Category: লাইফস্টাইল

  • ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা যায়

    ধূমপান ছেড়ে দিলে শরীরে যেসব প্রভাব দেখা যায়

     অনলাইন ডেস্ক:     ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর যে কত দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করে তা অনেকেরই অজানা। প্রতিটি সিগারেট ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে ফেলে। তবে আশার বিষয় হলো—ধূমপান বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুসফুসের কার্যকারিতা ও রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়।

    ডা. সুধ জানান, ধূমপান শুধু ফুসফুস নয় বরং পুরো শ্বাসতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। এটি ফুসফুসকে শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়, যার ফলে ফুসফুসের প্রসারণ এবং স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। এর পরিণতিতে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মিউকাস জমা, ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপান ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

    তিনি জানান, ধূমপান বন্ধ করার ২ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তসঞ্চালন ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্পষ্টভাবে উন্নত হয়। এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে এবং ১০ বছরের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

    ডা. সুধের মতে, সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি পরামর্শ দেন নিয়মিত কার্ডিও ব্যায়াম, শ্বাস–প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার। পাশাপাশি তিনি অন্ত্র ও ফুসফুসের পারস্পরিক সম্পর্কের (গাট–লাং অ্যাক্সিস) গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন, কারণ সুস্থ অন্ত্র প্রদাহ কমিয়ে ফুসফুসের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    সবশেষে বলা যায়, ধূমপান শরীরের প্রায় সব অঙ্গেই ক্ষতি করে—বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে। কিন্তু ধূমপান ছাড়ার পর শরীর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। তাই এখনই ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে সহায়তা নিন। আপনার ফুসফুস, হৃদয় ও ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুস্থ হয়ে উঠবে।

  • অতিরিক্ত চা পানে বিপদ: জেনে নিন আপনার দৈনিক চায়ের সীমা

    অতিরিক্ত চা পানে বিপদ: জেনে নিন আপনার দৈনিক চায়ের সীমা

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: আমাদের অনেকের কাছেই চা একটি সাধারণ পানীয়ের চেয়েও বেশি কিছু। এক কাপ চা মানে আরাম, সতেজ সকাল, গল্প কিংবা আড্ডার সঙ্গী, মানসিক চাপ উপশমকারী এবং কখনও কখনও শক্তি বৃদ্ধিকারী। এভাবে কখন যে দিনে একাধিক কাপ চা খাওয়া হয়ে যায়, আপনি হয়তো নিজেও বুঝতে পারেন না। চায়ের উপকারিতা আছে, কিন্তু পুষ্টির ক্ষেত্রে অন্য সবকিছুর মতো এই পানীয় পানের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

    কত কাপ চা নিরাপদ?

    বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ একমত যে, দিনে দুই থেকে তিন কাপ নিয়মিত চা বেশিরভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ সীমা। অ্যাসিডিটি, মাথাব্যথা বা ঘুমের ব্যাঘাতের ঝুঁকি ছাড়াই এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং শান্ত প্রভাব উপভোগ করার জন্য এই পরিমাণ যথেষ্ট। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ওঈগজ) অনুসারে, প্রতিদিন ক্যাফেইনের সর্বোচ্চ মাত্রা ৩০০ মিলিগ্রাম, যা প্রায় তিন থেকে চার কাপ চায়ের সমতুল্য। একবার চার বা তার বেশি কাপ অতিক্রম করতে শুরু করলে, ক্যাফেইনের পরিমাণ শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করতে পারে।

    কেন অতিরিক্ত চা ক্ষতিকর হতে পারে

    অতিরিক্ত চা পান করা আপনার সুস্থতার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। অতিরিক্ত চা খেলে তা অ্যাসিডিটি এবং পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি খালি পেটে পান করেন। ক্যাফেইন অস্থিরতা সৃষ্টি এবং ঘুমের মান খারাপ করতে পারে। কিছু গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, অতিরিক্ত চা আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ইতিমধ্যেই যাদের আয়রনের পরিমাণ কম বা রক্তস্বল্পতা রয়েছে তাদের জন্য আদর্শ নয়। চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত দুধ ও চিনি মেশানো থেকে বিরত থাকলে বেশি উপকার পাবেন।

