Category: ধর্ম

  • কঠিন কাজ সহজ হয় যে দোয়ায়

    কঠিন কাজ সহজ হয় যে দোয়ায়

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছুই নেই। মানুষ চেষ্টা করলে যেকোনো কাজ সম্ভব। বর্তমান সময়ে এর উদাহরণ অহরহ। অসাধ্য সাধ্য করার যাত্রা অনেক সময় কষ্টকর মনে হয়। শুরু করেও পিছিয়ে আসতে চান। হতাশা হওয়ার কিছু নেই, সাহস ও ভরসা রেখে কাজ  করা উচিত। কাজ সহজ করতে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া উচিত।

    তাই কাজ যত কঠিনই হোক না কেন মহান আল্লাহর সাহায্য খুবই জরুরি। এ সম্পর্কে হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ ইবনে হিব্বানে একটি দোয়া এসেছে।

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলান, ওয়া আনতা তাজআলুল হাঝনা ইজা শিতা সাহলান।

    অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি যা সহজ করেছেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর যখন আপনি ইচ্ছা করেন তখন কঠিনকেও সহজ করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ২৪২৭)

    হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে এ দোয়া পড়তেন-

    উচ্চারণ: ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিছ।’

    অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! (সবকিছুর রক্ষক!) আমি আপনার রহমতের ওসিলায় আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।’ (তিরমিজি, মুসতাদরাকে হাকেম)

  • ঈদে মিলাদুন্নবী কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

    ঈদে মিলাদুন্নবী কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কবে জানা যাবে আজ। হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার জন্য শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।

    বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিচের টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

    টেলিফোন নম্বর: ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬, ০২-৪১০৫০৯১৭, ফ্যাক্স নম্বর: ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭, ০২-৯৫৫৫৯৫১।

    উল্লেখ্য, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রায় ১৪০০ বছর আগে ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন এবং একই দিনে ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। দিনটি মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকেন।

  • ইসলাম: মুক্তি ও শান্তির এক চিরন্তন বিধান

    ইসলাম: মুক্তি ও শান্তির এক চিরন্তন বিধান

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: পৃথিবীর ইতিহাসে যত ধর্ম ও মতবাদ এসেছে, প্রত্যেক ধর্মই মানবতার কল্যাণের কথা বলেছে। তবে বাস্তবতা হলো, একমাত্র ইসলামই এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত,উভয় জগতের চূড়ান্ত মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়। ইসলাম ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন এবং সামষ্টিক সমাজজীবনে পূর্ণ শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা প্রদান করে। ইসলামের মূল বার্তা,তাওহিদ, ন্যায়বিচার, দয়া, সহানুভূতি ও মানবকল্যাণ,এই বিশ্বে একমাত্র বাস্তব ও কার্যকর মুক্তির পথ। তাই ইসলামই মানবতার মুক্তি ও শান্তির একমাত্র পথ।

    ইসলামের প্রকৃত অর্থই শান্তি

    ইসলাম শব্দটি মূলত আরবি سلم (সালাম) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও আত্মসমর্পণ। অর্থাৎ, ইসলাম মানেই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শান্তি লাভ করা।

     

    وَمَن يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ

    আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মশীল হয়, সে তো এমন মজবুত হাতল ধরেছে, যা ছিন্ন হবার নয়। (সুরা লুকমান: ২২)

    ইসলামের মূল উদ্দেশ্য মানবজাতির হিদায়াত ও মুক্তি

    ইসলাম কোনো গোষ্ঠীগত ধর্ম নয় বরং এটি সমগ্র মানবতার জন্য প্রেরিত সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। মহান আল্লাহ তার রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমগ্র মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক করে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

    وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا

    আর আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। (সুরা সাবা:২৮)

    রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

    إِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ

    আমি তো সমগ্র জগতবাসীর প্রতি রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছি। (মুসনাদু আহমদ: ৫১১৪)

