Category: প্রচ্ছদ

  • রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ অনুরোধ জানান।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জানান যে নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।

    মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন। তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সাথে, তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

    জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরফান্ড এর ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম-কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পসমূহে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও, তিনি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।

    বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর চমৎকার ভূমিকার প্রশংসা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করছে।

    রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

    নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করেন যে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে।

    সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • বিদেশে কর্মী পাঠাতে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না: আরিফুল হক

    বিদেশে কর্মী পাঠাতে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না: আরিফুল হক

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।

    আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

    মন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কি করবে।

    রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হবে।

    প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    আরিফুল হক বলেন, অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত শ্রমিকরা ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে।

    তিনি বলেন, শ্রমবাজার খুললে সেটি হবে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত। অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

    প্রবাসীদের জন্য একটি ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীরা এ কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধা পাবেন।

    মন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।  ‘এটি আমার অন্যতম অঙ্গীকার। যদি এই খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারি, তাহলে নিজেকে সফল মনে করব না,’ বলেন তিনি।

    সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে আরিফুল হক বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

    তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী

    আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা।

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই আমরা বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

    মঙ্গলবার রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    অর্থ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।

    তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করছে। এ কারণে সরকার ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রী বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ প্রদান, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘জিডিপি শুধু শিল্প-কারখানা থেকে আসে না। সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কারুশিল্পসহ সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ যাতে দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।

    ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

    পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই পেশাদার ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হবে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো সহজে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

    ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।

  • অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে ইতালিয়ান মিডফিল্ডার

    অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে ইতালিয়ান মিডফিল্ডার

    বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের শক্তিশালী দলে ইতালি অনূর্ধ্ব-২১ দলের ক্রিস্টিয়ান ভোলপাতোকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন অস্ট্রেরিয়ান কোচ টনি পোপোভিচ। গত সপ্তাহে ইতালির পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন ভোলপাতো। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করেন।

    ২২ বছরন বয়সী এই এ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিডনিতে। সিরি-এ ক্লাব সাসৌলোর হয়ে তিনি খেলেছেন। এবারের বিশ্বকাপ দলে দুজন নতুন মুখ অন্তর্ভূক্ত করেছেন টনি। তার মধ্যে ভোলপাতো একজন। অপরজন হলেন জাপান ভিত্তিক স্ট্রাইকার তেতে ইয়েনগি।

    অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাট রায়ান। লা লিগা মৌসুমে লেভান্তের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন রায়ান। এটা তার চতুর্থ বিশ্বকাপ। একইসাথে ক্যারিয়ারে চার নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন মেলবোর্ন সিটি ফরোয়ার্ড ম্যাথিউ লেকি।

    প্রথমবারের মত বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ১৭জন খেলোয়াড়।

    পোপোভিচ বলেন, ‘এখানে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যেহেতু টুর্নামেন্টটা বিশ্বকাপ। সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের যারা গত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে দীর্ঘায়িত ও কঠিন অনুশীলন ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রম করেছে।’

    ইনজুরি আক্রান্ত মিডলসব্রো মিডফিল্ডার রিলে ম্যাকগ্রি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় ভোলপাতোর শেষ মুহূর্তের অন্তর্ভূক্তি অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।

    টানা ষষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ-ডি’তে তুরষ্ক, প্যারাগুয়ে ও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে।

    স্কোয়াড :
    গোলরক্ষক : প্যাট্রিক বিচ, পল ইজো, ম্যাথিউ রায়ান

    ডিফেন্ডার : আজিজ বেহিচ, জর্ডান বস, ক্যামেরুন বার্গেস, আলেসান্দ্রো সিরকাটি, মিলোস ডিগেনেক, জেসন গেরিয়া, লুকাস হেরিংটন, জ্যাকব ইটালিয়ানো, হ্যারি সুটার, কেই ট্রেউইন

    মিডফিল্ডার : ক্যামেরুন ডেভলিন, আডিন রাস্টিক, জ্যাকসন ইরভিন, কনর মেটকাফে, এইডেন ও’নীল, পল ওকোন-ইংস্টেলার

    ফরোয়ার্ড : নেস্ত্রয় ইরানকুন্ডা, ম্যাথিউ লেকি, আয়ার মাবিল, মোহাম্মদ টুরে, নিশান ভেলুপিল্লাই, ক্রিস্টিয়ান ভোলপাতো, তেতে ইয়েনগি।

  • আয়কর বিভাগে নিয়োগপ্রত্যাশীদের থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়: এনবিআরের সতর্কবার্তা

    আয়কর বিভাগে নিয়োগপ্রত্যাশীদের থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়: এনবিআরের সতর্কবার্তা

    আয়কর বিভাগে চাকরিপ্রত্যাশীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে সক্রিয় কতিপয় প্রতারকচক্র থেকে সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

    আজ (সোমবার) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এনবিআরের শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান থাকলেও কিছু অসাধু ব্যক্তি ও চক্র অভিনব কৌশলে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মিথ্যাচারের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই এ চক্রের মূল উদ্দেশ্য।

    এতে আরও বলা হয়েছে, জনসচেতনার উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই মর্মে সকলকে আশ্বস্ত করছে যে, আয়কর বিভাগের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতপূর্বক যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও আয়কর বিভাগের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কর্তৃক যোগ্য প্রার্থীগণ নির্বাচিত হবেন।

    আয়কর বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ সংগ্রহকারী কোন দুষ্ট চক্রের তথ্য পেলে তা সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার অফিসকে অথবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা, টেলিফোন নম্বর ০২-২২২২১৭৭৭৭, ইমেইল: ঢ়ৎড়@হনৎ.মড়া.নফ অবহিত করতে আহ্বান জানিয়েছে এনবিআর।

    সেইসঙ্গে, ভবিষ্যতে এ  ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য চাকরিপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছে আয়কর বিভাগ।

  • পিকআপ-সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

    পিকআপ-সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

    চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছবোঝাই পিকআপের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. বাহাদুর আলম (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    এসময় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত বাহাদুর মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহিদা ঘোনার বাসিন্দা।

    তিনি চট্টগ্রামে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

    সোমবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পিএবি সড়কের মনছুরিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন- মহেশখালীর আবুল বশরের ছেলে মো. নোমান (৩৫), মোজাম্মেল হকের মেয়ে মনি বেগম (২৪), চকরিয়ার বদরখালীর আবুল হোসেনের ছেলে মো. হেলাল (২৩)।

    বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. আসরার উল্লাহ নূরী বলেন, আহত ৪ জনকে হাসপাতালে আনা হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বাসস’কে বলেন,অটোরিকশায় যাত্রী নিয়ে চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বাঁশখালী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দু’টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।