Category: ধর্ম

  • আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। মুসলমানদের কাছে এই দিনটি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ নামে পরিচিত। আজ সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি।  ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-কে অনুসরণ করলেই মানবকল্যাণ সম্ভব। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাঁর জীবনাদর্শকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে হবে। খণ্ডিতভাবে অনুসরণ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশের সুযোগও নেই।

    ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

    রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশও দোয়া মাহফিল, সেমিনার ও বিশেষ আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

    দিবসটি উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হচ্ছে।

  • উপকারী বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন

    উপকারী বৃষ্টির জন্য যে দোয়া করবেন

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: উপকারী বৃষ্টি; যে বৃষ্টিতে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় ও ফসল ফলে, তীব্র গরমে মানুষ ও প্রাণীকুল স্বস্তি লাভ করে, তা আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তার রহমত ছড়িয়ে দেন, তিনি-ই সকল গুণে প্রশংসিত প্রকৃত অভিভাবক। (সুরা শূরা: ২৮)

    নবিজি (সা.) বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত বলে অভিহিত করতেন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বৃষ্টি দেখতেন, তখন বলতেন, এ তো আল্লাহর রহমত। (সহিহ মুসলিম: ১৯৫৭)

    উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করা সুন্নত। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বৃষ্টি হতে দেখলে বলতেন,

    اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়্যেবান নাফিআন।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি এ বৃষ্টিকে প্রবহমান এবং উপকারী বানিয়ে দিন। (সহিহ বুখারি: ১০৩২)

    অতিবৃষ্টি বা ক্ষতিকর বৃষ্টি হলে দোয়া করতেন,

    اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা।

    অর্থ: হে আল্লাহ আমাদের আশপাশে (জনবসতির বাইরে) বৃষ্টি দাও, আমাদের ওপর নয়। (সহিহ বুখারি: ৯৩৩)

    তীব্র বাতাস ও ঝড় শুরু হলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘাবড়ে যেতেন যে এটি আল্লাহর আজাব কিনা এবং দোয়া করতেন,

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك خَيرهَا وَخير مَا فِيهَا وَخير مَا أرْسلت بِهِ وَأَعُوذ بك من شَرها وَشر مَا فِيهَا وَشر مَا أرْسلت بِهِ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ও খাইরা মা ফীহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি ওয়া আউজুবিকা শাররাহা ওয়া শাররা মা ফীহা ওয়া শাররা মা উরসিলাত বিহি।

    অর্থ: হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ চাই, এর মধ্যে যে কল্যাণ আছে সেটা চাই এবং যে কল্যাণ দিয়ে এটাকে পাঠানো হয়ে তা চাই এবং আমি আপনার কাছে এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, এর মধ্যে যে অনিষ্ট অন্তর্ভুক্ত আছে তা থেকে আশ্রয় চাই এবং যে অনিষ্টসহ এটাকে পাঠানো হয়েছে তা থেকে আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম: ৮৯৯)

  • ঝগড়া-বিবাদ ধ্বংস বয়ে আনে

    ঝগড়া-বিবাদ ধ্বংস বয়ে আনে

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: প্রত্যেক মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমান। ঈমানের পর তাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো একতা। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দল-উপদলে বিভক্ত না হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন।

    পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর রজ্জুকে (অর্থাৎ তাঁর দ্বিন ও কিতাবকে) দৃঢ়ভাবে ধরে রাখ এবং পরস্পরে বিভেদ কোরো না। আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ রাখ। একটা সময় ছিল, যখন তোমরা একে অন্যের শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহকে জুড়ে দিলেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিল। আল্লাহ তোমাদের (ইসলামের মাধ্যমে) সেখান থেকে মুক্তি দিলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথে চলে আস।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)

    মুমিনরা যত দিন মহান আল্লাহর এই আদেশ পালন করবে, তত দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে মদদ আসবে। আল্লাহর রহমত তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যদি তা না হয়, তবে দুনিয়ায় তারা দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে তাদের ওপর বিজয় লাভ করবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর কলহ কোরো না, অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৪৬) আর আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং তোমরা সেই সব লোকের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি আসার পরও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল। এরূপ লোকদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৫) তাই মুমিনের উচিত সব ক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বিনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করা। আল্লাহকে ভয় করা। কারণ মহান আল্লাহ সবার মনের অবস্থা জানেন।

