Category: ধর্ম

  • কুরআনে সফল মুমিনের যেসব গুণাবলি বলা হয়েছে

    কুরআনে সফল মুমিনের যেসব গুণাবলি বলা হয়েছে

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: পবিত্র কুরআনের সুরা মুমিনুনের শুরুতে আল্লাহতায়ালা সফল মুমিনদের কয়েকটি গুণের কথা বর্ণনা করেছেন।

    ১. একাগ্রচিত্তে নামাজ আদায় করা

    সফল মুমিনের প্রথম গুণ হলো, তারা একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করে। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর সামনে নিজেদেরকে বিনয়ের সঙ্গে উপস্থাপন করে।

    ওমর বিন খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, এমনভাবে ইবাদত–বন্দেগি করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে নাও দেখ, তাহলে বিশ্বাস রাখবে যে, তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন। (মুসলিম, হাদিস: ০১)

    ২. অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা

    মুমিনের দ্বিতীয় গুণ হলো তারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে। অপ্রয়োজনীয় বিষয় থেকে দূরে থাকা তাদের উন্নত চরিত্রের পরিচায়ক।

    আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক আচরণ ত্যাগ করা। (তিরমিজি, হাদিস: ২৩১৭)

    ৩. জাকাত আদায় করা 

    সফল মুমিনরা তাদের সম্পদের জাকাত সঠিকভাবে আদায় করে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সম্পদকে পবিত্র করে এবং দরিদ্রদের অধিকার নিশ্চিত করে।

    আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি বিদায় হজের অবস্থায় রাসুলকে (সা.) ভাষণ দিতে শুনেছি, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্তের (ফরজ) নামাজ পড়, তোমাদের রমজান মাসের রোজা রাখ, তোমাদের মালের জাকাত আদায় কর এবং তোমাদের নেতা ও শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য কর (যদি তাদের আদেশ শরিয়ত বিরোধী না হয়), তাহলে তোমরা তোমাদের প্রভুর জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি, হাদিস: ৬১৬)

    ৪. লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করা

    মুমিনরা তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। এর অর্থ হলো, তারা যৌন চাহিদা পূরণের জন্য কোনো অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে না। অবৈধ পন্থার মধ্যে সমকামিতা, ব্যভিচার, হস্তমৈথুন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।

    সাহাল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্‌বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দিবে, আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার। (বুখারি, হাদিস: ৬৪৭৪)

    দুনিয়াতে যত ফেতনা-ফাসাদ ও অপকর্ম ঘটে, তার অধিকাংশই জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের কারণে হয়। যে ব্যক্তি এই দুটি অঙ্গকে সংযত রাখবে, রাসুল (সা.) তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তবে বৈধ পন্থায়, অর্থাৎ বিবাহের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে কোনো বাধা নেই। তাই আমাদের উচিত সময়মতো বিবাহ করা। যারা এর বাইরে অন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, তারা সীমালঙ্ঘনকারী এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

    ৫. আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা

    সফল মুমিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো, তারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।

    হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) খুব কমই এমন খুতবা দিয়েছেন, যেখানে এ কথা বলেননি যে, ‘যার আমানতদারী নেই, তার ঈমানও নেই এবং যার ওয়াদা-অঙ্গীকারের মূল্য নেই, তার দীনও নেই।’ (মিশকাতুল মসাবিহ)

    ৬. নামাজের প্রতি যত্নবান 

    নামাজের হেফাযত বা যত্ন নেওয়া মুমিনের একটি বিশেষ গুণ।

    হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) একদিন নামাজ সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন, যে ব্যক্তি নামাজের হেফাযত করবে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের হেফাযত করবে না, তার জন্য এটা জ্যোতি, প্রমাণ বা মুক্তির কারণ হবে না। কিয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই ইবনে খালাফের সঙ্গে থাকবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৬৫৭৬)

    সর্বোচ্চ প্রতিদান

    আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা এসব গুণাবলির অধিকারী হবে, তারা সবচেয়ে উত্তম জান্নাত, জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দা হয়ে সফলতার পরিচয় দেবে।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এসব গুণাবলি অর্জন করে জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নবী (সা.) কেন সপ্তাহে দুইদিন রোজা রাখতেন?

