Category: ধর্ম

  • মসজিদের ফান্ডের টাকা ব্যয়ের সঠিক নিয়ম কি?

    মসজিদের ফান্ডের টাকা ব্যয়ের সঠিক নিয়ম কি?

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: দান-সদকা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর মধ্যে অন্যতম। কোরআন ও হাদিসে একাধিকবার দান-সদকার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিপদ থেকে উদ্ধারের মাধ্যম হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে দানকে। রাসুল (সা.) যেসব আমল সব থেকে বেশি করতেন তার একটি হলো দান। তিনি নিজে দান করতেন এবং সাহাবিদেরকেও দান করতে উৎসাহিত করতেন। দান-সদকার প্রতি উৎসাহিত করে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা নিজের সম্পদ দিনে বা রাতে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে তাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই। তাদের কোনো চিন্তাও নেই।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৪)

    আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান করো ভালো। আর যদি গোপনে দান করো এবং অভাবগ্রস্তকে দাও তা তোমাদের জন্য অধিক ভালো। (সুরা আল বাকারা, আয়াত : ২৭১)

    আমাদের সমাজের মানুষ যেসব কাজে দান করে তার অন্যতম একটি খাত হলো মসজিদ। মসজিদের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে দান করেন সাধারণ মুসলিমরা। মসজিদের জন্য দান করা এসব টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদেরা বলেছেন, মসজিদের জন্য দান করা টাকা শুধু মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে। অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না। মসজিদের সংস্কারমূলক কাজ ছাড়াও মসজিদের দান করা টাকার আরও উল্লেখযোগ্য বৈধ খাতগুলো হলো- ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, মসজিদের খাদেম ও হিসাবরক্ষকের বেতন-ভাতা প্রভৃতি। এর বাইরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ বা গরিব দুঃখীর সহায়তার জন্য মসজিদের জন্য দান করা টাকা ব্যয় করা যাবে না। কারণ, দানের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা হলো, যে কোনো দান দাতার ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যয় করতে হয়। তাই যে টাকা মানুষ মসজিদের জন্য দিয়েছে তা মসজিদের কাজেই খরচ করতে হবে। মসজিদের জন্য দানকৃত অর্থ মসজিদ ছাড়া দরিদ্র্য ও অসহায় মানুষদের দান করাসহ অন্য জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে না। কারণ এ রকম নির্দিষ্ট ফান্ডে কৃত দান ফান্ড কর্তৃপক্ষের কাছে দাতার আমানত। দাতার ইচ্ছার বাইরে তা খরচ করলে আমানতের দাবি যথাযথভাবে পালিত হয় না। যে সব মসজিদের দানবক্সে প্রচুর টাকা জমা হয়, মসজিদের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত হয়ে যায়, ওই সব মসজিদ কর্তৃপক্ষ চাইলে মসজিদের দানবক্সের পাশাপাশি বন্যার্ত বা দরিদ্র্য মানুষের সাহায্যের জন্যও একটি দানবক্স রাখতে পারেন যাতে স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে যে এই অর্থ অসহায়-দরিদ্রদের জন্য খরচ করা হবে। মসজিদ নির্মাণ, সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, নামাজী ও ইতেকাফকারীদের সুযোগ-সুবিধার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা ও আবাসনের ব্যবস্থা, মসজিদে মুসল্লিদের দীনি ইলম চর্চার জন্য পাঠাগার, দীন শেখার ব্যবস্থাপনা, শিশুদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থাপনাসহ মসজিদের সব কাজে ব্যয় করার পরও যদি কোনো মসজিদের অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে, তা ভবিষ্যতে মসজিদের সম্ভাব্য নির্মাণ-সম্প্রসারণ ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।

  • হজযাত্রীদের জন্য বিশ্বের প্রথম ‘কুলিং ইহরাম’ আনল সৌদি

    হজযাত্রীদের জন্য বিশ্বের প্রথম ‘কুলিং ইহরাম’ আনল সৌদি

    অনলাইন ডেস্ক:      তীব্র গরমে হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় হাজিদের শরীরের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ এক ইহরাম বা বিশেষায়িত পোশাক নিয়ে এসেছে সৌদি আরব। প্যাটেন্ট করা অত্যাধুনিক কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই ইহরাম। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

