Category: লাইফস্টাইল

  • শীতে কোনটা ব্যবহার করবেন, গ্লিসারিন নাকি জেলি?

    শীতে কোনটা ব্যবহার করবেন, গ্লিসারিন নাকি জেলি?

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: শীতের ঠান্ডা বাতাসে ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, ফলে দেখা দেয় রুক্ষতা, খোসা ওঠা আর টানটান অস্বস্তি। বাজারে নানান ময়েশ্চারাইজার থাকলেও এ সময় গ্লিসারিন ও পেট্রোলিয়াম জেলিই অনেকের ভরসার নাম। তবে প্রশ্ন হলো শীতে ত্বকের আসল সঙ্গী কোনটি? আর্দ্রতা টেনে আনে গ্লিসারিন, নাকি আর্দ্রতা লক করে রাখা জেলি? চলুন জেনে নেওয়া যাক কোনটি আপনার ত্বকের জন্য উপযোগী-

    পেট্রোলিয়াম জেলি

    পেট্রোলিয়াম জেলি মূলত ‘অক্লুসিভ’, এটি ত্বকের ওপর এমন একটি প্রাকৃতিক আবরণ তৈরি করে, যা ত্বকের ভেতরের পানি বের হতে বাধা দেয়। আর্দ্রতা ধরে রাখায় এটি প্রায় ৯৯ শতাংশ কার্যকর।

    এর মূল কাজ-

    *ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতাকে ভেতরেই আটকে রাখে।

    *খুব শুকনো অংশে (যেমন কনুই, হাঁটু, গোড়ালি) দ্রুত আরাম দেয়।

    *ফাটা ঠোঁট বা ছাল ওঠা জায়গায় অসাধারণ কাজ করে।

    *একজিমা বা সংবেদনশীল অংশে সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে।

    *ত্বকে হালকা আঠালো অনুভূতি থাকে, যা শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।

    যাদের জন্য উপযোগী-

    *অত্যন্ত শুষ্ক, রুক্ষ ও পানি শূন্য ত্বক।

    *ফাটা ঠোঁট, ফাটা গোড়ালি।

    *একজিমা বা চর্মরোগে ভোগা মানুষ।

    *যারা ত্বকে বাধা স্তর তৈরি করতে চান।

    গ্লিসারিন

    গ্লিসারিন হলো একটি শক্তিশালী ‘হিউমেকট্যান্ট’, এটি পরিবেশ থেকে আর্দ্রতা টেনে এনে ত্বকে যোগ করে। হালকা ভেজা ত্বকে ব্যবহার করলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

    এর মূল কাজ-

    *পরিবেশের আর্দ্রতা শোষণ করে ত্বকে পৌঁছে দেয়।

    *ত্বককে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল করে।

    *তেলচিটে ভাব ছাড়াই আর্দ্রতা যোগায়।

    *ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ।

    *দ্রুত শোষিত হয়, ত্বককে মসৃণ রাখে।

    যাদের জন্য উপযোগী-

    *নর্মাল থেকে হালকা শুষ্ক ত্বক।

    *ব্রণপ্রবণ ত্বক।

    *যারা হালকা ও তেলমুক্ত অনুভূতির ময়েশ্চারাইজার পছন্দ করেন।

    *শীতের মাঝামাঝি সময় যখন বাতাস তুলনামূলক আর্দ্র থাকে।

    খুবই শুকনো আবহাওয়ায় (যেমন হিমেল বাতাস বা কম আর্দ্রতা) গ্লিসারিন কখনও কখনও ত্বকের ভেতরের পানিও টেনে নিতে পারে, ফলে উল্টো ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই খুব রুক্ষ আবহাওয়ায় গ্লিসারিন একা ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে সর্বোচ্চ উপকার পেতে চাইলে গ্লিসারিন ও পেট্রোলিয়াম জেলি একসঙ্গে ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর। একে বলে, ‘স্কিন লেয়ারিং মেথড’।

