবরকে সরল ও সাধারণ রাখা এবং এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা, যা অপচয়, লোকদেখানো বা অহংকারের প্রকাশ ঘটায়।

    মৃত্যুর পর কবরের বাহ্যিক সৌন্দর্য মৃত ব্যক্তির কোনো উপকারে আসে না। বরং তার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হলো জীবিতদের আন্তরিক দোয়া, ইস্তিগফার, সদকা এবং ইসালে সওয়াব। এসব আমলই আল্লাহর ইচ্ছায় মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও উপকারের কারণ হতে পারে।

    ইসলাম ভারসাম্য ও সহজতার ধর্ম। তাই কবরকে শনাক্ত করার প্রয়োজনে একটি সাধারণ নামফলক বা চিহ্ন ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত। তবে সেটি যেন কখনো প্রদর্শন, আভিজাত্য বা অপচয়ের মাধ্যম না হয়। আমাদের মনে রাখা উচিত, একজন মৃত মুসলিমের প্রকৃত সম্মান কবরের বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়; বরং তার জন্য করা দোয়া, ইস্তিগফার এবং নেক আমলের সওয়াব পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত।

  • জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

    জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ

    বিয়ে শুধু দুটি মানুষের নয়, দুটি পরিবারের মধ্যকার ভালোবাসা, সম্মান ও সৌহার্দ্যের বন্ধন। আমাদের সমাজে বিয়ের সময় বর বা জামাইকে বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে স্বর্ণের আংটিও উপহার দিয়ে থাকেন। তবে প্রশ্ন হলো—ইসলামের দৃষ্টিতে জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি বৈধ? আর যদি বৈধ হয়, তাহলে তিনি কি সেটি ব্যবহার করতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

    জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া কি জায়েজ?

    ইসলামে পুরুষের জন্য স্বর্ণের অলংকার পরিধান করা হারাম। তবে স্বর্ণের মালিক হওয়া হারাম নয়। অর্থাৎ কোনো পুরুষকে স্বর্ণ উপহার হিসেবে দেওয়া এবং তার সেই উপহার গ্রহণ করা বৈধ।

    সুতরাং বিয়ের সময় শ্বশুর-শাশুড়ি যদি ভালোবাসা ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে জামাইকে একটি স্বর্ণের আংটি উপহার দেন, তাহলে এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই। তবে উপহার গ্রহণ করার পর জামাই নিজে সেই আংটি পরতে পারবেন না। তিনি চাইলে সেটি নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন কিংবা সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

    পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার কেন নিষিদ্ধ?

    রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রেশম ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে—

    رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَهُ فَطَرَحَهُ، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ

    ‘এক ব্যক্তি হাতে স্বর্ণের আংটি পরেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে তার হাত থেকে খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে ধারণ করতে চায়?’ (মুসলিম ২০৯০)

    আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَلْبَسْ حَرِيرًا وَلَا ذَهَبًا

    ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার না করে।’ (মুসনাদে আহমদ ২২২৪৮)

    বিশেষ প্রয়োজনে স্বর্ণ ব্যবহারের অনুমতি

    সাধারণ অবস্থায় পুরুষের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও চিকিৎসাগত বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু ব্যতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে।

    সাহাবি হজরত আরফাজা ইবন আসআদ (রা.)-এর নাক যুদ্ধের সময় কেটে গেলে প্রথমে তিনি রূপার নাক ব্যবহার করেন। পরে তা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে স্বর্ণের নাক ব্যবহার করার অনুমতি দেন। (মুসনাদে আহমদ ১৮৫২৭, আবু দাউদ ৪২৩২)

    বিয়ের সময় জামাইকে স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ পুরুষের জন্য স্বর্ণের মালিক হওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে তিনি নিজে সেই আংটি পরিধান করতে পারবেন না। চাইলে স্ত্রীকে ব্যবহার করতে দিতে পারেন, অন্যকে উপহার দিতে পারেন, বিক্রি করতে পারেন বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

    একজন মুসলিমের জন্য প্রকৃত সৌন্দর্য ও মর্যাদা স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারে নয়; বরং আল্লাহর বিধান মেনে চলা, তাকওয়া অর্জন করা এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। তাই বিয়ের উপহার নির্বাচন ও ব্যবহার— উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন মুমিনের উত্তম পরিচয়।

  • স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ?

    স্থায়ীভাবে অমুসলিম দেশে বসবাস করা কি বৈধ?

    বর্তমান বিশ্বে অসংখ্য মুসলিম শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা পারিবারিক কারণে অমুসলিম দেশে বসবাস করছেন। কেউ অস্থায়ীভাবে, আবার কেউ স্থায়ীভাবে। এমন বাস্তবতায় অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কি বৈধ? এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী?

