Blog

  • আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

    আলোচনার মধ্যেই ইরানে নতুন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

    যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

    এতে নাজুক যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    এ হামলার সময়ই যুদ্ধ বন্ধে সর্বশেষ দফার আলোচনায় অংশ নিতে শীর্ষ ইরানি আলোচকরা কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন। একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।

    মার্কিন হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য চুক্তিও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

    সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে আমাদের সেনাদের সুরক্ষায় দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।’

    তবে হামলার বিস্তারিত জানানো হয়নি। শুধু বলা হয়, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনে নিয়োজিত নৌযানও ছিল।

    হামলার পরও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সমঝোতার পথ এখনও খোলা আছে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

    ভারত সফরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। অগ্রগতি সম্ভব কি না, তা দেখা হবে। প্রাথমিক নথির ভাষা নিয়ে এখনও অনেক আলোচনা চলছে। তাই আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে।’

    হামলার প্রভাব নিয়ে মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী যেকোনোভাবেই উন্মুক্ত রাখা উচিত।

    সেখানে যা হচ্ছে, তা বেআইনি, অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বের জন্য টেকসই নয়।’

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতের দিকে বন্দর আব্বাসের আশপাশে কয়েকটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    তবে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই বন্দর নগরীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়। বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধ অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে নতুন হামলায় যুদ্ধবিরতি আবারও হুমকির মুখে পড়েছে।

    অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে তেলের দামে ওঠানামা দেখা গেলেও তা ১শ’ ডলারের নিচেই ছিল। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম পাঁচ শতাংশের বেশি কমে যায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে।

    এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী  বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এতে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    কারণ ইরান আগেই জানিয়েছে, লেবাননের সংঘাত বন্ধ যেকোনো শান্তিচুক্তির আওতায় থাকতে হবে।

    -পারমাণবিক জ্বালানি ধ্বংসের দাবি—

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইরানেই তা ধ্বংস করা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্বালানি ‘অবিলম্বে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা ধ্বংস করা যায়। অন্যথায় আন্তর্জাতিক তদারকিতে ইরানেই তা ধ্বংস করতে হবে।’

    তবে এটি সম্ভাব্য চুক্তির অংশ কি না, তা স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প। তিনি যে ‘অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের’ কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি ১৯৭৪ সালে বিলুপ্ত হয়।

    এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, বাহরাইন ও জর্ডানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা চুক্তিতে যোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবেই তিনি এ প্রস্তাব দেন।

    ২০২০ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকা কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। ইতোমধ্যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো ও সুদান এ চুক্তিতে সই করেছে।

    তবে মধ্যপ্রাচ্যের বহু অঞ্চলে এখনও আব্রাহাম চুক্তিটি তেমনভাবে জনসমর্থন পায়নি। বিশেষ করে, এতে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানের বিষয়টি না থাকায় সমালোচনা রয়েছে।

    সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে না।

    -তাৎক্ষণিক চুক্তির সম্ভাবনা নেই-

    ওয়াশিংটনের আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের আনা জ্যাকবস বলেন, ট্রাম্পের এই কঠোর দাবি মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা উপসাগরীয় দেশগুলোর কম।

    তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে।

    এরপরও তিনি আশা করছেন আরব দেশগুলো তাকে ধন্যবাদ দেবে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা তা করবে না।

    ইরানে হামলার আগে রুবিও ইঙ্গিত দেন, সোমবারের মধ্যেই সমঝোতা হতে পারে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘বেশিরভাগ বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।’ তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘খুব শিগগিরই’ চুক্তি হচ্ছে।

    এদিকে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার পর লেবাননে ইসরাইলি অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন নেতানিয়াহু।

    তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে ‘পারমাণবিক হুমকি পুরোপুরি দূর করতে হবে।’ ওয়াশিংটনও একই অবস্থান নিয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দীর্ঘদিনের মার্কিন দাবি থাকলেও, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রাথমিক সমঝোতার পরের ধাপে করা হবে।

  • ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমল ৫ শতাংশ

    ইরানে নতুন মার্কিন হামলা সত্ত্বেও ডব্লিউটিআই তেলের দাম কমল ৫ শতাংশ

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা সত্ত্বেও মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মার্কিন তেলের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২ টা ৩০ দিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫.৪৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৩৩ ডলারে নেমে আসে।

