Category: ধর্ম

  • ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য ও সুমধুর ঐতিহ্যের নাম হলো ‘আজান’

    ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য ও সুমধুর ঐতিহ্যের নাম হলো ‘আজান’

    অনলাইন ডেস্ক:   ইসলামি সংস্কৃতির অন্যতম এক অনন্য ও সুমধুর ঐতিহ্যের নাম হলো ‘আজান’। ‘আজান’ আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো-আহ্বান করা, ঘোষণা করা। আজান শুধু নামাজের সময় জানিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম, তা কিন্তু নয়; বরং মহান আল্লাহর একত্ববাদ ও শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য ঘোষণা। আজানের যে চিরন্তন ধ্বনি প্রতিদিন আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি বিলায়, তার সূচনার ইতিহাস যেমন চমৎকার, তেমনি তাৎপর্যপূর্ণ। তাইতো মহাকবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১ খ্রি.) তার বিখ্যাত ‘আজান’ কবিতায় আজানের সুমধুর ধ্বনি ও আধ্যাত্মিক মহিমাকে তুলে ধরে লিখেছেন-

    ‘হৃদয়ের তারে তারে, প্রাণের শোণিত-ধারে,

    কী যে এক ঢেউ উঠে ভক্তির তুফানে-

    কত সুধা আছে সেই মধুর আজানে!’

    আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রেক্ষাপটে আজানের এ পবিত্র প্রবর্তন হয়েছিল-

    মদিনায় মসজিদে নববী নির্মাণের পর হজরত রাসূল (সা.)-এর ইমামতিতে সাহাবিরা প্রতি ওয়াক্ত জামাতে নামাজ আদায় করতেন; কিন্তু সেসময় ঘড়ির প্রচলন না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দিল। রাসূল (সা.) এ সমস্যা সমাধানের জন্য সাহাবিদের নিয়ে পরামর্শ সভার আহ্বান করলেন। সভায় সাহাবিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব এলো। কেউ কেউ নামাজের সময় পতাকা ওড়ানো, উঁচু স্থানে আগুন জ্বালানো, ঘণ্টা বাজানো, শঙ্খ বাজানো ইত্যাদি প্রস্তাব করলেন। কিন্তু খ্রিষ্টানরা গির্জায় ঘণ্টা বাজায়, ইহুদিরা শঙ্খ বাজায় এবং অগ্নি উপাসকরা তাদের উপাসনালয়ে আগুন জ্বালিয়ে থাকে। এসব প্রস্তাব রাসূল (সা.)-এর মনঃপূত হলো না। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের সভা শেষ হলো। সেই সভায় বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ্ ইবনে জায়েদ (রা.) উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি এক আশ্চর্যজনক স্বপ্ন দেখেন, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-

    “সভা শেষে বাড়িতে গিয়ে আমি ভাবতে লাগলাম, নামাজের আহ্বানের জন্য কোন পদ্ধতিটি উত্তম হবে? এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। আমি স্বপ্নে দেখলাম-একজন সবুজ পোশাক পরিহিত আগন্তুকের হাতে একটি ঘণ্টা রয়েছে। আমি তাকে বললাম, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কি ঘণ্টাটি বিক্রি করবেন’ তিনি আমার কথার উত্তর না দিয়ে আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি এটা দিয়ে কী করবে’ আমি বললাম, ‘আমি তা বাজিয়ে মুসলমানদের নামাজের জন্য আহ্বান করব।’ তখন তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম ও কার্যকর পন্থা শিখিয়ে দেব?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!’ তিনি বললেন, ‘আমি যা যা বলছি, তুমি আমার সঙ্গে সঙ্গে তাই বল ও স্মরণ রাখ। প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্ত হলে এ কালামগুলো যথাসাধ্য উচ্চস্বরে উচ্চারণ করবে।’ অতঃপর তিনি এ কালামগুলো বলা শুরু করলেন এবং আমিও তার সঙ্গে সঙ্গে তা বলতে লাগলাম। আশ্চর্যের বিষয়, মাত্র একবার পাঠ করার পরই তা আমার মুখস্থ হয়ে যায়! সে কালামগুলো ছিল-

    আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ্ মহান! আল্লাহ্ মহান!) আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ্ মহান! আল্লাহ্ মহান!) আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই!) আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই!) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল!) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্! (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল!) হাইয়্যা আলাস সালাহ্! (নামাজের জন্য এসো!) হাইয়্যা আলাস সালাহ্ (নামাজের জন্য এসো!) হাইয়্যা আলাল ফালাহ্! (কল্যাণের জন্য এসো!) হাইয়্যা আলাল ফালাহ্! (কল্যাণের জন্য এসো!) আল্লাহু আকবার! আল্লাহু আকবার! (আল্লাহ্ মহান! আল্লাহ্ মহান!)

    লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্! (আল্লাহ্ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই!)

    অতঃপর আগন্তুক অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং আমারও ঘুম ভেঙে গেল। তখন ফজর নামাজের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আমি তৎক্ষণাৎ রাসূল (সা.)-এর কাছে ছুটে গেলাম এবং স্বপ্নে যা দেখেছি ও শুনেছি, তা সবই আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে জানালাম। কালামগুলো তখন আমার খুব ভালোভাবেই স্মরণ ছিল। রাসূল (সা.) বললেন, ‘নিশ্চয়ই এটি সত্য স্বপ্ন! তুমি এখনি বেলালের কাছে যাও এবং যা যা শুনেছ, তা তাকে শিখিয়ে দাও। সে উচ্চস্বরে এ কালামের মাধ্যমে নামাজিদের আহ্বান করুক। কেননা, তার গলার স্বর তোমার চেয়ে অনেক উঁচু।’ আমি হজরত বেলাল (রা.)-এর কাছে গিয়ে তা তাকে শিখিয়ে দিলাম। তিনি মসজিদে এসে উচ্চস্বরে আজান দিলেন।’ (আল-কাউসার প্রকাশনী কর্তৃক অনূদিত সিরাতে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা ইদ্রীস কান্ধলবী (রহ.), পৃষ্ঠা ২৯৭ ও ২৯৮)।

    হজরত উমর (রা.) সেসময় বাড়িতে ছিলেন। তিনি আজান শুনে জেগে উঠলেন এবং অতিদ্রুত তার চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে রাসূল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (সা.)! সেই পবিত্র সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী করে প্রেরণ করেছেন, নিশ্চয়ই আবদুল্লাহ্ ইবনে জায়েদকে যা দেখানো হয়েছে, আমিও ঠিক তাই স্বপ্নে দেখেছি ও শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই।’ (মক্কা শরিফ ও মদিনা শরিফের ইতিহাস, মওলানা রশিদ আহমদ, পৃষ্ঠা ১৩২।)

    এভাবেই প্রথম হিজরিতে ইসলামের ইতিহাসে আজানের প্রচলন শুরু হয়। সেদিন থেকেই রাসূল (সা.)-এর আদেশে হজরত বেলাল (রা.) মসজিদে নববীর স্থায়ী ‘মুয়াজ্জিন’ নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে হজরত বেলাল (রা.) একদিন ফজরের নামাজের আজান দেওয়ার সময় ‘হাইয়া আলাল ফালাহ!’-এরপর ‘আসসালাতু খায়রুম মিনান নাওম!’ অর্থাৎ ‘ঘুম থেকে নামাজ উত্তম!’ এ বাক্যটি যোগ করেন। রাসূল (সা.) হজরত বেলাল (রা.)-এর এ সংযোজনকে কবুল করে নেন। (ই. ফা. বা. কর্তৃক অনূদিত সুনানু ইবনে মাজাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ২৮৪, হাদিস নং ৭১৬; কালান্তর প্রকাশনী কর্তৃক অনূদিত সিরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা ২৯)।

    প্রকৃতপক্ষে, আজান হলো মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে উপস্থিত হওয়ার এক পবিত্র আমন্ত্রণ। মুয়াজ্জিন যখন আজানের সুরে সেই চিরন্তন আহ্বান জানান, তখন নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সেই ডাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই হলো একজন মুমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া আজানের শ্রেষ্ঠ জবাব। মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে নামাজের মাধ্যমে এ পবিত্র আহ্বানে সাড়া দেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। [নিবন্ধটি লেখক কর্তৃক লিখিত স্মৃতি মোবারক : হজরত মুহাম্মাদ (সা.) ও আহলে বাইতের জীবনী নামক গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।]

    লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

  • সুখবর এলে কোন দোয়া পড়বেন?

