Category: ধর্ম

  • আন্দালুস হারানো মানে শুধু একটি ভৌগোলিক অধ্যায় হারানো নয়!

    আন্দালুস হারানো মানে শুধু একটি ভৌগোলিক অধ্যায় হারানো নয়!

    ধর্ম  ডেস্ক:    মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু অধ্যায় আছে, যেগুলো কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, বরং যুগযুগান্তরের জন্য আয়না। আন্দালুস, যে ভূমি একসময় মুসলিম সভ্যতার আলোয় দীপ্ত ছিল,আজ নিছক পর্যটনকেন্দ্র, নিঃশব্দ ধ্বংসস্তূপ, নিভে যাওয়া প্রদীপের ভস্ম।

    এককালে যেখানে রাত জেগে আলোকিত হত গ্রন্থাগার, যেখানে তারার নিচে বসে পণ্ডিতেরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ কষতেন, আজ সেখানে পর্যটকের পদচারণা, আর বাতাসে ভেসে আসে অতীতের হাহাকার।

    আন্দালুস হারানো মানে শুধু একটি ভৌগোলিক অধ্যায় হারানো নয়, এটি ছিল মুসলিম উম্মাহর সেই হৃদয়ভঙ্গ, যার প্রতিধ্বনি আজও আমাদের ইতিহাসে শোনা যায়।

    ৭১১ খ্রিস্টাব্দে যখন তারিক ইবনে জিয়াদের বাহিনী জাবাল তারিক (জিব্রাল্টার) প্রণালী অতিক্রম করে আইবেরীয় উপদ্বীপে প্রবেশ করে, তখন ইউরোপ নিমজ্জিত ছিল অন্ধকারে। অজ্ঞতা, নিরক্ষরতা, দমন আর ধর্মীয় গোঁড়ামি ইউরোপকে শৃঙ্খলিত করেছিল। অথচ সেই মুহূর্তে মুসলিমরা কেবল তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করেনি, বরং সঙ্গে এনেছিল নতুন এক সভ্যতার দ্যুতি, ন্যায়বোধ, বিজ্ঞান, শিল্প ও মানবিকতার আলো।

    আন্দালুস দ্রুত হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এক নগরসভ্যতা। কর্ডোবা শহরে তখন জ্বলছিল তিন লাখ প্রদীপ, যখন লন্ডনের পথে মশালের আলো ছিল বিরল। কর্ডোবার গ্রন্থাগারে ছিল অর্ধ মিলিয়নের বেশি বই, অথচ ইউরোপের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তখনও জন্ম নেয়নি।

    এই ভূমি হয়ে উঠেছিল জ্ঞানের মিলনস্থল মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি একসঙ্গে বসে দর্শন, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, সাহিত্যের চর্চা করত। ইবনে রুশদ, ইবনে হাযম, আল-জাহরাওয়ি কিংবা মূসা ইবনে মাইমুনের মতো মনীষীরা মানবসভ্যতার উত্তরাধিকার সমৃদ্ধ করে গেছেন।

    কর্ডোবার জ্যোতির্বিদরা তারার মানচিত্র এঁকেছিলেন, যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় নাবিকদের সমুদ্রযাত্রায় দিকনির্দেশ দিয়েছিল। চিকিৎসাবিদ আল-জাহরাওয়ির লেখা শল্যবিদ্যার গ্রন্থ শতাব্দীর পর শতাব্দী ইউরোপের মেডিকেল স্কুলে পাঠ্যপুস্তক ছিল। আন্দালুস ছিল মানবতার সেই বাগান, যেখানে ধর্ম ও সংস্কৃতির বিভাজন মুছে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল এক নতুন সামঞ্জস্য।

    কিন্তু গৌরবের মধ্যেই লুকানো ছিল পতনের বীজ। প্রথম যুগে মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ খলিফাতন্ত্রের অধীনে এগিয়ে চললেও পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার লোভে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছোট ছোট আমিরাত ও সালতানাতে। প্রত্যেকে নিজেদের স্বার্থে অপরজনকে দুর্বল করতে খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর সাহায্য নেয়। ইতিহাসে এই বিশ্বাসঘাতকতা আন্দালুসের সর্বনাশ ডেকে আনে। যখন মুসলিমরা একে অপরের বিরুদ্ধে বিদেশিদের আহ্বান করছিল, তখন শত্রুপক্ষ শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল।