    তবে উত্তর সাগরের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭.৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ায় তেলের দাম ১শ ডলারের নিচে নেমে আসে।

    যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরান চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর বাজারে এই প্রত্যাশা তৈরি হয়।

    কিন্তু যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ আলোচকরা দোহায় পৌঁছানোর পরপরই ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনোর কাজে নিয়োজিত নৌযানে হামলা চালিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দিতে এসব হামলা ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে চালানো হয়েছে।

    কিন্তু এই হামলাগুলো গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা একটি নাজুক যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন করে  হুমকির মুখে ফেলেছে।

  • ঈদের জন্য প্রস্তুত রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

    ঈদের জন্য প্রস্তুত রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো

    পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এবারও খোলা থাকবে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদকেন্দ্রিক এ ঘোরাঘুরিকে লক্ষ্য রেখে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। এবারের ঈদুল আজহায় টানা সাতদিনের ছুটিতে এসব বিনোদন কেন্দ্রে ব্যাপক লোকসমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রতি বছরের মতোই থাকবে বিনোদনপিপাসু মানুষের ব্যাপক বিচরণ। সরকারি-বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র ছাড়াও উদ্যান, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা ও হাতিরঝিলসহ সারা ঢাকায় ঈদ আনন্দে ঘুরে বেড়ানোর হিড়িক পড়বে।

    রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ চলছে। দর্শনার্থীদের বরণ করে নিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ নানাভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।

    মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভেতরের রাস্তায় সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রেও ছোটখাটো সংস্কারসহ ঈদের ভিড় সামাল দিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

    ঢাকাবাসীর কাছে এখন মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, উত্তরার দিয়াবাড়ী, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, জিয়া উদ্যান, জাতীয় জাদুঘর, শ্যামলী শিশু মেলা, ফ্যান্টাসি কিংডম, নন্দন পার্ক, বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক, যমুনা ফিউচার পার্ক, ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিল ও তিনশ’ ফিট সংলগ্ন পূর্বাচল বাজার এখন প্রধান বিনোদন কেন্দ্র।

    চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের সময় চিড়িয়াখানায় এক থেকে দেড় লাখ দর্শনার্থীর সমাগম হয়। অন্যান্য দিনের মতোই এসময়ও চিড়িয়াখানা সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

    দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য এবার ১৪টি বুথে টিকেট বিক্রি করা হবে। এর বাইরে ব্যক্তিগত গাড়ি রাখার পার্কিংয়ের জন্য একটি বুথে টিকেট বিক্রি হবে। এ ছাড়া ১৪টি লাইন দিয়ে প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকবে।

    জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাসস’কে বলেন, প্রতিবছরই ঈদে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর সংখ্যা এক থেকে দেড় লাখ ছাড়িয়ে যায়। গেটে অনেক জটলা হয়। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর চিড়িয়াখানায় প্রবেশ নির্বিঘ্ন করতে লাইনের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশপাশে যাতে যানজট না থাকে সেজন্য এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

    চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকেটের মূল্য ৫০ টাকা। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর টিকেট লাগবে না। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী এবং প্রতিবন্ধীর সঙ্গে যিনি অ্যাটেনডেন্ট থাকবেন, তারও টিকেট লাগবে না।

    রফিকুল ইসলাম তালুকদার আরও জানান, ইতোমধ্যে ভেতরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। রং করা হয়েছে এবং নিষ্ক্রিয় সিসি ক্যামেরাগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কোন দিক থেকে কোন দিকে যাবেন, সেই নির্দেশনার বোর্ডগুলোও যথাস্থানে বসানো হয়েছে। পানীয়জাতীয় খাবারের জন্য দর্শনার্থীদের যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে।

    অন্যদিকে শ্যামলীর শিশু মেলা আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। সেখানে আছে ৪০টির মতো রাইডার। পরিবারের সবার চড়ার মতো আছে ১২টি রাইডার।

    শিশু মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের প্রথম সাতদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ১শ’ টাকা।

    এদিকে ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরে ক্লান্তিকর নাগরিক জীবনে রাজধানীর হাতিরঝিল হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদন কেন্দ্র। পুরো হাতিরঝিল ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে চক্রাকার বাস সার্ভিসও। তা ছাড়া লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে ওয়াটার বাস। আশপাশে বেশ কিছু রেস্টুরেন্টও রয়েছে রসনাবিলাসের ব্যবস্থা।

