Category: ধর্ম

  • ইসলাম শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে

    ইসলাম শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: সমাজের সম্মানিত মানুষদের মধ্যে শিক্ষকরা অন্যতম। কেননা শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড দণ্ডায়মান রাখার কাজটি শিক্ষকরাই করে থাকেন। তাঁরা আমাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। আমাদের জীবন আলোকিত করেন। তাঁদের একেক ফোঁটা ঘাম আমাদের চলার পথের আলোকবর্তিকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তাঁরা নিজেকে জ্বালিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করেন। ইসলাম তাঁদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শেখো। এবং তাঁকে সম্মান করো, যাঁর থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন করো।’ (আল-মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৬১৮৪)।

    শিক্ষকতার পেশা সম্মানিত হওয়ার আরেকটি কারণ রাসুল (সা.) নিজেই ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৯)। আবার সমাজ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিলে, তা নিশ্চয়ই সমাজে বিপর্যয় ডেকে আনে। বিস্কুট বানানোর ছাঁচে ত্রুটি থাকলে যেমন তা দিয়ে তৈরি করা বিস্কুটগুলো ত্রুটিযুক্ত হবে। তেমন কোনো শিক্ষক নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে ফেললে তার প্রভাব তার ছাত্রদের মধ্যে পড়বে। তাদের মধ্যেও অনৈতিকতার চর্চা হবে স্বাভাবিক বিষয়।

  • আখেরি মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ হলো জোড় ইজতেমা

    আখেরি মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ হলো জোড় ইজতেমা

    অনলাইন ডেস্ক:     তুরাগতীরে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী পুরানাদের জোড় ইজতেমা আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ হলো। দোয়ায় অংশ নেন প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মুসল্লি।

    গাজীপুরসহ আশপাশের জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢলে মঙ্গলবার সকালে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ইজতেমা ময়দান।

    এদিন সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে দোয়া শুরু হয়ে ৯টা ১৩ মিনিটে শেষ হয়। ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে কম্পিত হতে থাকে সমগ্র টঙ্গী ময়দান। দোয়ার মুহূর্তে মাঠজুড়ে কান্নার রোল পড়ে।

    মোনাজাত পরিচালনা করেন পাকিস্তানের মাওলানা আহমেদ বাটলা।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, “এবারের জোড়ে ২৭টি দেশ থেকে ৭৩২ জন বিদেশি মেহমান অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী দেশসমূহ হলো- পাকিস্তান, ভারত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, কানাডা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, তিউনিসিয়া, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নাইজার, আফগানিস্তান, জার্মানি, জাপান, চাঁদ, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, মিশর, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।”

    উল্লেখ্য, এবারের ইজতেমা চলাকালে মোট ৬ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক সূত্র।

  • নোনা পানি আল্লাহর কুদরতে যেভাবে মিষ্টি হয়

    নোনা পানি আল্লাহর কুদরতে যেভাবে মিষ্টি হয়

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মহান আল্লাহ সাগরে পানি জমা রেখেছেন। আর সেই সাগরের পানিকে লবণাক্ত বানিয়েছেন। এজন্য যে যদি এ পানি মিষ্টি বানাতেন, তাহলে কিছুদিন পর এই পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যেত। প্রতিদিন লাখ লাখ প্রাণী তাতে মারা যায়, তা সত্ত্বেও পানিতে কোনো পরিবর্তন আসে না। স্বাদ পরিবর্তন হয় না। তাতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় না। তা নষ্টও হয় না। যদি বলা হতো, যখন পানির প্রয়োজন হবে তখন সমুদ্র থেকে পানি আনতে হবে। তাহলে তা মানুষের জন্য কত কষ্টকর হতো! এজন্য যে প্রথমত, সবার জন্য সমুদ্রে যাওয়া অসম্ভব ছিল। দ্বিতীয়ত, পানির লবণাক্ততার কারণে তা পান করা ছিল দুষ্কর। তাই আল্লাহ তাআলা এ ব্যবস্থা করেছেন যে সমুদ্র থেকে মনসুনের মেঘ আকাশে তুলে নেন। মেঘের মাধ্যমে যখন সমুদ্র থেকে লবণাক্ত পানি আকাশে ওঠে তখন পানির লবণাক্ততা নিচে থেকে যায় এবং শুধু মিঠা পানি ওপরে উঠে যায়। এরপর আল্লাহ তাআলা সেই পানি পরিমাণমতো পাহাড়ে বর্ষণ করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণমতো, অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ১৮)। পানি পান করার কিছু নিয়ম-নীতি রয়েছে, যা রক্ষা করে পান করলে পানি পান করাও হবে আবার সুন্নতের ওপর আমল করার সওয়াবও পাওয়া যাবে-

