Category: ধর্ম

  • ফেরেশতাদের মধ্যে কি নারী-পুরুষ আছে!

    ফেরেশতাদের মধ্যে কি নারী-পুরুষ আছে!

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রশ্ন: ফেরেশতাদের মধ্যে কি নারী-পুরুষ আছে?

    উত্তর: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস হচ্ছে, মহান আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি ফেরেশতারা পুরুষও নয়, আবার নারীও নয়। তারা লিঙ্গ নিরপেক্ষ সৃষ্টি।

    যেমন, বিশিষ্ট তাবেয়ী সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব রহ বলেন, ফেরেশতারা, পুরুষও নয়, নারীও নয়। তারা পানাহার করে না। তারা বিবাহ-শাদী করে না। তার সন্তান জন্ম দেয় না। (ফাতহুল বারী ৬/৩০৬)

    ইবনু হাজার আসকালানী রহ. বলেন, নিশ্চয় ফেরেশতারা, পুরুষও নয়, নারীও নয়। (ফাতহুল বারী ৮/২৯৮)

    মোল্লা আলী কারী রহ. বলেন, ফেরেশতারা আল্লাহর সম্মানিত বান্দা। আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ তারা মান্য করে। তারা নিষ্পাপ। তারা আল্লাহর অবাধ্য হয় না। নারী ও পুরুষের বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত। ফেরেশতাদের নারী হওয়ার দাবী আল্লাহ তাআলা কুরআন মজিদে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন।

    আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা গণ্য করেছে রহমানের বান্দা ফেরেশতাদেরকে নারী। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে? তাদের সাক্ষ্য অবশ্যই লিখে রাখা হবে এবং তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’–সূরা যুখরুফ ১৯। (শরহু আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ২৭)

    ইবনে কাসির রহ. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুশরিকরা আল্লাহর বান্দা ফেরেশতাদের নারী ও আল্লাহর কন্যা মনে করত এবং আল্লাহর সঙ্গে তাদের উপাসনা করা তা ছিল পুরোপুরি ভুল। (তাফসিরে ইবন কাসির ৪/৫৭৭)

    ফেরেশতাদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

    ফেরেশতাগণ আল্লাহর সম্মানিত বান্দা, আল্লাহর বার্তাবাহক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী। তারা মর্যাদাবান, সচ্চরিত্রবান, স্বভাব ও কাজে পবিত্র। তারা আল্লাহর আদেশে বাধ্য, কোনো অবাধ্যতা করে না এবং যা আদেশ পান তাই করে থাকেন।

    ফেরেশতারা নুরের সৃষ্টি

    আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ফেরেশতাগণকে সৃষ্টি করা হয়েছে নুর থেকে, এবং জিনকে সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে, আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তোমাদের যেমন বলা হয়েছে তা থেকে। (কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠনঠনে, কালচে কাদামাটি থেকে। -সুরা হিজর: ২৬ (সহিহ মুসলিম)

    এই নুর কী ধরণের নুর তা নিয়ে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন নেই। আমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে ফেরেশতাগণ নুর থেকে সৃষ্টি, যেমন হাদিসে এসেছে। তবে এই নুর সৃষ্টি, এটি আল্লাহর নিজের সত্তার নুর নয়।

    ফেরেশতাদের কখন সৃষ্টি করা হয়েছে?

    ফেরেশতাগণ মানুষ সৃষ্টির আগেই সৃষ্টি হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর স্মরণ করো, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা বানাতে যাচ্ছি। (সুরা বাকারা: ৩০)

    এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে আদমের (আ.) সৃষ্টির আগেই ফেরেশতাগণকে সৃষ্টি করা হয়েছিল।

  • সুরা এখলাসের মর্ম ও ফজিলত

    সুরা এখলাসের মর্ম ও ফজিলত

     ধর্ম ডেস্ক:   সুরা এখলাস কুরআনে কারিমের ছোট একটি সুরা। এতে চমৎকারভাবে আল্লাহ তায়ালার সত্তাগত পরিচয় ফুটে উঠেছে। আয়াত সংখ্যার বিবেচনায় ছোট হলেও মর্যাদা ও সাওয়াবের দিক থেকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।

    বিশেষভাবে এই সুরায় তাওহিদ তথা একত্ববাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এটি বিশেষ ফযিলতের অধিকারী সুরাসমূহের অন্যতম।  হাদিস শরিফে এই সুরার অনেক ফযিলতের কথা এসেছে।

    কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান: হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি জনৈক সাহাবিকে দেখলেন, বারবার সুরা এখলাস  পাঠ করছেন। সকাল হলে ওই ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সামনে বিষয়টি পেশ করলেন। লোকটি হয়তো ভেবেছে, এ ছোট একটি সুরা বারংবার পড়া তেমন সওয়াবের কাজ নয়, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ওই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! সুরা এখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৩ )অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন বললেন, তোমাদের কেউ কি প্রতি রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে পারে না? সাহাবীরা উত্তর দিলেন, আমরা দুর্বল, প্রতি রাতে এত বেশি পরিমাণ তিলাওয়াত করা আমাদের জন্য কষ্টকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তাআলা পুরো কুরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন এবং সুরা এখলাসকে তিন ভাগের এক ভাগ গণ্য করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৭৪৯৮)

    জান্নাতে অট্টালিকা নির্মাণ: হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সুরা এখলাস দশবার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করে দিবেন।

    হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, তাহলে তো আমরা অনেক অট্টালিকা লাভ করে ফেলব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তাআলা এর চেয়েও অধিক দানকারী, অতি পবিত্র। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস : ২২৮৮)অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি সুরা এখলাস দশবার পাঠ করবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি অট্টালিকা নির্মাণ করবেন। যে ২০ বার পড়বে তার জন্য দুটি অট্টালিকা নির্মাণ করবেন। যে ৩০ বার পড়বে তার জন্য তিনটি অট্টালিকা তৈরি করবেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

    জান্নাতের সুসংবাদ: হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি নবীজির কাছে বসা ছিলাম একজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার এক ভাই এই সুরাটি পড়তে ভালোবাসে, তখন নবি (সা.)বললেন, ‘তোমার ভাইকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

    এই সুরাকে ভালোবাসার কারণে জান্নাত: হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসুল, আমি এই সুরাকে ভালোবাসি। নবীজি (সা.)বললেন, তোমার এই সুরার ভালোবাসাই তোমাকে জান্নাতে পৌঁছে দিবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির) ডান দিক থেকে জান্নাতে প্রবেশ:  হাদিস শরিফে এরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ডান কাতে শুয়ে সুরা এখলাস একশতবার পড়ে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলবেন, হে আমার বান্দা, তুমি তোমার ডান পাশ দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করো। (তাফসিরে ইবনে কাসির )

    ফেরেশতা জানাজায় শরিক হওয়া: সুরা এখলাস এত দামি সুরা, এক সাহাবি অধিক পরিমাণে এই সুরা পাঠ করার কারণে তার জানাজায় ৭০ হাজার ফেরেশতা অংশগ্রহণ করেছিল। হাদিস শরিফে এসেছে, মুআবিয়া বিন মুআবিয়া মুযানি লাইসি (রা.) ইন্তেকাল করলে হজরত জিবরাঈল (আ.) সত্তর হাজার ফেরেশতাসহ নবিজীর কাছে আগমন করেন। নবি কারিম (সা.) জিবরাঈল  এবং এইসব ফেরেশতাদের নিয়ে তার জানাজায় শরিক হলেন। নামাজ শেষ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে জিবরাঈল, কোন্ আমলের মাধ্যমে মুআবিয়া এই উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে? জিবরাঈল (আ.) উত্তরে বললেন, এই মর্যাদা লাভের কারণ হলো, সে দাঁড়িয়ে, বসে, হেঁটেহেঁটে, সওয়ারীতে তথা সর্বাবস্থায় সুরা এখলাস পাঠ করত। (মুজামে কাবির, হাদিস  : ৭৫৩৭ ) এছাড়াও সুরা এখলাসের অনেক ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই সুরা বেশি বেশি পাঠ করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

    লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া রশিদিয়া তালিমুল কোরআন, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।

  • অন্য ধর্মাবলম্বীদের হাতে বানানো খাবার খাওয়া জায়েজ?

    অন্য ধর্মাবলম্বীদের হাতে বানানো খাবার খাওয়া জায়েজ?

    প্রশ্ন: আমি একজন কাঠমিস্ত্রি। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ করি। কখনো কখনো হিন্দু বাড়িতেও কাজ করতে হয়। আর কাজ দীর্ঘ হওয়ার কারণে অনেকদিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হয়। তখন হিন্দু বাড়িতেই খেতে হয়। এ অবস্থায় কি আমার জন্য হিন্দু বাড়িতে খাওয়া বৈধ হবে?