    ইসলাম নিপীড়িত মানবতার আশ্রয়

    ইসলাম এমন একটি জীবনব্যবস্থা, যা ধনী-গরিব, কৃষ্ণ-শ্বেত, নারী-পুরুষ, আরব-আজনবির মধ্যে কোনো বৈষম্য করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে সমস্ত মানুষ এক স্রষ্টার সৃষ্টি এবং সমান মর্যাদার অধিকারী।

    يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا

    হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও। (সুরা হুজরাত: ১৩)

    আন্তর্জাতিক শান্তি ও ন্যায়বিচারের একমাত্র ভিত্তি

    ইসলাম এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে অন্যায়কারীর শাস্তি এবং নির্যাতিতের অধিকার নিশ্চিত থাকে, চোর যে-ই হোক না কেন, তার হাত কাটা হবে; অন্যায়কারী যদি নিজের আত্মীয়ও হয়, তবুও ক্ষমা নেই। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

    لو أن فاطمة بنت محمد سرقت، لقطعت يدها

    ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ ও যদি চুরি করত, আমি তার হাতও কেটে দিতাম। (সহিহ বুখারি: ৩৪৭৫)

    মুক্তি ও পরিত্রাণের একমাত্র উপায়

    আধুনিক সমাজ যতই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি করুক, যতই ধনসম্পদ অর্জন করুক, নৈতিকতা ও আত্মিক শান্তির ক্ষেত্রে তার পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা একমাত্র ইসলামই দিতে পারে। তাই ইসলামকে অবলম্বন করা মানে হলো আত্মিক মুক্তি, নৈতিক পরিশুদ্ধি,সামাজিক সাম্য, আখিরাতের মুক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন,

    فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

    অতএব, যারা আমার পথ অনুসরণ করবে, তাদের ওপর কোনো ভয় থাকবে না, এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (সুরা বাকারা: ৩৮)

    ইসলাম একমাত্র জীবনব্যবস্থা যা মানুষের দেহ-মনের পূর্ণ পরিতৃপ্তি, পারিবারিক-সামাজিক সুস্থিতি এবং দুনিয়া ও আখিরাতের পরিপূর্ণ মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। আজকের জুলুম, দারিদ্র্য, অনৈতিকতা ও বিভ্রান্তির যুগে ফিরে যেতে হবে প্রকৃত ইসলামে।

  • সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কানে আজান দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি

    সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কানে আজান দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: সন্তান জন্মের পর সন্তানের কানে আজান দেওয়া সুন্নত। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নাতি হাসানের কানে আজান দিয়েছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। আবু রাফে (রা.) বলেন,

    رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَذّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصّلَاةِ

    আমি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান বিন আলি (রা.) জন্মগ্রহণ করার পর তার কানে নামাজের আজানের মত আজান দিতে দেখেছি। (সুনানে আবু দাউদ: ৫১০৫)।

    বিখ্যাত হাদিস ব্যাখ্যাকার মোল্লা আলি কারি (রহ.) এ হাদিস উল্লেখ করে বলেছেন, এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, নবজাতকের কানে আজান দেওয়া সুন্নত। (মিরকাতুল মাফাতিহ: ৮/৮১)

    দুর্বল সূত্রে বর্ণিত কিছু হাদিসে ডান কানে আজান ও বাঁ কানে ইকামত দেওয়ার কথা আছে। অনেক আলেম নবজাতকের ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেওয়া মুস্তাহাব বলেছেন। নবজাতকের কানে নামাজের আজানের মতোই আজান দিতে হবে। আজানের সব বাক্য উচ্চারণ করতে হবে। হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহ বলার সময় নামাজের আজানের মতোই চেহারা ডানে-বামে ঘোরানো উত্তম। আজানের ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে সন্তানের মধ্যে পার্থক্য নেই। প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই কানে আজান দেওয়া সুন্নত। সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর মসজিদে আজান হলেও নবজাতকের কানে পৃথকভাবে আজান দেওয়া সুন্নত। কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র সুন্নত, মসজিদের আজানের মাধ্যমে এ সুন্নত আদায় হবে না।

