Blog

  • নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক:    নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

    তিনি আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিদর্শনকালে এ আহ্বান জানান।

    পরিদর্শনকালে তিনি দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস প্রস্তুত, ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা প্রদান এবং জরুরি আবহাওয়া তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

    অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁকে আবহাওয়া পূর্বাভাস তৈরির বিভিন্ন ধাপ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি তুলে ধরেন।

    ছবি : আইএসপিআর

    ছবি : আইএসপিআর

    এ সময় ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ভুল আবহাওয়া পূর্বাভাস শুধু একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য নয়। এটি মানুষের জীবন রক্ষা, কৃষি উৎপাদন, নদী ও সমুদ্রপথে নিরাপদ চলাচল, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের অর্থনীতি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’

    তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় আবহাওয়া অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। পূর্বাভাসের মান উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যেন সতর্কবার্তার অর্থ সহজে বুঝতে পারে, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এবং মোবাইলভিত্তিক সতর্কবার্তা সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশনা দেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম এবং টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তিনি দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

    পরিদর্শন শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া সেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগ- ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র, পূর্বাভাস, কৃষি আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণাগার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়ার্কশপ ও গবেষণাগার ঘুরে দেখেন।

    ছবি : আইএসপিআর

    ছবি : আইএসপিআর

    তিনি দায়িত্ব পালনরত আবহাওয়াবিদ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত, সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভাষায় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

    এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র : বাসস

  • সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    মন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আয়োজিত ‘দক্ষ, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন: সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন কর্মকৌশল’ শীর্ষক চার দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য আলোচক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিস রাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি। বিগত ১৭ বছরের প্রশাসনিক রাজনীতিকরণের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রশাসনকে জনগণের প্রকৃত সেবকে রূপান্তরিত করতে হবে।

    বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের সুউচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে এবং তা পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মশালা বা উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যদি না তা জনগণের প্রকৃত কল্যাণে আসে।

    সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ নিজেদের শাসক মনে না করে জনগণের সেবক হিসেবে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।’

    দেশে সঠিক নীতি প্রণয়নের স্বার্থে পরিসংখ্যান ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত রেজিমের সময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের সব পরিসংখ্যান ধ্বংস করা হয়েছে। আদমশুমারি, কৃষি উৎপাদন কিংবা পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়) সবখানেই ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় বা সংস্থায় রূপান্তরিত করা দরকার।

    দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কৃষি ও রেমিট্যান্স খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনও কৃষি ও কৃষকদের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। তাই আমাদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর ভিত্তি করে ‘এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি’ বা কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং বা কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সাথে দেশের ক্রমবর্ধমান জন্মহার নিয়ন্ত্রণে ফ্যামিলি প্ল্যানিং ডিপার্টমেন্টকে পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়টিও সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতি বা পলিসি মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের আলোকে প্রণীত হয়। ব্যুরোক্রেসির কাজ হলো সেই নীতির আলোকে কর্মসূচি নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও আইএমইডির তদারকির মাধ্যমে প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা।

    তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিয়মের বাইরে কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না। নির্বাচিত সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ৩১ দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার ওপর জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তা বিধি মোতাবেক বাস্তবায়ন করাই আপনাদের মূল দায়িত্ব।’

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল

    জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    আজ সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আয়োজনে জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এই বিতর্ক  সমাধান করতে হবে।   বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন,  জুলাই আন্দোলন যে নতুন রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস আছে আমরা ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র গঠন করতে পারবো। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে সরকার।

    তিনি আরো বলেন, আন্দোলন অনেক হয়েছে। এবার সংসদে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন একটা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন যাতে আর সহিংসতার পথে যেতে না হয়৷

    সবকিছুতে বিরোধিতার মানসিকতা. থেকে বিরোধীদলকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠানে তোষামোদি বিরাজ করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের বিপ্লবের প্রয়োজন। এত স্বল্প সময়ে ১৬ বছরের অপকর্ম থেকে জাতিকে শোধরানো সম্ভব নয়।

  • বরিশালে মাদকসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বরিশালে মাদকসহ যুবক গ্রেপ্তার

    বরিশাল নগরীতে যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. জিহাদ সরদার (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়|

    গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ˆবদ্যপাড়া সি অ্যান্ড বি রোডে সোমালিয়া নামীয় ভবনের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়|

    ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে বরিশালগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালালে মো. জিহাদ সরদার নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়| পরে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়|

    গ্রেপ্তার জিহাদ সরদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধোনা গ্রামের বাসিন্দা সবুজ সরদারের ছেলে|

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম বাসস’কে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে| উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে|

  • যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর

    যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইরাক ও মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ঘোষণা সই হয়েছে।

    এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চুক্তি জ্বালানি, বিশেষ করে তেল খাত সংশ্লিষ্ট। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাক কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে দেশটি এখনও দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতির মতো সমস্যায় ভুগছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরাক। ফলে, দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা চুক্তি এবং অংশীদারিত্বের ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

    এসবের মধ্যে ইরাকের তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল এবং হ্যালিবার্টন-এর সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বড় অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণসংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিও হয়েছে।

    এ ছাড়া স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবায় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্টারলিংকের’ সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইরাক। এর মাধ্যমে দেশটিতে স্টারলিংকের সেবা চালু করা হবে।

    মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদিকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে অভিহিত করেন।

    ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আলি আল-জাইদি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হন। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি এই পদে আসীন হন।

    ক্ষমতায় এসে জাইদি ইরাকের নাজুক অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী ইরানের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করে আসছে ইরাক।

  • ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তিতুমীরের

    ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান তিতুমীরের

    মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংকটের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ মওকুফ ও পরিশোধ স্থগিতকরণ এবং টেকসই ঋণ সমাধানে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে শিশু, নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে পারে এবং একইসঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি ধরে রাখতে পারে, সে জন্য এ ধরনের উদ্যোগ জরুরি।

    আজ (শনিবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউইয়র্কে ইউনিসেফ হাউসে ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ কার্যক্রম বিষয়ক উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. তিতুমীর বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং ঋণের বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতার পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে।

    তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

    বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও উপস্থিত ছিলেন।

    ড. তিতুমীর বলেন, সরকার সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। যেখানে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে নারী।

    তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থা, শৈশব, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান কার্ড, ওয়ান নম্বর অ্যান্ড ওয়ান ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। এ কৌশলের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে।

    তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে ইউনিসেফের সহযোগিতাও কামনা করেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

    ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান।

    তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশু ও নারীর সুরক্ষায় যে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

    বৈঠকে তুলে ধরা অগ্রাধিকারগুলোকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষা, প্রাথমিক শৈশব উন্নয়ন, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন টেড শাইবান।