Blog

  • স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    কিউবার প্রধান ক্যান্সার হাসপাতালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী রোসা ভ্যালেন্তিনা পেরেজ। দুই বছর আগে তার স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

    সম্প্রতি দুই পায়ের চলাচলের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, ক্যান্সারটি মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে তার সিটি স্ক্যান করানো প্রয়োজন।

    কিন্তু হাভানায় বর্তমানে মাত্র একটি সচল সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, সেটিও শহরের নিউরোলজি হাসপাতালে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় আটকে আছেন পেরেজ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    পেরেজ এএফপিকে বলেন, ‘এই যন্ত্রণা কতটা অসহনীয়, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। জানি, প্রতিটি দিন আমার জীবন থেকে সময় কেড়ে নিচ্ছে। অথচ হাসপাতাল থেকে শুধু বলা হচ্ছে, ‘দেখি, কবে আপনার স্ক্যান করা যায়।’

    পেরেজের জন্ম হয়েছিল সেই সময়ে, যখন ফিদেল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসককে উৎখাত করে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বিপ্লবের অন্যতম বড় অর্জন ছিল সবার জন্য বিনামূল্যে ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা।

    এক সময় কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল দেশটির গর্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক পাঠিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যও তুলে ধরেছিল কাস্ত্রোর সরকার।

    তবে বর্তমানে সেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গত ছয় মাসের জ্বালানি অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

    -নষ্ট ও অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম-

    দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ওষুধের তীব্র সংকট, কম বেতনের কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে বা বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া এবং পুরোনো চিকিৎসা যন্ত্রপাতির একের পর এক বিকল হয়ে পড়াÑ সব মিলিয়ে কিউবার হাসপাতালগুলোতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

    অর্থ সংকটে থাকা সরকার ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও এসব বিভাগও এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অনকোলজি অ্যান্ড রেডিওবায়োলজি (আইএনওআর)-এ বর্তমানে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০০ জনের বেশি।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লুইস এদুয়ার্দো মার্টিন এএফপিকে জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই পুরোনো, বিকল অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী।

    তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমরা রোগীকে ওষুধ দিচ্ছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারায়, নিশ্চিত হতে পারছি না যে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না। কারণ আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপকরণ কিংবা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই।’

    -বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি-

    চিকিৎসায় অগ্রাধিকার পাওয়া সত্ত্বেও এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠছে শিশুরা।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে শিশু ক্যান্সার রোগীদের বেঁচে থাকার হার ছিল ৮৫ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৫ শতাংশে।

    আইএনওআর-এর শিশু ক্যান্সার বিভাগের প্রধান মারিউস্কা ফোর্তেজা বলেন, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানির অভাবে হাসপাতালগুলোর মধ্যে রক্তের নমুনা পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক জরুরি রক্ত পরীক্ষা নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জানেন, শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব। তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ভালো। কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। এটা চিকিৎসকদের জন্য ভীষণ কষ্টের।’

    এমন পরিস্থিতিতে কিউবার দীর্ঘদিনের নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত করেই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রযুক্তিবিদেরা।

    মেরামতকর্মী আলেক্সিস আমাদো দোমিঙ্গেজ বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার জন্য আমাকে রাত ১২টা বা ২টায় হাসপাতালে এসে যন্ত্রপাতি মেরামত করতে হয়।’

    -হৃদরোগ চিকিৎসাও মারাত্মক সংকটে-

    হৃদরোগ চিকিৎসাও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারির চিকিৎসক হোসে এস্তেবান আব্রেউ জানান, ২০১৮ সালে যেখানে বছরে ৪০০টির বেশি হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ১০০টিতে।

    এছাড়া প্রায় ১৩০ জন রোগী পেসমেকার প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন, হার্ট মনিটরসহ অসংখ্য বিকল যন্ত্র মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে আছে। অনেক যন্ত্র আবার অন্য যন্ত্র সচল রাখতে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে খুলে নেওয়া হয়েছে।

    প্রযুক্তিবিদ লুইস আলেক্সিস ডানকান বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনই নতুন নতুন উপায় বের করতে হয়। উদ্ভাবনী চিন্তা আর সীমিত সম্পদ দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

    চিকিৎসার সময় কমানো মানেই আয়ু কমে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