  • ওষুধ নয়, ঘরোয়া উপায়ে কমান মাথা ব্যথা

    ওষুধ নয়, ঘরোয়া উপায়ে কমান মাথা ব্যথা

    অনলাইন ডেস্ক:     কোনও কোনও দিন সকালে চোখ মেলে বুঝতে পারেন, মাথা ব্যথা। কাজের ফাঁকে হঠাৎ চোখ যেন খুলতে ইচ্ছে করে না। অনেক সময় টানা মাথা ব্যথায় যখন আপনি হয়রান, তখন শুনতে হয়- মাথা থাকলে ব্যথা হবেই! চরম অসহনীয় এই মাথা ব্যথা হতে পারে ঘুমের অভাবে, দুশ্চিন্তার কারণে, পানিশূন্যতা বা চোখের ক্লান্তি থেকে। হালকা মাথাব্যথা কমাতে নিচের কিছু ঘরোয়া টোটকা বেশ কার্যকর-

    পানি পান করুন

    পানি শূন্যতা মাথা ব্যথার সাধারণ কারণ। তাই সাধারণ মাথা ব্যথা হলে প্রথমেই ১-২ গ্লাস পানি পান করুন। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। দিনে ১০ গ্লাস পানি খেলে শরীর ডিহাইেড্রটেড হয় না এবং মাথা ব্যথা এড়ানো যেতে পারে।

    আদাযুক্ত চা বা পানি

    আদা প্রদাহ কমায় ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। মাথা ব্যথা অনুভূত হলে এক চামচ কুচানো আদা এক কাপ পানিতে ৫ মিনিট ফুটিয়ে চা তৈরি করে খান। বা চা খাওয়া অভ্যাস না থাকলে কেবল আদাযুক্ত হালকা গরম পানিও খেতে পারেন।

    লেবু-পানি খুব কার্যকর

    অতিরিক্ত গ্যাস বা হজমের সমস্যা থেকেও মাথা ব্যথা হতে পারে। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা লেবুর রস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পান করুন। লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য কাঁচামরিচ কুচি আর সামান্য গরম পানি দিয়ে ওষুধের মতো খেয়ে নিতে পারেন। পুদিনা তেল কপালে ও কানের পাশে হালকা মালিশ করলেও আরাম পেতে পারেন।

    ঠাণ্ডা বা গরম সেঁক

    আগে জানতে হবে আপনার মাথা ব্যথার কারণ উদঘাটন করতে পারছেন কিনা। টেনশনের কারণে যদি মাথা ব্যথা হয় তাহলে কপাল বা ঘাড়ে ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় রাখলে সেটা কমে। সাইনাস বা মাংসপেশির টান থাকলে গরম তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন।

    নিয়ম করে বিশ্রাম ও ঘুম

    অল্প সময়ের জন্য চোখ বন্ধ করে অন্ধকার, নিরিবিলি ঘরে বিশ্রাম নিলে মাথাব্যথা কমতে পারে। ঘুম কম হলে, পরিশ্রম বেশি হলে মাথা ব্যথা শুরু হয়। ফলে যখন তখন কিছুক্ষণের জন্য চোখকে আরাম দিন। চোখ বন্ধ করার আগে খালি পেটে আপেল খেলে বা সামান্য আপেলসাইডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে খেলে কিছু ক্ষেত্রে আরাম মেলে।

    ইয়োগা হতে পারে সমাধান

    যদি মাথা ব্যথা হয় চোখের চাপ, স্ট্রেস বা ঘুমের অভাবে, তাহলে ইয়োগা খুবই কার্যকর। মাথাব্যথা সাধারণত হয় নানাবিধ স্ট্রেস বা টেনশন, ঘুমের অভাব, চোখের চাপ (স্ক্রিনে বেশি সময়), ডিহাইড্রেশন (পানি কম খাওয়া), মাংসপেশির টান, ঘাড় বা পিঠে চাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থেকে। ইয়োগার ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাস মনকে শান্ত করে, কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমায়। ইয়োগা মাথায় রক্ত প্রবাহ ঠিক রাখে, ফলে চাপ কমে। ইয়োগা হরমোন ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে থাইরয়েড বা স্ট্রেস-রিলেটেড সমস্যা দূর হয়।

    খুব সাবধান যদি মাথা ব্যথা নিয়মিত, অত্যধিক তীব্র বা চোখ ঝাপসা দেখায়, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে যেভাবে খাবেন সবজি