    সুখবর এলে কোন দোয়া পড়বেন?

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ভালো-মন্দ সব ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয় একজন মানুষকে। সবগুলোই আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পরীক্ষা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো দিক থেকে স্বস্তি রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, অবশ্যই প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অন্য দিকে স্বস্তি আছেই।’ (সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত : ৫-৬)

    আনন্দের মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা উচিত। রাসুল (সা.) আনন্দের কোনো কিছু দেখলে বলতেন-

     

    উচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাযি বিনিমাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত’।

    অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার নেয়ামতের মাধ্যমে ভালো কাজগুলো সম্পন্ন হয়।

    আর যখন কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন তখন বলতেন-

     

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহমদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল।’

    অর্থ : সব প্রশংসা সব অবস্থায় মহান আল্লাহর জন্য।

    আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) যখন কোনো পছন্দনীয় কিছু দেখতেন তিনি (উল্লিখিত প্রথম) দোয়াটি পড়তেন। আর যখন কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন তিনি (উল্লিখিত দ্বিতীয়) দোয়াটি পড়তেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর : ৩৮০৩)

  • যাদের মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হয়

    যাদের মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হয়

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মৃত্যুর সময় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত কেউ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসুল) এই সাক্ষ্য-বাক্য পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব আছে। পাপের মার্জনা ও ক্ষমা লাভে এর ভূমিকা অপরিসীম। কেননা মৃত্যুর সময় এই কালেমা তারই ভাগ্যে জোটে যে তাতে বিশ্বাস করে এবং তার মর্ম অনুধাবন করে। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি এই পবিত্র বাক্য পাঠ করে এবং তার মর্ম অনুধাবন করে তার প্রবৃত্তিগুলো মরে যায়, সংশয়পূর্ণ অন্তর নম্র হয়, অবাধ্যতার পর তা অনুগত হয়, প্রত্যাখ্যান করার পর স্বীকার করে, উদ্ধতার পর বিনয়ী হয়, দুনিয়া ও এর অনর্থক বিষয়ের মোহ অন্তর থেকে দূর হয়। কালেমায় বিশ্বাসীরা মহাবিশ্বের স্রষ্টা, মুনিব ও প্রতিপালকের সামনে সিজদাবনত হয়, তাকে সাক্ষী রেখে সত্যকে জীবনে ধারণ করে। বিনিময়ে তারা আল্লাহর দয়া, ক্ষমা ও অনুগ্রহ কামনা করে। সে শিরক ও বাতিলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে। তার অন্তরে যে দ্বিধা, দ্বন্দ্ব ও সংশয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংঘাত চলত তা দূর হয়ে যায়। সে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়। এর মাধ্যমে বান্দা পুরোপুরি আল্লাহমুখী হয়। তার চিন্তা, অন্তর ও আত্মাও আল্লাহমুখী হয়ে যায়। ফলে তার ভেতর ও বাহির উভয়ই আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে নেয়।

    তার ভেতর ও বাহিরের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। বান্দা যখন নিষ্ঠার সঙ্গে কালেমা পাঠ করে তখন অন্তরের নিষ্ঠার কারণে গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া বাকি সব) সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে সে গাইরুল্লাহর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। দুনিয়া তার অন্তর থেকে পুরোপুরি অন্তর থেকে বের হয়ে যায়, বরং বান্দার তার পার্থিব জীবনকে আল্লাহর পায়ে সমর্পণ করে। প্রবৃত্তিকে পুরোপুরি অবদমিত করে এবং অন্তর পূর্ণ করে পরকালের ভাবনায়। ফলে পরকালই হয় তার লক্ষ্য এবং দুনিয়াকে পেছনে ফেলে আখিরাত পানেই সে এগিয়ে যায়। তার পুরো জীবনের নির্যাস হয়ে কালেমা উচ্চারিত হয় তার মুখে। এই পবিত্র কালেমা তাকে পাপমুক্ত করে এবং তার প্রভুর সম্মুখে আনন্দময় অবস্থায় উপস্থিত করে। এটা সে লাভ করে, কেননা সে সত্য সাক্ষ্য নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়েছে।