    অর্থ-উচ্চারণসহ আজান ও ইকামত

    اَللهُ اَكْبَرْ (আল্লাহু আকবার) ৪ বার

    অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

    اَشْهَدُ اَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا الله (আশহাদু আল লাইলাহা ইল্লাল্লাহ) ২ বার

    অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

    اَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) ২ বার

    অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।

    حَيَّ عَلَي الصَّلوةِ (হাইয়্যা আলাস সালাহ) ২ বার

    অর্থ: নামাজের দিকে এসো।

    حَيَّ عَلَي الفَلَاحِ (হাইয়্যা আলাল ফালাহ) ২ বার

    অর্থ: কল্যাণের দিকে এসো।

    اَللهُ اَكْبَرْ আল্লাহু আকবার (২ বার)

    অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

    لَا اِلَهَ اِلَّا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ১ বার

    অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

    ইকামতের সময় দুইবার হাইয়া আলাল ফালাহ বলার পর বলতে হবে-

    قَدْ قَامَتِ الصَّلَوة (ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ) ২ বার

    অর্থ: নামাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

  • অপবিত্র জায়গায় ফলানো সবজি খাওয়া কি জায়েজ?

    অপবিত্র জায়গায় ফলানো সবজি খাওয়া কি জায়েজ?

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: হালাল শাক-সবজি অপবিত্র মাটি বা পানিতে জন্মালেও তা হালালই থাকে। তাই ময়লা বা মলমূত্র জমা হয় বা ফেলা হয় এমন পানি বা মাটিতে যদি শাক-সবজি জন্মায়, তাহলে ওই শাক-সবজি হালাল এবং খাওয়া জায়েজ হবে। একইভাবে কোনো ফসলের ক্ষেতে যদি অপবিত্র পানির মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয় বা অপবিত্র কিছু সার হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে ওই ক্ষেতে উৎপন্ন শাক-সবজি খাওয়াও জায়েজ হবে। ইসলামে কোনো খাদ্য হারাম হয় তখনই, যখন তা নিজেই নাপাক বা হারাম বস্তু হয় বা তাতে হারাম কিছু মিশ্রিত হয়। কোনো সবজি যদি অপবিত্র পানি বা মাটিতে জন্মায়, তবুও সেই সবজিতে নাপাক বা হারাম কিছু মিশ্রিত হয় না। কারণ গাছ তার খাদ্য গ্রহণ করে রসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে। পানি বা মাটি দূষিত হলেও, উদ্ভিদ তা শোষণ করে নিজের স্বাভাবিক গঠনে রূপান্তর করে ফেলে আর এতে নাপাকির প্রভাব থাকে না। তবে যদি বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো সবজি অপবিত্র জায়গায় জন্মানোর কারণে দূষিত ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে তা খাওয়া হারাম হবে। অপবিত্র পানি বা মাটিতে জন্মানো শাক-সবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে যেন তাতে নাপাকি লেগে না থাকে। পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য খাবার গ্রহণ অপরিহার্য। নিয়মিত যথাযথ পরিমাণ খাবার গ্রহণ ছাড়া সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে অনেক হালাল ও পবিত্র খাবার সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শুধু পবিত্র ও হালাল খাবার গ্রহণ করতে, অপবিত্র বা হারাম খাবার গ্রহণ না করতে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

    یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ كُلُوۡا مِمَّا فِی الۡاَرۡضِ حَلٰلًا طَیِّبًا وَّ لَا تَتَّبِعُوۡا خُطُوٰتِ الشَّیۡطٰنِ اِنَّهٗ لَكُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ

    হে মানুষ, পৃথিবীতে যা রয়েছে, তা থেকে হালাল পবিত্র বস্তু আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট শত্রু। (সুরা বাকারা: ১৬৮)

    আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা রাসুলকে অনুসরণ করে, তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র ও খারাপ বস্তু তাদের জন্য হারাম করেন। আল্লাহ বলেন,

