Category: ধর্ম

  • আল-জামারায় শয়তানের প্রতীক লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়বেন হাজিরা

    আল-জামারায় শয়তানের প্রতীক লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়বেন হাজিরা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  পবিত্র হজের তৃতীয় দিন আজ। শুক্রবার (৬ জুন) স্থানীয় সময় ভোর হলেই মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন হাজিরা। সেখানে ফিরে আল-জামারায় শয়তানের প্রতীক লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়বেন হাজিরা।

    এরপর হাজিরা পশু কোরবানি করে ফিরবেন মক্কায়। সেই সাথে তাওয়াফ করবেন কাবা ঘর। পরের দু’দিন—১১ ও ১২ জিলহজ পালন করবেন হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (৫ জুন) আরাফাতের ময়দানে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মুজদালিফায় যান হাজিরা। রীতি অনুযায়ী সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করছেন তারা। মধ্যরাত পর্যন্ত ইবাদতের পাশাপাশি শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করেছেন হাজিরা।

    বৃহস্পতিবার (৫ জুন) হজের মূল দিনে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হয়েছিলেন মুসল্লিরা। স্থানীয় সময় দুপুর বারোটায় মসজিদে নামিরায় খুৎবা দেন মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ। কামনা করেন বিশ্বশান্তি। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ জমায়েতে এবছর যোগ দেয়ার সৌভাগ্য হয়েছে ১৫ লাখ মুসল্লির।

  • এ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়েখ ড. সালেহ বিন হুমাইদ

    এ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়েখ ড. সালেহ বিন হুমাইদ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  এ বছর হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়েখ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। ওয়েব পোর্টাল ‘হারামাইন শরিফাইনে’ এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    শায়েখ সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ ১৯৫০ সালে সৌদি আরবের বুরাইদা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ২৫ বছর বয়সে তিনি মক্কার বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামী আইনশাস্ত্রে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

    পরে তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ অনুষদে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামী অর্থনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে-ও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    ড. সালেহ আল হুমাইদ ৩৩ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে মসজিদুল হারামের ইমাম নিযুক্ত হন। সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল ও হাই জুডিশিয়ারি কমিশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

    এখন তিনি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। একই সঙ্গে তিনি সিনিয়র ওলামা কাউন্সিলের সদস্য ও সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বৃহস্পতিবার (৫ জুন)। এদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লি জড়ো হন পবিত্র আরাফাত ময়দানে। প্রার্থনা, কোরআন তিলাওয়াত আর চোখের জলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেন তারা। সবার কণ্ঠে ধ্বনিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

    শুক্রবার সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর অনেক স্থানে ঈদুল আজহা পালিত হবে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে পরদিন উদযাপিত হবে ঈদ।

  • আরাফাতের ময়দান থেকে লাখো মুসল্লির ফরিয়াদ

    আরাফাতের ময়দান থেকে লাখো মুসল্লির ফরিয়াদ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন বৃহস্পতিবার (৫ জুন)। এদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসল্লি জড়ো হন পবিত্র আরাফাত ময়দানে। প্রার্থনা, কোরআন তিলাওয়াত আর চোখের জলে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেন তারা। সবার কণ্ঠে ধ্বনিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

    আরব নিউজ জানিয়েছে, ভোর থেকেই শুরু হয় মুসল্লিদের আগমন। কেউ ওঠেন জাবাল আর-রহমার চূড়ায়, আবার কেউ থাকেন নিচে ছাতা হাতে। এই জায়গাটিই সেই স্থান, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তান থেকে আসা ৩৩ বছর বয়সী হাজী আলি বলেন, ‘প্রতিবছর টিভিতে এটা দেখতাম। ভাবতাম কবে আমি এখানে আসব। অবশেষে তিন বছর পর আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিলেন।’

    এদিন গরম থেকে বাঁচতে অনেকেই সকালেই প্রার্থনা সেরে নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে যান। সৌদি সরকার আগেই সতর্ক করেছে—সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে বের না হতে। কারণ এবার হজের সময় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।

    আরাফাতে বসানো হয়েছে ঠাণ্ডা পানি ছিটানো ফ্যান, কুলিং ইউনিট আর ছায়াযুক্ত জায়গা। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ২ লাখ ৫০ হাজার কর্মী কাজ করছেন। হজের পুরোটা যেন নিরাপদ ও আরামদায়ক হয়, সেজন্য নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা।

    সিরিয়া থেকে আসা ৫৪ বছরের হাজী আদেল বলেন, ‘রোদ ওঠার আগেই আমি আরাফাতে চলে এসেছি। পরে তাঁবুতে গিয়ে নামাজ পড়ব।’

    সূর্যাস্তের পর হাজিরা যাবেন মুজদালিফায়। সেখানে রাত্রিযাপন শেষে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা।

    এরপর ১০ জিলহজ্ব ঈদুল আজহার দিন জামারায় শয়তানকে পাথর মেরে, কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন করবেন তারা। পরে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন।

    সবশেষ ১১ ও ১২ জিলহজ্ব বাকি আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে পবিত্র হজ শেষ করবেন ১৫ লাখের বেশি মুসলিম।

