Category: ধর্ম

  • অতিশয় বৃদ্ধের রোজা রাখার নিয়ম

    অতিশয় বৃদ্ধের রোজা রাখার নিয়ম

    ধর্ম ডেস্ক: যেসব নারী-পুরুষ অতিশয় বার্ধক্যের কারণে দুর্বল বা অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় উপনীত, তাদের জন্য রোজা না রাখা বৈধ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, তাহলে অন্যান্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।

    আর যাদের জন্য তা কষ্টকর হবে, তাদের কর্তব্য ফিদিয়া তথা একজন দরিদ্রকে খাবার প্রদান করা। অতএব, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত সৎ কাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হবে। আর সিয়াম পালন তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩-১৮৪)

    মাসআলা : রোজা রাখতে অক্ষম বৃদ্ধ ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া আদায় করবেন।

    (কামুসুল ফিকহ : ৪/৪৫০)

    বৃদ্ধের সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া হয়েছে, এই পরিমাণ বৃদ্ধ যে তার মধ্যে একেবারে ক্ষমতা নেই এবং মৃত্যুর নিকটবর্তী পৌঁছে গেছে, বয়সের কোনো সীমা নেই। শক্তি থাকা এবং না থাকাটাই বিবেচ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত রোজা রাখতে পারে যদিও না কি কষ্টের সঙ্গে হয়, রোজা রাখবে। কাজা রোজা ধারাবাহিকভাবে রাখা প্রয়োজন নেই।

    পৃথক করে রাখবে ফিদিয়া দেওয়া ওই সময় পর্যন্ত যথেষ্ট নয়; যতক্ষণ পর্যন্ত একেবারে রোজা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে না ফেলে, কোনোভাবেই রোজা রাখতে পারে না।

    রোজার ফিদিয়ার পরিমাণ

    রোজার ফিদিয়া হচ্ছে, একজন মিসকিনকে দুই বেলা ভরপেট খাবার খাওয়ানো। মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের বেশির ভাগ আলেমের মতে, খাদ্যদানের মাধ্যমে রোজার ফিদিয়া আদায় করবে।

    তবে হানাফি মাজহাব মতে, খাবারের পরিবর্তে প্রতি রোজার জন্য সদকাতুল ফিতর পরিমাণ দ্রব্য বা মূল্য দিলেও ফিদিয়া আদায় হয়ে যাবে।

    সদকাতুল ফিতিরের পরিমাপ হলো এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম, আটা বা তার মূল্য অথবা তিন কেজি ২৭০ গ্রাম জব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ বা তার মূল্য গরিবকে দান করা।

    (রদ্দুল মুহতার : ৫/১৪৪)

    মাসআলা : ফিদিয়া আদায় করার পর সুস্থ হলে ভাঙা রোজাগুলো কাজা করতে হবে। আগের ফিদিয়া প্রদান যথেষ্ট হবে না। তবে ফিদিয়া আদায়ের কারণে তার সওয়াব আমলনামায় থেকে যাবে।

    (রদ্দুল মুহতার : ৩/৪৬৫)

    মাসআলা : ফিদিয়া আদায় করার মতো কোনো সম্পদ না থাকলে তাওবা-ইস্তিগফার করবে। সেই সঙ্গে এই নিয়ত রাখা যে ‘আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা দান করলে ফিদিয়া আদায় করে দেব।’ অসচ্ছল অবস্থায় মারা গেলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। কারণ সাধ্যের বাইরে বান্দার ওপর আল্লাহ কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৪৯, আপকে মাসায়েল : ৪/৬০২)

    মাসআলা : প্রশ্নÑরমজান মাসের ফিদিয়ার টাকা যদি রমজান আসার আগেই অগ্রিম দেওয়া হয়, তাহলে কি ঠিক হবে?