    সর্বোচ্চ পুষ্টি পেতে যেভাবে খাবেন সবজি

    অনলাইন ডেস্ক:     দেহে পুষ্টি উপাদানের অভাব মেটাতে নিয়মিত সবজি খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সবজি কাঁচা খেলে নাকি রান্না করে খেলে ভালো পুষ্টি উপাদান বেশি পাওয়া সম্ভব— এ নিয়ে অনেক দিনের বিতর্ক। যদিও এর কোনো মতামতই ঠিক নয়। বরং কখন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে সবজি খাওয়া হচ্ছে, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    কাঁচা অবস্থায় সবজির মধ্যে নানা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাবেন। সবজি যত টাটকা হবে, ততই তার মধ্যে পুষ্টিগুণ বজায় থাকবে। যেমন—পালংশাক, ব্রকোলি বা ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। সবজি রান্না করলে তার মধ্যে উপস্থিত পুষ্টিগুণ কমে যায়। তাই অনেকেই কাঁচা সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

    কীভাবে খাবেন কাঁচা সবজি? সবজি কাঁচা খেলে অনেকের হজমের সমস্যাও হতে পারে। কারণ সবজির ফাইবার কাঁচা অবস্থায় পাকস্থলীতে শোষিত হতে বেশি সময় নেয়। সে কারণে রান্নার ফলে সবজির মধ্যে উপস্থিত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট সহজেই ভেঙে যায়। ফলে পেটে কোনো সমস্যা হয় না।

    সবজির মধ্যে তার পুষ্টি উপাদান বজায় রাখতে সবজি ভাপা খাওয়া যেতে পারে। সিদ্ধ করলেও তা যেন বেশি তাপমাত্রায় করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আবার পুষ্টি উপাদান বজায় রাখতে সবজি মাইক্রো ওভেনেও কম পানি দিয়ে সিদ্ধ করে খাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রান্নায় সামান্য তেল এবং কম মসলা ব্যবহার করলে সবজির মধ্যে উপস্থিত গুণাগুণ বজায় থাকে।

    কিন্তু পুরোপুরি রান্না করার ফলে সবজির মধ্যে থাকা ভিটামিন ‘সি’ নষ্ট হয়ে যায়। কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়িয়ে রান্না থেকে জীবাণু ধ্বংস করে দেয়। লাইকোপেন (টমেটো), বিটা ক্যারোটিন (গাজর) রান্না করার পর বেশি পরিমাণে শোষিত হয়। উত্তাপ কোষ বিভাজনে সাহায্য করে বলে রান্না করা সবজি থেকে দেহ বেশি পরিমাণে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে। আর সে কারণে রান্না করা সবজি কিডনিতে পাথর হওয়া আটকাতে পারে।

  • প্রতিদিন চিনি খেলে কী হয়?

    প্রতিদিন চিনি খেলে কী হয়?

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: চিনিযুক্ত মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ কম-বেশি আমাদের সবারই থাকে। এদিকে প্রতিদিন চিনি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের কার্যকারিতার ওপর চুপচাপ প্রভাব ফেলতে শুরু করে। শক্তির পরিবর্তন থেকে শুরু করে হজম এবং ত্বকের পরিবর্তন পর্যন্ত, প্রতিদিন চিনি গ্রহণ ধীরে ধীরে ছোট কিন্তু লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তার মানে চিনি যে পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বরং এটি নিয়মিত খেলে শরীরে কীভাবে তা প্রভাব ফেলে সে সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো। আপনি যদি মিষ্টির প্রতি আগ্রহী হন এবং কখনো ভেবে দেখে থাকেন যে এক মাস ধরে প্রতিদিন চিনি খেলে কী হয়, তাহলে আপনার সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এক মাস ধরে প্রতিদিন চিনি খেলে শরীরে কী ঘটে-

    শক্তির স্তর ওঠানামা করতে শুরু করে

    চিনি দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রতিদিন খাওয়ার হলে এটি হঠাৎ উচ্চ মাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং তারপর শক্তির ক্র্যাশ হতে পারে, যার ফলে আপনি ক্লান্ত বা খিটখিটে বোধ করতে পারেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত মেজাজের ওপর চিনির প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ, বিশেষ করে চিনি, খাওয়ার ৬০ মিনিটের মধ্যে মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং গ্রহণের ৩০ মিনিটের মধ্যে ক্লান্তি বৃদ্ধি করে। এই উত্থান-পতন ঘটে, কারণ চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি এবং হ্রাস করে।

    মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি

    প্রতিদিন চিনি খাওয়ার ফলে আপনার শরীর আরও বেশি চিনি খেতে চাইতে পারে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, মিষ্টি স্বাদ মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণকে ট্রিগার করে যা আনন্দ এবং পুরষ্কারের সঙ্গেও সম্পর্কিত রাসায়নিক। এটি এমন একটি চক্র তৈরি করতে পারে যেখানে প্রতিবেলা খাবারের পরে বা চাপের সময় মিষ্টি কিছু খেতে তীব্র ইচ্ছা হতে পারে। এক মাস ধরে চিনি খাওয়ার অভ্যাস হলে আপনার জিহ্বা অতিরিক্ত মিষ্টি খেতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে।