    নবী (সা.) কেন সপ্তাহে দুইদিন রোজা রাখতেন?

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ইবাদত-বন্দেগী ইসলামি জীবনের মূল ভিত্তি। একজন মুমিনের জীবন ইবাদতের ছায়ায় পরিপূর্ণ থাকে, নামাজ, রোজা, জাকাত, হজসহ নানা উপায়ে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে। তবে ইবাদতের ক্ষেত্র কেবল ফরয বা বাধ্যতামূলক আমলে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলাম নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদতের দ্বারও উন্মুক্ত রেখেছে, যাতে বান্দা সর্বদা রবের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। এই নফল ইবাদতসমূহের মধ্যে রয়েছে এমন অনেক আমল, বান্দাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে, হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং গোনাহ মোচনের কারণ হয়। এর মধ্যেই সোমবার ও বৃহস্পতিবারের নফল রোজা একটি বিশেষ আমল, যা নবী করিম সা. নিজে নিয়মিত পালন করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামকেও উৎসাহ দিতেন। এই রোজা কেবল শারীরিক ত্যাগ নয়; এটি আত্মিক পরিশুদ্ধির এক মহৎ মাধ্যম। এসব দিনে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, আর নবীজি সা. চেয়েছেন যেন তার আমল পেশ হয় রোযাদার অবস্থায়। তাছাড়া সোমবারের দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এই দিনেই তার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে, ফলে এই দিনটি ইসলামি ইতিহাসে একটি মহিমান্বিত দিন হিসেবে চিহ্নিত। এই আলোচনায় সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজার ফজিলত, নবীজির আমল এবং এর আত্মিক তাৎপর্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে আমাদের হৃদয়ে এই নফল আমলের প্রতি আগ্রহ জাগে এবং আমরা এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সচেষ্ট হতে পারি।

    ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে মূলত দুটি প্রকার রয়েছে

    ১. অবশ্যপালনীয় (ফরজ) ইবাদত,

    ২. ঐচ্ছিক (নফল) ইবাদত।

    বলার অপেক্ষা রাখে না, ফরজ ইবাদতের মর্যাদা ও গুরুত্ব নফল ইবাদতের চেয়ে অসীমভাবে বেশি। রসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে ফরয ইবাদতের মাধ্যমে। তবে নফল বা ঐচ্ছিক ইবাদতের ফযীলতও অপরিসীম। এগুলো মুমিনের অন্তরে আল্লাহর নৈকট্যের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে এবং আমলের প্রতি উৎসাহিত করে। এমন অনেক নফল ইবাদতের মধ্যে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ।

    রসুলুল্লাহ সা. নিজে নিয়মিত এসব দিনে রোযা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে এর ফযীলত বর্ণনা করতেন। এ দুই দিনের রোযার অন্যতম বড় ফযীলত হলো-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এ দুই দিনে রোযা রাখেন কেন? নবীজি সা. উত্তরে বললেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহ তাআলা সব মুসলমানকে ক্ষমা করেন, তবে দু’জন ব্যতীত, যারা পরস্পর সম্পর্কচ্ছেদ করেছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তারা একে অপরের সঙ্গে মিলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি তাদের ছেড়ে দিই। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৪০)

    উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। (জামে তিরমিজি: ৭৪৫)

    আরেক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবারে আমলসমূহ আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমি চাই, আমার আমল যেন পেশ করা হয়, যখন আমি রোযাদার থাকি। জামে তিরমিজি: ৭৪৭)

    সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। যদিও আমলের জন্য প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও কিছু দিন রয়েছে যা অতিরিক্ত কল্যাণ ও বরকতের অধিকারী।