    হাভানার প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম মেরামত করা হয় যে কর্মশালায়, সেখানে বিকল ইনকিউবেটর ও নবজাতকের ভেন্টিলেটরের স্তূপ জমে আছে।

    অন্যদিকে জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অতি স্বল্প বেতন ও কিউবান মুদ্রা পেসোর মূল্যহ্রাসের কারণে বহু চিকিৎসক, নার্স ও প্রযুক্তিবিদ সরকারি চাকরি ছেড়ে বিদেশে বা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

    হাভানার বিখ্যাত হারমানোস আমেইহেইরাস হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটেও একই চিত্র।

  • ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি

    ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি

    বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সবকিছুই অর্জন করেছেন লিওনেল মেসি। তবে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার কখনও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেননি। অবশেষে সেই সুযোগ আসছে বুধবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে।

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন মেসি। এখন তার স্বপ্ন, আবারও দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়া।

    সর্বকালের অন্যতম সেরা এই প্লেমেকারের অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সম্ভবত শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে। ২০০৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সতেজ এক তরুণ হিসেবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি।

    এর আগের বছরের শেষ দিকে বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার পর নেদারল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি।

    সেই বছরের আগস্টে বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে কোচ হোসে পেকারম্যান তাকে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের সুযোগ দেন। ৬৪তম মিনিটে লিসান্দ্রো লোপেজের বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি হার্নান ক্রেসপোর সঙ্গে আক্রমণভাগে যোগ দেন।

    কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ৯০ সেকেন্ড পরই কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখান। এ কারনে আর্জেন্টিনার হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সূচনাটা ছিল সত্যিই বিব্রতকর।

    ক্রেসপো তখন বলেছিলেন, “১৮ বছরের একটি ছেলে, যে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক করছে এবং যার সামনে অনেক স্বপ্ন- তাকে এভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত হয়নি। রেফারির আরও সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার ছিল।”

    এখন সেই ঘটনার কথা ভেবে হয়তো মেসি হাসতেই পারেন। কারণ ওই লাল কার্ডের কারণে তিন মাস পর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি।

    এরপর থেকে দুই দেশের আর মুখোমুখি হওয়া হয়নি। ফলে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের ছাদের নিচে এবারই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবেন মেসি।

    শেষ আটে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর মেসি বলেন, “ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব দলের বিপক্ষেই আমি খেলেছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা বিশেষ, কারণ তারা একটি বড় ফুটবল শক্তি। এমন একটি দলের বিপক্ষে, তাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার।”

    চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার মতোই আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে কিংবদন্তির কাতারে নাম লিখিয়েছিলেন মেসি। এবার তিনি আশা করছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তার সেই পূর্বসূরির মতোই স্মরণীয় ছাপ রেখে যেতে পারবেন।

    এই দুই দেশের যেকোনো লড়াই মানেই মনে পড়ে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের কথা। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে গোল করেছিলেন। পরবর্তীতে যা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের তকমা পায়। এরপর ইংল্যান্ডের অর্ধেক রক্ষণভাগকে কাটিয়ে করেন আরেকটি অসাধারণ গোল, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের এখনও  অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।

    মেসি ঠিক তেমন কোনো গোল না করলেও, চলতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে ছিলেন তিনি।

    বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩২টি ম্যাচে ২১ গোল করে তিনি কোয়ার্টার-ফাইনাল শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে এক গোল এগিয়ে ছিলেন।

    ইন্টার মায়ামির এই তারকা সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচে তিনি গোল করার দায়িত্বটা অন্যদের ওপর ছেড়ে দেন।

    এখন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে আর্জেন্টিনা। তাদের লক্ষ্য ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখা।

    এটি হলে চারটি বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে মেসি অনুসরণ করতে পারবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুল-ব্যাক কাফুর কীর্তি। কাফু ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলেন। ম্যারাডোনাও খেলেছেন মাত্র দুটি ফাইনাল।

    মেসি বলেন, “আরেকটি সেমিফাইনালে ওঠা কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক বিষয় নয়। তাই এই মুহূর্তটা আমাদের সত্যিই উপভোগ করা উচিত, কারণ আবার এমন সুযোগ আসবে কি না, আমরা জানি না।”

  • দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

    দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিনাজপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৩০ পিস ভারতীয় নেশা জাতীয় ট্যাবলেট এবং ৬৬১ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করেছে।

