Category: প্রচ্ছদ

  • ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজীকরণে সুনামগঞ্জে সচেতনতামূলক সেমিনার

    ভূমি ব্যবস্থাপনা সহজীকরণে সুনামগঞ্জে সচেতনতামূলক সেমিনার

    জেলায় ‘জনবান্ধন অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ এ প্রতিপাদ্যে জনসচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভূমি মেলা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

    সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

    অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পালের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়েশা আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল।

    ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা কর্মপরিকল্পনা ও নাগরিকদের জন্য ভূমি সেবা সহজীকরণসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করা হয়।

    এ সময় বক্তারা বলেন, ভূমি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এ সেমিনারে শিক্ষক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • শেরপুরে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেলেন ২৫ জন তরুণ-তরুণী

    শেরপুরে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশে চাকরি পেলেন ২৫ জন তরুণ-তরুণী

    জেলায় শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২৫ তরুণ-তরুণী।

    এই চাকরি পেতে অনলাইনে আবেদন ফি ছাড়া অন্য কোনো টাকা পয়সা খরচ হয়নি। জেলা পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ইতিবাচক আলোচনা।

    গতকাল সোমবার রাত ৯টায় শেরপুর পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে আনুষ্ঠানিকভাবে টিআরসি নিয়োগ কার্যক্রমের সকল ইভেন্টে কৃতকার্য প্রার্থীদের লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নাম এবং ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম।

    এসময় শতভাগ মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় উত্তীর্ণ প্রার্থী ও অভিভাবকরা আবেগাপ্লুত হয়ে হয়ে পড়েন।

    এরপর চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ কনস্টেবল প্রার্থীদের শেরপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান পুলিশ সুপার এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম।

    এসময় তিনি উত্তীর্ণ সকলকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দেশসেবার ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে কাজ করার আহ্বান জানান।

    ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআরসি নিয়োগ বোর্ডের সম্মানিত সদস্য হিসেবে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোরশেদা খাতুন, নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ হাসান বাদলসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকতা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, শেরপুর জেলার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ২৫ জনের শূন্য পদের বিপরীতে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং শেষে ২ হাজার ১৯২ জন প্রার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেন। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ৩৯৩ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং লিখিত পরীক্ষায় ৮৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন। পরে চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৩ জন নারী ও ২২ জন পুরুষসহ মোট ২৫ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং ৫ জনকে রাখা হয় অপেক্ষমান তালিকায়।

  • ৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করল রাশিয়া

    ৩ দিনের পারমাণবিক মহড়া শুরু করল রাশিয়া

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলা জোরদার ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের প্রাক্কালে রাশিয়া মঙ্গলবার তিন দিনের পারমাণবিক অস্ত্র মহড়া শুরু করেছে। এতে দেশজুড়ে হাজার হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে।

    ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা অভিযানের পুরো সময়জুড়ে মস্কো নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে বারবার এসব অস্ত্র ব্যবহারের হুমকিও দিয়েছে। মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি ভেঙে পড়ার কয়েক মাস পর এই মহড়া শুরু হলো। এর পাশাপাশি সম্প্রতি পুতিনও রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন।

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘১৯ মে থেকে ২১ মে ২০২৬ পর্যন্ত রুশ ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক শক্তির প্রস্তুতি ও ব্যবহারের বিষয়ে মহড়া পরিচালনা করছে।’

    গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিউ স্টার্ট চুক্তির সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ নানা বিধিনিষেধ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত হয়ে যায়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মহড়ায় ৬৫ হাজারের বেশি সেনা এবং সাত হাজার ৮০০ ধরণের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে।

    মহড়ায় যুদ্ধবিমান, জাহাজ, সাবমেরিন ও পারমাণবিক সাবমেরিন অংশ নেবে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও করা হবে।

    তারা জানায়, ‘বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্রের যৌথ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়গুলোও এই মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

    রাশিয়া তাদের মিত্র বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তঘেঁষা অবস্থানে রয়েছে বেলারুশ।