  • যে আমলে হায়াত বৃদ্ধি পায়

    যে আমলে হায়াত বৃদ্ধি পায়

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মাতৃগর্ভেই প্রত্যেক মানুষের রিজিক, মৃত্যু, দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য এই চারটি বিষয়ে লিপিবদ্ধ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে কারো মৃত্যু হয় না। কাজেই মৃত্যুর পূর্বে সময়কে কাজে লাগানো উচিত। কেননা মুমিনের হায়াতের সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণ দীর্ঘায়িত হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে যেন তার জন্য দোয়া না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন ব্যক্তির বয়স দীর্ঘায়িত হলে এতে তার কল্যাণই বৃদ্ধি পেতে থাকে (মুসলিম : ৬৫৭৫)। হায়াত বৃদ্ধির জন্য রসুলুল্লাহ (স.) দোয়া করেছেন।

    আমল শিক্ষা দিয়েছেন। এমনই তিনটি আমল এখানে উল্লেখ করা হলো:

    ১. দোয়া ও নেক আমল করা : হজরত সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, দোয়া ব্যতীত অন্য কোন কিছু ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কোনো কিছু হায়াত বাড়াতে পারে না। (তিরমিজি : ২১৩৯ )

    ২. আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা : হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিজিক প্রশস্থ হোক এবং আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখে (বুখারি : ৫৫৬০)।

    ৩. প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা : হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা, চরিত্র সুন্দর করা এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার রাখায় দেশ আবাদ থাকে এবং আয়ু বৃদ্ধি পায়। (মুসনাদে আহমদ : ২৫২৫৯ )

  • ইসলামে নারীর পর্দা ও শালীনতার নির্দেশনা

    ইসলামে নারীর পর্দা ও শালীনতার নির্দেশনা

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক:  ইসলামে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য শালীনতা, পর্দা এবং আচরণবিধির নির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা, সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

    এই কারণেই ধর্মপ্রাণ নারীরা পর্দা পালন করেন। তবে দেখা যায়, অনেকে শরীর ঢাকলেও মুখ খোলা রাখেন। তখন প্রশ্ন আসে—মুখ খোলা রেখে পর্দা করা কি যথেষ্ট?

    কুরআনের নির্দেশনা

    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
    “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন বাইরে যাওয়ার সময় তাদের জিলবাব নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের সহজে চেনা যাবে এবং তারা উত্যক্তের শিকার হবে না। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আহযাব: ৫৯)

    এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, পর্দার বিধান শুধু নবীজির স্ত্রীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সব মুসলিম নারীর জন্য প্রযোজ্য। বাইরে গেলে চেহারা আবৃত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শুধু চোখ খোলা থাকে এবং প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। এজন্য কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা কিংবা নেকাব ব্যবহার করা—দুই পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য।

    হাদিসের নির্দেশনা

    রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
    “নারীর জন্য মাহরাম ছাড়া অন্য পুরুষের সামনে আত্মপ্রকাশ করা বৈধ নয়।” (বুখারি, মুসলিম)

    এই হাদিসও স্পষ্ট করে দেয় যে, নারীর মুখমণ্ডল পর্দার অন্তর্ভুক্ত এবং তা আবৃত করা অধিক জরুরি।

    আলেমদের ব্যাখ্যা

    প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, জিলবাব হলো এমন পোশাক যা নারীর শরীরকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত আবৃত রাখে। অর্থাৎ, সাধারণ পোশাকের উপর বিশেষভাবে যে পোশাক নারীরা ব্যবহার করেন, তাকে জিলবাব বলা হয়। আমাদের সমাজে এটি বোরকা নামে পরিচিত।