    বিশ্বের প্রথম এই কুলিং ইহরাম ত্বকের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। এতে রয়েছে ইউপিএফ ৫০+ রোদ সুরক্ষা এবং দ্রুত শুকানোর (র‌্যাপিড-ড্রাই) প্রযুক্তি। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য ‘দ্য কুলেস্ট ইহরাম’ নামে এই বৈপ্লবিক প্রযুক্তিনির্ভর পোশাক উন্মোচন করেছে।

    ব্র্যান্ডিং প্রতিষ্ঠান ‘ল্যান্ডর’ এবং কুলিং ফেব্রিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘বিআরআর’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই উদ্ভাবনী পোশাকটি ইসলামি তীর্থযাত্রার পোশাকে প্রথম বড় কোনো প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তি ও কার্যকারিতা বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ইহরামে প্যাটেন্ট করা বিশেষ কুলিং মিনারেল, অ্যাক্টিভ উইকিং এবং দ্রুত শুকানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি এমন একটি ব্যক্তিগত শীতল অনুভূতি তৈরি করে, যা পরিবেশভেদে ব্যবহারকারীর ত্বকের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। নারী ও পুরুষ, উভয় হজযাত্রীর জন্য ইহরামের শরিয়াহসম্মত সকল নিয়ম মেনেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

    পাশাপাশি এতে রয়েছে ইউপিএফ ৫০+ সূর্যরশ্মি সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা তীব্র রোদ থেকে হাজিদের ত্বককে রক্ষা করবে। আগামী বছরের জুন মাসে সৌদি এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের জন্য এই ইহরাম সহজলভ্য হবে। এর বিতরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • তেল-লোশন মেখে অজু করলে কি তা কবুল হবে?

    তেল-লোশন মেখে অজু করলে কি তা কবুল হবে?

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রশ্ন: শরীরে তেল, লোশন, ক্রিম বা গ্লিসারিন ব্যবহার করলে কি অজু বা ফরজ গোসল শুদ্ধ হয়? অর্থাৎ আমি যদি অজুর অঙ্গগুলোতে তেল, লোশন লাগিয়ে তারপর অজু করি অথবা শরীরের যে কোনো অংশে তেল, লোশন বা গ্লিসারিন লাগানোর পর ফরজ গোসল করি, তেল-লোশন দূর না করেই শরীরে পানি গড়িয়ে দেই, তাহলে আমার অজু-গোসল শুদ্ধ হবে কি না? নাকি সাবান দিয়ে ধুয়ে তেল-লোশন দূর করতে হবে।

    উত্তর: অজুতে নির্দিষ্ট অঙ্গগুলো এবং ফরজ গোসলে পুরো শরীর পানি দিয়ে ভেজানো/ ধোয়া ফরজ। যদি অজুর অঙ্গে বা শরীরে এমন কিছু লেগে থাকে যা চামড়ার ওপর আলাদা আবরণ তৈরি করে এবং চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা দেয়, তাহলে অজু বা গোসল শুদ্ধ হবে না। সাধারণত তেল, লোশন বা গ্লিসারিন চামড়ার সঙ্গে মিশে যায় এবং চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি করে না। তাই অজু বা গোসলের সময় সংশ্লিষ্ট অঙ্গগুলো পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট, সাবান দিয়ে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