    পানি পানের শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে আলহামদুলিল্লাহ

    পানিজাতীয় দ্রব্য পান করার শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে আলহামদু লিল্লাহ বলা সুন্নত। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা এক চুমুকে উটের মতো পানি পান কোরো না, বরং দুই থেকে তিনবারে (শ্বাস নিয়ে) পান করো। তোমরা যখন পান করবে আল্লাহ তাআলার নাম নেবে তথা বিসমিল্লাহ বলবে এবং যখন পান শেষ করবে তখন আল্লাহর প্রশংসা করবে তথা আলহামদুলিল্লাহ বলবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৮৫)। তিন শ্বাসে পানি ইত্যাদি পান করা সুন্নত ও মুস্তাহাব। দুই বা চার শ্বাসে পান করাও জায়েজ। এক শ্বাসে সব পানি পান করে নেওয়া অনুত্তম। নবীজি (সা.) তা অপছন্দ করেছেন। মানুষ যখন প্রথম এক ঢোক পানি পান করে, এরপর নিঃশ্বাস নেয় তখন তার দেহে এক ধরনের অক্সিজেন প্রবেশ করে। এরপর তিনবার যখন সে এ কাজ করে তখন তার মস্তিষ্কে ও রক্তের শিরা-উপশিরা যথেষ্ট অক্সিজেন লাভ করে, ফুসফুস আরাম পায়, খাদ্য ও শ্বাসনালি নিজেদের সেরা পারফরম করে, পাকস্থলী ধীরে ধীরে সে পানিগুলো রিসিভ করে। কোনো কিছু পান করার সময় নিঃশ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হলে পাত্র থেকে মুখ সরিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া উচিত। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং তাতে ফুঁ দিতে বারণ করেছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৮৮)। অনেক বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করা উচিত নয়। জগ ইত্যাদি বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করা মাকরুহ। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মশকের মুখ খুলে তাতে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৬২৫)। পানি বসে ও ডান হাতে পান করা মুস্তাহাব। দাঁড়িয়ে ও বাঁ হাতে পান করা মাকরুহ। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭১৭)। তবে কোনো জায়গায় বসে পান করার ব্যবস্থা না থাকলে দাঁড়িয়ে পান করা মাকরুহ হবে না। দাঁড়িয়ে পান করার সময় পানি পানের গতি বেড়ে যায়। তাই খাদ্যনালিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে না। এর ফলে হৃদেরাগ বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

    একাধিক ব্যক্তিকে পান করানোর সুন্নত পদ্ধতি

    কয়েকজন মানুষকে পানীয় পান করানোর ক্ষেত্রে সুন্নত তরিকা হলো, প্রথমে নিজের ডান পাশের জনকে দেবে। তারপর তার পাশের জনকে দেবে, এভাবে দিতে থাকবে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মুখে পানি মেশানো দুধ পেশ করা হলো। তাঁর ডান পাশে ছিল এক বেদুইন ও বাঁ পাশে ছিলেন আবু বকর (রা.)। নবীজি (সা.) দুধ পান করলেন। তারপর বেদুইন লোকটিকে তা দিয়ে বললেন, ডানের লোকের অধিকার আগে। এরপর তার ডানের লোকের। (বুখারি, হাদিস : ৫৬১৯)

    জমজমের পানি কিভাবে পান করতে হবে?

    জমজমের পানি পান করা সুন্নত। কোনো কোনো আলেমের মতে, জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা মুস্তাহাব। (তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ : ৪৩)

    আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.)-কে জমজমের পানি পরিবেশন করলাম। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় তা পান করলেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৪২২)

    আবার কারো কারো মতে, অন্যান্য পানির মতো জমজমের পানিও বসে পান করা মুস্তাহাব। রাসুল (সা.)-এর দাঁড়িয়ে পান করার কারণ হলো, জমজম কূপের চারপাশে কাদা ও মানুষের ভিড় ছিল। আর সেখানে বসারও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মুফতি শফি (রহ.)-এর তাহকিক এটাই যে জমজমের পানিও অন্যান্য পানির মতো বসে পান করাই উত্তম। (ইসলাহী খুতুবাত : ৫/১৯২)