    তাফসির অনুযায়ী, বাইরে যাওয়ার সময় নারীর জন্য আপাদমস্তক আচ্ছাদন আবশ্যক। আর আয়াতে উল্লেখিত ‘জিলবাব টেনে দেওয়া’র অর্থ হলো মাথা ও মুখমণ্ডল আবৃত রাখা। সাহাবী, তাবেয়ী ও বিশিষ্ট মুফাসসিরদের ব্যাখ্যা থেকেও এই বিষয়টি প্রতীয়মান হয়।

    👉 সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, ইসলামে নারীর মুখ ঢেকে পর্দা করা পরিপূর্ণ পর্দার অংশ এবং তা পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • নামাজ পড়ি, ইবাদত করি, তবুও দোয়া কবুল হয় না কেন?

    নামাজ পড়ি, ইবাদত করি, তবুও দোয়া কবুল হয় না কেন?

    অনলাইন ডেস্ক: আল্লাহতায়ালা সমগ্র জগৎ সৃষ্টি করেছেন মানুষের সেবাদানের জন্য আর মানুষকে সৃজন করেছেন একমাত্র তারই ইবাদত করার উদ্দেশ্যে।

    ১. শিরকযুক্ত ঈমান: যেসব মানুষের ঈমানের সাথে শিরক মিশ্রিত আছে, তাদের কোনো প্রকার ইবাদত কবুল হবে না এবং কোনো দোয়াও কবুল হবে না।

    যেমন- আল্লাহ, রাসুল ও আখেরাতের ওপর বিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও কারো অন্তরে যদি শিরকযুক্ত আকিদা-বিশ্বাস থাকে, তবে তার নামাজসহ কোনো ইবাদত কবুল হবে না এবং কোনো দোয়াও কবুল হবে না।

    যেমন- কোনো নবী-রাসুল বা পীর মুর্শিদকে আল্লাহর মত হাযির-নাযির মনে করা, কোনো পীর-বুজুর্গ ইচ্ছা করলে কাউকে ধনী বা গরীব বানিয়ে দিতে পারে, সন্তান দান করতে পারে, তাদেরকে এ ধরণের শক্তি সম্পন্ন বলে বিশ্বাস রাখে।

    এছাড়া সেজদায়ে তাহিয়্যা বা সম্মানসূচক সেজদার নামে কাউকে নামাজের সেজদার মত সেজদা করাকে বৈধ বা জায়েজ মনে করা। এসবই হলো শিরক যুক্ত ঈমান। এমন শিরক যুক্ত ঈমানদার ব্যক্তির ইবাদত ও দোয়া কবুল হয় না।

    ২. পিতামাতার অবাধ্যতা: কেউ যদি পিতামাতার অবাধ্য হয় কিংবা সংগত কারণে পিতামাতা সন্তানের প্রতি নারাজ থাকেন, তখন এমতাবস্থায় সন্তানের নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত মাসয়ালা অনুযায়ী সহিহ হলেও পিতামাতার অবাধ্যতার কারণে আশংকা আছে যে, এমন অবাধ্য সন্তানের ইবাদত ও দোয়া কবুল হবে না- যতক্ষণ না সে নিয়মানুযায়ী তওবা করে।

    ৩. হারাম মাল ভক্ষণ: হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ ভোগ করে ইবাদত ও দোয়া করলে তা কবুল হবে না। আল্লাহ তায়ালার কাছে বান্দার তওবা-এস্তেগফার ও চোখের পানি বড়ই মূল্যবান; কিন্তু হারাম উপায়ে উপার্জিত মাল ভক্ষণকারী ও লেবাস-পোশাক ব্যবহারকারী ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে মোনাজাতের মাধ্যমে হাত উত্তোলন করে রাখতে রাখতে যদি তা অবশও হয়ে যায় এবং বিরামহীনভাবে ক্রন্দন করতে করতে যদি তার চোখের অশ্রু নিঃশেষ হয়ে যায়, তবুও তা আল্লাহ তায়ালার কাছে মূল্যহীন।

    সুতরাং নিজের কষ্টে করা ইবাদত ও একান্ত করা দোয়া যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, এজন্য হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকা পূর্বশর্ত।

     

     

     

    যুগান্তর থেকে সংগৃহিত