Category: ধর্ম

  • সুদের টাকা মসজিদে দান করা নিয়ে ইসলামে যা বলে

    সুদের টাকা মসজিদে দান করা নিয়ে ইসলামে যা বলে

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ঋণের বিনিময়ে সুদ গ্রহণ করা জুলুম ও গুরুতর পাপ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে সুস্পষ্টভাবে সুদ হারাম ঘোষণা করেছেন। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা: ২৭৫) আরেক জায়গায় তাআলা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তাআলাকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট রয়েছে তা বর্জন করো যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। আর যদি তোমরা তা না করো তাহলে আল্লাহ তাআলা ও তার রাসুলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। (সুরা বাকারা: ২৭৮, ২৭৯)

    আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুদের সাথে সম্পৃক্ত চার প্রকারের লোককে সমানভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন। জাবির ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তারা বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লানত করেন সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তিকে। তারা হচ্ছে, সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও সুদের সাক্ষীদ্বয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, তারা সবাই সমপর্যায়ের দোষী। (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)

    সুতরাং মুসলমানদের জন্য সুদের লেনদেনে জড়িত থাকা হারাম। সুদের টাকা ভোগ করা অর্থাৎ নিজের খাওয়া-পরাসহ যে কোনো কাজে ব্যবহার করা হারাম। সুদের অর্থ কোনোভাবে হাতে এসে গেলে তা সুদাদাতাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে ওই টাকা সওয়াবের নিয়ত না করে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে দিতে হবে। মসজিদ নির্মাণ বা ব্যবস্থাপনায় অবৈধ সম্পদ বা হারাম সম্পদ ব্যয় করা হারাম। এতে মসজিদকে অপবিত্র করা হয়। তাই সুদের টাকা মসজিদে দান করা যাবে না।

    মসজিদ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা মুসলমানদের দায়িত্ব, যা শুধু মুসলমানদের অর্থে এবং হালাল উপায়ে উপার্জিত অর্থে সম্পন্ন করা আবশ্যক। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে, নামাজ কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সুরা বাকারা: ১৮)

  • চিন্তামুক্ত থাকার জন্য যে দোয়া করবেন

    চিন্তামুক্ত থাকার জন্য যে দোয়া করবেন

    ধর্ম ডেস্ক : দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়। ঘুম ভেঙে উঠেই একরাশ দুশ্চিন্তা চেপে বসে মাথায়। সারা দিন অফিসের কাজে মানসিক চাপ আরও বাড়ে। চাকরি, স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা রকম দুশ্চিন্তা লেগেই থাকে। কিছুতেই মন শান্ত হতে চায় না। এই উদ্বেগ, দুশ্চিন্তার কারণে রাতে যেমন ঠিকমতো ঘুম হয় না, তেমনই দিনভর অশান্তি, উৎকণ্ঠা কাজ করে মনে। মনকে চিন্তামুক্ত রাখতে অনেকেই অনেক ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এজন্য উপযোগী টিপসগুলো মেনে চলা উচিত। একইসঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তার কাছে দোয়া করা উচিত। এখানে একটি দোয়া তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করবেন।

    চিন্তামুক্ত থাকার দোয়া-

    حَسْبِيَ اللهُ لا إله إلا هو عَليه تَوَكّلْتُ وهو رَبُّ الْعَرشِ العَظِيْمِ

    উচ্চারণ : হাসবিয়্যাল্লা-হু লা-ইলাহা ইল্লা-হুওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়াহুওয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।

    অর্থ : আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, তার প্রতি ভরসা করেছি, তিনি মহান আরশের অধিপতি।

    দোয়ার ফজিলত

    হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল বিকাল সাতবার সত্য দিলে (অর্থাৎ আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রেখে) এই দোয়া পড়বে, অথবা ফজিলতের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া এমনিই দোয়াটি পড়বে, আল্লাহ তায়ালা তাকে (দুনিয়া আখিরাতের) সব ধরনের চিন্তা থেকে হেফাজত করবেন। (আবু দাউদ)

    আল্লাহর ওপর ভরসা

    বিপদ-আপদ এবং যেকোনো মুহূর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনতো তারাই যাদের হৃদয় কম্পিত হয়, যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর আয়াত তাদের কাছে তেলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের প্রতিপালকের উপরেই নির্ভর করে’ ( সুরা আনফাল, আয়াত, ২)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা ঈমান আনে ও তাদের প্রতিপালকেরই উপর নির্ভর করে।’ (সুরা, নাহল, আয়াত : ৯৯)

    অন্যত্র আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং তাদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে।’ ( সূরা নাহল, আয়াত : ৪২)