  • ঠান্ডায় কানে যন্ত্রণা হলে করণীয়

    ঠান্ডায় কানে যন্ত্রণা হলে করণীয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: শীত আসতেই কমবেশি সবাই সর্দি-কাশির সমস্যায় ভুগছেন। ঠান্ডার সমস্যায় কানেও প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণা হয় অনেকেরই। তবে বেশিরভাগ সময়ই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ফলে কানে হঠাৎ যন্ত্রণা বা ব্যথা হতে পারে। আবার তরল জমা ও প্রদাহের কারণে কানে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। হঠাৎ এমন ব্যথা হলে কী করবেন তা না জানায় আক্রান্তরা প্রচণ্ড কষ্ট পান। ঘরোয়া উপায়ে মুহূর্তেই কানের প্রচণ্ড যন্ত্রণা কমাতে পারবেন। জেনে নিন কানের সংক্রমণ রোধের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার-

    আদার ব্যবহার

    আদায় প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে। ব্যথা কমাতে কানের চারপাশে আদার রস বা এর সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে হালকা গরম করে ব্যবহার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন কানের ভেতরে যেন আদার রস না ঢ়ুকে।

    অলিভ অয়েল

    আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের পরামর্শ অনুযায়ী, অলিভ অয়েল হালকা গরম করে দু’ এক ফোঁটা কানের মধ্যে নিলে ব্যথা দ্রুত সেরে যায়। সেক্ষেত্রে অবশ্যই তেল ঠান্ডা করে নিতে হবে।

    টি ট্রি অয়েল

    টি ট্রি অয়েলে আছে অনেক গুণ। টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য থাকে। যা কানের সংক্রমণের চিকিৎসায় সাহায্য করে। এক্ষেত্রে কানের চারপাশে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করুন। তবে অ্যালার্জি থাকলে এই তেল ব্যবহার করবেন না।

    রসুন

    রসুন কানের সংক্রমণের প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। রসুনে থাকে অ্যালিসিন নামক উপাদান। যা ফাইটোকনস্টিটিউয়েন্ট। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে। এটি কানের সংক্রমণ রোধ করে। কাঁচা রসুন খেলে কানের ব্যথা সেরে যায়। যদি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেন তাহলে রসুন খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • শিশুর হাতে স্মার্টফোন দিয়ে দেওয়ার ক্ষতিকর দিক জানুন

    শিশুর হাতে স্মার্টফোন দিয়ে দেওয়ার ক্ষতিকর দিক জানুন

    অনলাইন ডেস্ক:      এখনকার অধিকাংশ শিশুর হাতে স্মার্টফোন থাকে। যদিও স্মার্টফোন শিশুদের নিরাপদ রাখা এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সুবিধা প্রদান করতে পারে, তবুও বিজ্ঞান বলে যে খুব অল্প বয়সে স্মার্টফোন দেওয়া শিশুর জন্য বেশ কিছু সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    পেডিয়াট্রিক্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১২ বছর বয়সের আগে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করে তাদের স্থূলতা, বিষণ্ণতা এবং ঘুমের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদিও গবেষণাটি এই সমস্যাগুলোর জন্য সরাসরি স্মার্টফোনের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেনি, তবে এটি স্পষ্টভাবে একটি সম্পর্ক দেখায়।

    মার্কিন কিশোর মস্তিষ্কের বিকাশ (ABCD) গবেষণায় ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১০,০০০ এরও বেশি শিশু-কিশোরের ওপর দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই গবেষণায় ১২ বছর বয়সে প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করা শিশুরা তাদের ফোন না থাকা সমবয়সী শিশুদের তুলনায় ৩০% বেশি বিষণ্ণতা, ৪০% বেশি স্থূলতা এবং ৬০% বেশি ঘুমের অভাবের সম্মুখীন হয়।

    গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যারা অল্প বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং ঘুমের স্বাভাবিক রুটিনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষত ১২ বছর বয়সের আগে ফোন ব্যবহার শুরু করার কারণে শিশুদের মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক বিকাশে বাধা তৈরি হয়।

    গবেষণার প্রধান লেখক জানিয়েছেন যে, ১২ এবং ১৬ বছর বয়সী শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও মানসিক অবস্থা একে অপর থেকে ভিন্ন। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মধ্যে স্থূলতা বাড়িয়ে দেয়, কারণ তারা ভিডিও দেখা, গেম খেলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় কাটায়, যা তাদের শারীরিক গতিশীলতা কমিয়ে দেয়।