    কোনো তেল বা লোশন যদি চামড়ার ওপর আলাদা আবরণ তৈরি করে, চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছতে বাধা দেয়, তাহলে ওই আবরণ দূর করে চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে হবে। অজুর সময় অজুর অঙ্গগুলো এবং গোসলের সময় পুরো শরীর সচেতনতার সঙ্গে ভালোভাবে ধোয়া জরুরি যেন কোনো অংশ শুকনো থেকে না যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, এক সফরে রাসুল (সা.) আমাদের পেছনে রয়ে গিয়েছিলেন। আমরা আসরের নামাজ শুরু করতে দেরি করে ফেলেছিলাম। তিনি যখন আমাদের কাছে পৌঁছলেন, আমরা অজু করছিলাম এবং তাড়াহুড়ার কারণে আমাদের পা মাসেহ করার মত হালকাভাবে ধুয়ে নিচ্ছিলাম। তখন রাসুল (সা.) উচ্চৈস্বরে বললেন, ‘পায়ের গোড়ালির জন্য জাহান্নামের শস্তি রয়েছে।’ দুবার অথবা তিনবার তিনি এ কথা বললেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    অর্থাৎ তিনি তাদেরকে সাবধান করেছেন তারা যেন অজুর অঙ্গগুলো সচেতনতার সঙ্গে ভালোভাবে ধুয়ে নেন, তাহাহুড়োর কারণে কোনো অংশ শুকনো না রেখে দেন। অজু-গোসলের সময় কিছু অংশ শুকনো থেকে গেলে অজু-গোসল হবে না। এ অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজও হবে না। অজু-গোসল করার পর কোনো অঙ্গের কিছু অংশ শুকনো মনে হলে তা ধুয়ে নিতে হবে। ওমর (রা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি অজু করে এলে দেখা গেলো তার পায়ের এক নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো রয়ে গেছে। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ফিরে গিয়ে সুন্দরভাবে আবার অজু করুন। ওই ব্যক্তি ফিরে গিয়ে আবার অজু করে তারপর নামাজ আদায় করলো। (সহিহ মুসলিম)

  • সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?

    সামুদের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থানে প্রবেশে কেন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল?

    অনলাইন ডেস্ক:     সৌদি আরব সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আল-উলার নিকটবর্তী একটি প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক স্থানকে বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কাছে নিজেদের আরও উন্মুক্ত করা এবং তেলের বাইরে অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করা। হেগরা বা আল-হিজর নামে পরিচিত এই রহস্যময় প্রাচীন স্থানটি বিশাল পাহাড় ও অপূর্ব সৌন্দর্যের কাঠামো দিয়ে ভরপুর। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নির্মাণশৈলী অটুট অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্বের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, পাহাড় কেটে যেভাবে এসব নির্মাণ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাজ ছিল না, কারণ আজকের যুগে এমন কাজ করতে আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী যন্ত্রপাতি লাগে।

    মাদায়েনে সালেহ বা সামুদ আবাসভূমি

    ইসলামে এই স্থানটি মাদায়েন সালেহ নামে পরিচিত, অর্থাৎ নবী সালেহ (আ.)-এর জাতি সামুদের আবাসস্থল। তারা ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ। আজও তাদের সেই নিদর্শনগুলো দৃশ্যমান। বলা হয়, এই এলাকা একসময় অত্যন্ত উর্বর ও সবুজ ছিল। প্রতি বছর পর্যাপ্ত শস্য ও ফসল উৎপন্ন হতো। কিন্তু এই প্রাচুর্য সামুদের ধনীদের মধ্যে অহংকার ও নিষ্ঠুরতা সৃষ্টি করে। তারা গরিবদের অত্যাচার ও হত্যা করতে শুরু করে।

    নবী সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত

    তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ নবী সালেহ (আ.)-কে পাঠান। তিনি তাদেরকে আল্লাহর পথে ডাকেন। কুরআনে এভাবে উল্লেখ রয়েছে, স্মরণ করো, তিনি তোমাদেরকে আদ জাতির পর উত্তরসূরি করেছেন এবং তোমাদেরকে ভূপৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তোমরা সমতলভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ কর এবং পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করো। সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং পৃথিবীতে অপকর্ম ছড়িয়ে বেড়িও না। (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৭৪)

    কিন্তু সালেহ (আ.)-এর দাওয়াত গ্রহণ না করে তারা তার সামনে একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল। তারা বলল, পাত্থর থেকে একটি উটনী বের করে দেখাও, যদি সত্যিই আপনি নবী হন। সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আল্লাহর কুদরতিতে পাহাড় ফেটে একটি উটনী বের হয়ে এলো। উটনীটি পরে একটি বাচ্চার জন্মও দেয়। সালেহ (আ.) তাদের নির্দেশ দেন, এই উটনীকে সম্মান করতে এবং কষ্ট না দিতে। তাদের মধ্যে কিছু লোক ঈমান আনল, কিন্তু বেশিরভাগই ঈমান আনল না। শেষ পর্যন্ত তাদের দুইজন সেই নিরপরাধ উটনীকে হত্যা করে। এর পরিণতিতে আল্লাহ তাদের ওপর কঠিন শাস্তি পাঠান। গভীর রাতে ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে নেয়, এবং পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ আর জেগে ওঠেনি। (সুরা আল-আরাফ আয়াত ৭৮)