    ইসলামী শিক্ষার আলোকে দেখা যায়, একজন মুসলিম যেখানেই থাকুক না কেন, তার প্রথম পরিচয় হলো সে আল্লাহর বান্দা এবং ইসলামের একজন প্রতিনিধি। তাই অমুসলিম দেশে বসবাসের প্রশ্নটি শুধু নাগরিকত্ব বা পাসপোর্টের বিষয় নয়; বরং ইমান, চরিত্র, দাওয়াহ এবং ইসলামি পরিচয় রক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

    অমুসলিম দেশে বসবাসের বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

    অমুসলিম দেশে ব্যবসা করতে যাবেন, কোনো অসুবিধা নেই; চাকরি করতে যাবেন, কোনো সমস্যা নেই; অস্থায়ীভাবে থাকতে যাবেন, কোনো সমস্যা নেই, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাবেন, কোনো সমস্যা নেই; পড়াশোনার জন্য যাবেন, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু স্থায়ীভাবে যদি কোনো অমুসলিম দেশের পাসপোর্ট নিয়ে থাকতে হয় বা বসবাস করতে হয় তবে তাকে অবশ্যই দাওয়াতের নিয়তে থাকতে হবে। এ ছাড়া অমুসলিম দেশে বসবাস করা বৈধ নয়। কেননা অমুসলিম দেশে বসবাসকারীদের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি হাদিসে কঠোর বাণী ঘোষণা করেছেন—

    أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ

    ‘আমি ঐ মুসলিম থেকে দায়মুক্ত যারা মুশরিকদের মধ্যে বসবাস করে।’ (আবু দাউদ ২৬৪৫, তিরমিজি ১৬০৪)

    দাওয়াহর দায়িত্ব ও মুসলিম পরিচয়

    অমুসলিম দেশে বা সমাজে বসবাসকারী একজন মুসলিম কেবল একজন সাধারণ নাগরিক নন; তিনি ইসলামের একজন প্রতিনিধি। মুসলিমদের আচরণ, কথা, লেনদেন, সততা ও চরিত্র দেখে অনেক মানুষ ইসলাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

    ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা আন-নাহল: আয়াত ১২৫)

    অতএব, একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো নিজের উত্তম চরিত্র ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরা। এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, অমুসলিম দেশে যদি কোনো মুসলিমত বসবাস করতে চায় তবে তাকে দাওয়াতের নিয়তে থাকতে হবে।

    ইসলামকে উপস্থাপন করার সর্বোত্তম মাধ্যম

    অনেক সময় মানুষ ইসলামের বই পড়ে নয়, বরং মুসলমানদের দেখে ইসলামকে বিচার করে। তাই একজন মুসলিম যদি মিথ্যা বলে, প্রতারণা করে বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন মানুষ শুধু তাকে নয়, ইসলামের অনুসারীদের সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ صَالِحَ الْأَخْلَاقِ

    ‘আমি উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।’ (মুসনাদে আহমদ ৮৯৫২)

    তাই অমুসলিম সমাজে বসবাসকারী মুসলিমের প্রথম দাওয়াহ হলো তার চরিত্র, সততা ও আমল।

    আগে নিজে ইসলাম মানতে হবে

    মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার আগে নিজেকে ইসলামের শিক্ষার আলোকে গড়ে তোলা জরুরি। নিজের জীবনে নামাজ, সততা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়া প্রতিষ্ঠিত না হলে দাওয়াহর প্রভাবও দুর্বল হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ۝ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ

    ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা এমন কথা কেন বলো যা নিজেরা করো না? তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়।’ (সুরা আস-সাফ: আয়াত ২-৩)

    এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইসলামের দাওয়াহ শুরু হয় নিজের জীবন থেকেই।

    একজন মুসলিমের প্রকৃত মিশন

    যেখানেই একজন মুসলিম বসবাস করুক, তার লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং মানুষের কাছে ইসলামের সত্য ও সৌন্দর্য পৌঁছে দেওয়া। এটি কেবল বক্তৃতার মাধ্যমে নয়; বরং সুন্দর ব্যবহার, সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবসেবার মাধ্যমেও সম্ভব।

    অমুসলিম দেশে বসবাসের বিষয়টি ইসলামী শরিয়তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম আলোচনা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— একজন মুসলিম যেখানেই থাকুক না কেন, তাকে নিজের ইমান, ইবাদত ও ইসলামী পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে উত্তম চরিত্র, সততা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে মানুষের কাছে ইসলামের প্রকৃত বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

    মনে রাখতে হবে, একজন মুসলিমের জীবনই ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয়পত্র। তাই আমরা যেন নিজেদের আমল, চরিত্র ও আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

  • হামলার ধ্বংসাবশেষ থেকে আবুধাবিতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন

    হামলার ধ্বংসাবশেষ থেকে আবুধাবিতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন

    ইরান উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে আকাশ পথে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

    আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের একটি হামলা প্রতিহত করার পর, নিচে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন লেগেছে। এখন আগুন নেভানোর কাজ চলছে।

    আবুধাবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    গালফ এমিরেটেরস্ মিডিয়া অফিস জানায়, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে হামলা প্রতিহত করার পর, ভূমিতে পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে বোরুজ পেট্রোকেমিক্যালস কারখানায় একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ সে সব নেভাতে কাজ করছে।’

    মিডিয়া অফিস থেকে আরও জানানো হয়, ‘ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন নিরুপনে কারখানার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

    এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলার কথা জানায়েছিল।

  • ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আমিরাত

    ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করল আমিরাত

    মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসের শেষার্ধে অর্থাৎ আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার পবিত্র আরাফাত দিবস পালিত হতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ মে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

    এদিকে ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার প্রথা অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর ঈদ পালন করা হয়। সেই আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও সময়ের পার্থক্য বিবেচনা করলে, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৭ মে ঈদুল আজহা পালিত হয়, তবে বাংলাদেশে ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মিল রেখে সৌদি, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান—এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই একই তারিখে ঈদ উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, মুসলমানদের দ্বিতীয় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কুরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কুরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব। ইসলামে কুরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

  • সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

    সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

    পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করতে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সম্মেলন কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

    এতে আরও বলা হয়, এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

    বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭- এই ফোন নম্বরগুলোতে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।