    اَلَّذِیۡنَ یَتَّبِعُوۡنَ الرَّسُوۡلَ النَّبِیَّ الۡاُمِّیَّ الَّذِیۡ یَجِدُوۡنَهٗ مَکۡتُوۡبًا عِنۡدَهُمۡ فِی التَّوۡرٰىۃِ وَ الۡاِنۡجِیۡلِ یَاۡمُرُهُمۡ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ یَنۡهٰهُمۡ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ یُحِلُّ لَهُمُ الطَّیِّبٰتِ وَ یُحَرِّمُ عَلَیۡهِمُ الۡخَبٰٓئِثَ

    যারা সেই নিরক্ষর রাসূলের অনুসরণ করে চলে যার কথা তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইনজিলে লিখিত পায়, যে মানুষকে সৎ কাজের নির্দেশ দেয় ও অন্যায় কাজ করতে নিষেধ করে, আর সে তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ জায়েজ করে এবং অপবিত্র ও খারাপ বস্তু তাদের জন্য হারাম করে। (সুরা আরাফ: ১৫৭)

  • কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ সম্মান বাড়িয়ে দেন

    কাউকে ক্ষমা করলে আল্লাহ সম্মান বাড়িয়ে দেন

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ভুল-ত্রুটি ও ভালো-মন্দের মিশেলে মানুষের জীবন। কেউ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু কারো ভুলে তার প্রতি ক্রোধ দেখানো, রাগ ঝাড়া, জেদ-উত্তেজনা কিংবা উগ্র-কাতর হওয়া ভীষণ নিন্দনীয়। এসব মানুষকে ছোট করে। আমলনামা থেকে সওয়াব মুছে দেয়।

    বিপরীতে ক্ষমা মানুষের মান-মর্যাদা বাড়ায়। কাউকে ক্ষমা করে একজন সাধারণ মানুষও হয়ে ওঠতে পারেন অসাধারণ মানুষ। ক্ষমাশীল মানুষ সর্বোত্তম ব্যবহারকারী ও ধৈর্যশীল। যিনি উদারপ্রকৃতির, তিনিই ক্ষমাশীল। যাদের এ ধরনের গুণাগুণ রয়েছে, তারা আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামতপ্রাপ্ত। ক্ষমাকারী ধৈর্যবান ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।

    মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। যে অন্যকে ক্ষমা করে তাকেও ভালোবাসেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সম্বরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)

    জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ অন্যের রূঢ় বা কটু কথাবার্তা কিংবা অশোভনীয় আচার-আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন। ফলে একে অপরে মতবিরোধ তৈরি হয়। অনেক সময় মতবিরোধ ও মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আল্লাহ তাআলা মানুষকে আদেশ দিয়েছেন, যেন একে-অপরকে ক্ষমা করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, ক্ষমতাবান।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৯)

    ক্ষমাকারীকে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে পুরস্কার দেবেন। পরস্পরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পন্নকারীও আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর মন্দের প্রতিফল মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপোশ নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৪০)

    ক্ষমা করলে কারও মর্যাদা কমে না। বরং বহু গুণে ক্ষমাশীল ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন করেছেন, সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে, তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)

    উদারতা ও সহিষ্ণুতা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কোমলতা ও হৃদয়ার্দ্রতা মুমিনদের বিশেষ একটি গুণ। আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন সাহাবি মুয়াজ (রা.) ও মুসা (রা.) কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন ও আদেশ দেন, ‘লোকদের প্রতি কোমলতা করবে, কঠোরতা করবে না, তাদের সুখবর দেবে, ঘৃণা সৃষ্টি করবে না। পরস্পর একমত হবে, মতভেদ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৮)

    পরিবারিক, সামাজিক ও জীবনের অন্যান্য পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এমন হলে, মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অন্যকে ক্ষমা করে দেওয়া। পারস্পরিক ভুল-ত্রুটিগুলোকে শুধরে দেওয়া। এতে সম্পর্ক ও বন্ধন আরো মজবুত ও অটুট হয়। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমাশীল হওয়ার তাওফিক দান করুক। আমিন।