    সোমবারের বিশেষ গুরুত্ব

    সোমবার এমন একটি দিন, যা ইসলামের ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন মানবতার শ্রেষ্ঠ নেতা, বিশ্বজগতের রহমত, সায়্যিদুল মুরসালীন মুহাম্মাদ সা.। এই দিনেই তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয় এবং তিনি নবুয়তের মর্যাদায় ভূষিত হন। হজরত আবু কাতাদা আনসারী রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা.-কে সোমবারের রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এই দিনেই আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে। (মুসলিম: ১১৬২) সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা এমন এক নফল আমল, যা নবীজির সুন্নত, গোনাহ মাফের মাধ্যম এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উত্তম পথ।

  • চাশতের নামাজের যেসব পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি

    চাশতের নামাজের যেসব পুরস্কার ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি

    অনলাইন ডেস্ক:     চাশতের নামাজ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; যা সূর্যোদয়ের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পড়া যায়। সূর্যোদয়ের অন্তত ১৫-২০ মিনিট পর এশরাকের নামাজের সময় শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় চাশতের নামাজের সময়; যা জোহরের নামাজের আগপর্যন্ত পড়া যায়। জোহরের নামাজের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাশতের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়। চাশতের নামাজ ২ রাকাত থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত নামাজ পড়া যায়। তবে ৪ রাকাতই বেশি প্রচলিত।

    বিশ্বনবির ঘোষণায় চাশতের নামাজের পুরস্কার

    ১. চাশতের নামাজের এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যা এ নামাজের ফজিলত এবং তার পরিমাণ অনুযায়ী উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণা-

    عَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا صَلَّيْتَ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْنَ الصُّبْحِ وَالظُّهْرِ كُتِبْتَ مِنَ الْغَافِلِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ أَرْبَعًا فَأَنتَ مِنَ الصَّالِحِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ سِتًّا فَأَنتَ مِنَ الْمُتَّقِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ ثَمَانِيَ فَأَنتَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ وَإِذَا صَلَّيْتَ عَشَرًا فَفِي ذِمَّةِ اللَّهِ وَإِذَا صَلَّيْتَ اثْنَيْ عَشَرَ بُنِيَ لَكَ فِي الْجَنَّةِ بَيْتٌ

    হযরত আবুজর গিফারী (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যদি তুমি চাশতের নামাজ ২ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে গাফেলদের মধ্যে গণ্য করা হবে না। যদি ৪ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে নেককারদের মধ্যে গণ্য করা হবে। যদি তুমি ৬ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে আনুগত্যকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদি তুমি ৮ রাকাত পড়, তাহলে তোমাকে সফলকাম ব্যক্তিদের তালিকায় লেখা হবে। যদি ১০ রাকাত পড়, তাহলে সেদিন তোমার আমলনামায় কোনো গুনাহ লেখা হবে না। আর যদি ১২ রাকাত পড়, তাহলে জান্নাতে তোমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।’ (সুনানুল কুবরা বাইহাকি ৪৯০৬)

    ২. عَنْ أَبِيْ مُوْسَى رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الضُّحَى أَرْبَعًا وَقَبْلَ الأُوْلَى أَرْبَعًا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ

    হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি চাশতের চার রাকাত নামাজ আদায় করে এবং জোহরের পূর্বে চার রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয়’ (সিলসিলা ছহীহাহ হা/৭৪৫)।

    ৩. عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَن صَلَّى فِي يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِيهَا تَطَوُّعٌ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ، وَلَوْ كَانَتْ كَأَمْوَاجِ الْبَحْرِ»

    হযরত আনস (রা.) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি দিনে ১২ রাকআত নফল নামাজ (চাশতের নামাজসহ) পড়বে, আল্লাহ তার সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতোই হোক।’ (আবু দাউদ ১৩৫১, তিরমিজি ৪২১, মুসলিম ৭৩১) এছাড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘চাশতের নামাজ দুই রাকাত পড়লে সারা দিনের নামাজের মতো কল্যাণ রয়েছে।’ (বুখারি)।