    উত্তর: হিন্দু বা বিধর্মীদের তৈরি হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েজ। আর প্রয়োজনে তাদের বাড়িতেও খানা খাওয়া জায়েজ।

    তাই আপনি কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজনে হিন্দু বাড়িতে খানা খেতে পারবেন। তবে তাদের জবাইকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। তাই তাদের বাড়িতে মুরগি ইত্যাদির গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    অন্য ধর্মের মানুষরাও আল্লাহর বান্দা।তাদের সঙ্গে ভালো আচরণও ইসলামের শিক্ষা। অযথা তাদের সঙ্গে মন্দ আচরণ করা ইসলাম কামনা করে না। তাই যথাসাধ্য তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে।

    এতটা সহায় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে যে, আমাদের আখলাক দেখে যেন তারা মুসলমান হতে আগ্রহ বোধ করে। তবে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা নিষেধ। অন্তর থেকে তাদেরকে ভালোবাসা যাবে না।

    যদি কোনো প্রয়োজনে একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে একই রুমে থাকা জায়েজ আছে। কিন্তু লাগাতার ওঠাবসা করতে থাকলে তাদের ধর্মের প্রতি আমাদেরও মন আকৃষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের সংস্পর্শ থেকে যথাসাধ্য দূরে থাকা উচিত।

    তারা যেসব খাবার-দাবার দিয়ে থাকে, যদি তার মধ্যে কোন ধরনের নাপাকি না থাকে, তাহলে সেই খাবার খাওয়া জায়েজ আছে। ঠিক তেমন ভাবে একই পাত্রের মধ্যে খানা খাওয়াও জায়েজ আছে। তার টাকা হালাল হলে ওই টাকার খাবার খেতেও কোনো সমস্যা নেই।

    সূত্র: আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭৪

  • দাঁতে আটকে থাকা খাবার খেয়ে ফেললে কি নামাজ হবে!

    দাঁতে আটকে থাকা খাবার খেয়ে ফেললে কি নামাজ হবে!

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রশ্ন: দাঁতে আটকে থাকা খাবার খেয়ে ফেললে কি নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে?

    উত্তর: নামাজের সময় দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকা সাধারণ বিষয়। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, তা গিলে ফেলার হুকুম নির্ভর করে খাবারের পরিমাণ এবং তা গিলে ফেলার উপায়ের ওপর।

    যদি দাঁতের ফাঁকে থাকা খাবারের অংশ ছোলার সমান বা তার চেয়ে বড় হয় এবং নামাজের সময় গিলে ফেলা হয়, তাহলে নামাজ নষ্ট হবে। সেই নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে।

    যদি দাঁতের ফাঁকে থাকা খাবার ছোলার চেয়ে ছোট হয় এবং তা অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যায় বা গিলে ফেলা হয়, তাহলে নামাজ ভাঙবে না। এত ছোট খাবারকে শরীয়তে খাওয়া হিসেবে গণ্য করা হয় না।

    মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব:

    নামাজের আগে দাঁত পরিষ্কার রাখা উত্তম। খাবারের পরে মিসওয়াক বা দাঁত মাজার ব্যবহার সুন্নত। এটি শুধু মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখে না, নামাজে মনোযোগও বৃদ্ধি করে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি খাবার খায়, সে অবশ্যই দাঁত খিলাল করবে। যা খেলালের মাধ্যমে বের হয়, তা বাইরে ফেলে দিতে হবে। আর যা জিভের মাধ্যমে বের হয়, তা গিলে ফেলা যাবে।”( সুনানে দারেমি, পৃষ্ঠা ৫০০)

    অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে: “যে ব্যক্তি খিলাল ব্যবহার করেছে, সে ভালো কাজ করেছে। আর যে ব্যবহার করেনি, তার জন্য কোনো দোষ নেই। (সুনানে দারেমি, পৃষ্ঠা ২২৪)

    সূত্র: ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি ১/১০২, ফিকহুস সুন্নাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩০, কিতাবুন নাওয়াজেল, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১০০, মারাকিল ফালাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা- ১২১

  • শর্ত পূরণের আগে মানত আদায় করা যাবে?

    শর্ত পূরণের আগে মানত আদায় করা যাবে?

    ধর্ম  ডেস্ক:    প্রশ্ন: আমার জানার বিষয় হল, কোন কিছু পাওয়ার জন্য মানত করলে, সে জিনিস পাওয়ার পুর্বেই সে ব্যক্তি যদি মানতকৃত টাকা বা যা মানত করে, সেটা আদাই করে ফেলে, তাহলে সে যখন ওই জিনিসটা পাবে, তখন কি তার মানতকৃত বস্তু আবার আদাই করতে হবে?

    উত্তর: শর্ত পাওয়া যাওয়ার পরেই মানত পূরণ করা ওয়াজিব হয়। তাই শর্ত পাওয়া যাওয়ার পূর্বে কেউ যদি মানতকৃত জিনিস আদায় করে দেয়, তাহলে তা সাধারণ দান হিসেবেই ধর্তব্য হবে। শর্ত পাওয়া যাওয়ার পরে পুনরায় মানত পুরা করতে হবে।

    উল্লেখ্য যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মানতের চেয়ে নগদ দান-সদকার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি। সদকা দ্বারা আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হন। আর মানত শরীয়তসম্মত। তবে সদকার চেয়ে উত্তম নয়।