    উত্তর : রমজান শুরু হওয়ার আগে ফিদিয়া দেওয়া ঠিক নয়। রমজান শুরু হওয়ার পর দেবে। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর বাকি সামনের দিনের ফিদিয়াও একসঙ্গে দিতে পারবে। এর বিপরীতে সদকায়ে ফিতর রমজান মাস আসার আগেও দেওয়া বৈধ; বরং কয়েক বছরের সামনের ফিতরও দিতে পারবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৪৩৬)

    মাসআলা : জাকাতযোগ্য খাতে ফিদিয়া দিতে হবে।

    (রাদ্দুল মুহতার : ২/৭৯, ৮৫৪)

    মাসআলা : ফিদিয়ার অর্থ কোনো এতিমখানায় প্রদান করা যাবে। নাবালেগ নিঃস্ব এতিমের পেছনে ব্যয় করার জন্য তার অভিভাবককে অর্থ দেওয়া জায়েজ আছে।

    (ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম : ৬/২৫৮, রাদ্দুল মুহতার : ২/৮৫)

  • পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত

    পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত

    ধর্ম ডেস্ক: পুরো রমজান মাস জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। তবে নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন হলো রহমত; তার দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত; এর শেষ ১০ দিন হলো নাজাত। আজ শনিবার (২২ মার্চ) দিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রমজানের শেষার্ধ নাজাত’এর দশক।

    এই নাজাতের দশকে এমন একটি রাতের কথা বলা হয়েছে, যেই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কারণ, এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে পবিত্র কোরআন নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জানো, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর: ১-৩)

    পরবর্তী ২৩ বছরে বিভিন্ন সূরা বা সূরার অংশবিশেষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ হয়।

    ‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

    তবে মর্যাদার রাতটি পাওয়া এতো সহজ নয়। কঠিন কিন্তু ঈমানদারগণ যদি নেক দিলে ইবাদাত করে, মহান আল্লাহ অবশ্যই পুরস্কার দিবেন।

    এ রাতটি রমাযানের শেষ দশকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’’ (বুখারী : ২০২০; মুসলিম : ১১৬৯)

    মহিমান্বিত এ রাতকে আল্লাহ তাআলা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে সুপ্ত রেখেছেন। তিনি এটাকে সুনির্দিষ্ট করেননি। রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে এ রাতের অনুসন্ধান করতে বলেছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।’ (বুখারি: ২০১৭)

    পবিত্র কোরআনের অন্য স্থানে এ রাতকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ১৯০১)

    মূলত, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এই পাঁচ বেজোড় রাতে যদি পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে কোন বান্দা মহান আল্লাহ’র সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করেন, তাহলে সেই বান্দার ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম হিসেবে মালিক আল্লাহ গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে প্রথম বিজোড় রাত অর্থাৎ ২১ মার্চ (শুক্রবার দিবাগত রাত) শেষ, বাকি ৪ রাতে খুঁজতে হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। যার মানে, ২৩ মার্চ (রোববার দিবাগত রাত), ২৫ মার্চ (মঙ্গলবার দিবাগত রাত), ২৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) এবং ২৯ মার্চ (শনিবার দিবাগত রাত)-এই ৪টি রাতই মমিনদের জন্য হাজার রাতের থেকে উত্তম রাত খোঁজার মোক্ষম সময়।

    মালিক আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, যেই বান্দা সৎ নিয়তে এবং সৎভাবে সালাত পড়ে এই রাতের সন্ধান করবে, তোর জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।

    ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যা বলেছেন, সত্য বলেছেন’

  • রাসুল (সা.) যাদের রমজান মাসে সতর্ক করেছেন

    রাসুল (সা.) যাদের রমজান মাসে সতর্ক করেছেন

    অনলাইন ডেস্ক : রমজান মাস আমল-ইবাদত ও ক্ষমা প্রার্থনার মাস। এ মাসে মহান আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন। হাদিসে শরিফে যারা এ মাস পেয়ে ক্ষমা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
    মালিক বিন হাসান (রহ.) তাঁর পিতামহ থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা রাসুল (সা.) মিম্বারে আরোহন করেন। প্রথম ধাপ অতিক্রম করে তিনি আমিন বলেন। এরপর দ্বিতীয় ধাপ অতিক্রম করেও আমিন বলেন। এরপর তিনি তৃতীয় ধাপ অতিক্রম করে আমিন বলেন। অতঃপর বলেন, ‘আমার কাছে জিবরাইল (আ.) এসে বলেছে, হে মুহাম্মদ, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার গুনাহ মাফ হয়নি আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন। আমি বললাম, আমিন। যে ব্যক্তি মা-বাবা বা তাদের কাউকে পাওয়ার পরও জাহান্নামে গেল আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন। আমি বললাম, আমিন। যে ব্যক্তির কাছে আপনার নাম উল্লেখ করা হলো এরপরও সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করেনি আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন। এরপর তিনি (জিবরাইল) বলেন, আপনি আমিন বলুন। তখন আমি বললাম আমিন।’ (তাবরানি, হাদিস : ২০২২)
    অন্য হাদিসে এসেছে,
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হলো কিন্তু সে আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না। ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে রমজান মাস পেল। অতঃপর তাকে ক্ষমা করার আগেই তা অতিবাহিত হয়ে গেল।
    ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক যে মা-বাবাকে বা তাদের কাউকে বার্ধক্যে পেয়েছে। কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)

