Category: লাইফস্টাইল

  • ভ্রমণে ব্যাগ গোছানোর ৭টি সহজ টিপস

    ভ্রমণে ব্যাগ গোছানোর ৭টি সহজ টিপস

    অনলাইন ডেস্ক:     যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায় সুযোগ পেলে অনেকেই কোথাও বেড়াতে বেরিয়ে পড়েন। গন্তব্য দূরে বা কাছে যেখানেই হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে একটি হলো ব্যাগ গোছানো। সঠিকভাবে জামাকাপড় ও অন্যান্য জিনিস না রাখলে তা নষ্ট হতে পারে এবং যাত্রাপথে অসুবিধা তৈরি হয়। তাই বেড়াতে যাওয়ার আগে কীভাবে ব্যাগ গোছালে আপনার কাজ কিছুটা কমবে ও যাত্রাপথে অসুবিধা লাঘব হবে জেনে নিন-

    ১. ব্যাগে কাপড় ও অন্যান্য জিনিস গুছিয়ে রাখা খুব জরুরি। এলোমেলো ভাবে রাখলে ব্যাগ ভরে গেলেও প্রয়োজনীয় জিনিস দেখা যাবে না এবং বহন করতেও অসুবিধা হবে। তাই সবকিছু নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে রাখা উচিত।

    ২. ব্যাগ গোছানোর আগে একটি তালিকা তৈরি করে নিলে ব্যাগ গুছাতে সুবিধা হবে। । টুথব্রাশ, ওষুধ সহ প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আগে লিখে রাখুন। এরপর সেই অনুযায়ী ব্যাগে জিনিসগুলো গোছান। এতে অতিরিক্ত জিনিস নেওয়া এড়ানো যায় এবং সবকিছু সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।

    ৩. অল্প জায়গায় বেশি কাপড় গোছানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো রোল পদ্ধতি। শার্টের স্লিভগুলো মুখ নিচু করে নিচ থেকে উপরের দিকে রোল করুন। প্যান্টের ক্ষেত্রে পা এক সঙ্গে রেখে কোমর থেকে নিচে রোল করুন। জুতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিস স্যুটকেসের একপাশে রাখুন।

    ৪. বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গে সেখানকার স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার মতো বিষয় জড়িয়ে থাকে তাহলে কম জামাকাপড় নিন। এতে ফেরার পথে অতিরিক্ত ব্যাগও হবে না আর আপনার সঙ্গের ব্যাগটিও হালকা থাকবে।

    ৫. সম্ভব হলে প্যাকিং করার সময় অর্গানাইজার ব্যবহার করুন। বর্তমানে নানা ধরনের অর্গানাইজারের চাহিদা অনেক। এতে ব্যাগের মধ্যে জিনিসগুলো ভাগ করে রাখা সহজ হয় এবং প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়াতেও কোনো সমস্যা হয় না।

    ৬. স্যুটকেস বা ব্যাগ যদি চাকাযুক্ত হয়, তবে ভারী জিনিসপত্র যেমন জুতা বা বই নিচের দিকে রাখুন। এটি ব্যাগকে সোজা রাখে এবং জিনিসপত্র এলোমেলো হওয়া থেকে রক্ষা করে।

    ৭. বেড়াতে যাওয়ার সময় বা ফেরার পথে যদি কোনো জিনিস ভেজা থাকে, তবে তা আগে শুকিয়ে নিন। কারণ ভেজা জিনিস অন্য জিনিসও ভিজিয়ে দিতে পারে এবং ব্যাগ ভারী হয়ে যাবে। কখনোই ভেজা জিনিস ব্যাগে রাখবেন না। এছাড়া তরল জিনিস যেমন লোশন বা শ্যাম্পু প্লাস্টিক প্যাকেটে মুড়িয়ে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

  • আপেলের বীজ কতটা বিষাক্ত? চিবিয়ে খেলে কী হতে পারে?

    আপেলের বীজ কতটা বিষাক্ত? চিবিয়ে খেলে কী হতে পারে?

