Category: আন্তর্জাতিক

  • হরমুজ প্রণালীতে হামলায় আগুন লাগা জাহাজ থেকে সরেছে নাবিকরা

    হরমুজ প্রণালীতে হামলায় আগুন লাগা জাহাজ থেকে সরেছে নাবিকরা

    হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে নাবিকরা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জাহাজটি একটি অজ্ঞাত ধরনের বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর নাবিকরা নিরাপদে জাহাজ ছেড়ে দেন এবং একটি টাগবোট তাদের উদ্ধার করে। জাহাজটিতে এখনো আগুন জ্বলছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে যাচ্ছে।’
    তবে এ ঘটনায় পরিবেশের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এর আগে ইউকেএমটিও জানিয়েছিল, ওমানের কুমজার এলাকার উত্তর-পশ্চিমে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে একটি জাহাজে আগুন লেগেছে।

    এদিকে ইরানের  রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালীর নৌপথ বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করত।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ইরানকে ওমানের সঙ্গে কাজ করে এই জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    তবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি আগের মতো থাকবে না।

    গত কয়েক সপ্তাহে ইরান ওমানের উপকূলঘেঁষা একটি নৌপথ ব্যবহারকারী কয়েকটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটি জাহাজগুলোকে নিজেদের জলসীমা দিয়ে চলাচল করতে এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অর্থ দিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

  • গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

    গাজায় ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ নিহত ১১: স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

     গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই তিন শিশুর বাবা-মাও রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে, এতে গাজায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে আছে।

    গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    হামাস পরিচালিত উদ্ধার সংস্থা গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। তারা হলেন তিন শিশু ও তাদের বাবা-মা।

    সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য একটি শিশু। হামলার সময় সে বাড়ির ভেতরে ছিল না।’

    গাজার আল-শিফা হাসপাতাল পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, শনিবার গাজা সিটিতে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

    গাজার বাসিন্দা মুসা আল-আইমাউই বলেন, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি।

    তিনি এএফপিকে বলেন, হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে। কেউ কিছু জানত না। এ সময় কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

    তিনি আরও বলেন,  ‘তারা কোনো পরোয়া না করেই হামলা চালিয়েছে। সেখানে বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী ও মেয়েরা ছিল।’

    একই ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
    তিনি বলেন, মাটিতে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। নারী ও শিশু বয়স্কও নিহত হয়।

    ঘটনাস্থলের এএফপির ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের বড় অংশ ধসে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

    এ সময় উপস্থিত লোকজন ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরা ও বাঁকানো লোহার মধ্যে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজছিলেন।

    সিভিল ডিফেন্স জানায়, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

    আল-শিফা হাসপাতাল তিনটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    কয়েক ঘণ্টা পর বাসসাল জানান, জেইতুন এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক নারী নিহত হয়েছেন।

    গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানায়, নিহত ওই নারীর মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।

    বাসসাল বলেন, হামলার ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আহত এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্য এলাকাগুলোতে ইসরাইলি হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।

    এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

    হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের হতাহতের আগে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর

    যুক্তরাষ্ট্র সফরে ৪৮টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইরাক ও মার্কিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের ঘোষণা সই হয়েছে।

    এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চুক্তি জ্বালানি, বিশেষ করে তেল খাত সংশ্লিষ্ট। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাক কয়েক দশকের যুদ্ধ ও অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। তবে দেশটি এখনও দুর্বল অবকাঠামো, ভঙ্গুর জনসেবা, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতির মতো সমস্যায় ভুগছে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরাক। ফলে, দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৪৮টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, সহযোগিতা চুক্তি এবং অংশীদারিত্বের ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

    এসবের মধ্যে ইরাকের তেল ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘এক্সনমোবিল, কেবিআর, জিই ভার্নোভা, শেল এবং হ্যালিবার্টন-এর সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি বড় অপরিশোধিত তেল পাইপলাইন নির্মাণসংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিও হয়েছে।