    ত্বকের উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করতে পারে

    প্রতিদিন চিনি খাওয়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে ত্বকের গঠন এবং উজ্জ্বলতাকে প্রভাবিত করে। ২০২২ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, অতিরিক্ত চিনি ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে স্থিতিস্থাপকতা এবং হাইড্রেশন হ্রাস করে, যার ফলে অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড-প্রোডাক্টস (অএঊং) গঠনের কারণে ত্বককে নিস্তেজ বা ক্লান্ত দেখায়। যদি আপনার চিনির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকে তবে আপনি মাঝে মাঝে ব্রেকআউটও অনুভব করতে পারেন।

    পেট ফুলে যেতে পারে

    অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে অন্ত্রে গাঁজন হতে থাকে, যা ফোলাভাব বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারেও ফাইবারের অভাব থাকে, যা হজমকে ধীর করে দেয়। আপনি যদি এক মাস ধরে প্রতিদিন চিনিযুক্ত খাবার খান, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে পেট ভারী হয়ে যাচ্ছে বা হজম অনিয়মিত হচ্ছে। হাইড্রেটেড থাকা এবং দই বা গাঁজানো শাক-সবজির মতো প্রোবায়োটিক খাবার খেলে এই প্রভাবগুলো মোকাবিলা করা এবং অন্ত্রে সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হতে পারে।

    ক্ষুধা এবং মেজাজে পরিবর্তন ঘটে

    ২০১৯ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, প্রতিদিন চিনি খেলে তা ক্ষুধা বা মেজাজকে সূক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করতে পারে। চিনি থেকে দ্রুত শক্তির উত্থানের পরে বেশিরভাগ সময়েই হঠাৎ করে হ্রাস পায়, যা আপনাকে খিটখিটে, অস্থির বা তাড়াতাড়ি ক্ষুধার্ত বোধ করাতে পারে। এক মাস ধরে চিনি খেলে তা আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং মেজাজের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

  • হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত নয় তো?

    হঠাৎ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত নয় তো?

    অনলাইন ডেস্ক:    হঠাৎ হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এটি কি শুধুই মানসিক চাপের কারণে হওয়া প্যানিক অ্যাটাক, নাকি হৃদযন্ত্রের ছন্দের সমস্যা—যেমন অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন (এএফ)? দুটো অবস্থার উপসর্গ অনেকটা মিল থাকলেও, গুরুত্ব ও চিকিৎসা একেবারে আলাদা।

    অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন কী?

    হৃদয়ের অনিয়মিত বৈদ্যুতিক সংকেতের কারণে পালস অনিয়মিত ও দ্রুত হয়ে যায়। এটি সাধারণত বয়স্ক, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী, কিংবা যাদের আগে স্ট্রোক হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

    প্রধান লক্ষণ:

    > দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

    > মাথা ঘোরা বা বমিভাব

    > অস্বাভাবিক ক্লান্তি

    > শ্বাসকষ্ট

    চিকিৎসা না নিলে এটি স্ট্রোক বা হার্ট ফেইলিওরের কারণ হতে পারে।

    প্যানিক অ্যাটাক কীভাবে হয়?

    এটি হঠাৎ তীব্র ভয় বা আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া, যা সাধারণত কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। মানসিক চাপ, পরীক্ষার ভয়, আবেগীয় সমস্যা বা কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াও এটি হতে পারে।

    প্রধান উপসর্গ:

    > দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

    > মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা

    > অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি

    > বুকে চাপ বা দম বন্ধ লাগা

    > নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়

    > এটি শরীরের ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়ার অতিরিক্ত সক্রিয়তার ফল।

    পার্থক্য বোঝা কেন জরুরি

    ডা. কেশবের মতে, হৃদস্পন্দন বারবার বেড়ে গেলেই তা মানসিক উদ্বেগের ফল, এমন ধারণা ভুল। অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। আবার প্যানিক অ্যাটাক প্রাণঘাতী না হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।

    যেহেতু দুই অবস্থার উপসর্গ প্রায় একই, তাই শুধু অনুভূতির ভিত্তিতে পার্থক্য করা কঠিন। ফলে হঠাৎ বা বারবার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে অবহেলা না করে ইসিজি, ইকোসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ধারণের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।