  • ইসলাম শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে

    ইসলাম শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে

    ধর্ম ডেস্ক : সমাজের সম্মানিত মানুষদের মধ্যে শিক্ষকরা অন্যতম। কেননা শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। এই মেরুদণ্ড দণ্ডায়মান রাখার কাজটি শিক্ষকরাই করে থাকেন। তাঁরা আমাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন। আমাদের জীবন আলোকিত করেন। তাঁদের একেক ফোঁটা ঘাম আমাদের চলার পথের আলোকবর্তিকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তাঁরা নিজেকে জ্বালিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করেন। ইসলাম তাঁদের বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

    রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শেখো। এবং তাঁকে সম্মান করো, যাঁর থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন করো।’ (আল-মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৬১৮৪)। শিক্ষকতার পেশা সম্মানিত হওয়ার আরেকটি কারণ রাসুল (সা.) নিজেই ছিলেন একজন শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৯)। আবার সমাজ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিলে, তা নিশ্চয়ই সমাজে বিপর্যয় ডেকে আনে। বিস্কুট বানানোর ছাঁচে ত্রুটি থাকলে যেমন তা দিয়ে তৈরি করা বিস্কুটগুলো ত্রুটিযুক্ত হবে। তেমন কোনো শিক্ষক নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে ফেললে তার প্রভাব তার ছাত্রদের মধ্যে পড়বে। তাদের মধ্যেও অনৈতিকতার চর্চা হবে স্বাভাবিক বিষয়।

  • ঝগড়া-বিবাদ ধ্বংস বয়ে আনে

    ঝগড়া-বিবাদ ধ্বংস বয়ে আনে

    প্রত্যেক মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমান। ঈমানের পর তাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো একতা। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দল-উপদলে বিভক্ত না হয়ে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর রজ্জুকে (অর্থাৎ তাঁর দ্বিন ও কিতাবকে) দৃঢ়ভাবে ধরে রাখ এবং পরস্পরে বিভেদ কোরো না। আল্লাহ তোমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ রাখ। একটা সময় ছিল, যখন তোমরা একে অন্যের শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহকে জুড়ে দিলেন। ফলে তাঁর অনুগ্রহে তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিল। আল্লাহ তোমাদের (ইসলামের মাধ্যমে) সেখান থেকে মুক্তি দিলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথে চলে আস।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)  মুমিনরা যত দিন মহান আল্লাহর এই আদেশ পালন করবে, তত দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে মদদ আসবে। আল্লাহর রহমত তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যদি তা না হয়, তবে দুনিয়ায় তারা দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে তাদের ওপর বিজয় লাভ করবে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর কলহ কোরো না, অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধারণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৪৬) আর আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং তোমরা সেই সব লোকের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি আসার পরও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল। এরূপ লোকদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৫) তাই মুমিনের উচিত সব ক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বিনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করা। আল্লাহকে ভয় করা। কারণ মহান আল্লাহ সবার মনের অবস্থা জানেন।