    এ ছাড়া স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবায় শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্টারলিংকের’ সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ইরাক। এর মাধ্যমে দেশটিতে স্টারলিংকের সেবা চালু করা হবে।

    মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদিকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে অভিহিত করেন।

    ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা আলি আল-জাইদি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হন। ট্রাম্প অন্য এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি এই পদে আসীন হন।

    ক্ষমতায় এসে জাইদি ইরাকের নাজুক অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার অঙ্গীকার করেছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী ইরানের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করে আসছে ইরাক।

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে উৎসাহ দেবে পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে উৎসাহ দেবে পাকিস্তান

    পাকিস্তান বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত মাসে নিজেদের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সহিংসতা বন্ধ করে, আবার আলোচনায় ফিরতে উৎসাহিত করবে।

    ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, পাকিস্তান সব পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে ও সমঝোতা স্মারকের আলোকে  কৌশলগত পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করে যাবে।’

  • স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    স্বাস্থ্যখাতের সংকটে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে কিউবার মানুষ

    কিউবার প্রধান ক্যান্সার হাসপাতালে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন ৬৪ বছর বয়সী রোসা ভ্যালেন্তিনা পেরেজ। দুই বছর আগে তার স্তন ক্যান্সারের অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

    সম্প্রতি দুই পায়ের চলাচলের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করছেন, ক্যান্সারটি মেরুদণ্ডে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে তার সিটি স্ক্যান করানো প্রয়োজন।

    কিন্তু হাভানায় বর্তমানে মাত্র একটি সচল সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, সেটিও শহরের নিউরোলজি হাসপাতালে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায় আটকে আছেন পেরেজ।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    পেরেজ এএফপিকে বলেন, ‘এই যন্ত্রণা কতটা অসহনীয়, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। জানি, প্রতিটি দিন আমার জীবন থেকে সময় কেড়ে নিচ্ছে। অথচ হাসপাতাল থেকে শুধু বলা হচ্ছে, ‘দেখি, কবে আপনার স্ক্যান করা যায়।’

    পেরেজের জন্ম হয়েছিল সেই সময়ে, যখন ফিদেল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসককে উৎখাত করে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। সেই বিপ্লবের অন্যতম বড় অর্জন ছিল সবার জন্য বিনামূল্যে ও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা।

    এক সময় কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল দেশটির গর্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক পাঠিয়ে নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার সাফল্যও তুলে ধরেছিল কাস্ত্রোর সরকার।

    তবে বর্তমানে সেই স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি সংকট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গত ছয় মাসের জ্বালানি অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

    -নষ্ট ও অচল চিকিৎসা সরঞ্জাম-

    দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ওষুধের তীব্র সংকট, কম বেতনের কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে বা বেসরকারি খাতে চলে যাওয়া এবং পুরোনো চিকিৎসা যন্ত্রপাতির একের পর এক বিকল হয়ে পড়াÑ সব মিলিয়ে কিউবার হাসপাতালগুলোতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

    অর্থ সংকটে থাকা সরকার ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও এসব বিভাগও এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অনকোলজি অ্যান্ড রেডিওবায়োলজি (আইএনওআর)-এ বর্তমানে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০০ জনের বেশি।

    প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লুইস এদুয়ার্দো মার্টিন এএফপিকে জানান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রায় ৮০ শতাংশ যন্ত্রপাতিই পুরোনো, বিকল অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী।

    তিনি বলেন, ‘অনেক সময় আমরা রোগীকে ওষুধ দিচ্ছি। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারায়, নিশ্চিত হতে পারছি না যে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করছে কি না। কারণ আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপকরণ কিংবা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই।’

    -বাড়ছে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি-

    চিকিৎসায় অগ্রাধিকার পাওয়া সত্ত্বেও এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হয়ে উঠছে শিশুরা।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংকট শুরুর আগে শিশু ক্যান্সার রোগীদের বেঁচে থাকার হার ছিল ৮৫ শতাংশ। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৫ শতাংশে।