    আরেকটি বড় কারণ ছিল ভোগবিলাস ও আভিজাত্যের নেশা। যারা একসময় আল্লাহর পথে ত্যাগ স্বীকার করে এই সভ্যতা গড়েছিলেন, তাদের উত্তরসূরিরা ডুবে গেল বিলাসবহুল প্রাসাদ, দামী রত্ন, সুরা আর ভোজনবিলাসে।

    ইবনে খালদুন যথার্থই বলেছেন “সভ্যতার পতন শুরু হয় তখনই, যখন এর অধিবাসীরা আভিজাত্যে নিমজ্জিত হয়”। জ্ঞানচর্চা আর ইবাদতের জায়গা দখল করল আত্মতুষ্টি ও গাফিলতি।

    এদিকে ইউরোপ জেগে উঠছিল। মুসলিমদের তৈরি করা জ্ঞানভাণ্ডার অনুবাদ হতে লাগল লাতিন ভাষায়। আন্দালুসের আলো থেকে ইউরোপের রেনেসাঁর শিখা প্রজ্বলিত হলো, অথচ মুসলিমরা সেই আলোকপ্রদীপ রক্ষা করতে ব্যর্থ হল। তারা হারাল মুক্তচিন্তার উন্মুক্ততা, ভেঙে গেল দর্শন ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ। সংকীর্ণতায় আবদ্ধ হয়ে পড়ল শিক্ষাব্যবস্থা, আর রাজনৈতিকভাবে তারা দুর্বল হয়ে গেল।

    অবশেষে এলো সেই কালো দিন। দীর্ঘ “রিকনকুইস্তা” অর্থাৎ খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর পুনর্দখল অভিযানের চূড়ান্ত ফলশ্রুতিতে ১৪৯২ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রানাডার পতন ঘটে। নাসরিদ আমির বোয়াবদিল আলহাম্ব্রার চাবি ক্যাথলিক রাজা-রানির হাতে তুলে দেন। তখন কেবল একটি নগরীর পতন হয়নি, বরং সাত শতকের সভ্যতা ইতিহাসের কবরস্থানে দাফন হলো।

    গ্রানাডার পতনের পর শুরু হলো এক ভয়াল অধ্যায়। লাখ লাখ মুসলমান ও ইহুদি হয় জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হল, নয়তো হত্যা করা হলো। গ্রন্থাগারগুলোতে আগুন দেওয়া হলো, অমূল্য পান্ডুলিপি ছাই হয়ে গেল। আন্দালুসের সোনালি অতীত রূপ নিল এক ভৌতিক শূন্যতায়। ইতিহাসবিদদের মতে, শুধু গ্রানাডায় পতনের পর কয়েক দশকে প্রায় এক মিলিয়নের বেশি মুসলমান হত্যা বা বিতাড়িত হয়েছিল। আন্দালুস, যা ছিল মানবতার সহাবস্থানের প্রতীক, তা পরিণত হলো ধর্মীয় নিপীড়নের নির্মম পরীক্ষাগারে।

    তাহলে কেন হারালাম আমরা আন্দালুস? কারণ আমরা ভুলে গিয়েছিলাম আমাদের মূল পরিচয়। আমরা ঐক্য হারিয়েছি, জ্ঞানচর্চা ছেড়ে দিয়েছি, ভোগবিলাসে নিমজ্জিত হয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম ক্ষমতা চিরস্থায়ী, অথচ ইতিহাস বারবার শিখিয়েছে ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কেবল আদর্শই চিরন্তন।

    আজকের উম্মাহর জন্য আন্দালুস নিছক ইতিহাস নয়, বরং জীবন্ত শিক্ষা। ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর, সিরিয়া থেকে ইয়েমেন সবখানেই আজ আমরা বিভক্ত, দুর্বল, বাইরের শক্তির করুণায় জর্জরিত। আমাদের মধ্যে সেই একই রোগ—অভ্যন্তরীণ কলহ, আভিজাত্যের মোহ, জ্ঞানচর্চার প্রতি অবহেলা। ফলে আমরা নতুন নতুন আন্দালুস হারাচ্ছি।

