Blog

  • বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বেনজির, হাদী হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের প্রত্যর্পণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের দ্রুত সাড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদ এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিন সন্দেহভাজনকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ভারতের কাছ থেকে দ্রুত সাড়া আশা করছে।

    মন্ত্রী আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ এবং ভারত থেকে হাদী হত্যা মামলার তিন সন্দেহভাজনকে প্রত্যর্পণের জন্য আমরা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সবকিছু করেছি। আমরা আশা করি, উভয় সরকারের কাছ থেকে শিগগিরই একটি ইতিবাচক সাড়া পাব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারপোলের রেড নোটিশের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেনজির আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

    তিনি বলেন, ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ তিন দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণের সব প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে।

    প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তিন সন্দেহভাজনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সব প্রয়োজনীয় নথি পাঠিয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ওই তিন সন্দেহভাজন বর্তমানে ভারতে বিচারের সম্মুখীন।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থাতেও তাদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা যেতে পারে।

  • দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেছেন।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সারাদেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা হিসেবে তিনি একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজ দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ করা হচ্ছে।

    উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে। যেখানে মনে করবে সেখানেই একটি করে গাছ রোপণ করবে।’

    তিনি বলেন, ‘গাছটি কি পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে, ওই গাছটি মানুষের কী কী উপকারে আসে এই বিষয়গুলো তোমরা ইন্টারনেট ঘেটে বিভিন্নভাবে রিসার্চ করবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘এভাবে প্রতি বছর তোমরা একটি করে গাছ সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে পারবে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে সেটি তোমাদের ছায়া দেবে। ক্লান্ত হলে তোমরা সেই গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে পারবে।’

    তিনি বলেন, একইভাবে বাসায় যদি গাছ রোপণ করো, গাছটা যখন বড় হবে, সুন্দর বাতাস বইবে। ঘরে বসে তুমি বাতাস উপভোগ করতে পারবে। আবার পরিবেশটা অনেক ঠান্ডা হবে।

    আজকের দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ একটি স্মরণীয় দিন। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গাছ রোপণ করলাম।’

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক শিশু শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ঘুরে দেখেন।

    এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

     

    সূত্র : বাসস

  • ভীষণ হতাশ : বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আক্ষেপ এমবাপ্পের

    ভীষণ হতাশ : বিশ্বকাপ স্বপ্নভঙ্গের পর আক্ষেপ এমবাপ্পের

    বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। মঙ্গলবার স্পেনের কাছে ২-০ গোলে সেমিফাইনালে হারের জন্য তিনি দলের কৌশলগত ভুলকেই দায়ী করেছেন।

    বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার পথে এমবাপ্পে ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা। দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা ফ্রান্সের হয়ে তিনি আটটি গোল করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছিলেন।

    কিন্তু ২৭ বছর বয়সী এই ফরাসি অধিনায়কের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন হঠাৎই থেমে যায়। টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে স্পেন পুরো ম্যাচে ফ্রান্সকে ছাপিয়ে যায়।

    ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, এই পরাজয় পুরো দলের জন্য “ভীষণ হতাশাজনক”।

    তিনি বলেন, “আমি মনে করি না আমরা সেই ম্যাচটি খেলতে পেরেছি, যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, কৌশলগতভাবে দিক থেকে কিংবা সামগ্রিক পারফরম্যান্সের দিক থেকেও নয়।”

    রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড আরও বলেন, “বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আপনি যদি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে না পারেন, তাহলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।”

    ফ্রান্সের ম্যাচ পরিকল্পনা সম্পর্কে এমবাপ্পে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল তাদের ওপরের দিক থেকেই চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা নিজেদের ধীর, নিয়ন্ত্রিত ছন্দে খেলতে না পারে। কারণ ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা আমাদের চেয়ে ভালো। কিন্তু আমরা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছি।”

    তিনি মনে করেন, ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মাঝমাঠের লড়াই।

    ফ্রান্সের আদ্রিয়ান রাবোয়িত ও অরেলিয়ান টিচুয়ামেনির জুটি স্পেনের রদ্রি, ডানি ওলমো এবং ফাবিয়ান রুইজের বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়।

    এমবাপ্পে বলেন, “মাঝমাঠে আমরা বারবার তিন বনাম দুই পরিস্থিতিতে পড়ে যাচ্ছিলাম। আর স্পেনের বিপক্ষে এটা বড় সমস্যা। সবকিছু মিলিয়েই ফলাফল এসেছে- পরাজয়। এটি ভীষণ হতাশাজনক।”