    আইএনওআর-এর শিশু ক্যান্সার বিভাগের প্রধান মারিউস্কা ফোর্তেজা বলেন, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানির অভাবে হাসপাতালগুলোর মধ্যে রক্তের নমুনা পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক জরুরি রক্ত পরীক্ষা নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘আপনি জানেন, শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব। তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ভালো। কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। এটা চিকিৎসকদের জন্য ভীষণ কষ্টের।’

    এমন পরিস্থিতিতে কিউবার দীর্ঘদিনের নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত করেই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রযুক্তিবিদেরা।

    মেরামতকর্মী আলেক্সিস আমাদো দোমিঙ্গেজ বলেন, ‘অনেক সময় রোগীর ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরু করার জন্য আমাকে রাত ১২টা বা ২টায় হাসপাতালে এসে যন্ত্রপাতি মেরামত করতে হয়।’

    -হৃদরোগ চিকিৎসাও মারাত্মক সংকটে-

    হৃদরোগ চিকিৎসাও একই ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার সার্জারির চিকিৎসক হোসে এস্তেবান আব্রেউ জানান, ২০১৮ সালে যেখানে বছরে ৪০০টির বেশি হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হতো, বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ১০০টিতে।

    এছাড়া প্রায় ১৩০ জন রোগী পেসমেকার প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন, হার্ট মনিটরসহ অসংখ্য বিকল যন্ত্র মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে আছে। অনেক যন্ত্র আবার অন্য যন্ত্র সচল রাখতে খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে খুলে নেওয়া হয়েছে।

    প্রযুক্তিবিদ লুইস আলেক্সিস ডানকান বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিনই নতুন নতুন উপায় বের করতে হয়। উদ্ভাবনী চিন্তা আর সীমিত সম্পদ দিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

    চিকিৎসার সময় কমানো মানেই আয়ু কমে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই উদ্ভাবনী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

    হাভানার প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম মেরামত করা হয় যে কর্মশালায়, সেখানে বিকল ইনকিউবেটর ও নবজাতকের ভেন্টিলেটরের স্তূপ জমে আছে।

    অন্যদিকে জনবল সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অতি স্বল্প বেতন ও কিউবান মুদ্রা পেসোর মূল্যহ্রাসের কারণে বহু চিকিৎসক, নার্স ও প্রযুক্তিবিদ সরকারি চাকরি ছেড়ে বিদেশে বা অন্য পেশায় চলে গেছেন।

    হাভানার বিখ্যাত হারমানোস আমেইহেইরাস হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটেও একই চিত্র।

  • টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভিকে ঘিরে উ. কোরিয়ার সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

    টাইফুন বাভি উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে আসায়, মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে পিয়ংইয়ং। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দেশটির নেতা কিম জং উন ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

    দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব উত্তর কোরিয়ায় তুলনামূলক বেশি পড়ে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোডং সিনমুন জানায়, টাইফুনটি মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে পীত সাগর হয়ে দেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করার আগে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

    পত্রিকাটি জানায়, দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে।

    কিম জং উনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রোডং সিনমুন জানায়, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বর্ষণেরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিম উপকূল ও কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

    গত সপ্তাহে কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, উত্তর কোরিয়া দুর্যোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম জোরদার করেছে।

    এদিকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

    মধ্যাঞ্চলের চুংচিয়ং প্রদেশে কয়েক শত বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েন।

    সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের গিয়ংসাং অঞ্চলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর, সত্তরের কোঠার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।

    সিউলের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া এখন আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হচ্ছে।

    গত গ্রীষ্ম ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ। একইভাবে দুই কোরিয়াতেই এবার জুন মাস ছিল রেকর্ড উষ্ণ।

    এ বছর এল নিনোর ফিরে আসাও ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের এ প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রবণতা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা ও ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও নেই।