    কোরআনের অন্যত্র আরও বর্ণিত হয়েছে ‘মুমিনদের জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা উচিৎ।’ ( সুরা ইবরাহীম, আয়াত, ১১)

    আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তিনিই বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান, বান্দার আর কিছুর প্রয়োজন হয় না। এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য বেরোনোর পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে জীবিকা দেন যা সে ভাবতেও পারে না। আর যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তিনি তার জন্য যথেষ্ট হন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার কাজ চূড়ান্তকারী। অবশ্যই আল্লাহ প্রত্যেক কাজের জন্য একটা পরিমাপ ঠিক করে রেখেছেন।’ (সুরা, তালাক, আয়াত : ২-৩)।

  • ভুলবশত গিবত করে ফেললে যা করণীয়

    ভুলবশত গিবত করে ফেললে যা করণীয়

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : ইসলামে গিবত অর্থাৎ পেছনে সমালোচনা, দোষচর্চা অত্যন্ত গর্হিত পাপ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা গিবত করতে নিষেধ করেছেন এবং এটাকে মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার মতো গর্হিত কাজ বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

    یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اجۡتَنِبُوۡا كَثِیۡرًا مِّنَ الظَّنِّ ۫ اِنَّ بَعۡضَ الظَّنِّ اِثۡمٌ وَّ لَا تَجَسَّسُوۡا وَ لَا یَغۡتَبۡ بَّعۡضُكُمۡ بَعۡضًا اَیُحِبُّ اَحَدُكُمۡ اَنۡ یَّاۡكُلَ لَحۡمَ اَخِیۡهِ مَیۡتًا فَكَرِهۡتُمُوۡهُ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ اِنَّ اللّٰهَ تَوَّابٌ رَّحِیۡمٌ

    হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাক। নিশ্চয় কোন কোন অনুমান গুনাহের কাজ। আর তোমরা অন্যের দোষ খোঁজাখুঁজি করো না করো না এবং একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু। (সুরা হুজুরাত: ১২)

    গিবত কাকে বলে?

    গিবত কাকে বলে তা আমরা আল্লাহর রাসুলের (সা.) হাদিস থেকে জানতে পারি। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একদিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আপনারা কি জানেন, গিবত কাকে বলে? সাহাবিরা বললেন, আল্লাহ ও তার রাসুল ভালো জানেন। রাসুল (সা.) বললেন, আপনার ভাই যা অপছন্দ করে, তা তার অনুপস্থিতিতে আলোচনা করাই গিবত। এক সাহাবি বললেন, যদি আমি এমন কোনো দোষের কথা বলি যা তার মধ্যে আছে, তাহলেও কি গিবত হবে? রাসুল (সা.) বললেন, আপনি যে দোষের কথা বললেন, তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তো তা গিবত হলো। আপনি যদি এমন কিছু বলেন যা তার মধ্যে নেই, তাহলে তো আপনি তাকে অপবাদ দিলেন! (সহিহ মুসলিম)

    কারো গিবত করে ফেললে কী করবেন?

    ১. নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

    ২. যে ব্যক্তির গিবত করেছেন, তাকে গিবত করার কথা জানিয়ে ক্ষমা চাওয়া সম্ভব হলে ক্ষমা চান। তবে যদি ক্ষমা চাইতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়ার ভয় থাকে, তার ভুল বোঝা ও সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে, তাহলে তার কাছে ক্ষমা চাওয়াার প্রয়োজন নেই।

    ৩. যার গিবত করেছেন তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। এটা গিফতের কাফফারা হতে পারে ইনশাআল্লাহ।

    ৪. যাদের সামনে গিবত করেছেন, তাদের সামনে ওই ব্যক্তির প্রশংসা করুন। এটাও গিবতের কাফফারা হতে পারে ইনশাআল্লাহ।

    গিবত শোনা থেকেও বিরত থাকতে হবে

    গিবত করা যেমন গুনাহের কাজ, গিবতকারীর কথা চুপচাপ শোনাও গুনাহের কাজ। তাই গিবত শোনা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কেউ গিবত করা শুরু করলে তাকে নিষেধ করতে হবে, নসিহত করতে হবে, তারপরও সে বিরত না হলে ওই মজলিস ত্যাগ করা ওয়াজিব। বিখ্যাত তাবেঈ সাইদ ইবনে জুবাইর (রহ.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি কোনো গিবতকারীকে তার কাছে বসতে দিতেন না। মুসা ইবনে ইবরাহিম বলেন, একদিন আমি মারুফ কারখির (রহ.) মজলিসে বসে ছিলাম। সেখানে এক ব্যক্তি আরেকজন সম্পর্কে কথা বলতে বলতে গিবত করা শুরু করলো। মারুফ কারখি (রহ.) তাকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললেন, ওই সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন তোমার চোখে তুলা দেওয়া হবে। (হিলয়াতুল আওলিয়া)

  • সুখবর এলে কোন দোয়া পড়বেন?