    কিন্তু ইতিহাস কেবল শোকের নয়, আশা জাগানোরও। আন্দালুস আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঐক্য, জ্ঞান ও নৈতিকতা ছাড়া সভ্যতা টিকে না। এটি আমাদের শিখিয়েছে, অন্যের জ্ঞান গ্রহণে উন্মুক্ত না হলে আমরা অগ্রসর হতে পারি না। আর এটি আমাদের সাবধান করে দিয়েছে, বিভাজন ও বিশ্বাসঘাতকতা সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় বিষ।

    আজ যখন আলহাম্ব্রার প্রাসাদে সূর্যাস্ত হয়, তার লাল প্রাচীরগুলো নিঃশব্দে সাক্ষী দেয় হারিয়ে যাওয়া এক মহিমার। যেন বাতাসে ভেসে আসে এক শোকগাথা, “আমাকে হারিয়েছো তোমরা নিজেদের ভেতরেই। যদি ফিরে পেতে চাও, তবে আবার জ্বালাতে হবে জ্ঞানের প্রদীপ, জাগাতে হবে ঐক্যের শক্তি, আর ফিরিয়ে আনতে হবে নৈতিকতার মূলমন্ত্র”।

  • নতুন গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগ দিল সৌদি আরব

    নতুন গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগ দিল সৌদি আরব

    অনলাইন ডেস্ক:   সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মসজিদে হারামের প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ আহমদ বিন হুমাইদ।মঙ্গলবার পূর্ববর্তী গ্র্যান্ড মুফতি ড. আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শায়খের ইন্তেকালের পরই এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

    সৌদির রাজকীয় আদালত এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে আল আরাবিয়া জানিয়েছে।  শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগলাভের আগ পর্যন্ত মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির ইমাম ও খতিবদের তত্ত্বাবধানকারী ‘প্রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স’ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের হজের খুতবাও প্রদান করেছিলেন তিনি।

    শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ সৌদি আরবের কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার্স-এর সদস্য এবং মসজিদুল হারামের প্রবীণ ইমাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি জ্ঞান, হিকমাহ এবং বিচার বিভাগীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার বক্তৃতা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ চিন্তা তাকে মুসলিম বিশ্বের কাছে শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

  • সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির ইন্তেকাল

    সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির ইন্তেকাল

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শায়খ ইন্তেকাল করেছেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান বলে সৌদি রাজকীয় আদালতের বরাতে আল আরাবিয়া জানিয়েছে।

    সৌদি বাদশাহ সালমান ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গ্র্যান্ড মুফতির পরিবার, সৌদি জনগণ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    এক বিবৃতিতে তারা বলেন, গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শায়খের ইন্তেকালে সৌদি আরব এবং মুসলিম বিশ্ব একজন বিশিষ্ট পণ্ডিতকে হারালো যিনি ইসলাম এবং মুসলমানদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

    জানা যায়, রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ মসজিদে আজ ʿআসর নামাজের পর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

    এছাড়া মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিসহ দেশের সব মসজিদে তার গায়েবানা জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এ মর্মে বাদশাহ নির্দেশও জারি করেছেন।

    শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শায়খ ১৯৮১ সাল থেকে টানা ৩৫ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেন ।

  • আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলার পর্দা উঠছে আজ

    আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলার পর্দা উঠছে আজ

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা-২০২৫। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ড. উমর ফাহমীসহ পাকিস্তান, মিশর ও লেবাননের প্রকাশক ও অতিথিরা। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান।

    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে মিসর, লেবানন ও পাকিস্তান থেকে অন্তত পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যোগ দিচ্ছে। বিদেশি প্রকাশকদের অংশগ্রহণে মেলায় আন্তর্জাতিক আবহ আরও জোরালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

    প্রথমবারের মতো বাইতুল মোকাররমের পূর্ব গেইট থেকে দৈনিক বাংলার মেইন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে মেলা বসছে। এখানে থাকছে প্রায় ১৪০টির বেশি স্টল, যেগুলোতে কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিসগ্রন্থসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মৌলিক ও গবেষণাধর্মী বই পাওয়া যাবে।