    লালবাগের কেল্লা পুরান ঢাকায় অবস্থিত। এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন তথা পর্যটনস্থল। খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। টিকেটের মূল্য ২০ টাকা।

    শহরের কোলাহল ছেড়ে রাজধানীর উপকণ্ঠ শ্যামপুরে প্রায় সাত একর জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক। পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোগল আমলের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল। খোলা থাকবে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

    এছাড়া, ঢাকার অদূরে রয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক। ঈদের ছুটিতে এসব বিনোদনকেন্দ্র দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা।

  • ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে যুক্ত হলো বিশেষ কোচ

    ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে যুক্ত হলো বিশেষ কোচ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঈদযাত্রায় নারী যাত্রীদের জন্য ট্রেনে বিশেষ কোচ যুক্ত করা হয়েছে।

    ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ননস্টপ চলাচলকারী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য এ বিশেষ কোচ সার্ভিস চালু করা হয়।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে সংযুক্ত বিশেষ কোচের নারী যাত্রীদের বিদায় জানানোর মাধ্যমে গতকাল এ সার্ভিসের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।

    এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. নাজমুল হাসান এবং মহাব্যবস্থাপক (পূর্বাঞ্চল) উপস্থিত ছিলেন। তারা যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

    নিজেদের জন্য আলাদা কোচ পেয়ে নারী যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ বিশেষ উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

    চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকায় পৌঁছালে সংযুক্ত বিশেষ কোচের নারী যাত্রীদের স্বাগত জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।

    গতকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিশেষ সার্ভিস ঈদের আগের তিন দিন অর্থাৎ আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত চালু থাকবে।

  • ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে যমুনা সেতুতে সর্বোচ্চ নজরদারি

    ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে যমুনা সেতুতে সর্বোচ্চ নজরদারি

    আর মাত্র একদিন পর পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষ। শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। এতে যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এ অবস্থায় যানজট নিরসন, যাত্রী ভোগান্তি রোধ এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই মহাসড়কে সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করেছে।

    যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২শত টাকা।

    তিনি জানান, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিরসনে মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সেতুর উপর রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি। এছাড়া চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল আরো বাড়ানো হয়েছে।

    যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সোমবার (২৫ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

    এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭শত টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫শত টাকা।

    সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বাসসকে বলেন, ঈদ যাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে আলাদা করে দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক টোল আদায় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

    টাঙ্গাইলের জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বাসসকে বলেন, যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে । যাতে করে ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়। এ ছাড়াও যমুনা সেতুর উপর রাখা হয়েছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি।

    তিনি আরও জানান, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল আরো বাড়ানো হয়েছে। কোরবানির পশু বহনকারী ট্রাক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালক দায়িত্ব পালন করছে।

  • ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে : বিদ্যুৎ বিভাগ

    ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে : বিদ্যুৎ বিভাগ

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

    বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারির পাশাপাশি জরুরি মেরামতে বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বাসসকে জানিয়েছেন, ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে আলোকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হচ্ছে।

    ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা যায়।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় সম্ভাব্য বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ উৎপাদনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ‘ঈদের সময় অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। বৃষ্টি হলে চাহিদা আরও কমে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, ঈদে ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে। কিছু ইউনিট নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়াও হেভি ফুয়েল অয়েল বা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে যাতে চাহিদা বেশি হলে পূরণ করা সম্ভব হয়। আমাদের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং ঈদের সময় সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে অনলাইন সভার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পিডিবির চারটি জোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে কোনো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করা যায়।’

    বিপিডিবি জানিয়েছে, ঈদের সময় শিল্পাঞ্চল ও অফিস-আদালতে বিদ্যুতের চাপ কমে যাওয়ায় আবাসিক এলাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে। এছাড়া জাতীয় গ্রিডের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো আগেই পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

    ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন দেশব্যাপী বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী, লাইনম্যান ও কারিগরি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর অধীনস্থ সকল দপ্তর বা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল বা ছুটিতে যে এলাকায় অবস্থা করবেন সেখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। একই সঙ্গে তারা পরিদর্শন ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর প্রেরণ করবেন।

    ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করেছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের আগেভাগে রিচার্জ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।