  • সৌদি আরবে পবিত্র হজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে

    সৌদি আরবে পবিত্র হজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে

    ধর্ম  ডেস্ক:  সৌদি আরবে পবিত্র হজের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এরইমধ্যে কাবা শরিফ তাওয়াফে মক্কায় পৌঁছেছেন ১৩ লাখের বেশি মুসল্লি। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো নগরী। হজ পালন নির্বিঘ্ন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আগামী বুধবার মিনার উদ্দেশে রওনা দেয়ার মাধ্যমে শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ বছর হজ পালন করবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৮ লাখ মুসল্লি।

    নানা প্রান্তের লাখো মুসল্লির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে পবিত্র নগরী মক্কা। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত পবিত্র কাবা শরীফ। মসজিদুল হারামে তাওয়াফের পাশাপাশি চলছে গুনাহ মাফের প্রার্থনা।

    আল্লাহর দরবারে হাজির হতে পেরে আবেগাপ্লুত মুসল্লিরা। নিজ দেশের পাশাপাশি দোয়া করছেন গাজাবাসীর শান্তির জন্যও।

    এবার হজ পালন করবেন প্রায় ১৮ লাখ মুসল্লি। এরমধ্যে সমুদ্র পথে গিয়েছেন ৫ হাজার ৮৮ জন। বেশিরভাগই সৌদি গিয়েছেন আকাশ পথে। প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি মুসল্লি ইন্দোনেশিয়ার।

    নিরাপত্তাসহ হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে চেষ্টার কমতি নেই সৌদি সরকারের। ব্যবহার করা হয়েছে এআই’সহ উন্নত প্রযুক্তি। গরম থেকে বাঁচতে ৫০ হাজার বর্গ মিটার এলাকায় ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুল সদস্য।

    ৮ জিলহজ মিনায় শুরু হবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা । তবে, আগের রাত থেকেই সাধারণত মিনার উদ্দেশে, মক্কা ছাড়তে শুরু করেন মুসল্লিরা।

    বুধবার সারাদিন মিনায় অবস্থান শেষে পরদিন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন মুসল্লিরা। আরাফাতে অবস্থানকে মূল হজ বিবেচনা করা হয়। সেখান থেকে মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন শেষে শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন হাজিরা। ১০ জিলহজ্ব ইদুল আজহার দিন জামারাতে শয়তানকে পাথর মেরে, কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন করবেন। এরপর, কাবা শরীফ বিদায়ী তাওয়াফ করবেন তারা। ১১ ও ১২ জিলহজ বাকি আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে হজ শেষ করবেন লাখো মুসল্লি।

  • ঐক‍্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    ঐক‍্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক : যতো বাধাই আসুক ঐক‍্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (৩১ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের পর দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।‌ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ করেন এবং আন্দোলনে আহতদের সুস্থতা কামনা করেন ড. ইউনূস।
    দেশের বিভিন্ন জায়গায় নামাজে অংশ নেয়া মুসল্লি, প্রবাসী শ্রমিক ও নারীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে,‌ সব প্রতিকূলতার সত্ত্বেও সেই ঐক্য অটুট রাখতে হবে। সেই সঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি ও বাধা সত্ত্বেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
    ড. ইউনূস আরব বলেন, যারা আত্মত্যাগ করেছেন, যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য আত্মহুতি দিয়েছেন, বেঁচে থাকলেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না, তাদের স্মরণে আমরা যেন মুনাজাত করি আল্লাহর কাছে, আমরা অবশ্যই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবই। শত বাধা সত্ত্বেও। যত বাধাই আসুক, আমরা ঐকবদ্ধ জাতি হিসেবে এই নতুন বাংলাদেশ গঠন করব ইনশা আল্লাহ। এই মুনাজাতটা আপনারা সকলে মিলে একসঙ্গে করবেন।
    এরপর সবাইকে ধন্যবাদ ও আবারও ঈদ মোবারক জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্য শেষ করেন।
    জাতীয় ঈদগাহে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে দুই ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিরা রাজধানীর হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন।

  • পবিত্র লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ধর্মপ্রাণ মুসলমান

    পবিত্র লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ধর্মপ্রাণ মুসলমান

    ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত মহিমান্বিত, হাজার মাসের তুলনায় উত্তম।

    এই রাতেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন। তাই পবিত্র এই রাতে আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন মুসল্লিরা। নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার ও দোয়ায় রাতটি অতিবাহিত করেন তারা।

    এ উপলক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

    আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। অর্জন করা যায় তার অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত।

    আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সেই রাতে ফেরেশতারা ও রুহ (জিবরাঈল আ.) তাদের রবের হুকুমে কল্যাণময় সব বিষয় নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন। এটি শান্তিময় রাত, যা সুবহে সাদিক পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা কদর ৩-৫)

    নবী (সা.) বলেন—  ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে পূর্ণ বিশ্বাস ও সওয়াব লাভের আশায় ইবাদত করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহও মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি ২০১৪)