    অনলাইন ডেস্ক:       আপেল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিতে ভরপুর এই ফলকে অনেকেই বলেন ‘পাওয়ার হাউজ’। তবে নিয়মিত আপেল খাওয়া স্বাস্থ্যকর হলেও এর বীজ চিবিয়ে খাওয়া বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপিয়ান জার্নাল অব বায়োমেডিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, আপেলের বীজে থাকে অ্যামিগডালিন নামের একটি যৌগ।

    বীজ চিবিয়ে ফেললে এই যৌগ ভেঙে তৈরি হয় হাইড্রোজেন সায়ানাইড, যা উচ্চমাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত। তবে বীজ গিলে ফেললে এই ঝুঁকি নেই। কারণ বীজের শক্ত খোলস ভাঙে না, ফলে অ্যামিগডালিন সক্রিয় হয় না।

    বিপদ হতে হলে বীজকে চূর্ণ করা বা চিবানো জরুরি। গবেষণা বলছে, একটি আপেলে সাধারণত ৫-৮টি বীজ থাকে এবং প্রতিটি বীজে ১-৪ মিলিগ্রাম অ্যামিগডালিন পাওয়া যায়। চিবিয়ে খেলে এর একটি অংশ সায়ানাইডে রূপ নেয় ঠিকই, তবে পরিমাণ এত কম যে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয় না। মানবদেহ অল্পমাত্রার হাইড্রোজেন সায়ানাইড সহজেই নিষ্ক্রিয় করতে পারে। তাই ১-২টি বীজ ভুল করে চিবিয়ে ফেললে চিন্তার কোনো কারণ নেই।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকি তৈরি হতে গেলে ১০০-২০০টির মতো বীজ চিবিয়ে খেতে হবে, যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। তাই দৈনন্দিন জীবনে আপেলের বীজ নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভুলবশত বীজ গিলে ফেললে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।

    বীজ হজম না হয়ে স্বাভাবিকভাবেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। তাদের শরীর সংবেদনশীল, তাই বীজ চিবানো থেকে বিরত রাখা উচিত। আপেল পুষ্টিকর ও নিরাপদ একটি ফল। এর বীজ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। অল্প কয়েকটি বীজ চিবিয়ে ফেললেও সাধারণত কোনো ক্ষতি হয় না। বিপদের জন্য প্রয়োজন অস্বাভাবিকভাবে অনেক বেশি বীজ চিবানো, যা বাস্তবে ঘটে না। তাই নিশ্চিন্তে আপেল খান, শুধু বীজ চিবানো এড়িয়ে চলুন।

  • প্রতিদিন একটি কমলা কমাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি

    প্রতিদিন একটি কমলা কমাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি

    অনলাইন ডেস্ক:      ভিটামিন সি-তে ভরপুর কমলার উপকারিতার শেষ নেই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখা, হজমশক্তি বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এই সাইট্রাস ফল। তবে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় পরিচালিত নতুন এক চিকিৎসা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি কমলা খাওয়া মুখ, গলা ও পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ফল আবারও প্রমাণ করে যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল ও শাকসবজি রাখা কতটা উপকারী।অস্ট্রেলিয়ান গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন একটি কমলা খাওয়া মুখ, গলা ও পেটের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৮টি ঘটনা পর্যালোচনা করেছেন। এতে দেখা গেছে সাইট্রাস ফল ধমনীজনিত রোগ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।পর্যালোচনায় আরও জানানো হয়েছে, প্রতিদিন সাইট্রাস ফলের পাশাপাশি পাঁচ ধরনের শাকসবজি ও ফল খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে।

    কেন কমলা এত উপকারী?

    প্রতিবেদন বলছে, অন্যান্য সাইট্রাস ফলের তুলনায় কমলায় সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    কমলায় কী কী পুষ্টি উপাদান আছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানান, কমলায় ভিটামিন সি, বি, এ ও ই রয়েছে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে এতে। কমলায় থাকা ভিটামিন সি শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে মূল ভূমিকা রাখে। মানবদেহ নিজে থেকে ভিটামিন সি তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমে নিয়মিত গ্রহণ জরুরি।

    কমলার আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং মলত্যাগ দ্রুত করে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কমলার রস পিত্তপাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে, কারণ এটি কোলেস্টেরল ভেঙে পিত্ত অ্যাসিডে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে।এছাড়া কমলার রসে প্রায় ৮৫ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে।সকালে এক গ্লাস কমলার রস মানসিক চাপ ও দৈনন্দিন ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে পরোক্ষভাবে হজমজনিত সমস্যা ও মানসিক চাপ–সম্পর্কিত অস্বস্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

    কমলার খোসার আশ্চর্য নিরাময় উপাদান

    এক গবেষণায় দেখা গেছে, কমলার খোসায় থাকা পলিমেথঅক্সিলেটেড ফ্লাভোনস নামের যৌগ ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে কিছু ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে—এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।ট্যাঞ্জেরেটিন ও নোবিলেটিননামের উপাদান কমলা ও ক্যান্টালুপের খোসায় সবচেয়ে বেশি থাকে। রসে এসব উপাদানের পরিমাণ তুলনামূলক কম।এছাড়া কমলার খোসায় থাকা পেকটিন নামের এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে এবং সংক্রমণ ও অন্ত্র–সম্পর্কিত রোগ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