    তার ভেতরটা বাহিরের, প্রকাশ্যটা অপ্রকাশ্যের অনুকূল। যদি সুস্থতার দিনগুলোতে এমন নিষ্ঠাপূর্ণ সাক্ষ্য মানুষের জীবনে পাওয়া যায়, সে দুনিয়া ও ঘরসংসারের মোহ ত্যাগ করে, মানুষকে ছেড়ে আল্লাহর দিকে ধাবিত হয় এবং তাকেই সব কিছুই বিপরীতে ভালোবাসে, তবেই মৃত্যুর সময় ব্যক্তির কালেমা নসিব হয়। কিন্তু বহু মানুষ এই কালেমা কেবল মুখেই উচ্চারণ করে। অথচ তাদের অন্তর কুপ্রবৃত্তি, পৃথিবী ও তার উপকরণের ভালোবাসায় পূর্ণ; তার মন ভরপুর থাকে গাইরুল্লাহ ও তা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। তার দায়িত্ব হলো দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করা যেভাবে মৃত্যুর সময় সে সব ছেড়ে যায়। তবেই সে পশুর জীবন থেকে মুক্তি পাবে। মুক্তির পথে চলতে পারবে।

  • মৃতদের জন্য সওয়াব পৌঁছানোর পদ্ধতি

    মৃতদের জন্য সওয়াব পৌঁছানোর পদ্ধতি

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ইসলামে দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের (দানের) তুলনা সেই বীজের মতো যা থেকে সাতটি শীষ জন্ম নিলে, প্রত্যেক শীষে একশত করে দানা এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছে করেন বর্ধিত হারে দিয়ে থাকেন।

    বস্তুত, আল্লাহ হচ্ছেন অতি দানশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬১) অপর আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যারা নিজের সম্পদ দিনে বা রাতে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার আছে। তাদের কোনো ভয় নেই। তাদের কোনো চিন্তাও নেই।’ (সুরা বাকারা: ২৭৪) অন্যদিকে, হাদিসে এসেছে- আদী ইবনু হাতিম (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি, তোমরা জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষা করো এক টুকরা খেজুর সদকা করে হলেও (সহিহ বুখারি, ১৩৩৪)। এমনকি পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে ব্যয় করাও সদকা হিসেবে গণ্য হয়। আবূ মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন- মানুষ তার পরিবারের জন্য সওয়াবের নিয়তে যখন খরচ করে, তখন তা হয় তার সদকা স্বরূপ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩) তবে কেউ মারা গেলে তার জন্য তিনটি রাস্তা ছাড়া আমলের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- যখন মানুষ মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। ১. সদকায়ে জারিয়া বা যে সৎকাজের কল্যাণ দীর্ঘস্থায়ী, ২. ইলম বা জ্ঞান যার দ্বারা অন্যের উপকার সাধিত হয় এবং ৩. নেককার সন্তান যে তার জন্য দোয় করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৭) এ ক্ষেত্রে মারা যাওয়ার পর বাবা-মায়ের নামে সন্তান সদকা করলেও তারা সেই সওয়াব পান।

    আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলো, আমার পিতা মারা গিয়েছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন। কিন্তু ওসিয়াত করেননি। তার পক্ষ থেকে সদকা করা হলে কি তার গুনাহ মাফ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (সহিহ মুসলিম, ৪০৭৩) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) কে বললো, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তার সম্পর্কে আমার বিশ্বাস এই যে, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সদকা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সদকা করি, তবে কি আমার এ কাজের কোনো বিনিময় (সাওয়াব) হবে? জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, হ্যাঁ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৭৪)

  • জীবনে বিয়ে কেন প্রয়োজন !

    জীবনে বিয়ে কেন প্রয়োজন !