    সুখবর এলে কোন দোয়া পড়বেন?

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: ভালো-মন্দ সব ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয় একজন মানুষকে। সবগুলোই আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য পরীক্ষা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অবশ্যই কোনো না কোনো দিক থেকে স্বস্তি রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, অবশ্যই প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অন্য দিকে স্বস্তি আছেই।’ (সূরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত : ৫-৬)

    আনন্দের মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা উচিত। রাসুল (সা.) আনন্দের কোনো কিছু দেখলে বলতেন-

    الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ

    উচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাযি বিনিমাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত’।

    অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার নেয়ামতের মাধ্যমে ভালো কাজগুলো সম্পন্ন হয়।

    আর যখন কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন তখন বলতেন-

    الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহমদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল।’

    অর্থ : সব প্রশংসা সব অবস্থায় মহান আল্লাহর জন্য।

    আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) যখন কোনো পছন্দনীয় কিছু দেখতেন তিনি (উল্লিখিত প্রথম) দোয়াটি পড়তেন। আর যখন কোনো অপছন্দনীয় কিছু দেখতেন তিনি (উল্লিখিত দ্বিতীয়) দোয়াটি পড়তেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর : ৩৮০৩)

  • নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে গেলে পাওয়া যায় পুরস্কার

    নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে গেলে পাওয়া যায় পুরস্কার

    ধর্ম ডেস্ক: ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করার জন্য জামাত শুরু হওয়ার আগে যত আগেভাগে সম্ভব মসজিদে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। নবিজি (সা.) এ ফজিলত লাভের চেষ্টা করতে উৎসাহ দিয়েছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষ যদি আজান ও প্রথম কাতারের সাওয়াবের কথা জানতো এবং লটারি ছাড়া তা লাভের কোন উপায় না থাকতো তবে তারা এর জন্য লটারি করতো। যদি নামাজে দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ফজিলত মানুষ জানতো, তবে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করতো। ইশা ও ফজরের সওয়াব যদি তারা জানতো, তবে তারা এ দুই নামাজের জন্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসতো। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

    মসজিদে আগে উপস্থিত হলে প্রথম কাতারে বসা, জামাতে প্রথম থেকেই শরিক থাকা, নফল আদায় করা যায়, কুরআন তেলাওয়াত করাসহ অনেক আমল ও সওয়াবের কাজের সুযোগও পাওয়া যায়। এ ছাড়া মুমিন ব্যক্তি যতোক্ষণ নামাজের অপেক্ষায় বসে থাকে, তা নামাজের ভেতরে থাকাই গণ্য হয় এবং সওয়াব লেখা হতে থাকে। তাই মসজিদে নামাজের জন্য আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা সবারই করা উচিত। তবে কেউ যদি জামাত শুরু হওয়ার আগে মসজিদে উপস্থিত হতে না পারে, সে মসজিদে পৌঁছার আগেই নামাজ শুরু হয়ে যায়, তাহলে রাকাত ধরার জন্য তাড়াহুড়ো করা, ছুটতে ছুটতে মসজিদের দিকে যাওয়া ঠিক নয়। নবিজি (সা.) এ রকম তাড়াহুড়ো, ছোটাছুটি করতে নিষেধ করেছেন।

    আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জামাত শুরু হয়ে গেলে আপনারা তাড়াহুড়া করে আসবেন না। বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে আসুন, শান্ত থাকুন। স্বাভাবিকভাবে এসে যত রাকাত পাবেন তা পড়ে নেবেন আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করে নেবেন। (সহিহ বুখারি)

    প্রখ্যাত তাবেঈ হাসান বসরি (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, একদিন হজরত আবু বকরা (রা.) মসজিদে এসে আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুকুতে পেলেন। রুকু ধরার জন্য তিনি কাতারে না পৌঁছেই রুকু করলেন, তারপর আগে বেড়ে কাতারে শামিল হলেন। নবিজি (সা.) নামাজ শেষ করে বললেন, আপনাদের মধ্যে কে কাতারে পৌঁছার আগেই রুকু করেছেন এবং পরে আগে বেড়ে কাতারে শামিল হয়েছেন? আবু বকরা (রা.) বললেন, আমি। নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ আপনার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন। তবে সামনে থেকে এ রকম আর করবেন না। (সুনানে আবু দাউদ)