  • দারুল আরকাম ছিল মুসলমানদের আশ্রয়স্থল

    দারুল আরকাম ছিল মুসলমানদের আশ্রয়স্থল

    ধর্ম ডেস্ক: দারুল আরকাম মানে আরকামের ঘর। ঘরটির অবস্থান ছিল মক্কার সাফা পাহাড়ের কাছে। সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে সাঈ করার সময় বাড়িটির দরজার সামনে দিয়ে যেতে হতো। আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরের সময় পর্যন্ত বাড়িটি অবিকৃত ছিল। এর পর আল-আরকামের এক প্রৌত্র আবদুল্লাহ ইবনে উসমান কারাগার থেকে মুক্তি পেতে তাঁর ভাগের অংশ খলিফা মনসুরের কাছে ১৭ হাজার দিনারে বিক্রি করে দেন। খলিফা মনসুরের পর খলিফা মাহদী এ বাড়ি দান করেন। তিনি বাড়িটির পুরোনো কাঠামো সংস্কার করেন। এভাবে বেশ কিছু হাত বদল হয়ে যুগে যুগে বাড়িটির পরিবর্তন সাধিত হতে থাকে। ধীরে ধীরে এক সময় বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

    ইসলামের সংকটপর্বে দারুল আরকাম ছিল রাসুল (সা.) ও মুসলমানদের আশ্রয়স্থল। সেটি হয়ে উঠেছিল ওহি নাজিলেরও অন্যতম স্থান। বাসাটির মালিক ছিলেন আল-আরকাম ইবনে আবিল আরকাম (রা.)।

    দারুল আরকাম বা আরকামের বাড়ির কথা উল্লেখ না করে ইসলামের প্রথম পর্যায়ের ইতিহাস আলোচনা করা সম্ভব নয়। ইসলামের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ বাড়ির ভূমিকা অনন্য। নবুয়তের প্রথম দিকে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা ও ইবাদতের নিয়মনীতি এখানে শেখানো হতো। সে সময় অল্প যে কজন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরা এ বাসায় রাসুল (সা.)–এর সঙ্গে মিলিত হতেন। উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এ বাড়িতে ইসলামের ঘোষণা দেন।

    আল-আকরামের জন্ম ৫৯৭ খ্রিষ্টাব্দে। জাহেলি যুগের আরবে তিনি বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। ইসলামপূর্ব যুগে রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর নেতৃত্বে মক্কায় ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে যে কল্যাণ সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আরকাম ছিলেন তাঁর অন্যতম সদস্য। তাঁর দাদা ছিলেন মক্কার একজন নেতা।

    আরকাম (রা.) ১১–১২ জনের পরই ইসলাম গ্রহণ করেন। মুসলিমদের অবস্থা সে সময় সংকটজনক। মক্কার অবিশ্বাসীরা চাচ্ছিল, শক্তি অর্জনের আগেই ইসলামের আন্দোলনটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে।

    আরকাম (রা.)–এর ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর বাড়িটি মুসলিমদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পরিণত হয়। রাসুল (সা.) এখানে ইসলামে আসা নতুন মুসলমানদের সঙ্গে একত্র হয়ে বৈঠক করতেন। রাসুল (সা.) ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে এখান থেকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন।

    উমর (রা.) ইসলাম গ্রহণের পর ঘর থেকে বেরিয়ে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত ও শিক্ষাদান শুরু হয়। মুসলমানরা আরকামের বাসা থেকে বের হয়ে মসজিদে হারামে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়েন। আবু বকর (রা.) কাবা প্রাঙ্গণে উপস্থিত কুরাইশদের সম্বোধন করে ইসলামের দাওয়াত তুলে ধরতেই আবু বকরের ওপর তারা হামলা করেছিল। এভাবে মক্কায় প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সূচনা।

    নবুয়তের ১৩তম বছরে মক্কার অন্য মুসলমানদের সঙ্গে আল-আরকাম (রা.) মদিনায় হিজরত করেন। এর পর মদিনায় স্থায়ীভাবে থাকার সময় মক্কার ঐতিহাসিক এই বাড়িটি সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করে যান।

    আল-আরকাম (রা.) বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এ যুদ্ধের জন্য রাসুল (সা.) তাঁকে ‘আল-মারজুবান’ নামের একটি তলোয়ার দিয়েছিলেন। সততা ছিল আরকাম (রা.)–এর চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। রাতের ইবাদতের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আকর্ষণ।

    ৮৩ বছর বয়সে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাঁর জানাজা পড়ান। মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।