    এছাড়া, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার ফলে অতিরিক্ত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    বিষণ্ণতা সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, ১২ বছর বয়সের আগে যারা স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার হার বেশি (৬.৫%)। এর কারণ হতে পারে, অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা, সাইবার বুলিং-এর শিকার হওয়া এবং সামাজিক আলোচনা থেকে বাদ পড়ার অনুভূতি।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ১২ বছর বয়সে প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করা শিশুদের ঘুমের মান খারাপ হয়ে যায়। স্ক্রিন টাইম এবং নীল আলো রাতে মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয়, যার ফলে ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হয়। এই ঘুমের সমস্যা, বিষণ্ণতা এবং স্থূলতার সমস্যা একে অপরকে আরও তীব্র করে তোলে।

    এভাবে, গবেষণাটি দেখায় যে, ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে ফোন ব্যবহার শুরু করলে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য এবং ঘুমের মান খারাপ হতে পারে, এমনকি যারা কখনো ফোন ব্যবহার করেনি তাদের তুলনায় এই সমস্যা আরও বড় হয়ে ওঠে।

  • শীতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন নেওয়ার আহ্বান

    শীতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন নেওয়ার আহ্বান

    অনলাইন ডেস্ক:   দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে সুরক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্মকর্তারা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ডা. শেখ সাইদুল হক বাসস’কে বলেন, ‘শীতকালে নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাঁপানির আক্রমণ ও সাধারণ সর্দি কাশির মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এটি বিশেষ করে, ছোট শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে গুরুতর হতে পারে।

    তিনি চলাফেরা ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শীতজনিত রোগ থেকে সুরক্ষায় এ সব সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ডিজিএইচএস কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, শীতকালীন রোগ থেকে বাঁচতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, বয়স্ক নাগরিক এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও সিওপিডি’র মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা শীত মৌসুমে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

    শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, কম প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শ শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়েন্টের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও রক্তচাপের ওঠানামা বেড়ে যেতে পারে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে ভোরবেলা বা সন্ধ্যায় শিশুদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় উষ্ণ পোশাক পরানো এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। কারণ এটি মৌসুমি ভাইরাস ছড়ানো কমাতে সহায়তা করে।এ ছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে। এর পাশাপাশি ফল, শাকসবজি ও উষ্ণ তরলসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    এই ধরনের পুষ্টিকর খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে জানান তারা।চিকিৎসকরা নবজাতকদের ঠান্ডা বাতাসে না নেওয়ার এবং ঘরের ভেতর পরিবেশ উষ্ণ রাখার পাশাপাশি ঘরে যথাযথভাবে বায়ু চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখারও সুপারিশ করেছেন।বয়স্কদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ— উষ্ণ কাপড়, মোজা ও টুপি ব্যবহার করে ঠান্ডাজনিত জটিলতা এড়ানো উচিত।

    এ ছাড়াও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভোর বেলার কুয়াশায় ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে, রাতে কম্বল বা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে, শরীর গরম রাখতে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং উষ্ণ তরল, ভেষজ চা ও সুষম খাবার গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন।চিকিৎসকরা দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যথাসময়ে ওষুধ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

    এ দিকে স্থানীয় ক্লিনিক ও কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলো বিশেষ করে, গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।এই সব এলাকায় উষ্ণ পোশাক ও যথাযথ আবাসন সুবিধা সীমিত।স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা পানি শূন্যতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে, তাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া উচিত।

  • আটা মেখে ফ্রিজে রেখছেন? জানুন এর ঝুঁকি

    আটা মেখে ফ্রিজে রেখছেন? জানুন এর ঝুঁকি

    অনলাইন ডেস্ক:    অনেকেই সময় বাঁচাতে আগে থেকেই বেশি আটা মেখে রেখে দেয়। তবে এই অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফ্রিজে রাখা ময়দা ধীরে ধীরে এমন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় যা স্বাদ ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

    বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন, ফ্রিজ ময়দা ঠান্ডা রাখলেও গাঁজন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। ইস্ট ধীরে ধীরে কাজ করতে থাকে, যার ফলে কার্বন ডাই–অক্সাইড এবং অ্যাসিড তৈরি হয়। এ কারণেই পুরোনো ময়দায় আলাদা গন্ধ আসে এবং স্বাদ কখনও টক বা তিতা লাগে।