    এভাবে চাশতের নামাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত নামাজ, যা খুব সহজেই আদায় করা যায় এবং এর মাধ্যমে একজন মুসলিম সারা দিনের জন্য বরকত ও সুরক্ষা অর্জন করতে পারে এবং নবীজি (সা.)-এর ঘোষিত ফজিলত অর্জন করতে পারে।

  • সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

    সব ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া

    অনলাইন ডেস্ক:     বদনজর, জাদু, শয়তানের কুপ্রভাব ও কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সকাল ও সন্ধ্যায় তিন কুল অর্থাৎ সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পাঠ করুন। সুরা ইখলাসে আল্লাহর পরিচয়, একত্ব ও ক্ষমতা বর্ণনা করা হয়েছে। সুরা ফালাক ও সুরা নাসে জাদুর ক্ষতি, হিংসা ও বদনজরের ক্ষতি, শয়তানের ওয়াসওয়াসাসহ সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ তাআলা তার আশ্রয় প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, সকালে ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পড়ুন, এ আমল প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে। (সুনানে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ)

    সুরা ইখলাস

    قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ – اللَّهُ الصَّمَدُ – لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ – وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

    উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস-সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।

    অর্থ: বলো, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি, কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। তার সমতুল্য কেউ নেই।

    সুরা ফালাক

    قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ – مِن شَرِّ مَا خَلَقَ – وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ – وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ – وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

    উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক্ব; মিন শাররি মা খালাক্ব; ওয়া মিন শাররি গাসিক্বিন ইজা ওয়াক্বাব; ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফাছাতি ফিল উক্বাদ; ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইজা হাসাদ।

    অর্থ: বলো আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে; তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে, আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

    সুরা নাস

    قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ – مَلِكِ النَّاسِ – إِلَهِ النَّاسِ – مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ – الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ – مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ

    উচ্চারণ: কুল আউজু বিরাব্বিন নাস; মালিকিন্ নাস; ইলাহিন্ নাস। মিন্ শররিল ওয়াস্ওয়াসিল খান্নাস; আল্লাজি ইউওয়াসয়িসু ফি ছুদুরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।

    অর্থ: বলো, আমি আশ্রয় চাই মানুষের রবের কাছে, মানুষের অধিপতির কাছে, মানুষের মাবুদের কাছে। তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে; জিন হোক বা মানুষ হোক।

  • সুদি কারবারির সঙ্গে অন্য কোনো বৈধ ব্যবসা করা যাবে কি?

    সুদি কারবারির সঙ্গে অন্য কোনো বৈধ ব্যবসা করা যাবে কি?

    অনলাইন ডেস্ক:    বাণিজ্য মানব সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন সম্পর্ক। এটি কেবল অর্থনৈতিক বিনিময় নয়, বরং নৈতিকতা, বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের এক সেতুবন্ধন। ইসলামে বাণিজ্যকে শুধু অনুমোদিতই করা হয়নি, বরং তা উৎসাহিত করা হয়েছে শর্ত একটাই, লেনদেন হতে হবে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ ও হারাম থেকে মুক্ত।

    কিন্তু প্রশ্নটি যখন এমন হয় ‘একজন সুদি কারবারির সঙ্গে বৈধ কোনো ব্যবসা করা যাবে কি?’ তখন বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় নীতিশাস্ত্রেরও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি একেবারে পরিষ্কার। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, আর সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৫)

    অর্থাৎ, বাণিজ্য বৈধ, কিন্তু সুদভিত্তিক লেনদেন (রিবা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই কোনো মুসলমান এমন ব্যবসায় অংশ নিতে পারে না, যেখানে সুদ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। তবে বাস্তব জীবনের প্রশ্নটি একটু সূক্ষ্ম। ধরুন, কেউ একজন এমন ব্যবসায়ী, যিনি ব্যাংক বা আর্থিক খাতে সুদভিত্তিক লেনদেনে যুক্ত, কিন্তু পাশাপাশি খাদ্য, নির্মাণ, পোশাক বা প্রযুক্তির মতো বৈধ ব্যবসাও করেন। তাহলে কি মুসলমান হিসেবে তার সেই বৈধ ব্যবসায় অংশ নেওয়া, পণ্য বিক্রি করা বা ক্রয় করা নিষিদ্ধ হবে?

    শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদন ও সীমারেখা  

    ফিকহশাস্ত্রের আলোকে এর উত্তর একক নয়, বরং প্রসঙ্গনির্ভর। ইসলামী বিধান বলে যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা হারামের ওপর নির্ভর করে, যেমন সুদ, মদ, জুয়া বা প্রতারণা, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনোভাবে সহযোগিতা করা জায়েজ নয়।

    কিন্তু যদি তার মূল ব্যবসা বৈধ হয়, আর সুদভিত্তিক অংশ গৌণ বা আনুষঙ্গিক হয়, তাহলে লেনদেনের বিষয়টি ‘শর্তসাপেক্ষে বৈধ’ হতে পারে।

    ইমাম ইবনে বাজ রহ. এই বিষয়ে বলেছেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কিছু কাজ হারাম হয়, কিন্তু তার সঙ্গে তোমার লেনদেন কেবল বৈধ বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তোমার সেই লেনদেন হারাম নয়।’ (মাজমু ফাতাওয়া ইবনে বাজ, খণ্ড ১৯)

    একই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন শায়খ সালিহ আল-ফাওযান। তার মতে, ‘একজন মুসলমান বৈধ বিষয়ে কোনো সুদি ব্যবসায়ীর সঙ্গে লেনদেন করতে পারেন, তবে তিনি যেন হারাম লেনদেনে সহযোগী না হন।’

    অন্যদিকে, হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাবের বিশিষ্ট ইমামরা আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, এমন যেকোনো সম্পর্ক, যা হারাম কার্যক্রমকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করে বা শক্তি জোগায়, তা থেকেও বিরত থাকা উচিত।

    কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না। (সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ২)

    অর্থাৎ, তুমি যদি জানো যে তোমার অর্থ, শ্রম বা লেনদেনের মাধ্যমে সুদের কারবারকে শক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাহলে সেই সম্পর্ক শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

    আজকের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এ প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে ব্যাংক, ঋণ বা সুদভিত্তিক আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত।

    এই বাস্তবতায় ইসলামী ফিকহ ‘দরুরা’ বা অপরিহার্যতার নীতি প্রবর্তন করেছে। এর মর্মার্থ হলো যেখানে হারাম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা বাস্তবভাবে অসম্ভব, সেখানে মুসলমান যতটুকু সম্ভব সতর্ক থাকবে এবং নিজের লেনদেনকে হারাম অংশ থেকে আলাদা রাখবে।

    ইসলামিক ফিকহ একাডেমি (OIC Fiqh Academy) ২০০৬ সালের এক ঘোষণায় বলেছে, ‘যদি কোনো মুসলিম এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করে যা আংশিকভাবে সুদভিত্তিক, তবে সে নিজ অংশে রিবার কোনো অংশ রাখতে পারবে না, এবং চুক্তি হতে হবে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ।’

    এই ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট হয় সুদি কারবারির সঙ্গে বৈধ ব্যবসা করা সরাসরি হারাম নয়, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। লেনদেনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য হালাল হতে হবে, চুক্তি হতে হবে ন্যায়সংগত, এবং কোনোভাবেই সেই ব্যবসার মাধ্যমে সুদভিত্তিক কার্যক্রমকে সহায়তা করা যাবে না।

    ইসলামী অর্থনীতি কেবল মুনাফা অর্জনের শিক্ষা দেয় না, এটি নৈতিকতার দিকেও আহ্বান জানায়। শরীয়তের বাণিজ্যনীতি মূলত ‘ন্যায্যতার’ নীতিতে দাঁড়িয়ে যেখানে প্রতিটি লেনদেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। তাই একজন প্রকৃত মুসলমানের জন্য ব্যবসা মানে কেবল লাভ নয়, বরং সততা ও দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি রক্ষা।