    তবে এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ফ্রান্স অধিনায়ক, “আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনালে ওঠা, দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেওয়া এবং ইতিহাস গড়া। এখন আমাদের মাথা উঁচু রেখেই এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জিতলে যেমন মাথা উঁচু করে জিততে হয়, হারলেও তেমনি মাথা উঁচু রেখেই হারতে হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা ভীষণ হতাশ। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না, আমি এবং পুরো দল কতটা হতাশ। তবুও বিষয়টি যতই হতাশার মনে হোক না কেন, আমাদের আবার উঠে দাঁড়াতে হবে। কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে, তারপর নতুন অধ্যায় শুরু করতে হবে। কারণ ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে, এই ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”

  • স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    কিউবার প্রধান ক্যান্সার হাসপাতালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী রোসা ভ্যালেন্তিনা পেরেজ। দুই বছর আগে তার স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

    সম্প্রতি দুই পায়ের চলাচলের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, ক্যান্সারটি মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে তার সিটি স্ক্যান করানো প্রয়োজন।

    কিন্তু হাভানায় বর্তমানে মাত্র একটি সচল সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, সেটিও শহরের নিউরোলজি হাসপাতালে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় আটকে আছেন পেরেজ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    পেরেজ এএফপিকে বলেন, ‘এই যন্ত্রণা কতটা অসহনীয়, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। জানি, প্রতিটি দিন আমার জীবন থেকে সময় কেড়ে নিচ্ছে। অথচ হাসপাতাল থেকে শুধু বলা হচ্ছে, ‘দেখি, কবে আপনার স্ক্যান করা যায়।’

    পেরেজের জন্ম হয়েছিল সেই সময়ে, যখন ফিদেল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসককে উৎখাত করে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বিপ্লবের অন্যতম বড় অর্জন ছিল সবার জন্য বিনামূল্যে ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা।

    এক সময় কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল দেশটির গর্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক পাঠিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যও তুলে ধরেছিল কাস্ত্রোর সরকার।

    তবে বর্তমানে সেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গত ছয় মাসের জ্বালানি অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

    -নষ্ট ও অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম-

    দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ওষুধের তীব্র সংকট, কম বেতনের কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে বা বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া এবং পুরোনো চিকিৎসা যন্ত্রপাতির একের পর এক বিকল হয়ে পড়াÑ সব মিলিয়ে কিউবার হাসপাতালগুলোতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

    অর্থ সংকটে থাকা সরকার ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও এসব বিভাগও এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অনকোলজি অ্যান্ড রেডিওবায়োলজি (আইএনওআর)-এ বর্তমানে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০০ জনের বেশি।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লুইস এদুয়ার্দো মার্টিন এএফপিকে জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই পুরোনো, বিকল অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী।

    তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমরা রোগীকে ওষুধ দিচ্ছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারায়, নিশ্চিত হতে পারছি না যে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না। কারণ আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপকরণ কিংবা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই।’

    -বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি-

    চিকিৎসায় অগ্রাধিকার পাওয়া সত্ত্বেও এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠছে শিশুরা।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে শিশু ক্যান্সার রোগীদের বেঁচে থাকার হার ছিল ৮৫ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৫ শতাংশে।

    আইএনওআর-এর শিশু ক্যান্সার বিভাগের প্রধান মারিউস্কা ফোর্তেজা বলেন, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানির অভাবে হাসপাতালগুলোর মধ্যে রক্তের নমুনা পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক জরুরি রক্ত পরীক্ষা নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জানেন, শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব। তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ভালো। কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। এটা চিকিৎসকদের জন্য ভীষণ কষ্টের।’

    এমন পরিস্থিতিতে কিউবার দীর্ঘদিনের নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত করেই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রযুক্তিবিদেরা।

    মেরামতকর্মী আলেক্সিস আমাদো দোমিঙ্গেজ বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার জন্য আমাকে রাত ১২টা বা ২টায় হাসপাতালে এসে যন্ত্রপাতি মেরামত করতে হয়।’

    -হৃদরোগ চিকিৎসাও মারাত্মক সংকটে-

    হৃদরোগ চিকিৎসাও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারির চিকিৎসক হোসে এস্তেবান আব্রেউ জানান, ২০১৮ সালে যেখানে বছরে ৪০০টির বেশি হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ১০০টিতে।

    এছাড়া প্রায় ১৩০ জন রোগী পেসমেকার প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন, হার্ট মনিটরসহ অসংখ্য বিকল যন্ত্র মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে আছে। অনেক যন্ত্র আবার অন্য যন্ত্র সচল রাখতে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে খুলে নেওয়া হয়েছে।

    প্রযুক্তিবিদ লুইস আলেক্সিস ডানকান বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনই নতুন নতুন উপায় বের করতে হয়। উদ্ভাবনী চিন্তা আর সীমিত সম্পদ দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