  • নিঃস্বার্থে খাবার খাওয়ানো ইবাদত

    নিঃস্বার্থে খাবার খাওয়ানো ইবাদত

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ইসলাম চিরসুন্দর ধর্ম। ভালোবাসার ধর্ম। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামের বিকল্প নেই। মানবজীবনের প্রতিটি বিষয়ে ইসলামের দিকনির্দেশনা রয়েছে। যদি কেউ এই নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠন করে, তাহলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বে শান্তি ফিরে আসবে। আজকে আমরা আলোচনা করব ইসলামের ছোট্ট একটি নির্দেশনা নিয়ে, যা আমাদের কাছে অনেক হালকা মনে হলেও এর ওজন অনেক। রাসুল (সা.) এই কাজটি ইসলামের অন্যতম উত্তম কাজ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

    আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বলেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম দেবে। (বুখারি, হাদিস : ১২)

    মানুষকে খাওয়ানো, অনাহারির আহারের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর একটি। এ কারণেই ইসলাম ধর্মে মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করাকে উত্তম ইসলাম বলা হয়েছে। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাদের সুনাম করেছেন, তাদের জন্য উত্তম প্রতিদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

    মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে এমন পানপাত্র থেকে, যার মিশ্রণ হবে কাফুর। এমন এক ঝরনা, যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করবে, তারা এটিকে যথা ইচ্ছে প্রবাহিত করবে। তারা মানত পূর্ণ করে এবং সে দিনকে ভয় করে, যার অকল্যাণ হবে সুবিস্তৃত। তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, এতিম ও বন্দিকে খাদ্য দান করে। তারা বলে, ‘আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কোনো শোকরও না। আমরা আমাদের রবের পক্ষ থেকে এক ভয়ংকর ভীতিপ্রদ দিবসের ভয় করি। সুতরাং সেই দিবসের অকল্যাণ থেকে আল্লাহ তাদের রক্ষা করলেন এবং তাদের প্রদান করলেন উজ্জ্বলতা ও উৎফুল্লতা।’ (সুরা : দাহর, আয়াত : ৫-১১)

    উপরোক্ত আয়াতে মহান আল্লাহ মানুষকে খাওয়ানোর নীতিমালা বাতলে দিয়েছেন। সেগুলো হলোÑ মানুষকে খাওয়াতে হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, এর বিনিময়ে কখনো তাদের কাছে কোনো প্রতিদানের আশা করা যাবে না এবং এই আশাও করা যাবে না যে তারা আমার গুণগান গাইবে। মানুষকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ তাকওয়া থাকতে হবে। আল্লাহভীতি থাকতে হবে। তবেই আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করবেন। কিন্তু আমরা যদি মানুষকে সামান্য কিছু খাইয়ে খোঁটা দেওয়া আরম্ভ করি, তাদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করি বা এটি ব্যবহার করে বিদেশি অর্থ বা কোনো সুযোগ-সুবিধার আশা করি, তাহলে বুঝতে হবে, এই ইবাদতকে শয়তান বানচাল করে দিতে সক্ষম হয়েছে। তাই সব সময় মানুষকে খাওয়ানোর পাশাপাশি এই বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকতে হবে।

    অনেকে মনে করতে পারে, আমার সামর্থ্য নেই, আমি কোত্থেকে খাওয়াব? আমি নিজেই তো অভাবে আছি। তাদের উদ্দেশে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অথবা খাদ্য দান করা দুর্ভিক্ষের দিনে। এতিম আত্মীয়-স্বজনকে। অথবা ধূলি-মলিন মিসকিনকে। অতঃপর সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যারা ইমান এনেছে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্যধারণের, আর পরস্পরকে উপদেশ দেয় দয়া-অনুগ্রহের। তারাই সৌভাগ্যবান।’ (সুরা : বালাদ, আয়াত : ১৪-১৮)

    তাই আমাদের উচিত, সক্ষমতা ও সামর্থ্য নিয়ে হীনম্মন্যতায় না ভুগে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা। হয়তো এর অছিলায় আল্লাহ আমাদের সামর্থ্য বাড়িয়ে দিতে পারেন। তা ছাড়া উপার্জনের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি নিয়ম করে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা যায়, এর উপকারিতা খুব দ্রুতই টের পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে উপার্জনে বরকত হয়।

    রাসুল (সা.) মদিনায় গমন করে সর্বপ্রথম যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, তার মধ্যে একটি ছিল মানুষকে খাওয়ানো!

    আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় এসে পৌঁছলেন, মানুষ তখন দলে দলে তাঁর নিকট দৌড়ে গেল। বলাবলি হতে লাগল যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এসেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এসেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এসেছেন। অতএব, তাঁকে দেখার জন্য আমিও লোকদের সঙ্গে উপস্থিত হলাম। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখে বুঝতে পারলাম যে এই চেহারা কোনো মিথ্যুকের চেহারা নয়। তখন তিনি সর্বপ্রথম যে কথা বললেন তা এই : হে মানুষ! তোমরা সালামের প্রসার ঘটাও, খাদ্য দান করো এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামাজ আদায় করো। তাহলে নিশ্চয়ই তোমরা সহিহসালামতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৮৫)

    অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের মধ্যে উত্তম মানুষ তারা, যারা মানুষকে খাবার খাওয়ায়। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২৩৯৭১)

  • ইসলামে দাড়ি রাখার বিধান

    ইসলামে দাড়ি রাখার বিধান

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: দাড়ি, গোঁফ পুরুষের প্রাকৃতিক চিহ্ন। পরিণত বয়সে পুরুষের চেহারায় দাড়ি গোঁফ উঠতে দেখা যায়। সময়ে সময়ে তা বাড়তে থাকে। অনেকেই দাড়ি-গোঁফ কেটে ফেলেন। কেউ কেউ রেখে দেন। ধর্মীয় বিধানে রাখার এবং গোঁফ ছোট করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর রাসূল সা. -এর দাড়ি, গোঁফ ছিল, না কেটে রেখেন এবং কীভাবে তা রাখা যেতে পারে এ বিষয়ে উম্মতকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন হাদিসে তার নির্দেশনা বর্ণিত হয়েছে। হানাফী আলেমদের মতে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব।

    অপরদিকে সৌদি আরব ও অন্যান্য হাম্বলী ফকীহদের মতে, দাড়ি রাখা ফরজ। আর তা কাটা অর্থাৎ মুণ্ডন করা হারাম। তবে গোঁফ ছোট রাখতে হয়। ইমাম নববীর মতে, গোঁফ ছোটো করে রাখা সুন্নাত। অপর একদল ফকীহ বলেছেন, এটা ওয়াজিব। হজরত ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত কাজ কর, দাড়ি লম্বা কর, আর গোঁফ ছোট কর। (বুখারি, হাদিস : ৫৮৯২, মুসলিম, হাদিস : ২৫৯) নবীজি সা. আরও বলেছেন, তোমরা গোঁফ কেটে রাখ, দাড়ি ছেড়ে দাও। আর অগ্নি উপাসকরা যা কিছু করে তার বিপক্ষে থাক। (মুসলিম, হাদিস : ২৬০) ইবনে আব্বাস রা. আরেক হাদিসে বলেছেন, নবি সা. তাঁর মোচ কেটে বা খাটো করে নিতেন এবং (তাঁর পূর্ববর্তী জামানার আরেকজন নবী) ইবরাহীম খলীলুল্লাহও একই কাজ করতেন (তিরমিজি) জাবের ইবনে সামুরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাড়িতে প্রচুর চুল ছিল (মুসলিম)। অপর এক হাদিসে আলী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর দাড়ি ছিল খুব ঘন (আহমাদ)।  ইসলামি ফিকাহবিদদের সর্বসম্মতিক্রমে দাড়ি বলা হয়— দুই চোয়ালের দাঁতবিশিষ্ট হাড়ের ওপর গজানো পশম এবং কান ও চোখের মধ্যবর্তী স্থানে গজানো সারিবদ্ধ পশমকে।

    কোনো কোনো ইসলামি আইনবিদের মতে, ঠোঁটের নিচের অংশে গজানো পশম ও নাকের উভয় দিক সংলগ্ন গালের ওপর গজানো ও থুতনির নিচের নরম অংশে গজানো পশমও দাড়ির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এসব পশম কাটা বা উপড়ানো অনুচিত। (রাদ্দুল মুহতার : ১/১০০, ৫/৩৭৩, হিন্দিয়া : ৫/৩৫৮)

