Category: আন্তর্জাতিক

  • টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া

    টানা দ্বিতীয় দিনে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করল রোমানিয়া

    রোমানিয়া টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শনিবার দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করল দেশটি।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়ার আকাশসীমায় ২০২২ সাল থেকে একাধিকবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন দেশটির ভূখণ্ডেও আছড়ে পড়েছে।

    শুক্রবার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে প্রায় ১১৪ কিলোমিটার (৭০ মাইল) দূরে প্রথমবারের মতো একটি ড্রোন ভূপাতিত করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাডু মিরুতা জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে (০৫৩৪ জিএমটি) রোমানিয়ার আকাশসীমায় ‘অবৈধভাবে প্রবেশ করা’ আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দানিউব ব-দ্বীপে স্ফান্তু গেওর্গে থেকে ৯.৬ কিলোমিটার (ছয় মাইল) পশ্চিমে ড্রোনটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

    ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মিরুতা বলেন, ‘সকাল ৮টা ২২ মিনিটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রাডারে ড্রোনটি আমাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তা শনাক্ত হয়। কয়েক মিনিট পর রোমানিয়ার একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সেটিতে আঘাত হানে।’

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় অনেকবার ড্রোন প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

    গত মে মাসে একটি ড্রোন দেশটির একটি আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়লে দুইজন আহত হয়। এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিন্দা জানায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

    ২০২৫ সালে রোমানিয়ার পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে। ওই আইনে দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ড্রোন ভূপাতিত করার অনুমতি দেওয়া হয়।

    ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন শুক্রবার এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।’ তিনি রোমানিয়ার সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

  • টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

    টাইফুন নউল চীনের দিকে ধেয়ে আসায় ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

    প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের আশঙ্কায় চীনের দক্ষিনাঞ্চল থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং রেল চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়,  টাইফুন নউল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

    চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    শনিবারও আবহাওয়া কেন্দ্র চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌযানগুলো ঝড় থেকে নিরাপদ থাকতে বন্দরে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি।

    সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে এবং রোববার প্রদেশটির সব ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চরম আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন মায়সাকের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন।

    মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়।

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে।

    চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শক্তি। ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।

  • ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি

    ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি

    ইতালির সিসিলি, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং স্পেনের মধ্যাঞ্চলে  বুধবার ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিসিলি দ্বীপে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। গরম বাতাসের ঝাপটায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিন ধরেই সেখানে দাবানল জ্বলছে।
    রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    সিসিলি অঞ্চলের প্রধান রেনাতো স্কিফানি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৬ হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও সিভিল প্রোটেকশনের সদস্য কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় পানি নিক্ষেপকারী বিমানও ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখনও ৫০টি স্থানে দাবানল জ্বলছে।

    বিজ্ঞানীরা একমত যে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানল ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

    ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি বলেন, আগুন নেভানোর সময় অসুস্থ হয়ে একজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    ইতালির সিভিল প্রোটেকশন সংস্থার একজন মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, সিসিলির পরিস্থিতি ‘গুরুতর’। অত্যধিক তাপমাত্রা ও অত্যন্ত শুষ্ক মাটির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    প্রতিবেশী কালাব্রিয়া অঞ্চলেও ১৬০টির বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান বলেন, এসব আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে। তার অভিযোগ, ‘দুর্বৃত্তরা’ আগুন ছড়িয়ে দিতে দাহ্য তরলে ভেজানো কাপড় ভবঘুরে বিড়ালের লেজে বেঁধে দিয়েছে।

    ফ্রান্সে মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার নিহত দমকলকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করে, দমকলকর্মীরা চরম ক্লান্তি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন।

    দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় দাবানলে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে বোর্দোর কাছে মনোরম আরকাশঁ বেসিন এলাকায় একটি দাবানলে এক হাজার ৪০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে।

    দমকল কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন উইলফ্রিড স্নাইডার এএফপিকে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ঘনভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পাইনগাছে ভরা একটি বনের আগুনের সঙ্গে লড়ছি।’ তিনি আগুনের তীব্রতাকে ‘বিরল’ বলে মন্তব্য করেন।

    ল্য পোর্জের মেয়র মার্শাল জানিনেত্তি বলেন, বনপথ পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত কোনো যন্ত্র থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    প্রশাসন জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ল্য পোর্জে প্রায় ৭০০ মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে। এছাড়া তিন হাজারের বেশি ক্যাম্পারকেও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    দক্ষিণ ফ্রান্সের আরেকটি এলাকায় বনাচ্ছাদিত পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবানল বুধবার সকালেই নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছিল বলে কর্মকর্তারা জানান। আগুনটি কয়েক শত মানুষকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। এতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের দ্বিগুণ আয়তনের এলাকা পুড়ে গেছে।

    মঙ্গলবার ভার অঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তা অপ্রত্যাশিত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং দুই হাজার ৫৫০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়।