    ব্যাকটেরিয়া ও হজমের সমস্যা

    ময়দা ২৪ ঘণ্টার বেশি রেখে দিলে অতিরিক্ত গাঁজনের ফলে গ্লুটেন ভাঙতে শুরু করে। গ্লুটেন কমে গেলে ময়দা আঠালো ও ভারী হয়ে যায়, আর রুটি শক্ত ও ঘন হয়। পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ময়দা খেলে পেটের সমস্যা, বদহজম, গ্যাস, অম্বল ও পেটফাঁপা হতে পারে।

    কমে যায় পুষ্টিগুণও 

    দীর্ঘসময় সংরক্ষিত ময়দায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ দ্রুত কমে যায়। এই ময়দার রুটি খিদে মেটালেও পুষ্টিমূল্য কম থাকে।  বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পুরোনো ইস্টমেশানো ময়দার স্টার্চ দ্রুত ভেঙে যায়। এর ফলে রক্তে চিনির মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা গ্লুকোজ–সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    ময়দা নিরাপদে সংরক্ষণের উপায়—

    • ময়দা ফ্রিজে রাখার সময় বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার করুন।
    • ময়দার ওপরে পাতলা তেলের প্রলেপ দিন, এতে শুকিয়ে যাবে না।
    • ময়দা বেশিক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রাখবেন না, মেখে নেওয়ার পরই ফ্রিজে রাখুন।
    • সম্ভব হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।
    • বেশি দিন রাখতে চাইলে ময়দা ছোট ছোট ভাগ করে ফ্রিজে রাখুন।
  • টিপ পড়ছেন? টিপের আঠায় হতে পারে চর্মরোগ

    টিপ পড়ছেন? টিপের আঠায় হতে পারে চর্মরোগ

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: বাঙালি নারীদের সাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো টিপ। শাড়ি হোক বা সালোয়ার, একটা টিপ না পরলে যেন সাজ সম্পূর্ণ হয় না। কপালে ছোট্ট একটা টিপ পুরো সাজকে বদলে দিতে পারে। তবে টিপ কেনার সময় দেখেশুনেই কিনতে হবে। কারণ টিপের আঠায় এমন কিছু রাসায়নিক থাকে যা থেকে চর্মরোগের আশঙ্কা বাড়ে। এমনটাই জানিয়েছেন ভারতীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গীতিকা শ্রীবাস্তব। এছাড়া ‘ বিন্দি লিউকোডার্মা’ নিয়ে সতর্ক করছেন।

    ত্বকের জন্য বিপজ্জনক টিপের আঠা

    টিপের আঠায় ‘পি-টার্শিয়ারি বিউটাইল ফেনল’ নামে এক ধরনের রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘ সময় ত্বকের সংস্পর্শে থাকলে সেখানকার মেলানোসাইট কোষ নষ্ট করে দেয়। মেলানোসাইট কোষে থাকা মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ, যা ত্বকের রং নির্ধারণ করে। মেলানোসাইট নষ্ট হতে থাকলে, ত্বকের স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে যায়। তখন সেখানে র‌্যাশ হয়ে দাগ পড়তে পারে। এমনকি ফোসকা পড়ে। ত্বকের এই সমস্যাগুলো লিউকোডার্মা বলা হয়। অনেক সময়ে শ্বেতির মতো চর্মরোগও দেখা দিতে পারে। এছাড়া টিপের আঠার কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। টিপের আঠার স্পর্শে ত্বক লাল হয়ে যায়, চুলকাতে থাকে, জ্বালা করে, জায়গায় জায়গায় ফুলে যায়। এটিকে কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বলা হয়। এছাড়া অ্যালার্জির সমস্যাও হতে পারে।

    যা করবেন

    ১. আঠা দেওয়া টিপের পরিবর্তে কুমকুম ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে উদ্ভিজ্জ বা খনিজ রঞ্জক পদার্থ দিয়ে তৈরি টিপ পরতে পারেন।

    ২. টিপ পরার পর যদি ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালা শুরু হয় তাহলে টিপ পরা বন্ধ করে দিতে হবে।

    ৩. নতুন কোনো টিপ পরার আগে কনুইয়ের কাছে বা কানের পেছন দিকে লাগিয়ে রাখুন, অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হলে সেই টিপ না পরাই ভালো।

    ৪. আঠা লাগানো টিপ বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না। টিপ তোলার পরে ত্বকে লেগে থাকা আঠা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।