    আল্লাহ বলেন, তাদেরকে ভূমিকম্প আঘাত করল, ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকল। হাদিসের ভাষায় এ জায়গাটার নাম আল-হিজর। কোরআনের ভাষায় এ এলাকার নাম মাদায়েনে সালেহ। রসুল সা. স্বাভাবিকভাবে এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছিলেন। বুখারি শরিফের হাদিস থেকে জানা যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরবাসীগণ সম্পর্কে সাহাবায়ে কিরামদের বললেন, তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতিরেকে এ জাতির এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি তোমাদের ক্রন্দন না আসে, তবে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশই করবে না। হয়ত, তাদের ওপর যা ঘটেছিল তা তোমাদের ওপরও ঘটতে পারে। (বুখারি ৪৭০২)

    আল্লাহ রব্বুল আলামিন শক্তিধর সামদ জাতির পাথরে তৈরি করা বাড়ি ঘর বিশ্ব মানুষের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেনো মানুষ এসব দেখে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকে। এজন্যই রসুল সা. এসব এলাকায় যেতে নিষেধ করেছেন। যদি আল্লাহর নাফরমানি কতটা ভয়ংকর এটা জানে, আল্লাহর শাস্তির ভয়ে অন্তর ভীত হয়, কান্না আসে তাহলেই যেতে বলেছেন তিনি। অথচ সৌদি আরব রাজ্যের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করতে একটি বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে ঐতিহাসিক এই শহরকে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে জীবন্ত যাদুঘরে।

  • নারীর দিকে বাজে দৃষ্টি দেওয়া কি জেনা?

    নারীর দিকে বাজে দৃষ্টি দেওয়া কি জেনা?

    অনলাইন ডেস্ক:     ইসলামে জেনা বা ব্যভিচার মারাত্মক গুনাহ। ইসলামি শরিয়াহ মতে, মানুষের চারটি অঙ্গের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলেই বাস্তবে অনেক গুনাহ ও ব্যভিচারের মতো পাপ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা খুবই সহজ। আর তাতে ঈমানি শক্তিও বৃদ্ধি পাবে। তন্মধ্যে চোখ ও দৃষ্টিশক্তি একটি।

    হাদিসে পাকে প্রিয় নবী (সা.) সব সময় উম্মতে মুসলিমাহকে চোখের হক আদায় করার কথা বলতেন। চলাফেরা, ওঠাবসায় চোখ ও দৃষ্টিশক্তি সংযত করার কথা বলতেন। কারণ মানুষের জন্য চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা রক্ষা করা লজ্জাস্থানকে রক্ষা করার শামিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-

    غُضُّوْا أَبْصَارَكُمْ، وَاحْفَظُوْا فُرُوْجَكُمْ

    ‘তোমরা তোমাদের চোখকে নিচু করে রাখ এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত কর।’ (মুসনাদে আহমাদ ৫/৩২৩, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/৩৫৮-৩৫৯, ইবনে হিব্বান ২৭১, বায়হাকি ৬/২৮৮)

    হঠাৎ ঘটনাক্রমে কোনো হারাম বস্তুর উপর চোখ পড়ে গেলে তা তড়িঘড়ি ফিরিয়ে নিতে হবে। চোখ বা দৃষ্টি সরাতে দেরি করা যাবে না। এমনকি দ্বিতীয়বার কিংবা একদৃষ্টে ওদিকে তাকিয়ে থাকাও যাবে না। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার হজরত আলিকে (রা.) উদ্দেশ করে বলেন-

    يَا عَلِيُّ! لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ، فَإِنَّ لَكَ الْأُوْلَى، وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ

    ‘হে আলি! বার বার দৃষ্টিক্ষেপণ করো না। কারণ হঠাৎ দৃষ্টিতে তোমার কোনো দোষ নেই। তবে ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয় দৃষ্টি অবশ্যই দোষের।’ (আবু দাউদ ২১৪৯, তিরমিজি ২৭৭৭, মুসনাদে আহমাদ ৫/৩৫১-৩৫৩-৩৫৭, মুসতাদরাকে হাকেম ২/১৯৪, বায়হাকি ৭/৯)

    রাসুলুল্লাহ (সা.) অসংযত (হারাম) দৃষ্টিকে চোখের জেনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমনিভাবে কোনো ব্যক্তির হাত, পা, মুখ, কান, মনও ব্যভিচার করে থাকে। তবে এসবের মধ্যে মারাত্মক হচ্ছে লজ্জাস্থানের ব্যভিচার। যাকে বাস্তবেই ব্যভিচার বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন-

    إِنَّ اللهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا، أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ، فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ، وَزِنَا اللِّسَانِ الْـمَنْطِقُ، وَالْيَدَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْـمَشْيُ، وَالْفَمُ يَزْنِيْ فَزِنَاهُ الْقُبَلُ، وَالْأُذُنُ زِنَاهَا الِاسْتِمَاعُ، وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِيْ، وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ وَيُكَذِّبُهُ.

    ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্য জেনার কিছু অংশ বরাদ্দ করে রেখেছেন। যা সে অবশ্যই করবে। (যেমন)- চোখের জেনা হচ্ছে অবৈধভাবে কারোর দিকে দৃষ্টি দেওয়া। মুখের জেনা হচ্ছে অশ্লীল কথোপকথন করা। হাতও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে হাত দিয়ে ধরা। পা-ও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে কোনো ব্যভিচারের ঘটনায় জড়িত হতে কোথাও পায়ে হেঁটে যাওয়া। মুখও ব্যভিচার করে, তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে চুমু দেওয়া। কানের ব্যভিচার হচ্ছে অশ্লীল কথা শোনা। মনও ব্যভিচারের কামনা-বাসনা করে। আর তখনই লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়ন করে থাকে।’ (আবু দাউদ ২১৫২, ২১৫৩, ২১৫৪)

    মনে রাখা জরুরি

    দৃষ্টিশক্তির কুফল হচ্ছে- আফসোস, ঊর্ধ্বশ্বাস ও অন্তরজ্বালা। কারণ, মানুষ যা চায় তার সবটুকু সে কখনোই পায় না। আর তখনই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

    তাছাড়া চোখ বা দৃষ্টিশক্তিই সব অঘটনের মূল। কারণ, চোখ কোনো কিছু দেখার পরই তা মনে জাগে। মনে জাগলে তার প্রতি চিন্তা আসে। চিন্তা আসলে অন্তরে তাকে পাওয়ার কামনা-বাসনা জন্মে। কামনা-বাসনা জন্মানোর ফলেই তাকে খুব কাছে পাওয়ার ইচ্ছে হয়। দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে প্রতিজ্ঞার রূপ ধারণ করে। এ ধারাবাহিক কাজগুলোর মধ্যে যদি কোনো ধরনের বাধা না থাকে, তখনই কোনো কর্ম সংঘটিত হয়।

    মানুষের দৃষ্টি যদি খারাপ হয় তবে তা সব সীমাকেই অতিক্রম করে ফেলে। কারণ দৃষ্টি হচ্ছে তীরের মতো। যা মানুষের অন্তরকে নাড়া দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। দৃষ্টির এ আঘাতের ফলেই মানুষের ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। একবার দৃষ্টি খারাপ হয়ে গেলে তা থেকে ফিরে আসা খুবই কঠিন।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ব্যভিচারের মতো মারাত্মক অপরাধ থেকে বাঁচতে প্রথমেই নিজেদের চোখ ও দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ করা। যেমনটি হাদিসে এসেছে, চোখের অবাধ দৃষ্টি একে অপরকে জান্নাতে পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, আর দৃষ্টি সংযত রাখা ইসলামের পরিপূর্ণতা এবং সততার লক্ষণ।