    মার্সেই ও নিস শহরের মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার দমকলকর্মী এবং বিশেষায়িত পানি নিক্ষেপকারী বিমান আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    মোট ৪ হাজার ৬০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জিরোন্দ অঞ্চলের প্রিফেক্ট সোফি ব্রোকা আরও কয়েক শ’ মানুষকে এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্পেনে মাদ্রিদের দক্ষিণে টলেডো শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বুধবার বড় ধরণের দাবানল ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সিভিল গার্ড জানিয়েছে, দাবানলের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি প্রধান সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
    টলেডো রাজধানী মাদ্রিদ থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

    নতুন এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময় মাদ্রিদের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে আরেকটি ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কয়েক শত দমকলকর্মী কাজ করছিলেন। সেখানে ইতোমধ্যে ৩২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।

    ইউরোপীয় বন দাবানল তথ্যমতে, ২০২৫ সালে স্পেনে দাবানলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি।

  • ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

    ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজার ছাড়িয়েছে: ডব্লিউএইচও

    মে মাসের মাঝামাঝি ঘোষণা করা ইবোলা প্রাদুর্ভাবে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ও উগান্ডায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুধবার প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় এ তথ্য জানিয়েছে।

    ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত সারণি অনুযায়ী, দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

    জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ডব্লিউএইচও জানায়, এর মধ্যে ডিআর কঙ্গোতে ৯৯৯ জন ও উগান্ডায় দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

    আফগানিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পর কাদা ও পাথরের নিচে আটকে পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে মঙ্গলবারও হিমশিম খাচ্ছিলেন উদ্ধারকারীরা। এক প্রদেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো এ বন্যায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় জানায়, সোমবারের আকস্মিক বন্যার পর প্রায় ১০০ জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    একই সঙ্গে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে ২৩ জন বলে জানানো হয়েছে।

    আফগানিস্তানের পারুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    এএফপি’র এক সাংবাদিক দেখেছেন, নুরিস্তান প্রদেশের রাজধানী প্রত্যন্ত পারুনে কয়েক ডজন মানুষ কাঠের খুঁটি ও খালি হাতে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
    ৩৪ বছর বয়সী ওষুধ বিক্রেতা ফরিদ গুল জাহির বলেন, ‘আমি জীবনে এত ভয়ংকর বন্যা কখনও দেখিনি।’

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। চারদিকে শিশু ও মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম।’ পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি আহত হন।
    মঙ্গলবার পারুনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি বুলডোজার ব্যবহার করা হলেও, তাতে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। বন্যায় বহু দোকান কাদার নিচে চাপা পড়েছে।

    বিশাল বড় পাথর গড়িয়ে এসে ভবনগুলোতেও আঘাত হেনেছে।

    গভর্নরের কার্যালয় সোমবার জানায়, পারুনের মেয়র ও সরকারের আরও কয়েকজন কর্মচারী নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন।

    স্পোগমাই হোটেলের ব্যবস্থাপক জাকিরুল্লাহ জাকি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমাদের ওপর যেন খোদার গজব নেমে এসেছে।’

    ২৯ বছর বয়সী জাকি এএফপিকে বলেন, ‘অন্য সব হোটেল, বাজার ও দোকানপাট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

    আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান জুমা খান নাইয়েল পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    তিনি বলেন, পানির উচ্চতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    তিনি জানান, সংস্থার কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবক কোদাল ও খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে আমরা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে তাদের জন্য তাঁবু সরবরাহ করছি।’

    আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    অন্যদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে।

    বন্যা ও ভারী বৃষ্টিতে প্রতিবেশী পাকিস্তানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে বন্যা এবং ভারী বৃষ্টিতে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

    দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আফগানিস্তান বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে সেখানে বন্যার দুর্যোগ বাড়ছে।

    চলতি মাসে মাওলভি মতি-উল-হক খালিস বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো ‘আফগান জনগণকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দেশে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে।’

  • চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

    চিলিতে ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

    গত সপ্তাহ থেকে সাধারণত শুষ্ক উত্তরাঞ্চলীয় কোকিম্বো ও আতাকামা অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এসব এলাকায় এত তীব্র বৃষ্টিপাত অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

    সান্তিয়াগো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    চিলির জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা সেনাপ্রেডের পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন ও আহত হয়েছেন ১৭ জন। এছাড়া চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত সাংবাদিকদের জানান, সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা  করা হয়েছে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন, জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ ও দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

    নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক জনপদ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কোকিম্বো অঞ্চলে কাদা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

    উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিমো পাভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোববার এক ঘণ্টায় যত বৃষ্টি হয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে তা হতে এক মাস লাগে।’

    তিনি এ বৃষ্টিপাতকে ‘অস্বাভাবিক ও চরম’ বলে অভিহিত করেন।

    জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা আরনালদো জুনিগা এএফপিকে বলেন, গত দুই দশকে চিলিতে এত বেশি বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি।

    তিনি আরও বলেন, ‘অনেক বছর ধরে আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।’