    আজ দুপুর আড়াইটায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ২৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ জামান প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন-২৯ বিজিবির অধীন সদর উপজেলার দাইনুর, সুন্দরা বিওপি এবং জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা বিশেষ ক্যাম্প ও তপসী বিজিবি পোস্টের পৃথক ৪টি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সদস্যদের অভিযানে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের মধ্যে ভারত থেকে আগত মাদক কারবারিদের ধাওয়া করলে, তারা বেশ কয়েকটি পোটলা ফেলে ভারত সীমানায় পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৩ হাজার ৩০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ৬৬১ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

    অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ জামান বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক দ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫৫০ টাকা। চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভি উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে আসায়, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশটির নেতা কিম জং উন ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি পড়ে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার আগে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

    পত্রিকাটি জানায়, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে।

    কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রোডং সিনমুন জানায়, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়া দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শত বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েন।

    সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর, সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।

    সিউলের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে।

    গত গ্রীষ্ম ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাস ছিল রেকর্ড উষ্ণ।

    এ বছর এল নিনোর ফিরে আসাও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এ প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও নেই।

  • সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    সরকার উদ্যোক্তাদের পাশে রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তাদের সহযোগিতার জন্যে সরকার পাশে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।’

    ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

    অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। মানুষ ও সমাজের জন্য, সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশেরও প্রয়োজন আপনাদের।

    অনুষ্ঠানে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থীসহ সফল অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এক সময় আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’

    অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্যে আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তাই আপনাদের বলি আপনাদের কাজও খুব কঠিন। আপনাদের এ রকম অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারবো জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।’

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কিছুদিন আগে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেশন ইভেন্ট ছিল। আমরা ছোটবেলায় সাইন্স ফেয়ার বলতে যা বুঝেছি অনেকটা ওরকম। বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চারা সারা দেশ থেকে এসে সেখানে অংশ নেয়। তারা তাদের বানানো নানা প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। কিছুদিন আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে সারা দেশের প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ শিশু বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে।

    তিনি বলেন, ‘রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই বাচ্চাগুলোকে দেখার পর আমার সে হতাশা কেটে গেছে। আমার নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। আর আজ আপনাদের বক্তব্য শুনে ও আপনাদের কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে।’

    তারেক রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছে প্রত্যাশা ও দৃঢ় বিশ্বাস রেখে বলেন, যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আমার তো একটি লক্ষ্য আছে, উদ্দেশ্য আছে। দলের পরিকল্পনা আছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি, দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে চেষ্টা করেছি একটু পরিবর্তন আনার। আজকে আপনাদের দেখে এবং ওই দুটো অনুষ্ঠানে বাচ্চাদের দেখে মনে হয়েছে আমরা কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে দায়িত্ব দিয়ে যেতে পারবো। আমরা যেখানে ছেড়ে যাব, সেখান থেকে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আপনারা।’

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

    সূচনা বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সিনেট ভবনের পাশে তরুণ উদ্যাক্তাদের স্টল পরিদর্শন করেন।

    এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব ‘গল্প নয়,সত্যি’ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, প্রয়োজনীয় রিসোর্স নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-(startup.ictd.gov.bd) এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ে এক প্রাণবন্ত মুক্ত আলোচনায়ও অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করতে নির্বাচিত ছয়টি স্টার্টআপের প্রতিনিধির হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। দেশের ঐতিহ্য জামদানি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রাফিহা ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান প্রাপ্তির আবেদনের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক তাঁর হাতেও অনুদানের একটি চেক তুলে দেন।

    পরে তিনি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ পরিদর্শন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মে উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    ইতোমধ্যে, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫শ’ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী

    সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী বারবার পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

    আজ সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী এ সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জঙ্গলের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

    সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, দক্ষতা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আস্থা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে। ‘

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি। তাই সেনাসদস্যদের কাছে এলে আমার ভীষণ ভালো লাগে।  শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে যায়। ‘

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী দিনে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আরও সুনাম, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সক্ষমতা, আধুনিকায়ন এবং সুনাম বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।’

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন।

    মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে সেনাসদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, চলাচল এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন দিক এবং সেনাসদস্যদের কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী এ সময় শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেন।

    একপর্যায়ে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি তাঁদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্যদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা খাবারও গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি আগুনে রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।