  • রসুন দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করুন সহজেই

    রসুন দিয়ে চুল পড়া বন্ধ করুন সহজেই

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: পেঁয়াজের রস চুলের জন্য উপকারী, তবে জানেন কি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য রসুনের তেলেরও অনেক উপকারিতা রয়েছে? রসুন চুল পড়া কমায়, খুশকি দূর করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলের সংক্রমণজনিত সমস্যারও সমাধান করে। এটি চুলকে নরম ও মসৃণ করতেও কার্যকর। রসুনের সঠিক ব্যবহার চুলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিতে পারে।

    রসুন কীভাবে চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে

    রসুনে উচ্চমাত্রার সালফার ও সেলেনিয়াম রয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধি এবং শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সালফার কেরাটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা চুলের গঠন তৈরি করে। অন্যদিকে সেলেনিয়াম চুলের ফলিকল তৈরি করকে সাহায্য করে। এছাড়া রসুনের জীবাণুরোধী ক্ষমতা মাথার ত্বকে সংক্রমণ রোধ করে, ফলে চুল পড়া কমে। সঠিক ব্যবহার করতে হবে নির্দিষ্ট উপায়ে, তাহলেই উপকার পাবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক রসুন কীভাবে ব্যবহার করবেন-

    রসুন তেল হিসেবে

    চুলের বৃদ্ধির জন্য রসুনের তেল তৈরি করতে, এক কাপ নারিকেল বা অলিভ অয়েলের মধ্যে কয়েক কোয়া থেঁতো করা রসুন দিন। পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। এই তেল দিয়ে মাথার ত্বকে হালকা হাতে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার চুল পড়া কমায়, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, সংক্রমণ দূর করে এবং চুল কালো রাখতে সাহায্য করবে।

    রসুন পেস্ট করে

    রসুনের প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ খুশকি ও চুলকানির মতো মাথার ত্বকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। আট থেকে দশ কোয়া রসুনের খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে রস বের করুন। একটি তুলার বলে সেই রস নিয়ে মাথার ত্বকে লাগান এবং আঙুলের মাথা দিয়ে হালকা করে ম্যাসাজ করুন। বিশ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে চাইলে এই রস নিয়মিত মাথায় ব্যবহার করতে পারেন।

    রসুন গুঁড়া করে

    কিছু রসুন রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে পানি ছাড়া গুঁড়া তৈরি করে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন। সপ্তাহে একবার তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। এটি চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে এবং চুলকে মজবুত করবে।

    রসুনের তেল চুলের গভীরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, ফলে চুলের আগা ফাটা দূর করে। নিয়মিত রসুন ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। তবে রসুন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই অ্যালার্জি পরীক্ষা করে দেখতে হবে। না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

  • কলা খেয়েও যেভাবে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

    কলা খেয়েও যেভাবে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব

    অনলাইন ডেস্ক:      কলা শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী একটি ফল। কলায় কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। কারণ কলায় থাকা আয়রন রক্তাল্পতার মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ট্রিপটোফ্যান, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি-র মতো একাধিক স্বাস্থ্যগুণ সমৃদ্ধ এই ফল শরীরকে সমৃদ্ধ করে তোলে।

    কলার স্বাস্থ্যগুণের বৈশিষ্ট্য বলে শেষ করা যাবে না। কারণ হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা অনেক। মানসিক অবসাদে ভুগলেও প্রতিদিন কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। কলায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এগুলো শরীরের জন্য নিঃসন্দেহে উপকারী। তবে খালি পেটে এ ফল খেলে উপকারের চেয়ে অপকারের সম্ভাবনাই বেশি থাকে। পাকা কলায় চিনির পরিমাণও অনেক বেশি। অনেক ক্ষণ উপোস থাকার পর কলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ফলে দিনের শুরুতে কলা খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিসের কারণ হতে পারে।

    এর পাশাপাশি খালি পেটে কলা খেলে সমস্যা উল্টো বেড়ে যায়। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, সকালে কলা খেতে পারেন, তবে অবশ্যই খালি পেটে নয়। কিছু না খেয়ে প্রথমেই কলা খেলে অ্যাসিড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ওটস, পাউরুটি বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ার পর কলা খেতে পারেন। তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিংবা কলা, ওটস, বেরি, মেপল সিরাপ, কাঠবাদাম দিয়ে একটি স্মুদিও বানিয়ে নিতে পারেন। শরীর ভেতর থেকে সুস্থ থাকবে।

    তবে কোন ধরনের কলা কারা খেলে বেশি উপকার পাবেন, সে খবর রাখেন কি?