    এই বাস্তবতায় বলা যায়, সুদি কারবারির সঙ্গে বৈধ ব্যবসা করা ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে মূলত নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা করতে হলে সচেতনতা, সতর্কতা এবং ঈমানদারিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক।

    কারণ ইসলাম যে সমাজ গড়তে চায়, সেটি কেবল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নয়, বরং নৈতিকভাবে বিশুদ্ধও।

    লেখক: শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো, মিশর

  • ঘরে কুকুর থাকলে কি আমল নষ্ট হবে?

    ঘরে কুকুর থাকলে কি আমল নষ্ট হবে?

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : পবিত্র কুরআন বলছে : ‘পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮) সে হিসেবে বলা যায়, কুকুর আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। জৈনক ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, তিনি তার ঘরে কুকুর রাখেন তবে কি তার আমল নষ্ট হবে?

    শায়খ মুহাম্মদ আল-মুখতার আশ-শিনকিতি বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু পাহারা ও শিকারের কাজেই কুকুর পালার অনুমতি আছে। সুতরাং আপনি যদি এ উদ্দেশ্যেই কুকুর পালেন, তবে এতে আপনার আমল নষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    কুরআনে আল্লাহ আসহাবে কাহাফের কুকুরের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ১৮)

    অর্থাৎ আসহাবে কাহাফের কুকুর তাদের পাহারা দিচ্ছিল, যাতে কেউ তাদের নির্জন অবস্থানে বিরক্ত না করে।

    হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাহারা বা শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালে, তবে প্রতিদিন তার আমল থেকে দুই কিরাত পরিমান সওয়াব কমতে থাকবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

    সুতরাং, পাহারা ও শিকারের প্রয়োজন ছাড়া কুকুর পালা উচিত হবে না।

    আরও কয়েকটি ফতোয়া দেখুন

    শিকারের উদ্দেশ্যে, ফসল হেফাজতের উদ্দেশ্যে, পাহারাদারির জন্য, ছাগল-ভেড়া ইত্যাদির হেফাজতের লক্ষ্যে, ঘরবাড়ি, দোকান ও অফিস পাহারার জন্য, অপরাধের উৎস সন্ধান ও অপরাধীকে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে কুকুর লালন-পালন করা বৈধ। (ফতোয়াতে মাহমুদিয়া : খ. ১৮, পৃ. ২৬৪/ ফতোয়ায়ে আলমগিরি : খ. ৪, পৃ. ২৪২)

    শখ করে ঘরে কুকুর রাখা, মানুষের চেয়ে কুকুরের যত্ন বেশি নেওয়া, কুকুরের সঙ্গে মানবীয় সম্পর্ক স্থাপন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদি পশু পাহারা অথবা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর লালন-পালন করে, প্রতিদিন ওই ব্যক্তির দুই কিরাত পরিমাণ নেকি হ্রাস পায়।’ (মুসলিম : হাদিস ১৫৭৫; তিরমিজি : হাদিস ১৪৮৭)

    অন্য হাদিসে আছে, ‘এক কিরাত হলো, উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ।’ (মুসনাদে আহমদ : হা. ৪৬৫০)

    আমাদের হানাফি মাজহাব মতে, কুকুরের শরীর নাপাক নয়। তাই কুকুর কারো শরীর বা কাপড় স্পর্শ করলে তা নাপাক হবে না। তবে কুকুরের লালা নাপাক। কুকুর মুখ দিয়ে কারো জামা টেনে ধরলে যদি কাপড়ে লালা লেগে যায়, তবে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে; অন্যথায় নাপাক হবে না। (আল-বাহরুর রায়েক : ১/১০১; ফতোয়াতে হিন্দিয়া : ১/৪৮; আদ্দুররুল মুখতার : ১/২০৮)