    তাই নামাজের জামাত শুরু হওয়ার আগেই যেন মসজিদে উপস্থিত হওয়া যায়, সেই চেষ্টা থাকা সবার উচিত। কিন্তু কোনো কারণে সেটা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে শেষ মূহূর্তে জামাত বা রাকাত ধরার জন্য ছোটাছুটি করা, তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। স্বাভাবিকভাবে এসে যত রাকাত পাবেন তা পড়ে নেবেন আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করে নেবেন।

  • পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আমল

    পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আমল

    ধর্ম ও জীবন ডেস্ক: মুখোমুখি হতে হয়। পরীক্ষা মানেই টেনশন। মহান আল্লাহ পৃথিবীতে প্রেরণই করেছেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য। তাই তো পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে জন্মের পর থেকেই মহান আল্লাহ বান্দাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ইহকালীন পরীক্ষা কিছুটা সহজ। পরকালীন পরীক্ষা ততটা সহজ নয়; এজন্য সব সময় প্রস্তুত থাকা। আর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়া নবীদের শিক্ষা। যার পরীক্ষার প্রস্তুতি যতো ভালো তার পরীক্ষাও ততো ভালো হয়। পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা অবশ্যই রাখতে হবে। তার কাছে সাহায্য চাইতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে দুই রাকাত ‘সালাতুল হাজত’ পড়ে মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হওয়া যেতে পারে। কারণ নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন ‘সালাতুল হাজত’ বা প্রয়োজন পূরণের নামাজ পড়তেন। (আবু দাউদ: ১৩১৯)

    পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার দোয়া

    পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর যাতে আপনার স্মরণশক্তি ভালো থাকে তার জন্য এই দোয়াটি পড়তে থাকুন । এর ফলে আপনার স্মরণশক্তি ঠিক থাকবে। আপনি যা পড়ে এসেছেন মনে থাকবে।

    স্মরণশক্তি বৃদ্ধির দোয়া

    رَبِّىْ زِدْنِىْ عِلْمًا উচ্চারণ: রব্বি জিদনি ইলমা। অর্থ: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দেন।

    পরীক্ষা ভালো হওয়ার আমল

    পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। গুছিয়ে লেখা শিখতে হবে। যারা ভালো ছাত্র তাদের পরীক্ষার খাতা সংগ্রহ করে তাদের লেখার ধরন শিখতে হবে। সর্বোপরি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

    পরীক্ষা ভালো করার ৫ দোয়া

    ১. رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا উচ্চারণ: রব্বি জিদনি ইলমা। অর্থ: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দেন। (সুরা তহা: ১১৪)

    ২. رَبِّ ٱشْرَحْ لِى صَدْرِى وَيَسِّرْ لِىٓ أَمْرِى وَٱحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِى يَفْقَهُوا۟ قَوْلِى উচ্চারণ: রব্বিশ রাহলী সদরী ওয়া ইসসিরলী আমরী, ওয়াহলুল ওক্বদাতাম মিল লিসানি ইয়াফক্বাহু কওলি। অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দেন, আমার কাজ সহজ করে দেন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দেন, যাতে লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে। (সুরা তহা: ২৫-২৮)

    ৩. اللَّهُمَّ أَيِّدْني بِرُوحِ الْقُدُسِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আইয়িদনি বেরুহিল কুদুস। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করুন। (বুখারি: ৪৫৩; মুসলিম: ২৪৮৫)

    ৪. اللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي، وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي، وَزِدْنِي عِلْمًا وأعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْ حَالِ أهْلِ النَّار উচ্চারণ: আল্লাহুম্মানফা-নি বিমা আল্লামতানি, ওয়া আল্লিমনি মা ইয়ানফাউনি ওয়া জিদনি ইলমা, ওয়া আউজুবিল্লাহি মিন হালি আহলিন নারি। অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে আপনি যা শিখিয়েছ, তা দিয়ে আমাকে উপকৃত করুন, আমার জন্য যা উপকারী হবে, তা আমাকে শিখিয়ে দেন এবং আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দেন এবং আমি জাহান্নামিদের অবস্থা থেকে হেফাজতের জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। (তিরমিজি: ৩৫৯৯; ইবনে মাজাহ: ২৫১)

    ৫. رَبِّي يَسِّرْ وَلاَ تُعَسِّرْ وَتَمِّمْ بِالْخَیْر উচ্চারণ: রব্বি ইয়াসসির ওয়ালা তুআসসির ওয়াতাম্মিম বিল খাইর অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আপনি সহজ করে দেন, কঠিন করবেন না এবং কল্যাণের সঙ্গে সমাপ্ত করে দেন। (বায়হাকি কুবরা: ৭০০৩, ১১২৯৯)