    কাঁচকলা 

    কাঁচকলা প্রিবায়োটিকের ভালো উৎস। প্রিবায়োটিক হলো— এক ধরনের ফাইবারজাতীয় উপাদান। এটি পাচিত হয় না। তবে অন্ত্রে ভালো ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারে ভরপুর কাঁচকলায় চিনির পরিমাণ খুবই কম থাকে। যারা পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ডায়েটে এ কলা রাখা যেতেই পারে।

    হালকা সবুজ কলা

    হালকা সবুজ ধরনের কলা খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। অনেকেই সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয়ে কলা খান না। তারা এ ধরনের কলা খেতেই পারেন। তবে কলা যে কেবল পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে তা নয়, রক্তের শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এ ধরনের কলা ফাইবারেরও ভালো উৎস।

    পাকা কলা 

    পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্স স্টার্চের মাত্রা কম থাকে। তাই সুগারের রোগীদের জন্য এই কলা না খাওয়াই ভালো। তবে এ ধরনের কলায় ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে। ফলে কলা হজম করা সহজ। শরীরচর্চার আগে প্রি-ওয়ার্কআউট স্ন্যাক্স হিসাবে পাকা কলা খাওয়া যেতে পারে।

    অতিরিক্ত পাকা কলা 

    কলা বেশি পেকে গেলে খোসার গা জুড়ে বাদামি রঙের ছোপ পড়ে। এ কলা অতিরিক্ত মিষ্টি হয়। স্মুদি বানানোর জন্য বা বেকিংয়ের কাজে অতিরিক্ত পাকা কলা ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ধরনের কলায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা অনেকটাই বেশি থাকে। তবে কলা পেকে গেলে ফাইবারের মাত্রা কমে যায়। সুগারের রোগীদের অতিরিক্ত পাকা কলা না খাওয়াই ভালো।

  • মস্তিষ্কের ক্ষতি কারণ যে তিনটি অভ্যাস

    মস্তিষ্কের ক্ষতি কারণ যে তিনটি অভ্যাস

    অনলাইন ডেস্ক:      আমাদের চিন্তা, আবেগ, স্মৃতি এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সবই মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল। তাই মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমরা খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামে গুরুত্ব দিই, তবুও কিছু সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে।যুক্তরাষ্ট্রের নিউরোলজিস্ট ডা. বিং সম্প্রতি এমন তিনটি অভ্যাসের কথা শেয়ার করেছেন, যা তিনি নিজে এড়ান এবং অন্যদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে এমন তিনটি অভ্যাস-

    ১. ঘুমের সময় হেডফোন বা ইয়ারবাড ব্যবহার: ডা. বিং বলেছেন, ঘুমানোর সময় হেডফোন ব্যবহার করলে উচ্চ শব্দ কানের সূক্ষ্ম হেয়ার সেল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়াও, দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানে আর্দ্রতা ও ব্যাকটেরিয়া জমে ইনফেকশন হতে পারে। উচ্চ শব্দে ঘুমালে গভীর ঘুম নষ্ট হয় এবং মস্তিষ্কের টক্সিন পরিষ্কার করার লিম্ফাটিক সিস্টেমও ব্যাহত হয়।

    ২. মাড়ির যত্ন উপেক্ষা করা: ডা. বিং প্রতিদিন রাতে ব্রাশের সঙ্গে ফ্লস ও ওয়াটার ফ্লস ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মাড়ি রোগ ও দাঁতের ক্ষয় স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া এবং কগনিটিভ হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মাড়ির সমস্যা বেশি, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ।

    ৩. টয়লেটে দীর্ঘ সময় বসে থাকা: দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা ও স্ট্রেইন করলে পায়ে রক্ত জমে এবং রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। এতে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমে মানুষের অজ্ঞান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডা. বিং বলেছেন, তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহে এমন ঘটনা দেখেন। তবে ক্রনিক বাওয়েল ডিজিজ থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

    দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ঘুমের সময় জোরে গান শোনা, মুখগহ্বরের যত্ন না নেওয়া বা টয়লেটে অযথা বেশি সময় কাটানো এসব অভ্যাস অজান্তেই মস্তিষ্কের সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সামান্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।