    হাদিসে আছে, মানত দ্বারা কৃপণের মাল বের হয়। অর্থাৎ মানত কৃপণ লোকের কাজ।

    আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মানত এমন কোনো কিছুকে আদম সন্তানের নিকটবর্তী করে দিতে পারে না যা আল্লাহ তাআলা তার জন্য তাকদীরে নির্দিষ্ট করেননি। তবে মানত কখনো তাকদীরের সঙ্গে মিলে যায়। এর মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে ঐ সম্পদ বের করে নিয়ে আসা হয় যা কৃপণ (এমনিতে) বের করতে চায় না। -সহিহ মুসলিম, হাদীস ১৬৪০

    অতএব কাঙ্খিত বস্তু অর্জনের জন্য মানত করা জায়েজ। তবে মানত করা ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী পূর্বেই দান-খয়রাত করা অধিক উত্তম কাজ।

  • সহাবস্থানের সীমারেখা ও ঈমানের শুদ্ধতা

    সহাবস্থানের সীমারেখা ও ঈমানের শুদ্ধতা

    ধর্ম  ডেস্ক:    আধুনিকতার উজ্জ্বল আলোয় ঢাকা পড়ে গেছে অনেক প্রাচীন সত্য। আজ দেখা যায়, কেউ কেউ ধর্মীয় সহাবস্থানের নামে এমন এক সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে, যেখানে ঈমানের সীমারেখা মুছে দিতে চাওয়া হচ্ছে। অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ বা অভিনন্দন জানানোকে অনেকে বলছেন সৌজন্য, কেউ বলছেন আধুনিকতা। অথচ ইসলাম কোনোদিনই সৌজন্যের ছদ্মবেশে ঈমান বিসর্জনের অনুমতি দেয়নি।

    আল্লাহ রব্বুল আলামিনের ঘোষণা স্পষ্ট, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩)

    দ্বীন যখন পূর্ণাঙ্গ, তখন তার ভেতরে নতুন কোনো আচার বা উৎসবের স্বীকৃতি দেওয়া মানে পূর্ণতার অস্বীকার। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেছেন, “অমুসলিমদের বিশেষ ধর্মীয় উৎসবে অভিনন্দন জানানো মুসলমানদের জন্য হারাম, এটি তাদের কুফরির প্রতি সন্তুষ্টি ও অনুমোদনের সমতুল্য।”(আহকাম আহলিজ্জিম্মাহ)

    ইমাম নববী রহ. এবং অসংখ্য মুজতাহিদ আলেমও এই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। রাসূল সা. হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪০৩১) ইসলামের দৃষ্টিতে সাদৃশ্য মানে শুধু পোশাক বা রীতি নয়, বরং এমন কথাবার্তা ও আচরণ, যা সরাসরি তাদের ধর্মীয় প্রতীকের স্বীকৃতি দেয়। তাই মুসলমানের জন্য সীমানা স্পষ্ট—মানবিকতায় উদার, কিন্তু ঈমানের প্রশ্নে অটল।

    প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি অমুসলিমদের সাথে সৌহার্দ্য থাকবে না? বরং ইসলামই দিয়েছে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা। কুরআনে বলছে, “আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না তাদের সাথে সদাচার ও ন্যায়বিচার করতে, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি।” (সূরা আল-মুমতাহিনাহ: ৮)

    অর্থাৎ মুসলমান মানবিকতায় সীমাহীন হতে পারে—প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াতে পারে, তাদের হক আদায় করতে পারে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কিন্তু সেই সৌজন্য কখনোই এমন জায়গায় যাবে না, যেখানে শিরকের বৈধতা মিশে থাকে।

    আজ যাদের কণ্ঠে শোনা যায় “সব ধর্ম সমান”, “সব উৎসব সামাজিক” তারা আসলে ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদকে আঘাত করছেন। ইসলাম কোনো মিশ্রণবাদী দর্শন নয়, ইসলাম একক সত্য। একজন মুসলমান যখন নিজের ঈমানের শুদ্ধতা রক্ষা করে, তখনই সে প্রকৃত মানবিকতার প্রতিনিধি হয়। কারণ মানবিকতা কেবল হাসিমুখের নাম নয়, মানবিকতা হলো ন্যায়, আর ন্যায় কেবল সেই পথেই সম্ভব, যেখানে সত্য বিকৃত হয় না।

    মুসলমানের গৌরব এখানেই সে মানবিকতায় কোমল, কিন্তু ঈমানের প্রশ্নে কঠোর। সভ্যতার নামে আত্মপরিচয় বিসর্জন দেয় না, সৌজন্যের মোড়কে দ্বীন বিক্রি করে না। যে সীমারেখা আল্লাহ টেনে দিয়েছেন, সেটিই তার মর্যাদা, আর সেই সীমা রক্ষার দৃঢ়তাই তার ঈমানের