    অনলাইন ডেস্ক:     মানবসভ্যতার ইতিহাসে বিবাহ এমন এক প্রতিষ্ঠান, যা যুগে যুগে মানুষের নৈতিকতা, সমাজব্যবস্থা ও আধ্যাত্মিক ভারসাম্যের কেন্দ্রে অবস্থান করেছে। ইসলাম এই সম্পর্ককে কেবল সামাজিক চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করেনি, বরং এটিকে মানুষের অস্তিত্ব, দায়িত্ববোধ ও শান্তিময় জীবনব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। কুরআন একে বর্ণনা করে “সাকিনাহ”, অর্থাৎ অন্তরের প্রশান্তি ও নিরাপত্তার আধার হিসেবে।

    পরম করুণাময় আল্লাহ বলেন, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদেরই জন্য সৃষ্টি করেছেন সহধর্মিণী, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে স্থাপন করেছেন মমতা ও দয়া। (সূরা রূম ২১)

    এই আয়াত শুধু একটি সম্পর্কের বর্ণনা নয়, এটি মানবজীবনের গভীর মনস্তত্ত্ব ও সৃষ্টির দর্শনকে ব্যাখ্যা করে। বিবাহ মানুষের বাস্তব জীবনকে যেমন স্থিতি দেয়, তেমনি আধ্যাত্মিক জীবনে প্রস্ফুটন আনে দয়া, মহব্বত ও নৈতিক সংযম।

    রাসুলুল্লাহ সা. বিবাহকে তার সুন্নত হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, বিবাহ আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত থেকে বিমুখ হলো, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারি, মুসলিম) এই বাণীতে নবীজির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট বিবাহ শুধু আকাঙ্ক্ষার বৈধতা নয়, এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠন, নৈতিক শুদ্ধতা ও সমাজিক ভারসাম্যের অপরিহার্য উপাদান।

    তার আরেকটি সুপরিচিত বাণী— হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে, কারণ বিবাহ চোখকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখে।(বুখারি) এখানে নবীজির নির্দেশনা মূলত মানুষের স্বভাব, সমাজ এবং নৈতিক নিরাপত্তার প্রতি গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত।

    ইসলামের চার ইমাম ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমদ রহ. সবাই একমত যে বিবাহ মানবসমাজের নৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করতে অপরিহার্য। ইমাম গাজ্জালি “ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন”-এ বিবাহকে আধ্যাত্মিক শুদ্ধির অনুশীলন হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে মানুষ দায়িত্ব, ধৈর্য, বিশ্বস্ততা ও আত্মসংযমের উৎকৃষ্ট শিক্ষা লাভ করে। কুরআন পরিবারকে “মিসাকান গালীয” অত্যন্ত দৃঢ় চুক্তি বলে অভিহিত করেছে। (সূরা নিসা ২১)

    এই শব্দবন্ধে পরিবারকে একটি পবিত্র আমানত, আর দাম্পত্যকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের দৃঢ়তম বিন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরিবারের ভিত্তি ভেঙে গেলে সমাজের ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে যায়।

    পরিবার কেবল দুই ব্যক্তির মিলন নয়, এটি আগামী প্রজন্মের চরিত্র ও মানবিকতার কারখানা।

    নবী করীম (সা.) বলেন, “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।”(বুখারি) এই বাণী পরিবারকে নৈতিক নেতৃত্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলাম বিবাহকে ব্যাখ্যা করে পরস্পরকে “আবরণ” “তোমরা একে অপরের জন্য আচ্ছাদন।”(সূরা বাকারা ১৮৭) এটি কেবল কাব্যিক উপমা নয়, বরং দাম্পত্য সম্পর্কের গভীরতম অর্থ একজন আরেকজনের দুর্বলতা ঢেকে রাখা, প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা এবং পরস্পরের মর্যাদাকে সম্মানে আবৃত করা।

    আজকের দ্রুতগতির পৃথিবীতে, যখন পরিবার ব্যবস্থার ওপর নানা চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তখন ইসলামের বিবাহ–দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নৈতিক সমাজ, জবাবদিহিমূলক নাগরিকতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন এবং মানসিক প্রশান্তি—সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছে পরিবার। আর সেই পরিবারের প্রথম ইট হচ্ছে বিবাহ, যা ইসলাম শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানবতার জন্য আশীর্বাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    বিবাহ তাই ইসলামি দৃষ্টিতে কেবল দাম্পত্য–অনুমতি নয়, এটি মানুষের স্বভাব, রুচি, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, ঈমান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পূর্ণাঙ্গ, পরিপূর্ণ ও করুণাময় প্রতিষ্ঠান। সমাজ যদি টিকে থাকতে চায়, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চাইলে—এই সুন্নত, এই পবিত্র বন্ধনকে সঠিক মর্যাদা দিতেই হবে।

    লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর

  • আল্লাহকে খুশি করুন, আপনার সুখের দরজা খুলে যাবে

    আল্লাহকে খুশি করুন, আপনার সুখের দরজা খুলে যাবে

    অনলাইন ডেস্ক:     মানুষের মন জোগানো কখনোই শেষ হয় না—আজ খুশি করলে কাল ভুলে যায়, আবার পরশু নতুন দাবি তোলে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কারও ওপর অবিচার করেন না। তার সন্তুষ্টির জন্য যে কাজ করে, তিনি তার অন্তরে এমন প্রশান্তি দান করেন, যা পৃথিবীর কোনো সম্পদ দিয়ে অর্জন করা যায় না। কুরআন-হাদিসের বর্ণনা থেকে তা সুস্পষ্ট—

    আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা হলো একজন মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য ও আত্মিক প্রশান্তির উৎস। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَ رِضۡوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكۡبَرُ ؕ

    ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি— এটাই সর্বোচ্চ মহত্ত্ব ও সফলতা।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৭২)

    ২. মানুষের সন্তুষ্টি লক্ষ্য না করে আল্লাহকে অনুসরণ

    মুমিনের কাজ হলো স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা, মানুষের নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    وَ اللّٰهُ وَ رَسُوۡلُهٗۤ اَحَقُّ اَنۡ یُّرۡضُوۡهُ اِنۡ كَانُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ

    ‘আর তারা যদি মুমিন হয়ে থাকে তবে কাউকে খুশি করতে চাইলে আল্লাহ ও তার রাসুলই এর সবচেয়ে বেশি হকদার।’ (সুরা আত-তাওবা: আয়াত ৬২)

    ৩. আল্লাহকে স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি

    মানুষের প্রশংসা ও সন্তুষ্টি ক্ষণস্থায়ী—কিন্তু আল্লাহর স্মরণ ও সন্তুষ্টি স্থায়ী সুখের দরজা খুলে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

    أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

    ‘নিশ্চয় আল্লাহকে স্মরণেই হৃদয়ের শান্তি।’ (সুরা আর-রাআদ: আয়াত ২৮)

    ৪. আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার মধ্যে সফলতা

    কার খুশির জন্য কাজ করবেন— আল্লাহর নাকি মানুষের, বিষয়টি সুস্পষ্ট করে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَاءَ النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ

    ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করে তা মানুষের অসন্তুষ্টি হলেও, মানুষের দুঃখ-কষ্ট থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ তাআলাই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি আশা করে আল্লাহ তাআলাকে অসন্তুষ্ট করে,  আল্লাহ তাআলা তাকে মানুষের দায়িত্বে ছেড়ে দেন।’ (তিরমিজি ২৪১৪)

    ৫. মানুষের মন রক্ষা করতে গিয়েও হারিয়ে যায় শান্তি

    মানুষকে খুশি করতে গেলে আল্লাহর প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত হতে হয়। মানুষকে খুশি করতে গিয়ে যদি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করি, তা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

    مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرْضَى عَنْهُ النَّاسَ وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَسْخَطَ عَلَيْهِ النَّاسَ

    ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নারাজ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, তার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন, আর মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে নারাজ করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, তার ওপর আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন।’ (ইবনে হিববান)

    ভাবুন— মানুষকে খুশি করতে গেলে খুব কষ্ট হয়, কারণ সবাইকে খুশি করা অসম্ভব। কিন্তু আল্লাহকে খুশি করা খুব সহজ—সৎ পথে চললে, নামাজ পড়লে, সত্য বললে আল্লাহ খুশি হন। আর আল্লাহ খুশি হলে আপনার মনটা ফুলের মতো হালকা ও শান্ত হয়ে যায়।

    মানুষের খুশি লাভের চেষ্টা জীবনকে ক্লান্ত ও ভারী করে দেয়। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে লক্ষ্য করলে হৃদয় হালকা হয়, আত্মা প্রশান্ত হয়, আর জীবন পায় প্রকৃত দিশা। আল্লাহ বলেন— তার সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ সফলতা। নবিজী (সা.) বলেন— যে আল্লাহকে খুশি রাখে, আল্লাহ তাকেই সম্মানিত করেন।