    পুতিনের দুই দিনের চীন সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মস্কো এই মহড়ার ঘোষণা দেয়।

  • দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের

    দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের

    পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. পল কাপুরের বৈঠকে এ আলোচনা হয়। গতকাল (সোমবার) এ আলোচনা হয়েছে বলে আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

    এ সময় উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি একাধিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সহযোগিতা জোরদার ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে দু’দেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।

  • আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

    আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে : তথ্যমন্ত্রী

    সাংবাদিক, মালিক ও সংবাদপত্র কর্মচারী সকল পক্ষের স্বার্থ নিশ্চিত করতে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে একটি যুগোপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে।

    এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিচার করার কাজ করবে এই কমিশন।

    আজ সকালে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদপত্রের ওয়েজবোর্ড এবং গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঠিক সময়ে বেতন না দেওয়া বা অপেশাদার আচরণ থেকে তাদেরকে রক্ষা করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়াটাও আমাদের কাজ।’

    তিনি জানান, সাংবাদিক ও মালিকপক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিতে সুনির্দিষ্ট ও গোছানো আইনি কাঠামো তৈরি করতে আমরা কাজ করছি। আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা ও কমিশন গঠন করা হবে, যাতে সব পক্ষের স্বার্থ নিশ্চিত হয়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে মিথ্যা মামলার পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা ও এর মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। প্রচলিত আইনে এ ধরনের তৎপরতাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সুনির্দিষ্ট ধারা না থাকায় ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা অনেক সময় ভিন্ন আইন ব্যবহার করছেন। প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পর এই আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (বৈদ্যুতিক) বাস আমদানিতে সর্বোচ্চ উৎসাহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) সুবিধায় এই বাসগুলো আনতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস চালু হলে ৫০ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবককে আলাদা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে না, যা যানজট ও দূষণ কমাবে। গণপরিবহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য কত সিটের বাস শুল্কমুক্ত আনা যাবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও নীতিমালা তৈরির বাস্তবায়ন কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা গণহত্যার পক্ষে বা পাকিস্তানের পক্ষে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছিল, সেই অপরাধকে কি আমরা আজ পর্যন্ত গণমাধ্যম আইনের আওতায় আনতে পেরেছি? পারিনি। কিন্তু তাই বলে কি তা অপরাধ নয়? আপনাদের সকলের সহযোগিতায় কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে এই সকল অপরাধকে মূর্তমান করে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে।’

  • ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে কাজ করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

    তিনি আজ সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যে কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।

    মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যে কোনো দুর্যোগে তাদের পেশাদারি মনোভাব, সাহস, ত্যাগ ও সেবামূলক কার্যক্রম জাতির আস্থা অর্জন করেছে। সকল দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে প্রথম ছুটে যাওয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত’ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের কাছে  একটি গর্বের বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে আমাদের দেশ প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভূমিধস, ভবনধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। রয়েছে ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কাও। এ পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভূমিকা দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সে কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা-সুবিধা সৃষ্টি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভলান্টিয়ারসহ সরকারের অন্যান্য সেবা সংস্থার সাথে তাদের কার্যকর সমন্বয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে এ বাহিনী সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় আমরা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছি। ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

    তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১শটি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। অতি সম্প্রতি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা-সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে  অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম চলতি বছরের পহেলা মে থেকে চালু করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সবকিছু  পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

    তিনি বলেন, এ বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মিরপুরে তাদের সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজও চলমান। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’এবং ফ্রেশ মানির বিষয়ে চাহিদা রয়েছে। তা আমরা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো।

    তিনি বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি জানতে পেরেছি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০২৫ সালে ২৭,০৫৯টি আগুন নেভানোর কাজ করে ৩,২৬৩.৬২ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬’র উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

    পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ারফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন, ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন।

    মন্ত্রী বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০জন সহ মোট ৮৪ জন।