    চিকিৎসার সময় কমানো মানেই আয়ু কমে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

    হাভানার প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম মেরামত করা হয় যে কর্মশালায়, সেখানে বিকল ইনকিউবেটর ও নবজাতকের ভেন্টিলেটরের স্তূপ জমে আছে।

    অন্যদিকে জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অতি স্বল্প বেতন ও কিউবান মুদ্রা পেসোর মূল্যহ্রাসের কারণে বহু চিকিৎসক, নার্স ও প্রযুক্তিবিদ সরকারি চাকরি ছেড়ে বিদেশে বা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

    হাভানার বিখ্যাত হারমানোস আমেইহেইরাস হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটেও একই চিত্র।

  • ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি

    ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি

    বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কখনও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। অবশেষে সেই সুযোগ আসছে বুধবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মেসি। এখন তার স্বপ্ন, আবারও দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়া।

    সর্বকালের অন্যতম সেরা এই প্লেমেকারের অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সম্ভবত শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সতেজ এক তরুণ হিসেবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি।

    এর আগের বছরের শেষ দিকে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি।

    সেই বছরের আগস্টে বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে কোচ হোসে পেকারম্যান তাকে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের সুযোগ দেন। ৬৪তম মিনিটে লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি হার্নান ক্রেসপোর সঙ্গে আক্রমণভাগে যোগ দেন।

    কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ড পরই কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। এ কারনে আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনাটা ছিল সত্যিই বিব্রতকর।

    ক্রেসপো তখন বলেছিলেন, “১৮ বছরের একটি ছেলে, যে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করছে এবং যার সামনে অনেক স্বপ্ন- তাকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত হয়নি। রেফারির আরও সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার ছিল।”

    এখন সেই ঘটনার কথা ভেবে হয়তো মেসি হাসতেই পারেন। কারণ ওই লাল কার্ডের কারণে তিন মাস পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি।

    এরপর থেকে দুই দেশের আর মুখোমুখি হওয়া হয়নি। ফলে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ছাদের নিচে এবারই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি।

    শেষ আটে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর মেসি বলেন, “ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব দলের বিপক্ষেই আমি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ, কারণ তারা একটি বড় ফুটবল শক্তি। এমন একটি দলের বিপক্ষে, তাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার।”

    চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে কিংবদন্তির কাতারে নাম লিখিয়েছিলেন মেসি। এবার তিনি আশা করছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তার সেই পূর্বসূরির মতোই স্মরণীয় ছাপ রেখে যেতে পারবেন।

    এই দুই দেশের যেকোনো লড়াই মানেই মনে পড়ে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের কথা। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে গোল করেছিলেন। পরবর্তীতে যা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের তকমা পায়। এরপর ইংল্যান্ডের অর্ধেক রক্ষণভাগকে কাটিয়ে করেন আরেকটি অসাধারণ গোল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের এখনও  অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

    মেসি ঠিক তেমন কোনো গোল না করলেও, চলতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন তিনি।

    বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩২টি ম্যাচে ২১ গোল করে তিনি কোয়ার্টার-ফাইনাল শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে এক গোল এগিয়ে ছিলেন।

    ইন্টার মায়ামির এই তারকা সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচে তিনি গোল করার দায়িত্বটা অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন।

    এখন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা। তাদের লক্ষ্য ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখা।

    এটি হলে চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে মেসি অনুসরণ করতে পারবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুল-ব্যাক কাফুর কীর্তি। কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন। ম্যারাডোনাও খেলেছেন মাত্র দুটি ফাইনাল।

    মেসি বলেন, “আরেকটি সেমিফাইনালে ওঠা কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তাই এই মুহূর্তটা আমাদের সত্যিই উপভোগ করা উচিত, কারণ আবার এমন সুযোগ আসবে কি না, আমরা জানি না।”

  • দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

    দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিনাজপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৩০ পিস ভারতীয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট এবং ৬৬১ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করেছে।

    আজ দুপুর আড়াইটায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ জামান প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন-২৯ বিজিবির অধীন সদর উপজেলার দাইনুর, সুন্দরা বিওপি এবং জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা বিশেষ ক্যাম্প ও তপসী বিজিবি পোস্টের পৃথক ৪টি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সদস্যদের অভিযানে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের মধ্যে ভারত থেকে আগত মাদক কারবারিদের ধাওয়া করলে, তারা বেশ কয়েকটি পোটলা ফেলে ভারত সীমানায় পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৩ হাজার ৩০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ৬৬১ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

    অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ জামান বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫০ টাকা। চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।