  • মুমিন ও মুনাফিকের স্বভাবে যেসব পার্থক্য

    মুমিন ও মুনাফিকের স্বভাবে যেসব পার্থক্য

    অনলাইন ডেস্ক:    সত্যবাদিতা মুমিনের গুন, মিথ্যা মুনাফিকের স্বভাব। মিথ্যা মানুষকে লাঞ্চিত ও অপমানিত করে। একটি মিথ্যার কারণে জীবনের সমস্ত অর্জন ম্লান হয়ে যেতে পারে।মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ, মহাপাপ এবং কবিরা গুনাহ। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে কোন না কোন মিথ্যার ভূমিকা থাকে। অন্যায় কাজে সর্বদা মিথ্যার আশ্রয় পাওয়া যায়। এক মিথ্যা গোপন করতে  হাজারো মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়।

    সভ্য জাতির বৈশিষ্ট্য কখনো মিথ্যা হতে পারে না। মিথ্যা কেবল মুনাফিকদের জন্যই শোভা পায়। মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্যই হলো— সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য। মুমিন সত্য কথা বলে, আর মুনাফিক মিথ্যাকে জীবনের অংশ বানিয়ে নেয়।

    মুমিন আল্লাহর প্রিয় বান্দা। সর্বদা আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলার চেষ্টা করে। মিথ্যা থেকে দূরে থাকে। মিথ্যাকে ঘৃণা করে। মিথ্যা কর্মকাণ্ড অপছন্দ করে। সদা সত্য কথা বলে।হে মুমিনগণ! আল্লহকে ভয় কর এবং সত্য সঠিক কথা বল। (আল-আহযাব-৭০)

    মিথ্যা একটি জঘন্য অপরাধ। তাই মিথ্যাবাদী ব্যক্তি আল্লাহর রহমত ও দয়া থেকে বঞ্চিত থাকে। মিথ্যুক সীমালঙ্ঘনকারী, আর আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যুককে হেদায়াত দান করেন না।আল্লাহ কোন সীমালঙ্ঘনকারী, মিথ্যুককে হেদায়াত দান করেন না। (আল-মুমিন-২৮)

    সত্যবাদিতা মুমিনের পাথেয়, নেক আমল তার সম্পদ, আর জান্নাত তার গন্তব্য। অন্যদিকে, অসত্য হলো পাপাচার, আত্মিক কলুষতা এবং জাহান্নামের কারণ।আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: নবী (সা.) বলেছেন, সত্য নেকির দিকে পরিচালিত করে আর নেকি জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর কায়েম থেকে অবশেষে ‘সিদ্দীক’ এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহ্‌র কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৯৪)

    মিথ্যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত

    এবং মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাক, (আল-হাজ্জ্ব-৩০)

    মুমিন মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না

    এবং (রহমানের বান্দা তারা) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়না। (আল-ফুরকান-৭২)আজকের সমাজে এক ভয়াবহ প্রবণতা দেখা দিয়েছে যে, কোনো খবর যাচাই না করেই প্রচার করে দেওয়া। এটি মিথ্যার এক নতুন রূপ, যা বিভ্রান্তি ছড়ায় ও সম্পর্ক নষ্ট করে।আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম(সা.) বলেছেন, কোন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে কোন কথা শোনামাত্রই (যাচাই না করে) বলে বেড়ায়। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯২)রসিকতার ছলেও মিথ্যা বলা ইসলাম অনুমোদন করে না। যারা হাস্যরসের অজুহাতে অসত্য বলে, তারা নিজের অজান্তেই গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়।

    বাহয ইবনে হাকিম (রহ.) থেকে বর্ণিত, আমার পিতা তার পিতার সূত্রে আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) বলতে শুনেছি, মানুষকে হাসানোর জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯০)

    মিথ্যা মুনাফিকের স্বভাব

    আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।

    ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে;

    ২. কথা বললে মিথ্যা বলে;

    ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং

    ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪)

    অতএব মিথ্যা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

    আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গে থাক। (আত-তাওবাহ্- ১১৯)

    সত্যবাদিতার পুরস্কার জান্নাত

    আল্লাহ বলেন, সেই দিন, যে দিন সত্যবাদীদেরকে তাদের সত্যতা উপকৃত করবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন সব উদ্যান, যার তলদেশে নহর প্রবহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহা সাফল্য।(আল-মায়িদাহ-১১৯)

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মিথ্যা কথাবার্তা ও কাজকর্ম পরিহার করার তাওফিক দিন। আমিন।