  • সন্তানকে কোরআন শেখাচ্ছেন? গুরুত্ব দিন এই বিষয়গুলোর উপর

    সন্তানকে কোরআন শেখাচ্ছেন? গুরুত্ব দিন এই বিষয়গুলোর উপর

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: কোরআন মানুষকে সঠিক পথে দিশা প্রদান করে এবং আল্লাহকে এক ইলাহ হিসেবে মানার নির্দেশনা প্রদান করে। যারা কোরআন হিফজ করেন এবং নিজের মাঝে ধারণ করেন তারা এই শিক্ষা রপ্ত করতে পারেন। কোরআনের হাফেজরা বর্তমান সময়ের শিরক, নাস্তিকতা ও ধর্ম বিমুখ জীবনযাপন থেকে মুক্ত থেকে ধর্মীয় অনুশাসনে নিজেকে পরিচালনা করতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা করেন কোরআনের অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ। তবে শুধু কোরআন হিফজ ও মুখস্তই জীবনে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিফলন এবং নাস্তিকতার ফাঁদ থেকে বাঁচার নিশ্চয়তা দিতে পারে না বলে মনে করেন রাবেতাতুল উলামা আল-মুসলিমিনের (রাবেতা আলেমদের সংগঠন) মহাসচিব ড. মুহাম্মদ আবদুল করিম। তিনি বলেছেন,মুখস্থ করে কোরআন শেখার পাশাপাশি প্রয়োজন এর গভীর অর্থ ও বার্তা বোঝার চেষ্টা করা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা তওরাতের বাহক ইহুদিদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘যাদের কাছে তওরাত ছিল, কিন্তু তারা তা ধারণ করেনি, তাদের উদাহরণ গাধার মতো, যে পিঠে বই বহন করে।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত : ৫)। অর্থাৎ তারা তওরাত মুখস্থ করেছিল, লিখেছিলও, কিন্তু বুঝে জীবন চালায়নি। এ থেকেই স্পষ্ট-শুধু মুখস্থ করলেই মুক্তি পাওয়া যায় না। ড. করিম বলেন, নবীজির সাহাবারা ছিলেন কোরআনের প্রকৃত অনুসারী। তারা দশটি আয়াত মুখস্থ করতেন, তা বুঝে নিতেন, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতেন, তারপর পরবর্তী আয়াতের দিকে অগ্রসর হতেন। এই পদ্ধতিই ছিল সঠিক এবং পরিপূর্ণ শিক্ষা-পদ্ধতি।

    কোরআন বোঝার প্রকৃত উপায়

    তিনি বলেন, কোরআন বোঝার প্রকৃত উপায় শুধু মুখস্থ নয়, বরং জীবনের সঙ্গে কোরআনকে মিশিয়ে নেওয়া। নবীজি (সা.)-এর যুগে কোরআনের আয়াতগুলো জীবনের ঘটনাবলির সঙ্গে মিলিয়ে অবতীর্ণ হতো, যা মানুষকে দৃঢ় ও অটল রাখত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, অবিশ্বাসীরা বলে, কেন কোরআন একসঙ্গে অবতীর্ণ হলো না?’ আল্লাহ বলেন, ‘এভাবেই অবতীর্ণ করেছি, যেন এর মাধ্যমে তোমার হৃদয় দৃঢ় হয় এবং তা সম্পূর্ণ রূপে আস্তে আস্তে আত্মস্থ করতে পার।।’ (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ৩২)। অর্থাৎ জীবনের বাস্তবতায় কোরআনের বার্তা উপলব্ধিই সঠিকভাবে কোরআন বুঝার উপায়।

    অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান

    ড. করিম বলেন, সন্তানকে শুধু কোরআন মুখস্থ না করিয়ে বরং তাদের তাদাব্বুর বা কোরআনের ভাবনা-গবেষণায় যুক্ত করা উচিত অভিভাবকদের। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন পাঠচক্র বা ভিডিও ক্লাস আছে, যা শিশুদের মনে কোরআনের গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, পিতা-মাতার আগ্রহ সন্তানকে কোরআনের পথে রাখে। শুরুতে তা কিছুটা কঠিন মনে হলেও এর ফল কখনো বৃথা যায় না। তবে এখন সময় এসেছে মুখস্থ থেকে বোঝাপড়ায় উত্তরণের।