    প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

    শিশুদের জন্য আলাদা চত্বর, লিটল ম্যাগাজিন কর্ণার, মিডিয়া কর্ণার, লেখক কর্ণার, চা-কফি ও ফুড কর্ণারসহ দর্শনার্থীদের জন্য নানা আয়োজন থাকছে। এছাড়া বিশাল মঞ্চে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে বই মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা, লেখক-পাঠক সাক্ষাৎ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    বাংলাদেশে ইসলামি বইমেলার সূচনা নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে হলেও বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি গ্রন্থমেলায় রূপ নিয়েছে। এ বছর বিদেশি অতিথিদের সরাসরি অংশগ্রহণ মেলাটিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

  • হজের নিবন্ধনের শেষ সময় ১২ অক্টোবর

    হজের নিবন্ধনের শেষ সময় ১২ অক্টোবর

    অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬ সা‌লে হ‌জে যে‌তে চাইলে আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে করতে হবে নিবন্ধন। এদিন হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময়সীমা।

    সৌদি সরকারের নিবন্ধনের সময়সীমা অনুযায়ী এ সময় আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়েছে।

    আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ছাব্বিশের মে মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

  • যে সময় ঘুমাতে নিষেধ করা হয়েছে হাদিসে

    যে সময় ঘুমাতে নিষেধ করা হয়েছে হাদিসে

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ঘুম মানুষের ক্লান্তি-অবসাদ দূর করে। শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ঘুমের অবদান অসামান্য। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামত। মহৎ ইবাদতও বটে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমাদের নিদ্রাকে করেছি-ক্লান্তি দূরকারী।’ (সুরা নাবা, আয়াত : ০৯)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়লা বলেছেন, আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্য তোমাদের দিয়েছেন নিদ্রা এবং ছড়িয়ে পড়ার জন্য করেছেন দিন। (সূরা ফুরকান, আয়াত : ৪৭)

    কোরআনে রাতকে ঘুমের সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাদিসে দিনের বেলা সামান্য সময় বিশ্রামের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় যাকে ‘কাইলুলা’ বলা হয়।

    আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই স্বীয় রহমতে তোমাদের জন্য রাত ও দিন করেছেন, যাতে তোমরা তাতে (রাতে) বিশ্রাম গ্রহণ করো ও (দিনে) তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। ’ (সূরা কাসাস, আয়াত : ৭৩)

    ঘুমের জন্য উপযুক্ত সময় হলো রাত। দিনেও ঘুমানো যায়। কিছু সময় সময় না ঘুমাতে উৎসাহিত করা হয়েছে হাদিসে। হাদিসে ঘুমাতে নিষেধ করা হয়েছে এমন কিছু সময় হলো-

    ফজরের পর ঘুমানো

    ফজরের পর ঘুমানোর ব্যাপারে হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকেও সকালে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে ঘুমানো নাজায়েজ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য সকালের সময়ে বরকতের দোয়া করেছেন-

    হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে সকালবেলা বরকত দান করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৬, ২২৩৭, ২২৩৮)

    অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের জন্য সকাল বেলার সময়টাতে বরকত দেয়া হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি সকালের সময়টিতে ঘুমিয়ে থাকে তবে কিভাবে বরকত আসবে। এ কারণেই দিনের শুরুতে মহান আল্লাহর নাম নিয়ে কাজ শুরু করার মাধ্যমে বরকত ও কল্যাণ করা জরুরি।

    আসরের পর 

    আসরের নামাজের পর ঘুমানো মাকরুহ। এই সময় ঘুমালে নিজের ব্রেনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা যে ব্যক্তি আসরের পর ঘুমায় আর তার বুদ্ধি কমে যায়, তবে সে যেন নিজেকে তিরস্কার করে। (মুসনাদে আবি ইয়ালা, বর্ণনা: ৪৮৯৭, আল ফিক্বহুল ইসলামী ১/৪৭০)

    মাগরিবের পর ও ইশার আগে

    মাগরিবের পর ও ইশার আগে ঘুমানো হারাম বা নিষেধ নয়। তবে সাধারণত এই সময় ঘুমালে ইশার জামাতে সমস্যা হতে পারে। তাই অনুত্তম। তবে কারো যদি একান্ত প্রয়োজন হয় তাহলে ঘুমাতে পারেন।

    হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং নামাজের পর অহেতুক গল্প-গুজব করা খুব অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১৪)